/ হোম / অপরাধ
টাঙ্গাইলে মাদ্রাসাশিক্ষকের ওপর হামলা, জড়িতদের বিচার দাবি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদ্রাসাশিক্ষকের ওপর হামলা, জড়িতদের বিচার দাবি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার ( ৭ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার সিরাজকান্দি দাখিল মাদ্রাসার সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্তে বাধা ও প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের বহিরাগত যেসব বখাটেরা লাঞ্ছিত ও মাধধর করে আহত করেছে তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ইভটিজিংকারী বখাটে অভিযুক্ত দুইজন গ্রেফতার হলেও বাকিদের গ্রেফতারে গড়িমসি করছে পুলিশ। তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কদ্দুস, সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি দেয় জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দুইজনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে আসে শিক্ষকরা।পরে জাহিদকে তার এক বড়ভাই ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

পরের দিন সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুনর্বাসনের কাছে পৌঁছলে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে তাদের মারার জন্য পথ আটকায়। একপর্যায়ে বখাটেরা রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে। পরে স্থানীয় ও শিক্ষকরা তাদের উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন

ঘটনার একদিন পর আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে ভূঞাপুর থানায় মামলা করলে টাঙ্গাইল র্যা ব-১২ সিপিসি ৩ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গত বুধবার সাগর ও স্বপনকে গ্রেফতার করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে র্যা ব।পরে বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠায় ভূঞাপুর থানা পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুন ২০২২ ০৬:৫৫:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্রী সুনিকা হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্রী সুনিকা হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কলেজ ছাত্রী সুনিকা খাতুনের হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা।

মঙ্গলবার (৭ জুন ) দুপুরে উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

এতে কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, নিহত সুনিকার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।

মনববন্ধনে হেমনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম, প্রভাষক সোহেল রানা, আজমত হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব হাসান টুটুল, কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাকিল আহমেদ, ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাবেক সম্পাদক সবুজ আহমেদ, সুনিকার বাবা দুলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা সুনিকার হত্যাকারী তার স্বামী সুমনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল হেমনগর ডিগ্রি কলেজর শিক্ষার্থী সুনিকার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। সুনিকা সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তাদের সংসার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত ২১ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নতুন শিমলা পাড়া গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রী সুনিকা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তার স্বামী সুমন (৩১)। ঘটনার পর সুনিকার বাবা গোপালপুর থানায় মেয়ের স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ে করেন। এরপরই পুলিশ সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুন ২০২২ ০২:২৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সহপাঠী সুমাইয়া হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শামসুল হক কলেজ মোড় এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও শামসুল হক কলেজ, লুৎফর রহমান মতিন কলেজ, এলেঙ্গা বিএম কলেজ, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়াইহাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এসময় বক্তব্য দেন- এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর, লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, এলেঙ্গা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম তালুকদার, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা ও নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।

ekotar kantho

একাধিক ছাত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়া তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরদিকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, ইভটিজিং মুক্ত শিক্ষাঙ্গন এবং রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।

নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া জানান, এ হত্যাকাণ্ড একা ঘটানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করেছিল। আমরা মামলা করার পরও তাদের আদালতে পাঠায়নি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরও বিচার দাবি করছি। আমরা ধারণা করছি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত।

