একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে সুমন মিয়া (২৬) নামের এক ট্রাকচালকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানায় ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। থানা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত সুমন মিয়া ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের জামুরিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে ঘাটাইল পৌরসভার কলেজ মোড় এলাকায় মাটিভর্তি দুটি ট্রাক জব্দ করে পুলিশ। ঘাটাইলের সাগরদিঘি এলাকা থেকে মাটি নিয়ে যাচ্ছিল ট্রাক দুটি। চালকসহ ট্রাক দুটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টার পর জব্দ করা ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ট্রাকচালক সুমন মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চেয়ার থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শহিদুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে সুমনের লাশ দেখতে পান। কী কারণে, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসাইন জানান, বালুভর্তি দুটি ড্রামট্রাক জব্দ করে থানায় আনার পর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার সময় চেয়ারে বসা ট্রাকচালক সুমন মিয়া অসুস্থ বোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে মাটিতে ঢলে পড়েন। দ্রুত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে সোমবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন। টাঙ্গাইলের জেল সুপার মোখলেসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিনে মুক্ত হয়ে সাবেক মেয়র পৌর শহরের কলেজ পাড়ার নিজ বাসভবনে ফিরেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
টাঙ্গাইলের জেল সুপার জানান,উচ্চ আদালতের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র বুধবার টাঙ্গাইল কারাগারে পৌঁছলে সকল নিয়ম মেনে দুপুরে তাকে জেল থেকে সাবেক মেয়রকে মুক্তি দেওয়া হয়।এরআগে সোমবার হাইকোর্টের ৯ নম্বর আদালতের বিচারপতি রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম জানান, বিচারকদ্বয় টাঙ্গাইলের ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তথ্যগোপন করে জামিন আবেদন করায় সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে তথ্য গোপন করে জামিন আবেদন করার অভিযোগে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত এপ্রিলে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে জামিন চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। এই আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত জুন মাসে জামিন চেয়ে আরেকটি আবেদন করেন। জামিন চেয়ে আগে করা আবেদনের তথ্য দ্বিতীয় দফায় করা আবেদনে উল্লেখ না করায় আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে।একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার ৩ দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এ দুজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযুক্ত সহিদুর রহমান খান মুক্তি দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। এরপর দফায় দফায় জামিনের আবেদন করলেও আদালত প্রতিবারই আবেদন নামঞ্জুর করেন। তাদের অন্য দুই ভাই এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় মা ও নবজাতক মেয়ে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তার স্বজনেরা।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের ১নং অপারেশন থিয়েটারে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ডা. সালমা জাহান ও হাসপাতালের চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রনব কর্মকার গাঁ ঢাকা দেন।
ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গন ভারী হয়ে উঠে। পরে মা ও নবজাতক শিশু মেয়ের মরদেহ নেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নিহত প্রসূতির নাম মীম আক্তার (২০)। সে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সিঙ্গুরিয়া গ্রামের হানিফ আলির মেয়ে। তার স্বামী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মদনা গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন।
নিহত মীমের নানী সুমনা আক্তার জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রসূতি মীম আক্তারের প্রসব ব্যথা উঠে। দ্রুত তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান তারা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মীমকে।
তিনি আরও জানান, সেখানে গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহানের তত্বাবধায়নে দুপুর ১টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার ২০ মিনিট পর ওই ডাক্তার মীমের পরিবারের কাছে মীমের জন্য দুই ব্যাগ রক্ত চান। স্বজনেরা রক্ত সংগ্রের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে ছুটাছুটি করতে থাকেন। এমন সময় অপারেশন থিয়েটার থেকে জানানো হয়, প্রসূতি মীম আক্তার ও তার নবজাতক কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টটেন্ট ডা. সালমা জাহান তাদের সোনিয়া নার্সিং হোমে প্রসূতি মীম আক্তারের ডেলিভারী করার জন্য বলেন। তারা হতদরিদ্র হওয়ায় এ প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় ওই ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অবহেলা করায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পুর্বেও মীম আক্তার হেটে-হেটে অপারেশেন থিয়েটারে গিয়েছে। অথচ অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার ২০ মিনিটের মাথায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মুত্যু হয়।
নিহতের খালা মাজেদা আক্তার আহাজারি করে বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর পর জোরপূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশের ছাড়পত্র কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ বের করে দেন। এসময় হাসপাতালের লোকজন জোরপূর্বক আমাদের বের করে দিতে চাইলে আমরা বাধা দেওয়ায় আমাদের গায়ে হাত দেয় তারা
অভিযোগ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কলসালটেন্ট (গাইনী) ডা. সালমা জাহান মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান ঢাকায় থাকায় তিনি গণমাধ্যমকে কোন ধরনের সাক্ষাতকার দিতে পারবেন না জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়কের চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. প্রনব কর্মকারের মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন,বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কলসালটেন্ট (গাইনী) ডা. সালমা জাহান হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক সোনিয়া নাসিং হোমে কনসালটেন্ট (গাইনী) হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি মায়েদের উক্ত ক্লিনিকে নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে আমির খান নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু আমির ওই গ্রামের আকাশ খানের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে আমির বাড়ির ভেতরে খেলা করছিলো। এ সময় সবার অগোচরে বাড়ির সামনে তাদের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পযার্য়ে পুকুরের পানিতে আমিরকে ভেসে থাকতে দেখে। দ্রুত পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দাদা মো. আবুল হোসেন খান জানান, খেলতে গিয়ে সকলের অগোচরে পানিতে পড়ে যায় আমির। এ কারণে পানিতে ডুবে সে মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন,অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেধা যাচাইয়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন- জেলার ভূঞাপুর, গোপালপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ১৩০টি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ২৬০ জন শিক্ষার্থী। এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হাজারো শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেন- সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ‘প্রতিভা ছাত্র সংগঠন’। ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০ টায় এবং বেলা ১২ টায় শেষ হয়।
বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মোছা: রওশনরা খাতুন বলেন, আমি এবারই প্রথম এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বৃত্তি পাওয়াটা বড় কথা নয়, অংশ গ্রহণ করাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আশা করছি পরীক্ষা ভালো হলে সফলতা অর্জন করতে পারব। আয়োজনকদের ধন্যবাদ।
৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন, মর্জিনা আক্তার, রুবেল মিয়া ও তৌহিদ হাসান বলেন, আমরা এবারই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। করোনার কারণে এরআগে অংশ নিতে পারেনি। প্রতিভা ছাত্র সংগঠন বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভাল লাগছে। প্রতি বছরই সংগঠনটি এমন আয়োজন করুক এমনটাই প্রত্যাশা।
এসময় পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন- ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহীউদ্দিন, ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বাবু, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম প্রামাণিক, ফলদা শরিফুননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার দত্ত প্রমুখ।
প্রতিভা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি মো: রেজওয়ানুল করিম রানা বলেন, প্রতিভা ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয় ২০১৯ সালে। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে দুই বছর পর ফের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এবার ভূঞাপুরসহ পাশ্ববর্তী তিন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুসহ ১ হাজার ২৬০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন।
রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের দেউলাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের মুখ্য গাঙ্গাইর গ্রামের মো. আবুর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রনি (১৮) এবং ঘাটাইল উপজেলার কদমতলী এলাকার মেছের আলীর ছেলে শহিদুর রহমান (৩৫)।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ কলেজ পড়ুয়া ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান সাব্বির আলম ও তার বন্ধু হামিদ।
গত ৪ জুন (রোববার) টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। সাব্বির পাশ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামের মো. সুরুজ্জামানের ছেলে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ঘাটাইলের ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
