একতার কণ্ঠঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিব মঞ্জুর হোসেন।
সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কের এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।
এ ছাড়াও সাসেক-২ প্রকল্পের অধীনে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের চার লেনে উন্নীত করন কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ সময় সেতু সচিব মঞ্জুর হোসেন বলেন, যানজট নিরসন, ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অংশগ্রহণে ১০টি মোবাইল টিম ঈদের আগে এবং পরে এই মহাসড়কে থাকবে।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হোসেন, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধৃ সেতু মহাসড়কে বেড়ে যায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীরা। এই ভোগান্তিরোধে প্রতি ঈদে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়। যারফলে কয়েক বছর ধরে স্বস্তি পাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষগুলো।
এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে এবারও ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
এ সময় জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব বিবিএ, ফোরলেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, বাস-মিনিবাস ও ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতি প্রতিনিধিদের নিয়ে যানজট নিরসনকল্পে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনকালে পথ-আলোচনা সভা করে জেলা পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হবে এবং মহাসড়ক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কোন ধরণের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ছিনতাইয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় পরিদর্শনকালে বঙ্গবন্ধু সেতু (বিবিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুল কবীর পাভেল, জেলা সহকারী পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন আহমেদ, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান প্রমুখসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের দায়ে পৃথক পৃথক স্থানে টাঙ্গাইল জেলা ও কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫টি ভেকু, ১টি ড্রেজার মেশিন ও ১ হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্টসহ দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌলী নদীতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক ও সিনথিয়া হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পৌলী নদীর পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৩টি ভেকু বিনষ্ট করে। পরে দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বিশ্বাস বেতকার সিদ্দিকুর রহমান রানাকে ১ লাখ ও কালিহাতী উপজেলার পৌলী গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে একই সময়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা হাকিমপুর এলাকায় একটি ভেকু ও বাঁশি এলাকায় একটি ভেকু এবং একটি ড্রেজার মেশিনসহ এক হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্ট করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের একাধিকবার স্পটে প্রতিনিয়তই চলছে মাদক কেনাবেচা। পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে। সম্প্রতি ইউনিয়নে বেড়ে গেছে চুরি ও মারামারির ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষ রয়েছেন আতংকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন এলাকার উঠতি বয়সের অসংখ্য ছেলে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। ইউনিয়নের পালিমা, মাইস্তা, সিংগুরিয়া ও নারান্দিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রতিনিয়তই ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাজা কেনাবেচা হয়ে থাকে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এদিকে ইউনিয়নে বেড়ে গেছে চুরি। গত কয়েকদিনে একাধিক বাড়িতে গরু চুরি হয়েছে। নারান্দিয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ৩ টি গরু, মাইস্তা গ্রামের শংকর শীলের ১ টি গাভী, মাইস্তা নয়াপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ১ টি ষাড় ও নগরবাড়ী থেকে আরো ১ টি গরু চুরি হয়েছে। মাইস্তা আফসার আলীর বাড়ি থেকে হাস-মুরগিও চুরি হয়েছে।
এছাড়া বছর খানেক আগে নারান্দিয়া গ্রামের ইমাম ও নগরবাড়ী গ্রামের জয়দেব মোদকের বাড়িতে ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটে। তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় চোরের দল। নৃপেন মোদকের বাড়ি থেকেও কয়েকটি গরু চুরি হয়। তারা থানায় লিখিতভাবে জানালেও কোন প্রতিকার পায় নি।
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজাহার আলী প্রামাণিক জানান, কয়েকদিন আগে আমার বাড়ি থেকে গরু চুরি হয়েছে। শুনলাম এলাকার আরো কয়েকটি বাড়িতেও চুরি হয়েছে। আমার ধারনা নেশাখোররা এসব চুরির সাথে সম্পৃক্ত। ফলে সাধারণ মানুষ আতংকে থাকে।
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার জানান, আতংকিত মানুষ নিজ দায়িত্বে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। গরু চোরের একটি বড় চক্র নিয়মিত এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, বিষয়গুলো আমি জানি না। থানায় কেউ অভিযোগ দেয় নি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, গরু চুরির বিষয়টি শুনেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান চলে। আরো গুরুত্ব দিয়ে এ এলাকার চুরি ও মাদকের বিষয়টি দেখা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের মা তমিরন নেছাকে হত্যা মামলার আসামি ছেলে বাদশা মিয়া (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (১ এপ্রিল)মধ্য রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কান্দাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান,বাদশা মিয়ার সাথে তার ছোট বোন কহিনুর বেগমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটনার দিন বাড়ির উঠানে বাদশা মিয়ার তার ছোট বোনের সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছোট বোনকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তাদের মা নিহত তমিরন নেছা বাদশাকে থামানোর চেষ্ঠা করে। তখন বাদশা উঠানে থাকা ধারালো দা দিয়ে ছোট বোন কোহিনুরকে কোপ দিতে গেলে তাদের মা বাঁধা দেয়। এসময় বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
