একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার( ২ মার্চ) বিকালে ধর্ষণের শিকার এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।অভিযুক্ত হায়দার আলী (৪৮) উপজেলার দামিয়া এলাকার আবদুল কদ্দুস মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত হায়দার আলী দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া বাজারে মনোহারী দোকান করে আসছিল। সে দুই সন্তানের জনক।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি জানান, ব্যবসায়ী হায়দার আলী প্রতিবেশী দুই শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে তার নিজ ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে প্রথমে শিশু দু’টিকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশু দু’টি অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়।
সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বদিউজ্জামান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। শিশু দু’টিকে ডাক্তারি পরীক্ষা জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই দুই শিশু অভিভাবকদের হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত হায়দার আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে স্থানীয়রা। সোমবার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদের সামনে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো- উপজেলার কাহারতা রামখাঁ গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে রবিন আহমেদ (২৫), কালিহাতী উপজেলার সরিষাআটা গ্রামের সাত্তার মিয়ার ছেলে শাকিল হাসান (২০) এবং একই এলাকার লিটন হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (২২)
মোটরসাইকেল মালিক লালন সিদ্দিকী বলেন, উপজেলা পরিষদের সামনে মোটরসাইকেল রেখে বীমা দিবসের অনুষ্ঠানে যাই। অনুষ্ঠান শেষে দেখি ওরা আমার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করি।
আটকের সময় উল্টো তারাই আমাকে মারধরের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ওই তিনজনকে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটককৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক একাউন্ট এমআইএস (ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) করার সময় ব্যাংকের শাখার নাম সখীপুরের স্থলে বাগেরহাট হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের সম্মানী ভাতা তুলতে পারছেন না। গত তিনদিন ধরে তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সোনালী ব্যাংকে এসে ভাতা তুলতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ভোগান্তিতির শিকার হচ্ছেন সখীপুরের বীরমুক্তিযোদ্ধারা।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানা যায় , উপজেলায় ৯৯৮জন তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও এমআইএসের অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন ৯৮৩জন। এরমধ্যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন ৬২০জন। সম্পতি সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ইএফটি-এর মাধ্যমে (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত সোমবার (১৫ ফেব্রয়ারী) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা জিটুপি (গভম্যান্ট টু পারসন) প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের উপকার ভোগীকে জানুয়ারি মাসের ভাতা বাবদ এক শত ৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি ভাতা ভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
সখীপুর সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা (পিও) সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার অ্যাকাউন্টে এখনো টাকা পৌঁছেনি। পরে তিনি খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের এমআইএস করার সময় ভুলবশতঃ ব্যাংকের শাখার অপশনে সখীপুর লেখা হলেও অটোমেটিক বাগেরহাট হয়ে গেছে।
ফলে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। গত তিনদিন ধরে বীরমুক্তিযোদ্ধারা ব্যাংকে এসে টাকা তুলতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তা আরও বলেন, সখীপুরে ১৩২জন বীরমুক্তিযোদ্ধা তাঁদের ভাতার বিপরীতে তিন লাখ টাকা করে ঋণ নিয়েছেন।
প্রতিমাসে আমরা ওই ভাতা থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা কিস্তি হিসেবে সমন্বয় করি। তাঁদের ভাতা না আসায় ঋণের কিস্তিও সমন্বয় করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলার গোহাইলবাড়ী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মিয়া উল্লাহ, বাঘেরবাড়ী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম, বহুরিয়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন বলেন, আমরা তিনদিন ধরে দুই শত টাকা খরচ করে ভাতা তোলার জন্য সোনালী ব্যাংকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে, ভাতা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। ভাতা কবে তুলতে পারব তা কেউ বলতে পারছে না। আগামী সোমবারেও ভাতা পাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, এমআইএস করার সময় তথ্য পূরণে আমাদের কোনো ভুল হয়নি। তবে শাখার অপশনে অটোমেটিক সখীপুরের স্থলে বাগেরহাট হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই বিষয়টি সমাধান হবে।