/ হোম / দেলদুয়ার
টাঙ্গাইলে ধানকাটা শ্রমিকের কোপে হাত বিচ্ছিন্ন অপর শ্রমিকের - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ধানকাটা শ্রমিকের কোপে হাত বিচ্ছিন্ন অপর শ্রমিকের

‍একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকের ধারালো কাচির কোপে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেলিম নামের অপর শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে ঘটেছে ঘটনাটি।

জানা যায়, বর্ণি গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের কৃষক তার জমির ধান কাটতে বিভিন্ন অঞ্চলের ৯জন শ্রমিক নিয়োগ করেন। সকালে তারা জমিতে ধান কাটতে যায়। ধান কাটা অবস্থায় অপর জমিতে কাজ করতে আসা বর্ণি গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে সেলিম নামের শ্রমিক শফিকুলের নিয়োগকৃত শ্রমিকদের নিকট বিড়ি চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে মাসুদ রানা ও আবদুল লতিফ নামের শ্রমিক সেলিমের ডান হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। খবরটি বর্ণি গ্রামে পৌছলে গ্রামের লোকজন শ্রমিকদের ঘেড়াও করে মারধর শুরু করে। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ৬ শ্রমিককে আটক করেন। এ সময় জনরোষে পড়ে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ৬ শ্রমিককে আটক করলেও বাকি ৩ শ্রমিক পালিয়ে যায়।

আটককৃত শ্রমিকরা হলেন , সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি থানার আবদুল আজিজ মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা (৩৭),  একই জেলার বেলকুচি এলাকার মো. মজিদ সরকারের ছেলে আবদুল লতিফ (৩০),  টাঙ্গাইল সদর থানার ভবানিপুর গ্রামের মোঃ আছান মিয়ার ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩০),  সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি এলাকার মোঃ ময়নাল মিয়ার ছেলে মোঃ সাহাব উদ্দিন (২৭),  গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মোজাম্মেল মিয়ার ছেলে নুরুজ্জামান (২৫) ও  সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী এলাকার আবদুল আওয়াল মিয়ার ছেলে নূর আলম (২২)।

দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিড়ি চাওয়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় বর্ণি গ্রামের সেলিম নামের এক শ্রমিকের উপর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাজ করতে আসা শ্রমিকরা হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ৬ শ্রমিককে আটক করা হয় বাকি ৩ শ্রমিক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সেলিম নামের শ্রমিকের ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ভিকটিমের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে  দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. মে ২০২২ ০৩:১৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ইউপি সদস্য উধাও - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ইউপি সদস্য উধাও

একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ইউপি সদস্য উধাও হয়েছেন।

গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার দেওলী ইউনিয়নের ঝুনকাই গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওলী ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. লিটন মন্ডল দীর্ঘ দিন যাবত ঝুনকাই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জামাল মিয়ার স্ত্রী রোজিনার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিছুদিন পর জামাল মিয়া বাড়ি আসার কথা রয়েছে। কিন্তু তিনি আসার আগেই লিটন মন্ডল ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। লিটন মন্ডল ও রোজিনার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

প্রবাসী জামালের মা বলেন, লিটন মন্ডল ফুঁসলিয়ে সম্পর্ক করে আমার ছেলের বউকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। ১২ বছর বয়সের আমার নাতনি লজ্জায় ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না, শুধু কাঁদছে।

তিনি আরো বলেন, লিটন মন্ডল এলাকায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যপারে দেওলী ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান তাহমিনা হক বলেন, এমন ঘটনায় আমরা লজ্জিত ও বিব্রত হচ্ছি। বিভিন্ন সংস্থা থেকে মোবাইল ফোনে মেম্বার লিটন সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে।

এ ব্যাপারে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনও কোনো অভিযোগ পায়নি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. এপ্রিল ২০২২ ১০:০৯:এএম ৪ বছর আগে
আমি প্রতিবাদই করি, লুটপাট তো আর করি না : টাঙ্গাইলে ব্যারিস্টার সুমন - Ekotar Kantho

