একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ২ নারী সহ ৬ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ।
শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে দেলদুয়ার-পাকুল্লা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের সুবর্ণতলী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (৬০), মো. মনজু মিয়ার ছেলে মো. পায়েল আহমেদ (২৩), মো. শুকুর মিয়ার ছেলে মো. মিজান মিয়া (৩৫), নরসিংদি জেলার রায়পুরা উপজেলার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (২৫), মৃত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৫০) ও সুমন মিয়ার স্ত্রী বৃষ্টি বেগম (২২)।
দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেলদুয়ার-পাকুল্লা আঞ্চলিক সড়কের সুবর্ণতলী এলাকা থেকে ২ কেজি গাজা, ৩টি মোবাইল ফোন, নগদ ৩২ হাজার ২৫০ টাকাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বিশ্ব মশা দিবসে টাঙ্গাইলে ২ জন ডেঙ্গু রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (২০ আগস্ট) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হামপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই গৃহবধূ মৃতুবরণ করেন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ লাভলী আক্তার(৩৮) ও একই উপজেলার দেলুয়াখাদি গ্রামের গৃহবধূ রেজিয়া বেগম(৪০)। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তারা মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে এ পর্যন্ত মোট চার জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইল জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
এরমধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ জন, নাগরপুরে ৬ জন, সখীপুরে ৩ জন, মির্জাপুরে ৮ জন, মধুপুরে ২ জন, গোপালপুরে ৩ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই গৃহবধূ মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে মোট চার জন মৃত্যুবরণ করলেন। এ পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট এক হাজার ২৬৭ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট এক হাজার ১৩২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৫ জন রোগী।
একতার কণ্ঠঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যু বার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আলোচনা সভা,দোয়া মাহফিল ও গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ আলী খানের উদ্যোগে ভুরভুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ আলী খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা, আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন আজাদ, পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ সরকার।
আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য টিটু বলেন, আমি অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম,আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না, বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে ১৯৭৪-৭৫ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলো। আজকে যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতো, তবে অনেক আগেই তিনি বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করতেন। তাই ১৫ই আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিনত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশকে র্স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আরেকবার ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি নেতাকর্মীকে ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রামকে শহর করার যে ঘোষনা দিয়েছিলেন যদি কোভিট না হতো তাহলে এতদিনে সত্যিই গাম শহরে রুপান্তরিত হতো। বঙ্গবন্ধুর আত্মা তখনি শান্তি পাবে যখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়িত করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুল হক সুমন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনে-আরা বেগম,আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক,আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার ও ১৫ই আগস্টে সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সহস্রাধিক সাধারণ মানুষের মাঝে রান্না করা খাদ্য বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে অজ্ঞাতনামা কাভার্ডভ্যানের চাপায় জওশন (৩০) নামের এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছে। এ সময় অটোতে থাকা তাঁর ছেলে ইয়াসিন (৮) গুরুতর আহত হয়।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার নাল্লাপাড়া-দেলদুয়ার আঞ্চলিক সড়কের এলাসিন ইউনিয়নের মুশুরিয়া নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অটোরিকশা চালকের নাম মো.