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, এলেঙ্গা ক্লাব থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সৃষ্টি। এ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সুমাইয়াকে হত্যা করেছে। কিশোর গ্যাং তৈরিতে যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাই। যে ছুরি দিয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে সেই ছুরি হাতে নিয়ে ৭২ ঘণ্টা আগে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মনির টিকটক করেছে। ভিডিওটি প্রশাসনের সব গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আছে। এছাড়াও ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। এলেঙ্গা শিক্ষা নগরীকে যারা অরক্ষিত বানাতে চায়, সেই হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করছি। এই ফাঁসির মধ্য দিয়ে এলেঙ্গা আবার শান্তির নগরীতে পরিণত হবে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মনির ছাড়া হত্যাকাণ্ডে কিংবা পরিকল্পনায় আর কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবর সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার কলেজ পাড়া এলাকার খোকনের নির্মাণাধীন বাড়ির নীচতলার সিঁড়িকোঠা থেকে সুমাইয়ার মরদেহ ও আহত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমাইয়া কালিহাতী পালিমা গ্রামের ফেরদৌস আলমের মেয়ে। পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মনিরের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ফেরদৌস আলম বাদী হয়ে মনিরকে আসামি থানায় মামলা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২২ ১১:১৭:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে রাতের আঁধারে বিক্রি হচ্ছে সরকারি বালু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে রাতের আঁধারে বিক্রি হচ্ছে সরকারি বালু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বুড়িগঙ্গা নদী পানি প্রবাহ বৃদ্ধি প্রকল্পে উত্তোলনকৃত সরকারি বালু রাতের আঁধারে বিক্রি করছে একটি চক্র।

সরকারি বিধি নিষেধ তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছাঁয়ায় ওই মহলটি সরকারি বালু বিক্রির এই হরিলুট চালাচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতার কারনে বর্তমানে বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও, চক্রটি আবার বালু বিক্রির জন্য তৎপর হয়ে উঠছে।

জানাগেছে, এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে স্থানীয় আশরাফ আলী, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ভুইয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা রাসেল ভুইয়া, দেলোয়ার হোসেন, অছিমুদ্দিন, ফজল হক, হারুন , জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, রিপন মিয়া, অমিত ও জাকির মিয়া খননকৃত বালু রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দেদারছে বিক্রি করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে নিউ ধলেশ্বরী নদীর পাশে খননকৃত সরকারি বালু রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবার তৎপর হয়ে উঠে প্রভাবশালী এই চক্রটি। কোন ভাবেই সরকারি এই বালু বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমান আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করলে প্রশাসনের চোখকে অতি সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায়। তাই রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি করছে একটি চিহ্নিত চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।সারারাত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমসহ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।

এই অবৈধ বালু বিক্রি চক্রের হোতা আশরাফ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে দুদিন ধরে অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বালু বিক্রি শুরু হবে।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাজমুল হোসাইন জানান, অবৈধভাবে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ধলাটেঙ্গর ও কুড়িঘুড়িয়া নামকস্থানে যদি অবৈধভাবে বালু বিক্রি করা হয়ে থাকে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। সরকারি উত্তোলনকৃত বালু রাতের আঁধারে বিক্রিকারীদের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনকে মামলা করতে বলা হয়েছে। আশাকরি, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২২ ০২:৫০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সূত্রহীন  (ক্লু-লেস) ২য় শ্রেনির ছাত্রী তিশা (৯) কে গনধর্ষণসহ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল। গনধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার(৬ জুন) সকালে এ তথ্য প্রকাশ করে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, শিশু তিশার প্রতি বিকৃত যৌন লালসা গ্রেফতারকৃত আসামিরা মনে পোষণ করে। সেই জেরে তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যা করার জন্য ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় আসামীরা।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলো- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), একই এলাকার আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। আসামীরা শিশু তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পিবিআই এর কাছে স্বীকার করেছে।

টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায়, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বন্দে ভাটপাড়া গ্রামের মো: আবু ভূইয়ার কন্যা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শেনির ছাত্রী তিশা আক্তার (৯) কে বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই এর একটি চৌকস ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পিবিআই টিম জানতে পারে ঘটনার দিন সকালে মো: আবু ভূইয়ার স্ত্রী সম্পা বেগম তার ছেলে ৫ম শ্রেনির ছাত্র মো: শুভ ভূইয়া (১২) ও ২য় শ্রেনির ছাত্রী মেয়ে তিশা আক্তারকে (৯) স্থানীয় শহীধ ক্যাডেট একাডেমিতে নিয়ে যায়।