আমি প্রতিবাদই করি, লুটপাট তো আর করি না : টাঙ্গাইলে ব্যারিস্টার সুমন

একতার কণ্ঠঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ নেই যে চাপে নেই। দেশের সবাই চাপে আছে। সরকারি দলের চাপ আছে বিরোধী দলের কাছে, আবার বিরোধী দলের চাপ আছে সরকারি দলের কাছে। আমি প্রতিবাদই করি, লুটপাট তো আর করি না। প্রতিবাদ করি দেশের জন্য, ব্যক্তি স্বার্থে না।মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘ডুবাইল ক্রিকেট লীগ’ ম্যাচ চলাকালীন তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে প্রবাসীর আত্মহত্যা

তি‌নি আরো  বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলার কথা বলা হয়, সেই সোনার বাংলার জন্য একজন সোনার মানুষ হতে চাই। তরুণদের বলতে চাই, সোনার মানুষ ছাড়া কোনো দিন সোনার বাংলা বানানো সম্ভব না। দলেও যদি সোনার মানুষ না থাকে তাহলে দলটিও ভালো চলবে না।তিনি আ‌রও বলেন, এলাকায় একটি মাঠ না থাকলে এলাকাটি বেশি দিন বাঁচতে পারে না। তরুণ সমাজ মাদকে আসক্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে এলাকায় খেলাধুলার মাঠ না থাকা। মাঠের মধ্যে বাণিজ্য মেলা, গরু-ছাগলের হাট-বাজার বসানো হচ্ছে। এতে তরুণরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মাদকে আসক্ত হচ্ছে।ব্যারিস্টার সুমন বলেন, মনের মধ্যে যদি থাকে আপনি কবে এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন, এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে সোনার বাংলা বানানো সম্ভব না। সোনার বাংলা গড়তে হলে বাংলাদেশকে মনের মধ্যে ধারণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান মারুফ, ডুবাইল জাগরণী সমাজ কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মোন্তাজ আলী, ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল, ব্যারিস্টার মনির হোসেন প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. মার্চ ২০২২ ০৪:২৭:এএম ৪ বছর আগে
নাগরপুরে গণহত্যা দিবস পালিত - Ekotar Kantho

নাগরপুরে গণহত্যা দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে নাগরপুর উপজেলার বনগ্রাম গণকবরে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সহ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

আরো পড়ুনঃ ঢাকায় শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব “সেলুলয়েডে বঙ্গবন্ধু”

পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজায়েত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সরোয়ার ছানা, বনগ্রাম শহীদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান ফজলু সহ গ্রামবাসী।

পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে বনগ্রামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসেন,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো.হুমায়ুন কবীর, নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজায়েত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সরোয়ার ছানা, প্রমুখ।

আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রাম রসুলপুরে (২৫ অক্টোবর) বর্বরোচিত হামলা করে পাক হানাদার বাহিনী। হামলায় নিরীহ গ্রামবাসী সহ ৫৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা সহ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় বসত বাড়ি। সেই সাথে পুড়িয়ে মারা হয় অসংখ্য অসহায় গবাদি পশু। এমন হত্যা যজ্ঞ শেষে পাক হানাদার বাহিনী চলে গেলে গ্রামবাসীদের সহায়তায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হয় গণ কবর। সেই থেকে প্রতি বছর এই দিনে (২৫ মার্চ) শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসন ও নিহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার সহ গ্রামবাসীরা ছুটে যান এই গণ কবরে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২২ ০৩:৪৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নতুন করে ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নতুন করে ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় ৮৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৩৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন জানান,আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৫২জন, দেলদুয়ার উপজেলায় জন ১, সখীপুর ৪ জন, মির্জাপুরে ৭জন, কালিহাতী ৬ জন, ঘাটাইল ১২ জন ও গোপালপুর উপজেলায় ৩ জন নিয়ে মোট ৮৫ জন। জেলায় শনাক্তের হার শতকরা ২৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তিনি আরো জানান, এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩০১ জন। আক্রান্তের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ১৬ হাজার ৬৮৮ জন। জেলায় সর্বমোট মারা গেছে ২৬০ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যাননি।

