একতার কণ্ঠঃ উপজেলা পর্যায়ে একজন ইউএনওকে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি প্রটোকল তো আছেই।
এসব দায়িত্ব পালন করে চাইলেও যে একজন ইউএনও সাধারণত সহজেই বাড়তি সময় বের করতে পারেন না। কিন্তু এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন।
তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে নানামুখী ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও আলোচিত হচ্ছেন।
কালিহাতীতে যোগদানের পর থেকেই নিষ্ঠার সহিত প্রশাসনিক দায়িত্বপালনের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাঁর কর্মকাণ্ডগুলো ফলপ্রসূ হতে শুরু করেছে।
শিক্ষা নিয়ে তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগসমূহের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে– আকস্মিক স্কুল পরিদর্শন, বিতর্ক প্রতিযোগীতা আয়োজন, স্কুলে স্বল্প সময়ের ক্লাস, দিক-নির্দেশনা প্রদানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলকে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম।
এছাড়া যখনই যে স্কুলে যান সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ছোট ছোট প্রতিযোগিতা আয়োজন করে শিক্ষার্থীদেরকে তাৎক্ষণিক পুরস্কার প্রদান করেন।

সম্প্রতি তিনি উপজেলার সাতুটিয়া ও সাকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুইজ প্রতিযোগীতা ও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে ‘পরিবেশ বান্ধব স্কুল ব্যাগ’ উপহার দেন। তিনি পর্যায়ক্রমে এক হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ ও কলম উপহার দিবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া যুক্তিতেই মুক্তি স্লোগানকে প্রতিবাদ্য হিসেবে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। মাধ্যমিক পর্যায়েও এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হবে।
প্রোগ্রামটিকে ঘিরে উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক গঠন ঠিক রাখা ও মাদকমুক্ত রাখতে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন টূর্ণামেন্ট চলমান রয়েছে। তার উদ্যোগেই উপজেলা পরিষদের সামনে উন্মুক্ত ব্যাডমিন্টন কোট তৈরী করা হচ্ছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য পৌরসভার পাশে উপজেলা পরিষদের খালি জায়গায় মিনি পার্ক নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।
ইউএনও শাহাদাত হুসেইন একের পর এক স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন, স্বল্প সময়ের ক্লাস, দিক-নির্দেশনা প্রদান, প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পুরস্কার প্রদানের কারণে এখন প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধীর আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে! তারা অপেক্ষা করতে থাকেন কবে, কখন ইউএনও তাদের স্কুলে আসবেন! শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে বেশ আলোচনা ও উৎসাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তাছাড়া তাঁর সার্বিক কার্যক্রম, নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের ফলে শিক্ষকদের মধ্যেও এখন ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সরকারী শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর বলেন, একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা যদি মনে করে তার দাপ্তরিক কাজের বাহিরে একটি উপজেলাকে সমৃদ্ধশালী করবে, তাহলে তার অবস্থান থেকে সম্ভব যদি সদিচ্ছা থাকে। তবে বর্তমান ইউএনও একজন শিক্ষাবান্ধব ব্যাক্তিত্ব। এরমধ্যে তার উদ্যোগ এবং চলমান কাজগুলো প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে তিনি অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে এবং সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগেগুলো ব্যতিক্রমী। তিনি প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দরভাবে করছেন। অচিরেই কালিহাতীবাসী এর সুফল দেখতে পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন জানান, সকলকে সাথে নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ও নানামুখী সৃজনশীল কাজ করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগীতার আয়োজন,আকস্মিক স্কুল পরিদর্শনসহ সেখানে ছোট ছোট কুইজ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে তাঁর এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই আমাদের আগামী প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
একতার কণ্ঠঃ লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ উচ্চ বিদ্যালয় ও লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ ও কালিহাতী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, কুৎসা রটনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুদারের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছে দুইটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের গান্ধিনা ফিরোজ নগরে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের শিক্ষার্থীরা গান্ধিনা বাজারে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী ও স্থানীয়রা।