জওশন মিয়া(৩০)। তিনি আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া চালা গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন আজাদ জানান, অটোরিকশাটি উপজেলার নাল্লাপাড়া থেকে দেলদুয়ারের দিকে যাচ্ছিলো। অটোরিকশাটি নাল্লাপাড়া-দেলদুয়ার আঞ্চলিক সড়কের মুশুরিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে পিছন থেকে একটি অজ্ঞাত কাভার্ডভ্যান অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ঘুরে কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখী হলে কাভার্ডভ্যান অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, এসময় অটোতে থাকা অটোচালকের ছেলে ইয়াছিন (৮) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা ইয়াছিনকে উদ্ধার করে প্রথমে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে গেলেও তা সনাক্তকরণে চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে প্রবাসী স্বামীর দায়ের কোপে নিহত হয়েছেন প্রবাসী স্ত্রী। শনিবার (১২ আগস্ট) উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বর্ণী গ্রামের সিদ্দিক পালোয়ানের ছেলে ইরাক প্রবাসী রুবেল পালোয়ানের (৩৫) সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার তারাকান্দি গ্রামের মৃত মোক্তার উদ্দিনের মেয়ে জর্ডান প্রবাসী রুবি আক্তারের (২৭) প্রবাসে থাকা অবস্থায়ই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বছরের ২৯ এপ্রিল রুবেল ইরাক থেকে দেশে চলে আসেন।
এদিকে ১ মে রুবি জর্ডান থেকে দেশে আসেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রুবিকে রিসিভ করে নিজ বাড়ি দেলদুয়ারের বর্ণিতে নিয়ে আসেন রুবেল।
সেখানে ২ মে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে রুবেল সস্ত্রীক শ্বশুরবাড়ি কিশোরগঞ্জে বেড়াতে যান। স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি রেখে রুবেল নিজ এলাকায় চলে আসেন। স্বামী তাকে আনতে না যাওয়ায় ২০ জুন রুবি একাই বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি চলে আসেন। এর পর টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিক সময় বাগবিতণ্ডা হয়। ৩ আগস্ট রুবিকে আবার বাবার বাড়ি রেখে আসেন রুবেল। স্বামী না যাওয়ায় ১০ আগস্ট রুবি আবার একাই স্বামীর বাড়ি চলে আসেন। ১১ আগস্ট শুক্রবার ওই টাকার হিসাব নিকাশ নিয়ে তাদের মধ্যে ফের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল দা দিয়ে রুবির মাথায় একাধিক কোপ দেয়। এতে রুবি গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২ আগস্ট) সকালে রুবি মারা যান।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, অভিযুক্ত স্বামী রুবেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত ক্যাম্পের দায়িত্বরত পুলিশ আটক করেছে। থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বাজারের দুই ফার্মেসীকে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার(৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।
সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর ইসলাম জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার পাথরাইল ও পুটিয়াজানী বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালায়।
তিনি আরও জানান,অভিযানে মূল্য বিহীন ওষুধ ও সেবার মূল্য তালিকা না থাকায় চৌধুরী ডেণ্টাল কেয়ারকে তিন হাজার এবং পুটিজানি বাজারের প্রচুর পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও মূল্য বিহীন ওষুধ রাখার দায়ে সুলতানা মেডিকেল হলকে ১৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়।
তিনি জানান, অভিযান পরিচালনাকালে সকলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের কেনা-বেঁচার রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম’র নেতৃত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. কুদরত আলীর উপস্থিতিতে রবিবার ( ৯ জুলাই) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে সমাবেত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম বলেন, তারেক শামস্ খান হিমু’র উপস্থিতিতে এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী গ্রামের মুন্সিপাড়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মতবিনিময় সভায় সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মীবাহিনী সন্ত্রাসী কায়দায় নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপনের ওপর অতর্কিত হামলা করে আহত করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অস্থিতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের পক্ষ হতে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সাবেক ভিপি জহুরুল আমিন, শিক্ষা ও মানব কল্যাণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দেলদার আহমেদ সুভন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রৌশনারা বেগম, উপজেলা আ’লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মো. আজিজুল হক, আব্দুল আলিম, সামেজ মিয়া, শহীদুল হক কিরণ, আতিকুর রহমান নিল্টু প্রমূখ।
