একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় রাহাত আলী (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রাহাত আলী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার চরদরমপুর গ্রামের হেফাজ উদ্দিনের ছেলে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝখানে উল্টে যায়। এ ঘটনায় ঘটনা স্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মাথা ও এক হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিহতের লাশ গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আধারে বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে দুই নারীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২০ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের পাছ এলাসিন গ্রামে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, পাছ এলাসিন গ্রামের মৃত ছালাম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও মৃত তোতা মিয়ার ছেলে খন্দকার লালন মিয়ার সঙ্গে বসত বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার (২০ মে) মধ্যরাতে ১০টি মোটরসাইকেল যোগে ৩০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী লালন মিয়ার পক্ষে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। সাইফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ছালমা বেগম ও মা খোদেজা বেগমকে বেদম প্রহার করে তারা। এ সময় মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষনা দেওয়া হয়। এ ঘোষনায় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ওই বাড়িতে ১৭ জনকে ৮টি মোটরসাইকেল সহ অবরুদ্ধ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা ৩টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং ৫টি মোটরসাইকেলে ভাংচুর চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ জনতার রোষানল থেকে ওই ১৭ জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আহত ২ নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সরকার আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট ঘটনায় এলাকাবাসী ১৭ জনকে ৮টি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। জনতার রোষানল থেকে তাতক্ষনিকভাবে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগেই জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও পুডিয়ে দিয়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হিমেল (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের সহবতপুর ইউনিয়নের দাস পাড়া মোড় এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মটরসাইকেল আরোহী হিমেল দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় আহত একই গ্রামের কদর খানের ছেলে ইমরানকে (২৫) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) বাহালুল খান বাহার জানান, হিমেল ও ইমরান মোটরসাইল নিয়ে দেলদুয়ার থেকে নাগরপুর আসার পথে দাস পাড়া মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এসময় হিমেল ও ইমরান আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক হিমেলকে মৃত ঘোষণা করেন। মটরসাইকেলের অপর আরোহী ইমরান গুরুত্বর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বেপরোয়া গতির দুই মোটর সাইকেল সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল-নাগরপুর আঞ্চলিক সড়কের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই মোটর সাইকেল চালক হচ্ছেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বরুহা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে নাজিম মিয়া (২৫)।
আহতরা হচ্ছেন, বরুহা এলাকার গোলাপ মিঞার ছেলে সোহেল রানা (২২) ও টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুরের তারেকের ছেলে তন্ময় (২৬)।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার থানার এসআই এম এ আলমগীর জানান, দুই মোটরসাইকেলে দুই দিক থেকে তিন জন যুবক বেপরোয়া গতিতে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুইমোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মাকে বেঁধে রেখে ছিনতাই করা শিশু জুনায়েদকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ভোরে দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রাম থেকে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও সখীপুর থানার পুলিশ যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পিবিআই টাঙ্গাইলের এসআই মেহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিশুটি বর্তমানে পিবিআই টাঙ্গাইলের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসআই মেহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, সখীপুর থানা পুলিশ ও পিবিআই যৌথ উদ্যোগে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুকে বিক্রি করার জন্য তারা জাঙ্গালিয়া গ্রামে নিয়ে রেখেছিলো। বিক্রির আগেই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় কালিহাতীর হাবলা গ্রামের পরান ডাকাত ও তার স্ত্রীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রকাশ, গত বুধবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার শোলাপ্রতিমা এলাকার ট্রাকচালক আছর উদ্দিনের ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী কল্পনা আক্তারের মুখ বেঁধে আড়াই মাসের শিশু জোনায়েদকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) শিশুর মা কল্পনা আক্তার বাদি হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্ক: কৃষক স্বামী আসকর আলীর থাকার ঘরও ছিল না। বড় বোনের দেয়া দশ শতাংশ জমির উপর পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছিল রোকেয়া বেগমের (৫০)। স্বামীর সীমিত আয়ের সংসারের ছিল করুণ অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় দুই যুগ আগে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে রেখে পরপারে পাড়ি জমান আসকর আলী। এ অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়েন রোকেয়া বেগম।
এরপর অন্যের সাহায্য, সহযোগিতা, বাসা-বাড়ি আর অফিসে কাজ করে ছেলেকে বানিয়েছেন প্যারামেডিকেল ডাক্তার। শুধু তাই নয়, ছোট মেয়েকে মাস্টার্স আর মেজ মেয়েকে এইচএসসি পাস করিয়ে বিয়েও দিয়েছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের এ সংগ্রামী নারী।
রোকেয়ার ছোট মেয়ে সাথী আক্তার (৩২) জানান, চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আব্দুল আলিম। তার বয়স যখন ৬ বছর তখন তাদের বাবা মারা যান। বাবার বাড়ি-ঘর না থাকায় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয় বড় খালার দেয়া একটি টিনের ঘরে। সেখানে থাকাবস্থাতেই বিয়ে হয় বড় বোনের। তার বাবার মৃত্যুর সময় মেজ বোন শিল্পী আক্তারের বয়স ১০, আর ছোট ভাই আলিমের বয়স ছিল ৪ বছর।
অভিভাবকহীন এ পরিস্থিতিতে তার মা রোকেয়া বেগম বিচলিত না হয়ে সন্তানদের ভোরণপোষণের ভাবনায় শুরু করেন মানুষের বাসা বাড়ি-সহ স্থানীয় এনজিও সংস্থা আনন্দ’র কার্যালয়ে রান্না করাসহ নানান কাজ। এছাড়াও তাদের প্রাপ্তি হিসেবে ছিল খালা, খালাতো ভাই-বোনের সাহায্য সহযোগিতা আর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া কিছু সুযোগ সুবিধা।
মায়ের এ অবর্ণনীয় কষ্ট আর ত্যাগে তার অর্জন ২০১৯ সালে কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস। এর আগে ২০১৪ সালে ঢাকা প্যারামেডিকেল কলেজ থেকে প্যারামেডিকেল পাস করে তার ছোট ভাই আব্দুল আলিম। বর্তমানে মীরপুর-১ এর ডেলটা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে কর্মরত রয়েছেন তিনি। এছাড়াও মায়ের কষ্টে উপার্জিত টাকায় দেলদুয়ার কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন তার মেজ বোন শিল্পী আক্তার। একই সঙ্গে এ উপজেলাতেই তার ও মেজ বোনের বিয়ে দিয়েছেনও তার মা।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী ময়মনসিংহের জন উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে কর্মরত থাকায় বর্তমানে তিনি মায়ের বাড়িতে বসবাস করছেন। তবে বর্তমানে ছোট ভাই আব্দুল আলিমের মীরপুরের বাসায় ছেলের বউ নিয়ে বসবাস করছেন তার মা রোকেয়া বেগম।
জীবন সংগ্রামী রোকেয়ার আশ্রয়দাতা বড় বোন জরিনা বেগম বলেন, বোন জামাইয়ের কোনো বাড়ি না থাকায় তাদের থাকার জন্য টিনের একটি ঘরসহ দশ শতাংশ জমি দিয়েছিলাম। বোনের সুখের জন্য এ সাহায্যটুকু অল্প বয়সেই তার বোন আমার স্বামীহারা হয়ে পড়ে।
কান্না জড়িতকণ্ঠে তিনি বলেন, ছোট ছোট তিনটি সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে আর মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করিয়েছে সে (বোন)। এখন আমার বোন বোকেয়ার সুখের দিন এসেছে। তার ছেলে ঢাকায় ডাক্তারি করছে। আর তিন মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। তারা সবাই ভালো আছে।
বর্তমানে তার বোন রোকেয়া ঢাকায় বসবাস করছে এ আনন্দ প্রকাশ করলেও স্বামীহারা বোনের জীবন সংগ্রামের বর্ণনা দিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড ভুরভুরিয়া গ্রামের তৎকালীন ইউপি সদস্য মো. দানেস আলী জানান, ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এ ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অল্প বয়সে স্বামীহারা রোকেয়া বেগমকে পরিষদের ভিজিডি থেকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে গম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি। এত কষ্টের পরও ছেলেকে ডাক্তার আর মেয়েগুলোকে শিক্ষিত আর বিয়ে দিতে পারায় রোকেয়া বেগমকে স্বার্থক এক নারী বলে স্বীকৃত দিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের বন্ধে কিছু একটা করার তাগিদে বাবার জমিতে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন শাকিল। মাত্র ৩২ হাজার টাকা খরচ করে এখন পর্যন্ত ৮৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন শাকিল আহমেদ নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অলস বসে না থেকে বাবার জমিতে বিদেশি সবজী জাতীয় ফসল স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পান শাকিল। এতে ভীষণ খুশি শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ।