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান কবির, প্রভাষক আবু কাউসার, লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান জামাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের মিথ্যাচার, কুৎসা রটনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। শেষে মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাকে কালিহাতীর নাগবাড়ি ইউনিয়নে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে দুইটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য,গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী ও লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দূর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সেই বক্তব্যের জেরে লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এবংলায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজের সমর্থকরা এর প্রতিবাদ জানায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সুমী আক্তার (২৭) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বনবাড়ী গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমী উপজেলার আটাবাড়ী গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী হাসমত আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, গৃহবধূ সুমী আক্তার বিয়ের পর তার স্বামীর বাড়িতে বসবাস করলেও বিভিন্ন কারণে তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজনেদের সাথে ঝগড়া ঝাটি লেগেই থাকতো। তাই সুমীর বাবা মেয়ের সুখের কথা ভেবে তার কাছাকাছি বাড়ী করে দেন। সেখানেই সুমী তার একমাত্র ছেলে সোহাগ কে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দিনগত রাতে সুমীর ছেলে সোহাগ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে তার মাকে (সুমী) ডাক দিলে কোন প্রকার শব্দ না পেয়ে রুমের দরজা খোলা দেখতে পায়। এক পর্যায়ে তার মা সুমীকে বিছানা থেকে রুমের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে সে দৌড়ে তার নানার বাড়ীর লোকজন ডেকে আনে। খবর পেয়ে পুলিশ সুমী আক্তারের লাশ শনিবার সকালে উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, সুমী আক্তার নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেধা যাচাইয়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন- জেলার ভূঞাপুর, গোপালপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ১৩০টি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ২৬০ জন শিক্ষার্থী। এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হাজারো শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেন- সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ‘প্রতিভা ছাত্র সংগঠন’। ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০ টায় এবং বেলা ১২ টায় শেষ হয়।
বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মোছা: রওশনরা খাতুন বলেন, আমি এবারই প্রথম এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বৃত্তি পাওয়াটা বড় কথা নয়, অংশ গ্রহণ করাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আশা করছি পরীক্ষা ভালো হলে সফলতা অর্জন করতে পারব। আয়োজনকদের ধন্যবাদ।
৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন, মর্জিনা আক্তার, রুবেল মিয়া ও তৌহিদ হাসান বলেন, আমরা এবারই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। করোনার কারণে এরআগে অংশ নিতে পারেনি। প্রতিভা ছাত্র সংগঠন বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভাল লাগছে। প্রতি বছরই সংগঠনটি এমন আয়োজন করুক এমনটাই প্রত্যাশা।
এসময় পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন- ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহীউদ্দিন, ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বাবু, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম প্রামাণিক, ফলদা শরিফুননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার দত্ত প্রমুখ।
প্রতিভা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি মো: রেজওয়ানুল করিম রানা বলেন, প্রতিভা ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয় ২০১৯ সালে। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে দুই বছর পর ফের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এবার ভূঞাপুরসহ পাশ্ববর্তী তিন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুসহ ১ হাজার ২৬০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।উপজেলার বেড়ী পটল গ্রামে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে হামলার শিকার ওই যুবক বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক।
নিহত আব্বাস আলী (২৬) ওই গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে। হামলায় তার বড় ভাই আক্তার হোসেনও (২৮) আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, আব্বাস আলীর কাছে সদর থানার কাকুয়া ইউনিয়নের পোলী গ্রামের নুরুর ছেলে সোহেলের কাছে মোবাইল বিক্রির দুই হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকার জন্য মেয়ের জামাই আব্দুল মমিনকে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আব্বাসের বাড়িতে যান তিনি।
সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আব্বাস আলীকে চাপাতি ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। ভাইকে রক্ষায় আক্তার হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত আক্তার হোসেনের পা ভেঙ্গে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আর চাপাতির কোপে মাথায় আঘাত পাওয়া আব্বাসের ক্ষতস্থানে চিকিৎসক সেলাই করে দিলে তিনি বাড়ি চলে যান। পরে বুধবার বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ৩ দিন ধরে অবস্থান করছেন তিন সন্তানের জননী। শনিবার (১৪ অক্টোবর) থেকে পরকীয়া প্রেমিক যুবক আবুল হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই নারী। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক গা ঢাকা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক আবুল হোসেন উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার হিজুলী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। তিনি ওয়ালটন কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ৭ বছর ধরে আবুল হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার আমাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। কোনো উপায়ন্তর না দেখে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছি।
স্থানীয় কাউন্সিলর মুক্তার আলী জানান, ছেলের সঙ্গে ওই নারীর ঘটনার বিষয়ে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান মনির জানান, এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত পরিবহনের মাধ্যমে চোরাই মালামাল লোড-আনলোড করে গুদামজাত ও স্থানান্তর করে একটি চক্র চোরাই মালের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পূর্বপাড় থেকে এলেঙ্গার ভাবলা, সল্লা, আনালিয়াবাড়ীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, বাস, লড়িসহ বিভিন্ন পরিবহনে আনা চোরাই মালামাল লোড-আনলোড ও ক্রয়-বিক্রয়ের নিরাপদ পয়েন্ট হিসাবে বেছে নিয়েছেন চোরাকারবারিরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ওই সকল পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলে চোরাই মাল লোড আনলোড ও ক্রয় বিক্রয়ের কারবার।
দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল গুদামজাত করার জন্য চরভাবলা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে রেল স্ট্রেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঘর ভাড়া নিয়ে গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই চক্রটি ট্রাক, বাস, লড়িতে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রড, স্টীলসীট, কেরোসিন ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গম, ভুট্টা, আদা রসুন, জিরা, এলাচ, লংসহ মশলা জাতীয় পণ্য, ভারতীয় শাড়ী এমনকি বিভিন্ন নেশা জাতীয় পণ্যে এনে জেলায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম শান্ত নামের জনৈক সরকারি কর্মচারী জোকারচরের রমজান আলী ও চরভাবলার প্রভাবশালী ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত নির্বিঘ্নে চোরাই মালের ব্যবসা করে অগাধ বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক সারারাত পরিবহনে আসা চোরাই মালামাল লোড-আনলোড করে গুদামজাত ও স্থানান্তরের কাজ করে থাকেন। পরিবহন চালক সুপারভাইজার ও হেলপারদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তারা নির্ধারিত পয়েন্টে ওইসব মালামাল আনলোড করে এবং মূল্য পরিশোধ করে থাকেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম শান্ত জানান, চোরাই মালামাল লোড-আনলোড ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে আমি জড়িত নই।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গা থেকে ব্ঙ্গবন্ধু সেত পূর্ব এই এলাকাটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অধিনে বিধায় এ বিষয়ে আমার কোন ধারনা নেই।
বঙ্গব্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর আশরাফ জানান, তিনি এই থানায় নতুন এসেছেন তাই এই চোরা কারবারিদের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তার।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্য্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি চলক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিএনজি চালক উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মাজম ফকিরের ছেলে আজমত আলী (৬৫)।
বঙ্গবন্ধু সেতু পুর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর আশরাফ জানান, দুপুরে আজমত সিএনজি নিয়ে রেলক্রসিং পাড় হওয়ার সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিএনজিকে ধাক্কা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এতে ঘটনাস্থলেই চালক আজমত নিহত হন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মরদেহ ও সিএনজিটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের পেশাগত গুণগতমান ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে ‘মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কালিহাতীর এলেঙ্গা বঙ্গবন্ধু সেতু ব্রিজ রিসোর্টের মিনি কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর উদ্যোগে ও বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষক- বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামাল। প্রশিক্ষক ছিলেন- বাংলা ভিশনের সাবেক বার্তা-সম্পাদক নাসরিন বেগম গীতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক শওকত আলী।
মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জাতিসংঘ মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী অধিকার সনদ (সিডো), শিশু অধিকার সনদ, মানবাধিকার নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা, হতদরিদ্র নারীদের মানবাধিকার আদায়ে সমতা নিয়ে সাংবাদিকদের করণীয় বিষয়ক আলোচনা করা হয়।
মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার ২৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। তার মধ্যে ভূঞাপুরে ১৬ জন ও কালিহাতীতে ৯ জন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী শেষে নেওয়া সাংবাদিকদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। এরআগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- প্রবীণ সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল, অভিজিৎ ঘোষ ও মুশফিকুর রহমান মিল্টন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানা পুলিশের টানা ৭২ ঘন্টার বিশেষ অভিযানে শরিফুজ্জামান সোহাগ (৪০) নামে দেড়কোটি টাকা অর্থদণ্ড প্রাপ্ত এক পলাতক আসামীকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শরিফুজ্জামান সোহাগ কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের সল্লা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
পুলিশ জানায়,টানা ৭২ ঘন্টা অভিযানের পর সোমবার(২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে এএসআই মনিরুজ্জামান ও এএসআই আশিকুজ্জামান বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা হতে ৫ টি সিআর সাজা ও ৩ টি সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ দেড় কোটি টাকা অর্থদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ফারুক জানান, আসামী শরিফুজ্জামানের সোহাগ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অর্থদণ্ড জারির পর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। পরে টানা ৭২ ঘন্টা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা হতে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে মঙ্গলবার(২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাজানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল।
কনে কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের সত্য পালের মেয়ে স্বর্না পাল। স্বর্না অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পালপাড়ার বাসিন্দা রতন লাল পালের ছেলে রনি প্রতাপ পাল আর্শিবাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিয়ের বাকী কাজ সম্পন্ন হবে।
রনি প্রতাপ পাল জানান, কোন চাপে নয় পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করতে যাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করায় কাউকে বলা হয়নি। বিয়ের অনুষ্ঠানে অবশ্যই প্রধান শিক্ষককে দাওয়াত দেওয়া হবে।
বিয়ের বিষয়ে অবগত না থাকায় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রকাশ,নিয়মবহির্ভূত বিয়ের নোটিশ দেওয়ায় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি তদন্ত চলমান রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বহিস্কার চেয়ে ছাত্র, ছাত্রী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষকরা ও স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন রনি প্রতাপ পাল। গত ২৬ জুলাই তাকে নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নোটিশে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকরা অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে পাক্কা নির্দেশ প্রদান করা হলো।
নোটিশটি পাওয়ার দুইদিন পর সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। জবাবে তিনি বলেন, আমার অভিভাবকরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলামের (৪০) বিরুদ্ধে। ধর্ষণের ফলে ওই স্কুল ছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ধর্ষক নজরুল ইসলাম উপজেলার আগচারান এলাকার মৃত খালেক মিয়ার ছেলে। নজরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী।
জানা যায়, গত রোববার ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক নজরুলের বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।
মেডিকেল রির্পোটের ভিত্তিতে জানা যায়, দীর্ঘদিন বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের ফলে স্কুল ছাত্রীটি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ফলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নজরুলের স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর ওই স্কুলছাত্রীকে মাঝে মধ্যে সাংসারিক কাজের জন্য ডেকে নিয়ে যেতো। একদিন নজরুল জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের কথা বাড়িতে বা কাউকে বললে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। এভাবে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ই সে ওছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসছিল অভিযুক্ত নজরুল।
ওই স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার শরীরের পরিবর্তন ঘটে। ফলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তখন সে নজরুলের ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষক নজরুল এখনো ধরা-ছোয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী জানায়, নজরুল ইসলামের স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় সাংসারিক কাজের কথা বলে আমাকে মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে ডেকে নিতো। একদিন নজরুল জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এ কথা কাউকে বললে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় আমাকে।
ওই স্কুলছাত্রীর মা বলেন, নজরুল আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। সে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করার কারণে আমরা ভয়ে আছি। আমার মেয়ের মতো আর কারো সর্বনাশ জানি না হয়। প্রশাসনের কাছে কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ কামরুল ফারুক জানান, মামলার পর ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানও চলমান রয়েছে।