এছাড়াও সমাবেসে মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জজ কামাল, যুবলীগ নেতা এস এম আনোয়ার হোসেন, নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আল মামুন, আ’লীগ নেতা আবুল কাশেম, শফিউল আলম সিজার, ধুবড়িয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সেন্টু সহ অন্যান্য সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (০৭ জুলাই) বিকালে দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী ঈদ পুনর্মিলনী মতবিনিময় সভা চলাকালীন সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আ’লীগ কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ খান হিমুর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থেকে নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান কালে এলাসিন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মী আনিসুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রায় ১২ থেকে ২০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শারীরিকভাবে আহত করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী রাশেদকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের নরুন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আলিসা বেগম (২৮)। আর তার স্বামী রাশেদ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান ,ঈদের আগের দিন আলিসা শ্বশুর বাড়ি থেকে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার নরুন্দা পূর্বপাড়া আসেন। রোববার দুপুরে আলিসার স্বামী রাশেদ এসে ছেলে মেয়েকে নিয়ে যান। সোমবার বিকেলে আলিসা তার বাবার বাড়ি নরুন্দা গ্রামে ঘরের ভেতর শুয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্বামী রাশেদ মিয়া শ্বশুর বাড়ি এসে ঘরের ভেতর ঢুকে স্ত্রী আলিসাকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
তিনি আরো জানান,খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী রাশেদকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত রাশেদ ঢাকায় গাড়ির মিস্ত্রির কাজ করেন। এই ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার শশীনাড়া গ্রামের ৫০টি পরিবার ঈদ পালন করছেন।
স্থানীয় ঈমান আব্দুর রহমান জানান, সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তিনি ঈদের নামাজ পড়ান। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন মুসল্লিরা। বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়। সৌদি আরবের সাথে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন মুসল্লিরা।
লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন মোহাম্মদ খান জানান, শশীনাড়া একটি ছোট গ্রাম।এই গ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস।এই গ্রামের একটি সমাজের শতাধিক মানুষ সৌদির সাথে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে।আমি শুনেছি ১০-১২ বছর ধরে এই গ্রামের ৫০-৬০ পরিবার ঈদ উদযাপন করে আসতেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সাল থেকে এ গ্রামের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নাছির মিয়া (১৮) নামে এক যুবককে হাতুড়ি পেটা করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বর্তমানে আহত ওই যুবক উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।
রোববার(১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া চালা গ্রামের কুমের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার নাছির উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় তিন মাস পুর্বে আটিয়া শাহনশাহী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন বিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক ছাত্রীদের ইভটিজিং করছিলো। বিদ্যালয়টি নাছিরের বাড়ির পার্শ্ববর্তী হওয়ায় নাছির ওই যুবকদের চলে যেতে বলে। তারা চলে যেতে না চাইলে একপর্যায়ে যুবকদের তার সাথে বাকবিতন্ডা হয়।
এরই জের ধরে রোববার দুপুরে নাছির মিয়া ওই যুবকদের এলাকায় রাজমিস্ত্রীর সহযোগিতা হিসেবে কাজে গেলে তারা অতর্কিতভাবে হাতুড়ি ,ক্রিকেটস্ট্যাম্প ও লাঠিশোঠা নিয়ে নাছিরের উপর হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি দিয়ে নাছিরের পায়ের নখ থেতলে দেয়। এছাড়া নাছিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হাতুড়ির আঘাতে নাছিরের ডান হাত ভেঙে গেছে। এ সময় নাছিরের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেলদুয়ার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাছিরের পিতা কালু মিয়া জানান, নাছির রাজ মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করে। রোববার সকালে নাছির ওই এলাকায় কাজ করতে যায়। দুপুরে লোক মারফত জানতে পারি আটিয়া চালা গ্রামের সাজেদুল ইসলাম (২০), আসিফ(১৭), শিপন মিয়া(১৮) ও হিঙ্গানগর গ্রামের শিহাব(১৮) মিলে আমার ছেলেকে পুর্বের ঘটনার জের ধরে হাতুড়ি ও ক্রিকেটস্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ওই যুবকেরা ইভটিজিং ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। ঘটনাটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় দুই মেম্বারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আহত নাছির মিয়ার পিতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভিকটিমকে আমি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপ-পরিদর্শক মনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রির্পোট পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল গ্রামে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার(১১ মে) সকালে শাহেদ টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ।