দুপুরে স্কুল ও কোচিং শেষ হলে তিশা বাড়িতে চলে আসে। ছেলে শুভ সময় মত বাড়িতে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হয়। এসময় তিশা বাড়িতে একাই ছিলো। পরে শুভকে এলাকার ফজলুর দোকানে বসে থাকতে দেখে। এসময় শুভকে জুস কিনে দেয় এবং পাশের অমত মেম্বারের দোকান হতে বিস্কুট কিনেন ও দোকানদারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

এতে প্রায় ঘন্টাখানিক সময় দেরি হয় তাদের বাড়িতে ফিরতে। বাড়িতে ফিরে মা ও ভাই দেখতে পায় বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে তিশা খাটের উপর ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে। এসময় মা ও ভাই তিশাকে বাঁচানোর জন্য ফাঁসের ওড়না খুলে দেয়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তিশাকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে বাসাইল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এসময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তিশাকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু তিশার অবস্থা ভালো না থাকায় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। মেয়ের মা সম্পা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়। এতে শিশু তিশার অবস্থা আরো থারাপ হতে থাকে। ফলে মেয়েকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে বিকেলে শিশু তিশা মারা যায়। বাসাইল থানা পুলিশ তিশার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ময়না তদন্ত শেষে ২৯ মে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পিবিআই টাঙ্গাইল তাদের ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় ২৯ মে বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

পরবর্তীতে ৪ জুন তিশার ময়না তদন্ত রির্পোটে গনধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওইদিনই তিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল গনধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি:) খন্দকার আশরাফুল কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌখস দল অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী গোবিন্দ মন্ডল পেশায় একজন পিকআট ড্রাইভার, বিজয় সরকার তার সহযোগী ও চঞ্চল একজন অটো মেকানিক। এদের মধ্যে একজনকে বাসাইল পৌরসভার কাঁচাবাজার এলাকায় ও অপর দুই আসামীকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তারা জানায়, তিশা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও পুজায় চমৎকার নাচ করতো। তার নাচের প্রতিভায় সবাই মুগ্ধ ছিল।

পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আসামিরা সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতো। তখন থেকে আসামিরা শিশু তিশার প্রতি বিকৃত লালসা তাদের মনে মনে পোষণ করে এবং বিভিন্ন ভাবে তিশাকে উতক্ত্য করতো। পরে তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। একদিন আসামিরা জানতে পারে তিশার মা তিশাকে বাড়িতে একা রেখে ছেলেকে আনতে যায়। এই সুযোগে ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকায় তিশার রুমে প্রবেশ করে তার হাত, মুখ, পা চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের ফলে তিশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন আসামিরা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিশার গলায় তার মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরো জানায়, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত শিশু তিশার বড় ভাই শিশু শুভ কান্না জড়িত কন্ঠে ছোট্ট বোনটির হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে বলে, আমি সব সময় বাড়িতে আমার ছোট বোনকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ওকে কোথাও পাই না। তখন আমার অনেক কষ্ঠ লাগে। আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

শিশু তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার ওই ছোট্ট মেযেটিকে কখনো ফুলের টোকাও দেয়নি। ওরা আমার অবুঝ মেয়েকে যে অমানবিক নির্যাতন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাদের একই রকমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হোক। আমি এর বিচার চাই।

শিশু তিশার বাবা মো: আবু ভূইয়া বলেন, যারা আমার মেয়ের সাথে এ ধরনে কাজ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই। বিচার বিভাগের মাধ্যমে এমন একটি শাস্তি চাই যা দেখে আর কেউ যেন এমন করার সাহস না পায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২২ ০৪:০৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ;অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ;অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে।শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা সোহেল খানের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর  থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষিতা স্থানীয় একটি স্কুলের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে।

ধর্ষণের ওই ঘটনায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোন সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দরিদ্র ধর্ষিতার পরিবার।

ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী জানায়, প্রতিবেশি দুই সন্তানের জনক সোহেল স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত আর কু-প্রস্তাব দিত। একদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে এক দোকানে জিনিস (পন্য) কিনে ফেরার পথে একা পেয়ে সোহেল রাস্তা থেকে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করেন। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ধর্ষণের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় হুমকি দেন। এরপর বিয়ের কথা বলে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করতো। তার ধর্ষণের ফলে আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এখন বিয়ের কথা বললেই তিনি আমাকে মারধর করেন। এছাড়াও গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তারা এলাকায় প্রভাবশালী।

স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। ঠিকমতো বাড়িতেও থাকা হয় না জীবিকার তাগিদে। মেয়ের মা কানে কম শুনে। সোহেল বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো। এনিয়ে তাকে বহুবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে মানেনি। পরে জানতে পারি আমার মেয়ের সাথে তার শারীরিক সর্ম্পকের কথা। এনিয়ে তার পরিবারকে জানালে উল্টো আমার মেয়েকে সোহেল মারধর করতো। এছাড়া সোহেল প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছে নানাভাবে। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযুক্ত সোহেল খানের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলার ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে সম্প্রতি ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আল-আমিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল খান, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার আবুল কাশেম আজাদ, ইউপি সদস্য খাইয়ুল ইসলামসহ এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বৈঠক হয়। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আসামী গ্রেফতার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২২ ০৩:৫৪:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দাদার বিরুদ্ধে নাতনীকে ধর্ষনের অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দাদার বিরুদ্ধে নাতনীকে ধর্ষনের অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, বাড়ির আঙ্গিনায় খেলার সময় কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আব্দুল মালেক (৬০)। সোমবার (৩০ মে) দুপুরে  উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আব্দুল মালেক তিন সন্তানের বাবা এবং সম্পর্কে ভুক্তভোগীর দাদা হন।

পারিবারিক সূত্র জানায় ,  সোমবার দুপুরে বাড়ির আঙ্গিনায় সমবয়সীদের সঙ্গে খেলছিল শিশুটি। এ সময় টাকার লোভ দেখিয়ে তাকে ঘরে ডেকে নেন আব্দুল মালেক। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর শিশুটি কান্নাকাটি করলে বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। পরে তাকে পাশের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান ।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ‘মেয়েটাকে মধুপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে ওর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গণ্যমান্যদের বিষয়টি জানিয়েছি। এর আগেও আব্দুল মালেক একাধিকবার এ কাজ করেছে। টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করতে গ্রামের মাতবররা চাপ দিচ্ছেন। আমরা গরীব মানুষ এর বিচার চাই।’

শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ইব্রাহীম মিয়া জানান, ‘যেহেতু এটা পারিবারিক বিষয় মীমাংসার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (২ জুন) শিশুটিকে বাড়িতে আনা হয়েছে। বর্তমানে ডাক্তারের পরামর্শে অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে’।

বর্তমান ইউপি সদস্য আবু সাঈদ জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি জানার পর ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আকবর হোসেন। অপরদিকে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. চান মিয়া জানান, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে থানায় আসতে বলেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২২ ০৫:৫৯:পিএম ৪ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আম পাড়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

গত বুধবার (০১ জুন) ক্যাম্পাসে আম পাড়া নিয়ে একজন আরেকজনকে চড় মারলে তা ঘটনার শুরু হয়।

জানা যায়, গত বুধবার আম পাড়া নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরে মানিক শীলের এক কর্মী চড় মারে নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে।

পরে সেই দিনই নিবিড় পালের অনুসারীরা এক হয়ে মানিক শীলের রাজনীতিতে জড়িত ঐ শিক্ষার্থীকে মারধর করে।

শুক্রবার (০৩ জুন) মানিক শীলের অনুসারীরা নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ও মান্নান হলের মাঝে পেয়ে মারধর করে।

পরে নিবিড় পালের গ্রুপ এক হয়ে ধাওয়া দিলে তাদের একজন মেয়ে শিক্ষার্থীদের আলেমা খাতুন ভাসানী হলে আশ্রয় নেয়।