অপরদিকে, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের তিনজন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় গত সোমবার থেকে দুইদিন ধরে নারী ও শিশু আদালতের সকল বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আহমেদ জানান, আদালতের তিনজন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার গত দুইদিন সকল বিচারিক কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জানুয়ারী ২০২২ ০১:১৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নতুন করে ৭৩ জন করোনা আক্রান্ত,শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নতুন করে ৭৩ জন করোনা আক্রান্ত,শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ২১৫ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ৭৩ জনের করোনা সনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শতকরা ৩৩ দশমিক ৯৫ ভাগ।সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,  এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১৬ জন।আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৫৮ জন, দেলদুয়ার উপজেলায় ৩ জন, সখীপুর ২ জন, কালিহাতী ৩জন , মধুপুর ৪জন, ভূঞাপুর ২ জন ও গোপালপুর উপজেলায় ১ জন নিয়ে মোট ৭৩ জন।

তিনি আরো জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়েছে ১৬ হাজার ৬৭৫ জন।তবে ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যাননি। জেলায় সর্বমোট করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬০ জন।

অপরদিকে, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তিনজন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সোমবার নারী ও শিশু আদালতের সকল বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আদালতে তালা ঝুলছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আহমেদ জানান, আদালতের তিনজন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারনে সকল বিচারিক কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জানুয়ারী ২০২২ ১২:১৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নতুন করে ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নতুন করে ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৫৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ৫৩ জনের করোনা সনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শতকরা ২১ দশমিক ২৮ ভাগ তবে ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যাননি।  রবিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ১৪৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ জন। সর্বমোট মারা গেছে ২৬০ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৪০ জন, দেলদুয়ার উপজেলায় ১ জন, সখীপুর ২ জন, ঘাটাইলে ৬ জন এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ৪ জন নিয়ে মোট ৫৩ জন।

সিভিল সার্জন জানান, টাঙ্গাইলে কম সংখ্যক মানুষ করোনার পরীক্ষা করাচ্ছেন। করোনা প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. জানুয়ারী ২০২২ ১১:৫৪:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায়  নতুন করে আরো ৩৬ জনের  দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ হাজার ৮৩ জনে। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ১৩ জন, বুধবার (১৯ জানুয়ারি) ২৮ জন, বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ২৯ জন দেহে করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে।  এই পরিসংখ্যান থেকে  দেখা যায়, জেলায়  বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরো জানায় ,বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ভোর ৬ টা থেকে শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ভোর ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ২৭জন, সখীপুর, ঘাটাইল ও বাসাইল উপজেলায় ২ জন করে, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলায় ১ জন করে রয়েছেন।

এ পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় কোন রোগী মারা যায়নি।  জেলায় এই যাবদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬০ জন।

এ প্রসঙ্গে  টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জানান, গণপরিবহনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস বেশি ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ভ্রমণ করা ব্যক্তিরাই করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান,  করোনা প্রতিরোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. জানুয়ারী ২০২২ ০১:৫১:এএম ৪ বছর আগে
পাথরাইলের বান্দাবাড়ীঃ যেন ভিন গ্রহের এক গ্রাম - Ekotar Kantho

পাথরাইলের বান্দাবাড়ীঃ যেন ভিন গ্রহের এক গ্রাম

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইল সদর থেকে দক্ষিনে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান । টাঙ্গাইল-নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের ভুরভুরিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৫ শত মিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটির নাম বান্দাবাড়ী। গ্রামের মাঝ দিয়ে চলে গেছে গ্রামবাসির এক মাত্র চলাচলের কাঁচা রাস্তাটি। গ্রামের ১১০টি ঘরের ৪১৩ জন লোকের চলাচলের রাস্তাও এটি। নেই কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রামীন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র।গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলার কোন মাঠ পর্যন্ত নেই। বিগত দুই যুগে গ্রামে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেনি । ২০২২ সালে এসেও মনে হয় দুই যুগ আগের বাংলার কোন গ্রাম যেন এটি।

দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের এই গ্রামটির নাম ইউনিয়ন পরিষদ বোর্ডে লেখা আছে বান্দাবাড়ী। কেবল লেখা পর্যন্তই অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে এই গ্রামের।নির্বাচন আসে,নির্বাচন যায়। সরকার আসে, সরকার যায়।বান্দাবাড়ী গ্রামবাসীদের আজো কাঁচা রাস্তায় চলাচল করতে হয়।গ্রামের শিশুদের পড়ালেখা করতে পাশের ইউনিয়ন আটিয়ার গমজানী প্রাথমিক বিদ্যালয় না হলে ভুরভুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। পাশের ইউনিয়নের গ্রাম গুলোর রাস্তা-ঘাটের অনেক উন্নয়ন হলেও,উন্নয়ন বঞ্চিত এই গ্রাম। বান্দাবাড়ী গ্রামবাসীদের কেবল মিলেছে প্রতিশুতি পর প্রতিশুতি।নিজ ইউনিয়নে পরবাসী যেন বান্দাবাড়ী গ্রাম।

গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা মোঃ গঞ্জের আলী বলেন, গ্রামের এক মাত্র কাঁচা রাস্তাটির সর্বশেষ উন্নয়ন হযেছিল ১৯৮৬ সালে। তৎকালিন চেয়ারম্যান মোঃ আয়াত আলী খান বর্তমান চলাচলের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি করে দিয়েছিলেন। তার পর আর কোন উন্নয়ন দেখেনি বান্দাবাড়ী গ্রামের লোক জন।

তিনি আরো বলেন, তার জীবদ্দশায় আর গ্রামের কাঁচা রাস্তাটির উন্নয়ন দেখে যেতে পারবে কিনা তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।পাথরাইল ইউনিয়নের দক্ষিন-পশ্চিম সর্বশেষ অংশে গ্রামটির অবস্থান হওয়ায় নির্বাচন ব্যতিত কোন জন প্রতিনিধি গ্রামে আসে না। তিনি এখন আর কোন জনপ্রতিনিধিকে গ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ করেন না।

Ekotar kantho

একই গ্রামের গৃহবধু ছালমা বেগম বলেন, তার এই গ্রামে বিবাহ হয়েছে প্রায় ১৪ বছর হল। নববধূ হিসেবে গ্রামে এসে যে অবস্থা দেখেছেন, আজ ১৪ বছর পর একই অবস্থা দেখছেন বান্দাবাড়ী গ্রামের।বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এই গ্রামে কেও আসতে চায় না। সে সময় কোন রুগিকে গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে বহন করে শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে।

এই গ্রামের তরুন যুবক মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, গ্রামের উন্নয়নে কোন চেয়ারম্যান কিম্বা মেম্বার এখন পর্যন্ত নজর দেয়নি। এমনকি স্থানীয় সাংসদ এই গ্রামের কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করেনি। বান্দাবাড়ী গ্রাম যেন ভিন গ্রহের কোন গ্রাম।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মোঃ আবুল কাশেম বলেন, তিনি সদ্য নির্বাচিত। তবে তিনি বান্দাবাড়ী গ্রাম ও রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা শুনেছেন। গ্রামটি ইউনিয়ন হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দীর্ঘ দিন হল উন্নয়ন বঞ্চিত।তিনি চেষ্টা করবেন যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাঘাট সহ গ্রামের উন্নয়ন করার।

Ekotar Kantho

পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ সরকার জানান, গ্রামটি আসলেই উন্নয়ন বঞ্চিত।দীর্ঘদিন হল গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তার কোন উন্নয়ন হয়নি।বর্ষা কালে এই গ্রামের মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।

তিনি আরো জানান, তিনি চেয়ারম্যান হয়েই বান্দাবাড়ী গ্রামের রাস্তা পাঁকা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। ইতোমধ্যে গ্রামের ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটির স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়(এলজিইডি) বিভাগ থেকে মাপ-ঝোক করে নিয়ে গেছে। আশা, করি খুব দ্রুতই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া বান্দাবাড়ী গ্রামের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. জানুয়ারী ২০২২ ০৪:০০:পিএম ৪ বছর আগে
ভ্রমণ সাহিত্যে ‘সংশপ্তক’ পদক পেলেন উদয় হাকিম - Ekotar Kantho

ভ্রমণ সাহিত্যে ‘সংশপ্তক’ পদক পেলেন উদয় হাকিম

একতার কণ্ঠঃ ভ্রমণ সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সংশপ্তক সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন উদয় হাকিম। রবিবার (২৬ ডিসেম্বর, ২০২১) দুপুরে তার হাতে ওই পুরষ্কার তুলে দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা।

বিজয়ের সুর্বণ জয়ন্তী এবং সংশপ্তক-এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদয় হাকিমের হাতে পুরষ্কারের ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি নূরুল হুদা। সংশপ্তক-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুশতাক আহমেদ লিটন, বর্তমান সভাপতি মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক সুজয় মন্ডল ও রাইজিংবিডির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এম এম কায়সার প্রমুখ।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভ্রমণ শাখায় শক্তিশালী লেখক উদয় হাকিম। এ পর্যন্ত তিনি ভ্রমণ বিষয়ে তিনটি বই লিখেছেন। যার সবগুলোই ব্যাপক পাঠকপ্রিয় হয়েছে। ভ্রমণ সাহিত্যে তিনি আধুনিক ধারার সূচনা করেছেন। যা পাঠককূলের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ‌্যতা পেয়েছে। উদয় হাকিমের মোট বইয়ের সংখ্যা ১০টি। তার লেখা সবগুলো বই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘দার্জিলিঙে বৃষ্টি কালিম্পঙে রোদ’; ‘রহস্যময় আদম পাহাড়’; ‘সুন্দরী জেলেকন্যা ও রহস্যময় গুহা’; ‘হেলিচেয়ার’; ‘ভূতের মহাসমাবেশ’ ইত্যাদি।

দেশের যেকোনো লাইব্রেরি থেকে এসব বই কেনা যাবে। এছাড়া রকমারি (https://www.rokomari.com/book) ওয়েবসাইট থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।

উদয় হাকিম বর্তমানে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকম এর উপদেষ্টা সম্পাদক এবং ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি ‘ত্রিবেণী’ নামে জনপ্রিয় একটি মিউজিক প্রোগ্রামের উপস্থাপক। গান এবং আবৃত্তি তাকে ভীষণভাবে টানে।

নানা গুণে গুণান্বিত উদয় হাকিম এর আগে ‘রহস্যময় আদম পাহাড়’ বইটির জন্য সমরেশ বসু সাহিত্য পুরষ্কার পেয়েছেন।

আপাদমস্তক ভ্রমণ পিপাসু উদয় হাকিমের জন্ম টাঙ্গাইলেi দেলদুযার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামে। মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করেন টাঙ্গাইল থেকেই। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী  অর্জন করেছেন তিনি।

১৯৯৯ সালে প্রথম আলো’য় সাংবাদিকতার মাধ‌্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এরপর চ্যানেল আই, দেশের প্রথম ২৪ ঘণ্টা খবরের চ্যানেল সিএসবি নিউজ এবং কালের কণ্ঠে কাজ করেন। কর্পোরেট জগতে প্রবেশ করেন ২০১০ সালে। প্রতিটি অঙ্গনেই কৃতিত্বের ছাপ রেখেছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:১১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে “আটিয়া” যেন এক পাঙ্গাসের গ্রাম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে “আটিয়া” যেন এক পাঙ্গাসের গ্রাম

একতার কণ্ঠঃ বাড়ি-বাড়ি পুকুর। পুকুর ভরা পাঙ্গাস মাছ। ঘরে-ঘরে পাঙ্গাস চাষী। পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের প্রায় সবাই এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। পুকুরের মাটি ও পানির গুনগত মান এবং পুষ্টিকর খাবারে উৎপাদিত পাঙ্গাস প্রচলিত জাতের হলেও স্বাদে অতুলনীয়। ফলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ সাফল্য জমিদারী আমলের আটিয়া পরগনার ‘আটিয়া’- বর্তমানে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া গ্রামের।

আটিয়া গ্রামেই অবস্থিত সুফী সাধক শাহান শাহ আদম কাশ্মিরীর মাজার শরীফ। মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রায় ৪’শ বছরের পুরনো মসজিদটি এখন প্রত্নতান্তিক সম্পদ। ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালে দেশীয় মুদ্রা সংস্করণে দশ টাকার নোটের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়ায় আটিয়ার পরিচিতি দেশব্যাপী। বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের আনাগোনাও রয়েছে।

আটিয়া গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এ গ্রামের প্রায় সবাই এখন পাঙ্গাস চাষে স্বপ্ন পুরণে ব্যস্ত। স্থানীয় নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আমিষের চাহিদা পুরণ করছে আটিয়ার পাঙ্গাস। মসজিদটির কারণে বিখ্যাত হওয়া আটিয়া গ্রামের জীবন-যাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পাঙ্গাস চাষ। পাঙ্গাসের গ্রাম নামে নতুন পরিচয় পাচ্ছে ‘আটিয়া’। সুস্বাদু পাঙ্গাসের কারণে আটিয়া গ্রামের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে জানাগেছে, ১৯৯৪ সালে ওই গ্রামের আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তি প্রথম আটিয়াতে পাঙ্গাস মাছ চাষ শুরু করেন। আসাদুজ্জামান আসাদের কঠোর পরিশ্রম ও পুকুরের পানির গুণে পাঙ্গাসের ভালো ফলনে তিনি লাভবান হন। আসাদের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে আটিয়ার যুবকরা পাঙ্গাস চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন আটিয়ার ঘরে-ঘরে পাঙ্গাস চাষী। এই গ্রামে দেড় শতাধিক পুকুরে এখন পাঙ্গাস চাষ হচ্ছে। পোনা মজুদ, পাঙ্গাস চাষ, মাছ ধরা, এমনকি বাজারে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রায় সবাই এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাঙ্গাস চাষের সাথে যুক্ত। প্রায় দুই যুগের পাঙ্গাস চাষের ইতিহাসে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তবে গত কয়েক বছরে ধাপে-ধাপে খাবারের দাম বেড়ে দ্বিগুন হওয়ায় পাঙ্গাস চাষের আগামি দিনগুলো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ন্বপ্নের পাঙ্গাস চাষকে সহজতর করতে খাবারের দাম কমানো, মাছ সরবরহের ব্যবস্থাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছে পাঙ্গাসের গ্রাম আটিয়ার চাষীরা।

প্রতিষ্ঠিত পাঙ্গাস চাষী আসাদুজ্জামান আসাদের এখন চারটি পুকুর। দুটিতে ৩০ হাজার পাঙ্গাস চাষ করেন। বাকি দুইটি পুকুরে পাঙ্গাসের পোনা মজুদ রাখেন। তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে আটিয়ায় তিনিই প্রথম পাঙ্গাস চাষ শুরু করেন। গ্রামে এখন দেড় শতাধিক পুকুরে পাঙ্গাস চাষ হচ্ছে। তিনি অভিযোগের সুরে জানান, বর্তমানে পাঙ্গাসের খাবারের দাম দ্বিগুন। ৭-৮ শ’ টাকা মূল্যের খাবারের বস্তা হয়েছে ১৭-১৮শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সে তুলনায় মাছের দাম বাড়েনি, আগের দামেই পাঙ্গাস বিক্রি করতে হচ্ছে। পাঙ্গাস চাষে জেলা-উপজেলায় দুইবার সেরা চাষীর পুরস্কার পেলেও বর্তমানে পাঙ্গাস চাষ নিয়ে হতাশায় রয়েছেন তিনি। আসাদের পর ১৯৯৯ সালে পাঙ্গাস চাষ শুরু করেন বায়েজিদ হোসেন জুয়েল। তার চারটি পুকুরে ১৫ থেকে ২০ হাজার পাঙ্গাস চাষ করেছেন তিনি। জুয়েলও পাঙ্গাস চাষে খাবারের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৩২-৩৪ টাকা কেজির খাবার দাম বেড়ে ৫২-৫৩ টাকা কেজি। প্রতি কেজিতে ২০-২২টাকা মূল্য বেড়েছে।