তানভীর আহম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। দেলদুয়ার থানা পুলিশ রিমান্ড দাবী করেন। রিমান্ড চাইতে বিলম্ব হওয়ায় টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম শাহেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশদেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, গত শনিবার বিকেলে মা ও দুই ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মনিরার মা আবেদা বেগম বাদী হয়ে মনিরার স্বামী শাহেদকে প্রধান আসমী করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত তিন চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ শাহেদকে গ্রেপ্তার করতে মাঠে নামে। শাহেদ আত্মগোপন করায় পুলিশ চেষ্টা করেও শাহেদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার শাহেদ স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। দেলদুয়ার থানা পুলিশ রিমান্ড দাবী করেছে। কিন্তু আদালত শাহেদকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল গ্রামে শাহেদের থাকার ঘর থেকে স্ত্রী মনিরা বেগম ও দুই শিশু সন্তান মুশফিক (৮) এবং দুই বছর বয়সী মাশরাফির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মনিরা বেগম একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী মৃত মকবুল হোসেন খান ও আবেদা বেগমের মেয়ে। হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ সাবেক পুলিশ সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলু মিয়ার ছেলে।
একতার কণ্ঠঃ স্বামী শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস একে একে বিক্রি করেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তাঁর টিনের ঘরটিও বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিল। এর জেরে স্ত্রী মনিরা বেগম ও দুই সন্তানকে শাহেদ হত্যা করে পালিয়েছে, এমন ধারণা করছেন মনিরার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। পুলিশও বিষয়টি সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে গতকাল শনিবার(৬ মে) সন্ধ্যায় মো. শাহেদের স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাশেই বিছানায় পড়ে ছিল শাহেদের দুই ছেলে মুসফিক (৮) ও মাশরাফির (২) লাশ। ঘটনার পর থেকে শাহেদ পলাতক।
রোববার(৭ মে) দুপুরে মনিরার মা আবেদা বেগম বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, মামলায় মনিরার স্বামীসহ তিনজনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও তিন–চারজনকে আসামি করা হয়েছে। সুরতহালে দেখা গেছে, দুই ছেলেকে ঘাড় মটকে হত্যা করা হয়েছে। মনিরার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর রবিবার দুপুরে তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় নিজ গ্রামে তাঁদের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
সকালে দেলদুয়ার উপজেলার চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোক বইছে। মনিরার বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি রাস্তার এপার-ওপার। মনিরার ঘর খোলা পড়ে আছে। সেখানে ঢুকে দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে তাঁদের জামাকাপড়। ঘরের পেছন দিকে সিঁধ কাটা। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, এ সিঁধ কেটেই ঘর থেকে মনিরার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
ওই গ্রামের শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া জানান, মনিরার স্বামী শাহেদের বাবা ফজলু মিয়া পুলিশে চাকরি করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে একটি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গ্রাম ছেড়েছেন।
শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি স্ত্রীর গয়না, ঘরের থালাবাটি বিক্রি করে নেশা করতেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তাঁর বসতঘর ২০ হাজার টাকায় চাচাতো ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। ঘর ভেঙে নেওয়ার পর শাহেদ স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার ঘরে ওঠেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে ঝগড়া চলছিল। ঝগড়ার জেরে স্ত্রী–সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে মনে করছেন মনিরার মা আবেদা বেগম।
মনিরার ফুফাতো ভাই জামাল মিয়া জানান, শাহেদ নেশা করতেন। হত্যা করার আগে স্ত্রী–সন্তানকে কোনো ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করতে পারেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে যখন ঘর থেকে মনিরা ও তাঁর দুই ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়, তখনো শাহেদ বাড়িতে ছিলেন। পরে একপর্যায়ে চলে যান। একে একে তাঁদের অন্য চাচাতো ভাইয়েরা বাড়ি ত্যাগ করেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, শাহেদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্রুত এ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।