এরপর মানিক শীল গ্রুপের ঐ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে পাল্টা হামলা করতে বিজয় অঙ্গনে অবস্থান নেয় নিবিড় পালের প্রায় শ’খানেক কর্মী।

সেখানে শিক্ষকবৃন্দ তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে।ঐ সময় মানিক শীলের দুই-তিন জন অনুসারীকে একা পেয়ে শিক্ষকদের সামনেই তাদের মারধর শুরু করে নিবিড় পালের অনুসারীরা।

প্রক্টর ক্যাম্পাসে না আশা পর্যন্ত শিক্ষকবৃন্দ নিবিড় পালের অনুসারীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানালে তারা হলে গিয়ে অবস্থান নেয়।

ক্যাম্পাসে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের একগ্রুপের নেতৃত্বে থাকা মানিক শীল জানান, খুব ছোট বিষয় নিয়ে জুনিয়রদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে, প্রক্টর স্যারকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগে অপর গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা নিবিড় পালের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেন নি।

এবিষয়ে প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিষয়টি জেনে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এসময় তিনি আরো জানান, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত আছে, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২২ ০২:৪৯:এএম ৪ বছর আগে
ঢাকা থেকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন টাঙ্গাইলের গৃহকর্মী মৌসুমী - Ekotar Kantho

ঢাকা থেকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন টাঙ্গাইলের গৃহকর্মী মৌসুমী

একতার কণ্ঠঃ ঢাকার রমনা এলাকায় আবু হাসান মুহম্মদ তারিক নামে পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজিপির বাসা থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গৃহকর্মীর নাম মৌসুমী আক্তার (১৪)। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামে। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৌসুমির বাবার নাম মুক্তার। যিনি ১০ বছর আগে মারা গেছেন। তার মায়ের নাম ফরিদা। তার মা বাইচাইল গ্রামে একটি জীর্ণশীর্ণ ঘরে কোনরকমে বসবাস করেন। ২০১৯ সাল থেকে মৌসুমি ওই বাসায় কাজ করে আসছিল। ঘটনার সময় বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না।

জানা যায়,  বুধবার (১ জুন) বিকেলে রমনা অফিসার্স কোয়ার্টারের বাসা থেকে দরজা ভেঙে গৃহকর্মী মৌসুমির লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার গ্রামের বাড়ি ঘাটাইলের বাইচাইল গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। বাড়ীতে লাশ পৌছার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যর অবতারণা হয়।

রমনা থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহের গলার মাঝখানে রশি পেছানোর দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মরদেহের হাত ও শরীরের দুই পাশ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। তবে দুই হাতের মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। মরদেহে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৌসুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২ জুন) মৌসুমির মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। মৌসুমির বাড়ি থেকে তার নানী এবং বড় বোন ঢাকায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেছে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।

ঘাটাইলে সরেজমিনে মৌসুমির বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে চলছে শোকের মাতম। তার মা বারেবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সেখানে পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন।

এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মৌসুমির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক পুলিশ সদস্য আমাদের থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার (১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে রমনায় অবস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মাদ (অতিরিক্ত আইজিপি) তারিকের বাসায় যান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য। এসময় বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় ওই পুলিশ সদস্য রমনা থানায় বিষয়টি জানান। পরে রমনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাসার বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৌসুমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।

রমনা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় অতিরিক্ত আইজিপির বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার স্ত্রী-সন্তানরা তখন বাসার বাইরে ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মোহাম্মাদ তারিক বর্তমানে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।

মৌসুমির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কী মনে করছে জানতে চাইলে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। তবে মরদেহের সুরতহাল আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে সে যদি আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে কী কারণে করেছে আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২২ ১২:৪৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পৌনে ১৩ লাখ টাকার হেরোইনসহ আটক ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পৌনে ১৩ লাখ টাকার হেরোইনসহ আটক ২

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকার হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়িকে আটক করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) ভোরে সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের হেরোইনসহ ওই দুই মাদক ব্যবসায়িকে আটক করা হয়।

