একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সূত্রহীন (ক্লু-লেস) ২য় শ্রেনির ছাত্রী তিশা (৯) কে গনধর্ষণসহ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল। গনধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার(৬ জুন) সকালে এ তথ্য প্রকাশ করে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, শিশু তিশার প্রতি বিকৃত যৌন লালসা গ্রেফতারকৃত আসামিরা মনে পোষণ করে। সেই জেরে তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যা করার জন্য ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় আসামীরা।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলো- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), একই এলাকার আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। আসামীরা শিশু তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পিবিআই এর কাছে স্বীকার করেছে।
টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায়, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বন্দে ভাটপাড়া গ্রামের মো: আবু ভূইয়ার কন্যা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শেনির ছাত্রী তিশা আক্তার (৯) কে বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই এর একটি চৌকস ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পিবিআই টিম জানতে পারে ঘটনার দিন সকালে মো: আবু ভূইয়ার স্ত্রী সম্পা বেগম তার ছেলে ৫ম শ্রেনির ছাত্র মো: শুভ ভূইয়া (১২) ও ২য় শ্রেনির ছাত্রী মেয়ে তিশা আক্তারকে (৯) স্থানীয় শহীধ ক্যাডেট একাডেমিতে নিয়ে যায়।
দুপুরে স্কুল ও কোচিং শেষ হলে তিশা বাড়িতে চলে আসে। ছেলে শুভ সময় মত বাড়িতে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হয়। এসময় তিশা বাড়িতে একাই ছিলো। পরে শুভকে এলাকার ফজলুর দোকানে বসে থাকতে দেখে। এসময় শুভকে জুস কিনে দেয় এবং পাশের অমত মেম্বারের দোকান হতে বিস্কুট কিনেন ও দোকানদারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
এতে প্রায় ঘন্টাখানিক সময় দেরি হয় তাদের বাড়িতে ফিরতে। বাড়িতে ফিরে মা ও ভাই দেখতে পায় বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে তিশা খাটের উপর ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে। এসময় মা ও ভাই তিশাকে বাঁচানোর জন্য ফাঁসের ওড়না খুলে দেয়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তিশাকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে বাসাইল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এসময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তিশাকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু তিশার অবস্থা ভালো না থাকায় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। মেয়ের মা সম্পা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়। এতে শিশু তিশার অবস্থা আরো থারাপ হতে থাকে। ফলে মেয়েকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে বিকেলে শিশু তিশা মারা যায়। বাসাইল থানা পুলিশ তিশার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ময়না তদন্ত শেষে ২৯ মে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পিবিআই টাঙ্গাইল তাদের ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় ২৯ মে বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
পরবর্তীতে ৪ জুন তিশার ময়না তদন্ত রির্পোটে গনধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওইদিনই তিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল গনধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি:) খন্দকার আশরাফুল কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌখস দল অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী গোবিন্দ মন্ডল পেশায় একজন পিকআট ড্রাইভার, বিজয় সরকার তার সহযোগী ও চঞ্চল একজন অটো মেকানিক। এদের মধ্যে একজনকে বাসাইল পৌরসভার কাঁচাবাজার এলাকায় ও অপর দুই আসামীকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তারা জানায়, তিশা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও পুজায় চমৎকার নাচ করতো। তার নাচের প্রতিভায় সবাই মুগ্ধ ছিল।
পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আসামিরা সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতো। তখন থেকে আসামিরা শিশু তিশার প্রতি বিকৃত লালসা তাদের মনে মনে পোষণ করে এবং বিভিন্ন ভাবে তিশাকে উতক্ত্য করতো। পরে তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। একদিন আসামিরা জানতে পারে তিশার মা তিশাকে বাড়িতে একা রেখে ছেলেকে আনতে যায়। এই সুযোগে ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকায় তিশার রুমে প্রবেশ করে তার হাত, মুখ, পা চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের ফলে তিশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন আসামিরা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিশার গলায় তার মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরো জানায়, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহত শিশু তিশার বড় ভাই শিশু শুভ কান্না জড়িত কন্ঠে ছোট্ট বোনটির হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে বলে, আমি সব সময় বাড়িতে আমার ছোট বোনকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ওকে কোথাও পাই না। তখন আমার অনেক কষ্ঠ লাগে। আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।
শিশু তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার ওই ছোট্ট মেযেটিকে কখনো ফুলের টোকাও দেয়নি। ওরা আমার অবুঝ মেয়েকে যে অমানবিক নির্যাতন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাদের একই রকমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হোক। আমি এর বিচার চাই।
শিশু তিশার বাবা মো: আবু ভূইয়া বলেন, যারা আমার মেয়ের সাথে এ ধরনে কাজ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই। বিচার বিভাগের মাধ্যমে এমন একটি শাস্তি চাই যা দেখে আর কেউ যেন এমন করার সাহস না পায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে।শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা সোহেল খানের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষিতা স্থানীয় একটি স্কুলের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে।
ধর্ষণের ওই ঘটনায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোন সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দরিদ্র ধর্ষিতার পরিবার।
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী জানায়, প্রতিবেশি দুই সন্তানের জনক সোহেল স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত আর কু-প্রস্তাব দিত। একদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে এক দোকানে জিনিস (পন্য) কিনে ফেরার পথে একা পেয়ে সোহেল রাস্তা থেকে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করেন। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ধর্ষণের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় হুমকি দেন। এরপর বিয়ের কথা বলে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করতো। তার ধর্ষণের ফলে আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এখন বিয়ের কথা বললেই তিনি আমাকে মারধর করেন। এছাড়াও গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তারা এলাকায় প্রভাবশালী।