শুধু সাব্বির আলম নয়, তার মতো টাঙ্গাইলের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর ও উঠতি বয়সের ছেলেদের হাতে মোটরসাইকেল দেয়ার ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানোর কারনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে চলছে দুর্ঘটনা। তবে গত এক বছরে কত জন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি জেলা পুলিশ ও জেলা নিরাপদ সড়ক চাইসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।
সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলাম না। তারপরও ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। ছেলেরে শখ পূরণ করতে গিয়ে আজীবনের জন্য ছেলেকে হারালাম।
নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা বাবার বড় সন্তান। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনায় এখনও শোক কাটেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। ওই শোকটি এখন গ্রামের মানুষ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল, বাসাইল সখিপুর, মধুপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ২১ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১৩ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তারা ঘাটাইলের একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।
এ ছাড়া জেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের মুখ্য গাঙ্গাইর গ্রামের মো. আবু’র ছেলে মো. রনি (১৮) । নিহত রনি ঘাটাইল জিবিজি কলেজের ছাত্র ছিল। নিহত অপরজন হলেন, একই উপজেলার কদমতলী এলাকার মেছের আলীর ছেলে শহিদুর রহমান (৩৫)।
গত ১৭ মে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা (২৪) ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কাগমারী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাসেল নিহত হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯২ টি মামলা হয়েছে। এতে ১৩৪ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিন জন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
জেলা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যায়, তাদের বেশির ভাগই কিশোর ও যুবক। রেজিষ্ট্রেশন ও লাইনেন্সবিহীন বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারনে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক বাবা মার বুক খালি হচ্ছে। তবে জেলায় এক বছরে কত গুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ও কত জন প্রাণ হারিয়েছে তার কোন তথ্য নেই।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে অভিভাবক, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৫ জন নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা ঢাকায় বিএনপি’র মহাসমাবেশে যাওয়ার পথে বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ায় আটক করা হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঘাটাইল থানার একটি পুরোনো নাশকতার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ওই ২৫ জনের সবাই ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ও দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মী বলে স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন। তাদের বহনকরা বাস সকাল ৭টার দিকে আশুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ থামিয়ে তল্লাশি করে। পরে পুলিশ বাসসহ সবাইকে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যায়।
ঘাটাইল পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, ঢাকায় মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য আটটি মিনিবাস নিয়ে বুধবার ভোরে তাঁরা ঘাটাইল থেকে রওনা হন। তাঁদের সাতটি বাস ঢাকায় চলে যায়। একটি বাস সকাল ৭টার দিকে আশুলিয়ায় পৌঁছালে পুলিশ থামিয়ে তল্লাশি করে। গাড়িতে থাকা নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন, তাঁরা মহাসমাবেশে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ বাসসহ সবাইকে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যায়। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাঁদের ঘাটাইল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিএনপি’র নেতারা জানান, গত বছরের ২২ নভেম্বর ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে নাশকতার চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় ৩৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাত নেতা-কর্মীকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা ঘাটাইলের কাশতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নাশকতার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে তাঁরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করেন।
বিএনপি’র নেতারা আরও জানান, ওই দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ‘গায়েবি’ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সাপের কামড়ে কালাম মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের মুরাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কালাম মিয়া কালিহাতি উপজেলার বল্লা এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে। তিনি মুরাইদ গ্রামে হযরত আলীর জামাতা। শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন তিনি।
কবির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আমরা কয়েকজন মিলে চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরতাম। কালাম মাঝেমধ্যে এসে দেখত জালে সাপ আটকা পড়েছে কিনা। সাপ আটকা পড়লে তাকে জানাতে বলত। মঙ্গলবার সকালে একটি সাপ জালে ধরা পড়লে তাকে জানাই, সে চায়না জাল থেকে সাপ ধরতে গিয়ে ছোবল খায়।