শাকিল দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত বছর কৃষিতে বিএসসি পাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্স্টাসে চান্স পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, “করোনার বন্ধে বাড়িতে এসে অলস সময় কাটাচ্ছিলাম। অলস সময়ে নিজের পিতার জমিতে কিছু একটা চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করি।
ইন্টারনেট ঘেটে বিদেশি সবজী জাতীয় ফসল স্কোয়াশ চাষ করার উদ্যোগ নিই। বাবার ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশের বীজ রোপণ করি। নিজে কৃষি বিভাগের ছাত্র হওয়ায় এ বিষয়ে আগেই কিছুটা ধারণা ছিল। ইন্টারনেট থেকেই জেনে নেই বিষমুক্ত ফসল আবাদের কৌশল। নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। প্রথম দফাতেই স্কোয়াশের ভালো ফলন পেয়েছি। জমি জুড়ে লম্বা আকৃতির স্কোয়াশ দেখে নিজের মধ্যে আনন্দ লাগছে। স্কোয়াশ চাষে কোনো সমস্যা হলে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “চাষে আমার ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত আমি ৮৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছি। আশা করছি, এক লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। বাজারে আগে প্রতি কেজি এর দাম ছিলো ১২ টাকা বর্তমানে দাম ৮ টাকা।”
শাকিল আহমেদ আরো জানান, অক্টোবর ১৫ তারিখ থেকে নভেম্বর ১৫ তারিখ পর্যন্ত স্কোয়াশ চাষ করার উপযুক্ত সময়। ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফুল ধরে। আর ৪১ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন ধরা শুরু হয়। ৩০ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে এর চারা লাগাতে হবে। একটি গাছে সর্বোচ্চ ৫টি ফল ধরে।
ছেলের এ সফলতায় খুশি শাকিলের পিতা আব্দুল করিম। তিনি আগামীতে তার ছেলেকে আরও বেশি জমি চাষাবাদের জন্য দেবেন। শিক্ষার্থী শাকিলের পরামর্শে তারই চাচাতো ভাইও স্কোয়াশ চাষ করেছেন। তিনিও ভালো ফলন পেয়েছেন।
নিজেদের এলাকায় অচেনা ফসল স্কোয়াশে চাষের সফলতার কথা জেনে আরও অনেকেই স্কোয়াশ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
কৃষি বিভাগ এই অঞ্চলে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণের কথা ভাবছে জানিয়ে দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি অফিসার শোয়েব মাহমুদ বলেন, “চলতি মৌসুমে দেলদুয়ার উজেলায় ১ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশের চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্কোয়াশ চাষিদের সব ধরনের সহায়তা করছে। টাঙ্গাইল জেলায় স্কোয়াশ চাষ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে লাভবান হবেন চাষিরা।”
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন নব্বইয়ের জনপ্রিয় জুটি তারকা দম্পতি নাঈম ও শাবনাজ। বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা। ভ্যাকসিন নেওয়ার দুজনেই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এই দম্পতি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন নিয়েছি। আল্লাহ রহমতে আমরা ভালো আছি।
এ সময় সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ‘সবার জন্য দোয়া রইল। আল্লাহ মালিক।’
এর আগে জনপ্রিয় অভিনেতা সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী সারা জাকের, অভিনেত্রী ও এমপি সুবর্ণা মোস্তফা এবং জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী জেমস করোনার টিকা নেন।
১৯৯১ সালে ‘চাঁদনী’ ছবির মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক এই জুটির। সেসময় ছবিটি ছিল সুপারহিট। তারা জুটি বেঁধে এরপর আরও প্রায় ২০টির মতো ছবিতে অভিনয় করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘জিদ, ‘লাভ, ‘চোখে চোখে, ‘অনুতপ্ত, ‘বিষের বাঁশি’, ‘সোনিয়া’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’ ও ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’।
সিনেমা করতে গিয়েই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেম গড়ে ওঠে। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান।
নাঈম-শাবনাজ বর্তমানে চলচ্চিত্র ছেড়ে দূরে আছেন। নাঈম মনোযোগী তার ব্যবসা নিয়ে এবং শাবনাজ ব্যস্ত সংসার নিয়ে।