তিনি আরো জানান,এ ঘটনার কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এরপর থেকে বাদশা পলাতক ছিল। পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর পরিচয় নিয়ে ঢাকা মহানগরের বাড্ডা এবং পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কান্দাইল এলাকায় আত্নগোপন করে। এই মামলার বিচার শেষে ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত বাদশাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।
তিনি জানান,বাদশা মিয়াকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এই অবৈধভাবে বালু কাটার ফলে কোটি টাকায় নির্মিত ও জনগুরুত্বপুর্ন এলেঙ্গা ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোন সুরাহা হচ্ছেনা। প্রশাসনের সাথে আতাঁত করেই নদী থেকে বালু কেটে বিক্রি করছে ওই মহলটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার চুইনাবাড়ি ও বাঁশি গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত এলেংজানী নদীর পাড়ে দুইটি ভেকু বসিয়ে দিনরাত বালু কাটা হচ্ছে। কর্তনকৃত এই বালু ছোট ড্রাম ট্রাক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। ড্রামট্রাক ভর্তি বালু পরিবহন করার সময় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলেঙ্গা বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই সেতু। এছাড়াও বালু পরিবহনের জন্য ফসলি জমি কেটে রাস্তা তৈরি করার ফলে অনেক কৃষক তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না। বালু কাটা চক্রটি অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। এ ছাড়া বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। অত্যান্ত ব্যস্ত এলেঙ্গা বাজারের রাস্তাটি ব্যবহার করে বালু পরিবহনের ফলে প্রায়ই লেগে থাকছে যানজট। যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে এলেঙ্গা হাটবাজার ও পৌরসভায় আসা সাধারণ জনগন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, পৌরসভার বাঁশি গ্রামের মাজেদুর ও শরিফ মিলে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু কেটে বিক্রি করে আসছে। এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আর কেই প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখায় তাদের।
এছাড়া দিনরাত বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ট্রাক চলাচলের শব্দে রাতে বাসা বাড়িতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চলাচল করা ট্রাকে ওড়ানো বালি বাসায় উড়ে গিয়ে আসবাপত্রসহ খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করছে।
বালু ব্যবসায়ী মো. মাজেদুর রহমান জানান, তিনি নদী থেকে নয় তার ক্রয়কৃত জমি থেকেই বালু কেটে বিক্রি করছে। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করেই তিনি এ ব্যবসা করছেন।
কালিহাতী উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভুমি) মো. নাহিদ হোসেন জানান, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাহিরে একটি প্রোগ্রামে আছি। কালিহাতী এসে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো. নাজমুল হুসেইন জানান, খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে(ফেসবুকে) অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার সামাজিক ও দাপ্তরিক কাজে সমাজের সর্বস্তরের যখন ভুয়সী প্রশংসা জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে, ঠিক সেই মুহুর্তে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা আমার সুনামকে ক্ষুন্ন ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অজ্ঞাত নামা একটি ফেক আইডি দিয়ে আমার ছবি সুপার এডিটিং করে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা লিখে ফেসবুকে পোষ্ট করছে। এতে করে আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মানসম্মান ব্যাপক ক্ষুন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি(যাহার নাম্বার ৯৭৯ তাং ২১.০৩.২০২৩) দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি এই অপপ্রচার রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা মাত্র। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে উক্ত সুপার এডিটিং করা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
তিনি উপরোক্ত বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,র্যাব কমান্ডার ,কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মররত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কাফনের কাপড় মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আউলটিয়া বেতবন থেকে নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করা হয়। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা বাংড়া ইউনিয়নের আউলটিয়া এলাকায় বেতবাগানে আনুমানিক এক দিন বয়সী একটি নবজাতকের লাশ সবার অগোচরে কে বা কারা ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা কাফনের কাপড় মোড়ানো নবজাতকের লাশটি দেখতে পেয়ে কালিহাতী থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কে বা কারা মৃত নবজাতকের লাশ ফেলে রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া ব্রিজের পাশে বুধবার (২২ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি দক্ষিণ)।