গারোবাজার এলাকার মো. বুলবুল তরফদার নামে একজন জানান, সাপ নিয়ে ঘটনাস্থল মুরাইদ থেকে অটোভ্যান চালিয়ে সাপুড়ে ওস্তাদের উদ্দেশে সাগরদিঘি বাজারের দিকে রওনা দেন কালাম। কিন্তু রাস্তায় গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে কালামকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আ. রাজ্জাক বলেন, সকালে খবর পাই একব্যক্তি সাপসহ রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। তিনি পেশায় একজন অটোভ্যানচালক। ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা জানান লোকটি মাঝেমধ্যে সাপ ধরত। পরে এলাকার লোকজন এসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ পাঁচ বন্ধু কলেজে পড়েন। তারা সবাই ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। থাকেন ঘাটাইল উপজেলার শাহপুর এলাকার রাকিব ম্যানশন ছাত্রাবাসে। এই ছাত্রবাসের পাশেই রয়েছে পুকুর। সেই পুকুরে সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে গোসল করতে নামেন এই পাঁচ বন্ধু। চার বন্ধু সাঁতরে পাড়ে উঠলেও মাঝ পুকুরে ডুবে যান নূর ইসলাম (১৮)। প্রায় দেড়ঘণ্টা পর পুকুর থেকে স্থানীয়রা তার লাশ উদ্ধার করেন।
নিহত কলেজ ছাত্র নূর উপজেলার গারোবাজার এলাকার নতুন বাজার গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
নূরের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে যাওয়া নাহিদ হাসান বলেন, আমি, নূর, রাসেল মিয়া, কাউসার আহমেদ ও আব্দুল্লাহ ছাত্রাবাসের পাশের পুকুরে গোসল করতে যাই। পুকুরটি বেশ বড়। পুকুরের লম্বালম্বি এপার থেকে ওপার সাঁতার দেই আমরা। আমরা তিন জন সাঁতরে পাড়ে উঠলেও নূরকে দেখতে পাইনি। এসময় পুকুরে সাঁতাররত কাউসারকে জিজ্ঞেস করি নূরের অবস্থান।
নাহিদ জানান, এমন কথায় কাউসার শুরুতে ভাবেন তার সঙ্গে মজা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সবাই মিলে নূরকে অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে খোঁজ করেন ছাত্রাবাসে। সেখানেও দেখা না পেয়ে বিষয়টি অবগত করেন ছাত্রাবাসের বড় ভাইদের। এরই মধ্যে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম ফোন করেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগে পুকুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ চালান। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুকুরে নামার আগে স্থানীয় লোকজন নূরের লাশ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনাটি তার বাড়ির পাশেই। বিষয়টি জানার পর তিনি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করেন। স্থানীয় যুবকরা খবর পেয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। মাঝ পুকুরেই ওই কলেজ ছাত্র ডুবে যায়।
ঘাটাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সুজন মিয়া বলেন, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে যান। পুকুরে ডুবুরি নামাতে যাবেন ঠিক সেই সময় স্থানীয় একজনের পায়ের সঙ্গে নূরের মরদেহ উঠে আসে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পুকুরের মাঝখানে ডুবে যান নূর। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনীপ্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় মনিরা আক্তার(১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের ঘাটাইল-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের কুশারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মনিরা আক্তার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সরাবাড়ী কাজলা গ্রামের মান্নান মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৪জন।হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিল।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, মনিরা ও তার তিন বান্ধবী ধলাপাড়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শেষে অটোরিকশা যোগে করে বাড়ি ফিরছিল।
তিনি আরও জানান,পথে ঘাটাইল-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মনিরা আক্তার নিহত হন।আহত হয় তার তিন বান্ধবীসহ অটোরিকশার চালক।
তিনি জানান,স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে দেওপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।টা
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, আসামীদের ঘাটাইল-বাসাইল আমলী আদালতে উপস্থিত করে জামিন চাওয়া হয়। পরে আদালতের বিচারক ইসমত আরা তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাদের ঘাটাইল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা যায়, টাঙ্গাইল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারিকারক মোশারফ হোসেন রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়ার শামসুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সমন জারী করার জন্য যাচ্ছিলেন। দেওপাড়া ভাঙা ব্রিজের কাছে পৌঁছলে অভিযুক্তরা মোশারফ হোসেনের পথরোধ করে। মোশারফের কাছে ১০০ টাকা দাবি করলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে মোশারফ হোসেনকে মারধর করে অভিযুক্তরা। সেখান থেকে রক্ষা পেয়ে বিষয়টি তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করেন। পরে ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উজ্জল সিকদার, মো. আলম ও নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, আসামীদের ঘাটাইল-বাসাইল আমলী আদালতে উপস্থিত করে জামিন চাওয়া হয়। পরে আদালতের বিচারক ইসমত আরা তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন