একাতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নির্বাচনের ৮দিন পর একটি বিদ্যালয়ের ছাদে সিল মারা ৫২৭ টি ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়েছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে সিল মারা তালগাছ প্রতীকের ওই ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তালগাছ প্রতীকের নারী সদস্য পদের প্রার্থী বিউটি আক্তার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। নির্বাচনের ৮ দিন পর সকালে এ ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলতে গিয়ে ব্যালট পেপারগুলো দেখতে পায়। তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়। পরে শিক্ষকরা স্থানীয়দের অবগত করলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তালগাছ প্রতীকের প্রার্থী বিউটি আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসেন। ব্যালট পেপার দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে মাইক প্রতীকের প্রার্থী রাশেদা বেগম ১৮শ’ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। নির্বাচনে আমাকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ৮দিন পর আমার নিজ কেন্দ্রের বিদ্যালয়ের ছাদে তালগাছ প্রতীকের সিল মারা ৫২৭টি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এই ব্যালট পেপারগুলো একত্রিত করলে আমি দুই শতাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। নির্বাচনে ফেল করাতেই আমার প্রতীকের সিল মারা ব্যালট পেপার বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে দেয়। পরে ভোট গণনা করে আমাকে ফেল দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে আইনগত ব্যবস্থায় যাবো। ব্যালট পেপারগুলো আমার কাছে এনে রেখেছি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে মোবাইলে শুনেছি। প্রার্থী ট্রাইবুনালে অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা চাইতে পারেন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন কে বা কারা ব্যালট পেপারগুলো বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে গেছেন, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। নির্বাচন শেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিলগালা করে ফলাফল ঘোষণা করে এসেছেন। তখন কোন প্রার্থীর অভিযোগ ছিল না।
দেলদুয়ার থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন অফিসিয়ালি অভিযোগ বা কোন নির্দেশনা পেলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৩ উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ৫টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সখীপুর উপজেলায় এ ইউনিয়নে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে দুইটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হোসেন ১৪ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ পান ৬৮৭৫ ভোট।
বহেড়াতৈল ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৯ হাজার ৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম ফেরদৌস তিনি পান ৬ হাজার ১৪৭ ভোট।
যাদবপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী একেএম আতিকুর রহমান ১০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খন্দকার বজলুর রহমান বাবুল পান ৬ হাজার ১৫৮।
বহুরিয়া ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরকার মোহাম্মদ নূরে আলম মুক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পান ৮ হাজার ৭০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রাথী গোলাম কিবরিয়া সেলিম পান ৬ হাজার ২১৭ ভোট।
ধনবাড়ী উপজেলা: এ উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এবং ৩টিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও ১ টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। অপরদিকে মুশুদ্দি, বীরতারা এবং বলিভদ্র ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়।
ধোপাখালী ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৮ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী কামাল হোসেন তালুকদার পান ৪ হাজার ১৩৭ ভোট।
যদুনাথপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মীর ফিরোজ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১৬ হাজার ৩৩৪ জন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ পান ৭১৫ জন।
বানিয়াজান ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রাথী রফিকুল ইসলাম তালুকদার ফটিক ৯ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাসুদ আলম পান ১ হাজার ১৯ ভোট।
পাইস্কা ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া) জাহাঙ্গীর আলম ৭ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আরশেদ আলী পান ২ হাজার ৩৬৫ ভোট।
এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন- বলিভদ্র ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, মুশুদ্দিতে আবু কায়সার ও বীরতারাতে আমহেদ আল-ফরিদ। এরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন।
দেলদুয়ার উপজেলা: এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৫টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ডুবাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াস মিয়া, ফাজিলহাটী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত আলী, দেলদুয়ার সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ উজ্জামান খান, পাথরাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাম প্রসাদ ও দেউলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রার্থী দেওয়ান তাহমিনা হক বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া লাউহাটী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন মোহাম্মদ খান ও এলাসিন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মানিক রতন বিজয়ী হয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ছিলিমপুর বাজারে একটি পাটের গুদামে সোমবার (৮ নভেম্বর) দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে ৭৩ বস্তা (২.২ মেট্রিক টন) সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উদ্ধার করেছে র্যাব।এ সময় দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বড়বেলতা গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মন্ডলের ছেলে আব্দুল আজিজ মন্ডল (৬০) ও একই উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো.সোহেল (২৮)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল র্যাব দেলদুয়ার উপজেলার ছিলিমপুর বাজারে অভিযান চালায়।অভিযানে র্যাব সদস্যরা ছিলিমপুর বাজারের জনৈক সেকান্দরের পাটের গুদামের ভেতর থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৩০ কেজি ওজনের ২৩ বস্তা চাল জব্দ করে। এ সময় পাচারের জন্য মিনি ট্রাকে রাখা আরো ৫০ বস্তা সহ মোট ৭৩ বস্তা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল জব্দ করা হয়।
র্যাব-১২ আরো জানায়, অভিযানকালে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল আজিজ মন্ডল ও মো. সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আটিয়া ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল উজ্জামান মোল্লা (৪১) সোমবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে বাবুল উজ্জামান মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। হঠাৎ তার মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন বাতিল চেয়ে কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত থাকবে। এ ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৩২২ জন।
এদিকে বাবুল উজ্জামান মোল্লার মৃত্যুতে তার পরিবার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে সদস্য পদের নির্বাচন হবে কি না সেটা কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
একতার কণ্ঠঃ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঢাকা, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (১০ অক্টোবর) দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের ৮টি জেলা এবং সিলেট বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগের একটি ইউপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো-
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারাতে আহাম্মদ আল ফরিদ, বানিয়াজানে রফিকুল ইসলাম তালুকদার, যদুনাথপুরে মীর ফিরোজ আহমেদ, পাইস্কাতে মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ধোপাখালীতে আকবর হোসেন, মুশুদ্দিতে আবুল কায়ছার, বলিভদ্রে রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
সখীপুর উপজেলার যাদবপুরে এ, কে, এম আতিকুর রহমান, বহরিয়াতে গোলাম কিবরিয়া, বহেরাতৈলতে ওয়াদুদ হোসেন, কাকড়াজানে তারিকুল ইসলাম।
দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়াতে মাসুদুল হাসান তালুকদার, দেউলীতে দে. তাহ্ মিনা, পাথরাইলে রামপ্রসাদ সরকার, লাউহাটিতে হাবিবুর রহমান, দেলদুয়ারে মাসুদ-উজ্জামান খান, ডুবাইলে ইলিয়াছ মিয়া, এলাসিনে বেলায়েত হোসেন, ফাজিলহাটিতে শওকত আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন এম শিবলী সাদিকের নাম দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, শিবলী সাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি জাহিদ সারওয়ার কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারির আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন।
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিগত ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি ডটকমসহ অন্যান্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান শেষে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রমাণিত না হওয়ায় তার নাম বাদ দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) শেখ ফাইয়াজ আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত করা হয়েছে। এরপর এ বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (৩ অক্টোবর) দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে শিবলী সাদিকের নাম বাদ দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন দেলদুয়ারের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।
আদালতের শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুদকের মামলায় পাঁচ বছর সাজা হয়। এরপর হাইকোর্টে সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের এ নেতার নাম দুদকের অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি এই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন তিনি।
রিটকারী আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বরাদ্দকৃত টিআর-এর ২৭ লাখ টাকা দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিক ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। দুস্থ, অসহায় পরিবার ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টিআর বরাদ্দ দেওয়ার বিধান থাকলেও দেলদুয়ারে চলছে হরিলুট। বিষয়টি নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধান করে দুদক তার নামসহ অভিযোগটিও বাতিল করে দেয়। এ কারণে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আমি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হই। সোমবার আদালত আমার আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। আর তাই প্রায় ১৪শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার ।মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের ৫ম একনেক সভায় টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করতে ১ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
একনেক চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের ৫ম একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় যোগ দেন। নগরীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিবর্গ, প্রতিমন্ত্রীগণ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবর্গ ও সচিবগণ সভায় যোগ দেন।
সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে,টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং এতে সময়ও কম লাগবে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, আজকের সভায় ৬ হাজার ৫৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি প্রকল্প নতুন এবং ৫টি প্রকল্প সংশোধিত।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে, ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসাবে পাওয়া যাবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে,টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লোহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং এতে সময়ও কম লাগবে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
বাকি প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ৭৩.৪৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৫টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও জোরদারকরণ, এক গ্রেড পৃথক ইন্টারসেকশন এবং একটি ইউলুপ অথবা আন্ডারপাস নির্মাণ, ৩১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ১৩.২৬ লাখ কিউবিক মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনে সরকারি এম এম আলী কলেজ(কাগমারী) ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারন সম্পাদক(জিএস) রুহুল আমিন বাদশার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । এলাসিন তারেক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৭ ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যেগে ওই শোক সভা আয়োজন করা হয় ।
শনিবার( ১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এলাসিন তারেক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, মরহুম রুহুল আমিনের বাদশার সহকর্মী সরকারি এম এম আলী কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড. ফরহাদ ইকবাল, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সভপতি মোঃআব্দুল আজিজ চানখাঁ, এলাসিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ ফরহাদ হোসেন সহ বাদশার বন্ধু, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শোক সভা শেষে মরহুম বাদশার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রাম থেকে রত্না বেগম নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃদ্ধা রত্না বেগম(৫০) বাড়িতে নিজের ঘরে একাই থাকতেন।
প্রতিবেশিরা জানায়, কয়েকদিন যাবত রত্না বেগমকে দেখতে না পেয়ে শুক্রবার(১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রতিবেশিরা তার ঘরের সামনে গিয়ে ছিটকিনি আটকানো দেখতে পান। ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।
পরে তারা ঘরের দরজা খুলে দেখেন রত্না বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। তার মুখের ভেতরে কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে- কোন এক সময় রত্না বেগম(৫০) নিজের ঘরে খুন হয়েছেন। থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে স্বামীর হাতে অন্তসত্ত্বা স্ত্রী খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামে। নিহতের নাম দীপালী দাস (২৩)।এ ঘটনায় রাতেই নিহতের স্বামী রামু চন্দ্র মনি দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।নিহতের লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দিপালী দাস কালিহাতি উপজেলার সালেঙ্গা গ্রামের দুলু চন্দ্র মনি দাসের মেয়ে।
নিহতের বাবা দুলু চন্দ্র মনি দাস জানান, প্রায় ৫ বছর আগে নয়াচর গ্রামের রামু চন্দ্র দাসের সাথে দিপালী দাসের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। বর্তমানে দিপালী দাস ২ মাসের অন্তসত্ত্বা। পারিবারিক কলহের কারণে দিপালী দাসকে তার স্বামী মারপিটের পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন পারিবারিক কলহের কারণে দিপালী দাসকে তার স্বামী শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে তিনি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। নিহতের বাবা দুলু চন্দ্র মনি দাস বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের স্বামী রামু চন্দ্র মনি দাস পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ প্রশস্ত হচ্ছে টাঙ্গাইল-কালামপুর সড়ক। এ জন্য ‘টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে, এক হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সাথে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সাথে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া (বালিয়াটি) সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। যেটি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা থেকে শুরু হয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি নামক স্থানে সমাপ্ত হয়েছে। জেলা মহাসড়কটির ঢাকা-টাঙ্গাইল জাতীয় মহাসড়ক এবং ঢাকা আরিচা জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে ন্যূনতম সময়ে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। উল্লিখিত মহাসড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় নির্মাণ করা হলে নাগপুরসহ টাঙ্গাইল অঞ্চলের মানুষ প্রায় ৪০ কিলোমিটার কম দূরত্ব অতিক্রম করে সহজে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে।
এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে ন্যূনতম সময়ে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হবে। ২৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়কটির সঙ্গে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গোলড়া-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়কের ২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার কাওয়ালিপাড়া-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়কের ৪ দশমিক ২৪ কিলোমিটার, কালামপুর বাসস্ট্যান্ড-কাওয়ালিপাড়া-বালিয়া-ওয়ার্শি-মিজৃাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, নতুন সড়ক নির্মাণ, বাঁকসরলীকরণ ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার ও টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগাধীন টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার জেলা মহাসড়ক ১১ কিলোমিটারসহ মোট ৫টি মহাসড়কের ৬১ দশমিক ৫২ কিলোমিটার অংশকে একীভূত করে কালামপুর থেকে কাওয়ালীপাড়া, সাটুরিয়া, লাউহাটি, দেলদুয়ার হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক মানে উন্নীতকরণ করা হলে নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথমানে উন্নীত করার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ৬১ দশমিক ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তশরণ ও মজবুতিকরণ, দূর্ঘটনা প্রবণ ঝুকিপূর্ণ স্থানে সড়ক বাঁক সরলীকরণ, বাজার এলাকায় রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, ঝুকিপূর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও সরু সেতু কালভার্টের স্থলে ৪৪৬ মিটার ৩১টি কালভার্ট এবং ৩৮১ দশমিক ১৪ মিটার ৫টি সেতু পুনঃনির্মাণ করা হবে। এছাড়া পানি নির্গমনের জন্য ড্রেন ও সড়ক বাধ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় রক্ষাপ্রদ কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জের বিশাল জনপদে যোগাযোগের জন্য এটিই হবে মূল সড়ক এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত এই সড়কটিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ মানুষ পেশায় কৃষক এবং ব্যবসায়ী। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদিও দ্রুত ও সহজে পরিবহনের জন্য প্রস্তাবিত সড়কটি ব্যবহৃত হবে।
প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, পেভমেন্ট প্রশস্তশরণ ও মজবুতিকরণ, ওভারলে সার্ফেসিং, সার্ফেসিং, গ্রেড সেপারেটেড ইন্টারসেকশন নির্মাণ, ইউ লুপ, আন্ডারপাস, আরসিসি রিজিড পেভমেন্ট, সসার ড্রেন এবং আরসিসি রিটেননিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন আল রশীদ বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সাথে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ১৪২ পিস ইয়াবা সহ রাজিব মিয়া (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার(৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী পুটিয়াজানী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন(বিএন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত রাজিব মিয়া উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন(বিএন) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার(৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী পুটিয়াজানী গ্রাম থেকে রাজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১৪২ পিস ইয়াবা একটি মোবাইল ফোন, একটি সিম কার্ড এবং নগদ ৩ হাজার টাকা সহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় মাদকের মামলা দায়ের করা হয়েছে।