অভিযানে আটককৃতরা হলেন-রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর কানাপাড়া গ্রামের মো. আহাদুল এর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) ও মৃত আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী মোছাঃ বেগম (৪৫)।

উদ্ধারকৃত হেরোইনের পরিমাণ ১২৭ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকার নিটল সি.এন. জি পাম্পের সামনে ফাঁকা জায়গায় ইটের সলিং এর উপর অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর কানাপাড়া গ্রামের মো. আহাদুল এর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) ও মৃত আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী মোছাঃ বেগম (৪৫)কে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১২৭ গ্রাম হেরোইন, তিনটি মোবাইল ও এক হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬ (১) এর ৮ (গ) ধারায় একটি মামলা করেছে র‌্যাব।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. জুন ২০২২ ০৮:১২:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বালুঘাটের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, আতঙ্কে ৮ গ্রামের মানুষ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বালুঘাটের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, আতঙ্কে ৮ গ্রামের মানুষ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকরাইল ইউনিয়নে বালু ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। গত এক সপ্তায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষজন আহত হয়েছে।

এসব ঘটনায় উভয়পক্ষই থানা ও আদালতে ১০-১২টি মামলা দায়ের করেছে। ফলে ওই এলাকার আট গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জানাগেছে, নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন-১, পুনর্বাসন-২, পুনর্বাসন-৩ ও পুনর্বাসন-৪ এবং পলশিয়া, সারপলশিয়া, সিরাজকান্দি, পাটিতাপাড়া গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের মূল ব্যবসা বালু উত্তোলন ও সরবরাহ। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে ইউনয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার নৌকা এবং সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুল হক মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে মাসুদুল হক মাসুদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই বালু ঘাট দখলের চেষ্টায় সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

ওই এলাকায় মোট ১৩টি বালুঘাট রয়েছে। বালু ঘাটগুলো হচ্ছে- নাজির মেম্বারের ঘাট, কদ্দুছ সরকারের ঘাট, ভাবীর ঘাট, মাসুদ মেম্বারের ঘাট, নুহু মেম্বারের ঘাট, করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট, মিনহাজ মন্ডলের ঘাট, ছানোয়ারের ঘাট, বাবুর ঘাট, তাঁতি লীগের ঘাট এবং চিতুলিয়াপাড়া ঘাট। এক সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) কাছ থেকে ডাব(পুকুরের পার) ইজারা নিয়ে ও জমির মালিকদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এলাকার লোকদের সাথে নিয়ে ওইসব বালুঘাট পরিচালনা করতেন। বাসেক ডাব ইজারা দেওয়া বাতিল করায় জমির মালিকদের সাথে বালু ব্যবসার হিস্যা দেওয়ার চুক্তি কিংবা অংশীদারিত্ব দিয়ে স্থানীয় লোকজন রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

বালু ঘাটগুলোর মধ্যে করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট ও মিনহাজ মন্ডলের ঘাট সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পরিচালনা করেন। অন্য বালুঘাটগুলো বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ(সাবেক মেম্বার) তার নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের নেতাকর্মীদের বালুঘাট চারটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
সিরাজকান্দি গ্রামের বাবলু মিয়া, পলান শেখ, পলশিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, মোখলেছুর রহমান, অটোভ্যান চালক আলামিন, আব্দুর রহিম, সিরাজকান্দি বাজারের খোদাবক্স সহ আরও অনেকে জানান, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যকার বিরোধ মূলত: ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ মনে করেন সাবেক চেয়ারম্যানের ইন্দনে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার মনে করেন, ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের ইন্দনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাসুদুল হক মাসুদ বালুঘাট দখলে নিতে হামলা চালাচ্ছে। উভয় পক্ষের এহেন ঘটনায় এলাকার মানুষ বাইরে বের হতে পারছেনা। তারা আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। বাজারে যেতে পারছেনা, কোন রকমে গেলেও দোকানপাট খুলতে পারছেনা। অনেকেই ভিন্ন স্থানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ভ্যান-অটোরিকশা থামিয়ে মারপিট করা হচ্ছে। তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২৭ মে(শুক্রবার) দুপুরে পাটিতাপাড়া এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন মিনহাজ মন্ডলের ঘাটে বালু তোলা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় ঘাট দখলে নিতে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন ওই ঘাটে হামলা চালায়। পাশের মোজাফ্ফর প্রামানিক ও ফেরদৌস প্রামানিকের বাড়ি থেকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ও লাঠি সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০-৩৫জন আহত হয়।