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিন বগুড়া সদর উপজেলার তেলিহারা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জিন্নাহ প্রামানিকের ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গোপনে খবর পেয়ে ডিবির একটি চৌকষ দল বুধবার (২২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগুটিয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৪৮০টি নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত নকল ব্যান্ডরোলের মূল্য ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৮ টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫অ/২৫অ(ন) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কৌশলে নকল ব্যান্ডরোল প্রস্তুত ও বিকিকিনির মূল হোতাদের সনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষে ১০(দশ) দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিষাক্ত নেশা জাতীয় ‘স্পিরিট’ পান করে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে গত শনিবার( ১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করায় বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতংক ও শোক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলেন, শুধু নারান্দিয়া নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মাদকে ছেয়ে গেছে। এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। এ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
জানা যায়, শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে অসুস্থ হওয়ায় পাঁচ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাত ও রবিবার (১৯ মার্চ) সকালের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রবিবার রাত ২টার দিকে পালিমা গ্রামের মৃত ছামান আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩৫) ও সোমবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে জুলহাস মিয়া (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত বক্কর আলীর ছেলে আমছের আলী (৫০) নিজ বাড়িতে মারা যান। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি একই দোকানের ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।
এ ঘটনায় অসুস্থরা হচ্ছেন- বিলপালিমা গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে মেহেদী ও কুচুটি গ্রামের জুয়েল। এরমধ্যে মেহেদীকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। এ ঘটনার পর থেকে পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসি বন্ধ করে দোকানের মালিক-কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান জানান, নিহত জুলহাস, আমছের আলী, ফারুকসহ পাঁচজন শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ কিনে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন ও বাড়িতে এসে একজন মারা গেছেন। মেহেদী নামে একজনকে ঢাকা একটি হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।
নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ বেচাকেনা হচ্ছে। ফার্মেসীতে অবৈধ ‘স্পিরিট’ বিক্রি বন্ধের জন্য জনসেবা ফার্মেসির মালিক সামাদকে আগেও নিষেধ করা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নারান্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বিবেক মোদক দীর্ঘদিন যাবত মদ ও ‘স্পিরিট’ বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির দায়ে এরআগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কালিহাতী থানার নারান্দিয়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ জানান, শুক্রবার (২৪ মার্চ) দুপুরে নারান্দিয়া বাজারের কালিমন্দিরের পাশের একটি মুদি দোকান থেকে অবৈধ মদ বিক্রির সময় বিবেক মোদক নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ‘স্পিরিট’ পান করে নিহত হওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। থানায় কেউ অভিযোগও করেন নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাস্তা পারাপারের সময় বাস চাপায় স্বামী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে তার স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ময়সের (৫০) সল্লা ইউনিয়নের মীহামজানি গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত তার স্ত্রীর নাম লিপি বেগম।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা বঙ্গবন্ধু সেতুগামী লোকাল বাসে করে সল্লা বাসস্ট্যান্ডে নামেন হতাহতরা। রাস্তা পার হওয়ার সময় উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ময়সের নিহত হয়। স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। আর আহত লিপি বেগমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিরুল (৩০) নামের এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় অপর ট্রাক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলা চরভাবলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাক চালক জাহিরুল রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার হেলালপুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস আলী মুরুর ছেলে। আহত ট্রাক চালকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের ৪ নাম্বার ব্রিজ সংলগ্ন কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা এলাকায় দু`ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাক চালক জহিরুল নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাক থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। অপর ট্রাকের চালককে আহতবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পূর্বপার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাক চালক জহিরুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।