আটিয়ার ডা. লুৎফর রহমান ও জায়েদুর রহমানরা সাত ভাই মিলে ৬টি পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করেছেন। খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডা. লুৎফর রহমান বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। খাবারের সব ধরনের কাঁচামাল কিনে কারখানা থেকে ভাঙিয়ে এনে পুকুরে দেন। ফলে মাছের খাবারের উর্ধ্বগতিতেও লাভের হিসাব আগের মতোই গুনছেন তিনি। স্থানীয় কেউ কেউ ডা. লুৎফর রহমানকে অনুসরণ করছেন আবার কেউ কেউ বাড়িতে খাবার তৈরি করতে ছোট আকারের মেশিন কিনে বাড়িতে বসিয়ে খাবার তৈরি করছেন। এতে তাদের পাঙ্গাসের খাবারের খরচ আরও কমে এসেছে।

স্থানীয় খায়রুল হোসেন বাচ্চুও চারটি পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পাঙ্গাস চাষ করে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনলেও বর্তমানে খাবারে দাম বেড়ে যাওয়ায় হোঁচট খাচ্ছেন তিনিও। স্বামী মারা যাওয়ার পর বিধবা নারী ঝরনাও শুরু করেন পাঙ্গাস চাষ। বেঁচে থাকা অবস্থায় স্বামীর কাছ খেকে শিখেছিলেন কিভাবে পাঙ্গাস চাষ করতে হয়। মাছ চাষ করেই দুই মেয়ের বিয়ের খরচ যুগিয়েছেন তিনি। বাকি দুজনের ভরণ-পোষণের জন্য মাছ চাষ ছাড়েননি তিনি। ঝরনার মতো গ্রামের অনেকেই পাঙ্গাস চাষে ঝুঁকছেন। ফলে আটিয়া গ্রামে বেকারত্ব নেই বলেই চলে। সবাই এখন স্বাবলম্বী।

আটিয়া গ্রামের চাষীরা প্রতি হাজার পাঙ্গাস চাষ করে বছরে ২৫-৩০ হাজার টাকা উপার্জন করছে। একজন চাষী ২৫ থেকে ৩৫ হাজার পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের অর্থনীতির চাকা বদলে দিয়েছে। একদিকে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদিকে গ্রামের অর্থনীতিকে মজবুত করেছেন। মাছের বর্তমান পাইকারী বিক্রি মূল্য মন প্রতি চার থেকে চার হাজার ২০০টাকা। পাঙ্গাস চাষে খাবারের দাম দফায়-দফায় বেড়ে দ্বিগুন হলেও মাছের পাইকারী দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যেই রয়েছে। সম্প্রতি পাঙ্গাস চাষীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। খাবারের দাম না কমলে পাঙ্গাস চাষ থেকে অনেক চাষী ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, আটিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামের মানুষ মূলত কৃষি কাজের উপরই নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে পাঙ্গাস চাষে সাফল্য পাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই পাঙ্গাস চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য এলাকায় চাষ করা পাঙ্গাসের তুলনায় আটিয়ার পাঙ্গাস স্বাদের ভিন্নতায় অতুলনীয়। তাই এ এলাকার পাঙ্গাসের চাহিদাও বেশি।

টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দেলদুয়ারের আটিয়ার পাঙ্গাস প্রসিদ্ধ। পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা সাধ্যমতো পাঙ্গাস চাষীদের সহযোগিতা করছেন। জেলা-উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে মাছ চাষীদের পাশে রয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:১২:এএম ৪ বছর আগে
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা সোমবার(২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।

দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক এস.এম. এহসানুল হক সুমনের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রেজাউর রহমান চঞ্চল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিক, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক, সহ-সভাপতি এস প্রতাপ মুকুল প্রমুখ।

বর্ধিত সভায় দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. নভেম্বর ২০২১ ০১:৫৯:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।