২৯ মে(রোববার) সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন বাগানবাড়ী বালুঘাট বর্তমান চেয়ারম্যানের ভাই রফিক ও নুহু মেম্বার ভূঞাপুর পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের গাড়ি চালক আ. আলীম ও এপিএস পাভেলের উপস্থিতিতে দখল করতে যায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের নেংড়া বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ২৫-২৬ জন আহত হয়। ৩০ মে(সোমবার) ওই দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। ৩১ মে(মঙ্গলবার) বতমান চেয়ারম্যানের সমর্থক জুরান মন্ডল ও নুহু মেম্বারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সমর্থক বাগানবাড়ী বালুঘাট দখল করতে যায়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়। ১ জুন(বুধবার) ভাবীর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়।

উল্লেখিত ঘটনায় গত এক সপ্তায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় পাল্টা- পাল্টি অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ওই ঘটনাগুলোয় ভূঞাপুর থানা ও টাঙ্গাইলের আদালতে ১০-১২টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুঘাট কেউ কারোটা দখল করছে না। তবে জমির মালিকরা সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে জমি না দেওয়ায় তাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ঘটনাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। আবার হামলার শিকার যারা হয়েছেন তারাও থানায় অভিযোগ দিয়েছে।

নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার জানান, তার নামে কোন বালুর ঘাট নেই। তিনি বালুর ব্যবসাও করেন না। পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মাসুদ চেয়ারম্যান, নুরুল ইসলাম ওরফে নুহু মেম্বার ও জুরান মন্ডলের নেতৃত্বে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন ও হামলা চালানো হচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্দনে বালু ঘাট দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। দুইটি মামলায় এ পর্যন্ত ১০জনকে আটক করা হয়েছে। নিকরাইল এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল ধরণের ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ জানান, নিকরাইল ইউনিয়নে বালুঘাটকে কেন্দ্র করে হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ঘাট সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ায় এসব ঘটনা ঘটছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইশরাত জাহান জানান, সমস্যাটি মূলত রাজনৈতিক। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দুই পক্ষের সাখে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. জুন ২০২২ ০২:০৩:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় দুই বখাটে গ্রেফতার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় দুই বখাটে গ্রেফতার

একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় দুই বখাটেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বুধবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১নং পুর্নবাসন গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. স্বপন (১৮) ও আ. আলিমের ছেলে মো. সাগর (১৮)।

বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসবিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে, রোববার (২৯ মে) দুপুরে মাদরাসার মেয়েদের কমন রুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি মারছিল জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। ঘটনাটি ওই মাদরাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দু’জনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে যায় শিক্ষকরা। আটক জাহিদকে কৃতকর্মের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে সোমবার (৩০ মে) দুপুরে ওই মাদরাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ টিফিনের সময় নামাজ পড়তে পুনর্বাসনের মাঝামাঝি কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে পৌঁছালে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারার জন্য পথ আটকায়।

একপর্যায়ে বখাটেরা তাকে রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে আহত করে। পরে এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।

এরপর মঙ্গলবার (৩১ মে) ওই শিক্ষক বাদি হয়ে জড়িতদের আসামী করে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ এবং বুধবার (১ জুন) মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে স্বপন ও সাগর নামে দুই বখাটে কে আটক করে র‍্যাব।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানা গেছে, র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বহুদিন ধরে তারা মাদরাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে। পরে আটককৃতদের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. জুন ২০২২ ০৪:০২:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।