স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। ঠিকমতো বাড়িতেও থাকা হয় না জীবিকার তাগিদে। মেয়ের মা কানে কম শুনে। সোহেল বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো। এনিয়ে তাকে বহুবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে মানেনি। পরে জানতে পারি আমার মেয়ের সাথে তার শারীরিক সর্ম্পকের কথা। এনিয়ে তার পরিবারকে জানালে উল্টো আমার মেয়েকে সোহেল মারধর করতো। এছাড়া সোহেল প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছে নানাভাবে। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযুক্ত সোহেল খানের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলার ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে সম্প্রতি ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আল-আমিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল খান, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার আবুল কাশেম আজাদ, ইউপি সদস্য খাইয়ুল ইসলামসহ এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বৈঠক হয়। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আসামী গ্রেফতার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, বাড়ির আঙ্গিনায় খেলার সময় কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আব্দুল মালেক (৬০)। সোমবার (৩০ মে) দুপুরে উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল মালেক তিন সন্তানের বাবা এবং সম্পর্কে ভুক্তভোগীর দাদা হন।
পারিবারিক সূত্র জানায় , সোমবার দুপুরে বাড়ির আঙ্গিনায় সমবয়সীদের সঙ্গে খেলছিল শিশুটি। এ সময় টাকার লোভ দেখিয়ে তাকে ঘরে ডেকে নেন আব্দুল মালেক। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর শিশুটি কান্নাকাটি করলে বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। পরে তাকে পাশের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান ।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ‘মেয়েটাকে মধুপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে ওর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গণ্যমান্যদের বিষয়টি জানিয়েছি। এর আগেও আব্দুল মালেক একাধিকবার এ কাজ করেছে। টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করতে গ্রামের মাতবররা চাপ দিচ্ছেন। আমরা গরীব মানুষ এর বিচার চাই।’
শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ইব্রাহীম মিয়া জানান, ‘যেহেতু এটা পারিবারিক বিষয় মীমাংসার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (২ জুন) শিশুটিকে বাড়িতে আনা হয়েছে। বর্তমানে ডাক্তারের পরামর্শে অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে’।
বর্তমান ইউপি সদস্য আবু সাঈদ জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি জানার পর ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আকবর হোসেন। অপরদিকে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. চান মিয়া জানান, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে থানায় আসতে বলেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আম পাড়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার (০১ জুন) ক্যাম্পাসে আম পাড়া নিয়ে একজন আরেকজনকে চড় মারলে তা ঘটনার শুরু হয়।
জানা যায়, গত বুধবার আম পাড়া নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরে মানিক শীলের এক কর্মী চড় মারে নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে।
পরে সেই দিনই নিবিড় পালের অনুসারীরা এক হয়ে মানিক শীলের রাজনীতিতে জড়িত ঐ শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
শুক্রবার (০৩ জুন) মানিক শীলের অনুসারীরা নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ও মান্নান হলের মাঝে পেয়ে মারধর করে।
পরে নিবিড় পালের গ্রুপ এক হয়ে ধাওয়া দিলে তাদের একজন মেয়ে শিক্ষার্থীদের আলেমা খাতুন ভাসানী হলে আশ্রয় নেয়।
এরপর মানিক শীল গ্রুপের ঐ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে পাল্টা হামলা করতে বিজয় অঙ্গনে অবস্থান নেয় নিবিড় পালের প্রায় শ’খানেক কর্মী।
সেখানে শিক্ষকবৃন্দ তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে।ঐ সময় মানিক শীলের দুই-তিন জন অনুসারীকে একা পেয়ে শিক্ষকদের সামনেই তাদের মারধর শুরু করে নিবিড় পালের অনুসারীরা।
প্রক্টর ক্যাম্পাসে না আশা পর্যন্ত শিক্ষকবৃন্দ নিবিড় পালের অনুসারীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানালে তারা হলে গিয়ে অবস্থান নেয়।
ক্যাম্পাসে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের একগ্রুপের নেতৃত্বে থাকা মানিক শীল জানান, খুব ছোট বিষয় নিয়ে জুনিয়রদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে, প্রক্টর স্যারকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগে অপর গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা নিবিড় পালের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেন নি।
এবিষয়ে প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিষয়টি জেনে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এসময় তিনি আরো জানান, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত আছে, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছি।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকার রমনা এলাকায় আবু হাসান মুহম্মদ তারিক নামে পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজিপির বাসা থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গৃহকর্মীর নাম মৌসুমী আক্তার (১৪)। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামে। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৌসুমির বাবার নাম মুক্তার। যিনি ১০ বছর আগে মারা গেছেন। তার মায়ের নাম ফরিদা। তার মা বাইচাইল গ্রামে একটি জীর্ণশীর্ণ ঘরে কোনরকমে বসবাস করেন। ২০১৯ সাল থেকে মৌসুমি ওই বাসায় কাজ করে আসছিল। ঘটনার সময় বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না।
জানা যায়, বুধবার (১ জুন) বিকেলে রমনা অফিসার্স কোয়ার্টারের বাসা থেকে দরজা ভেঙে গৃহকর্মী মৌসুমির লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার গ্রামের বাড়ি ঘাটাইলের বাইচাইল গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। বাড়ীতে লাশ পৌছার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যর অবতারণা হয়।
রমনা থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহের গলার মাঝখানে রশি পেছানোর দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মরদেহের হাত ও শরীরের দুই পাশ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। তবে দুই হাতের মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। মরদেহে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৌসুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২ জুন) মৌসুমির মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। মৌসুমির বাড়ি থেকে তার নানী এবং বড় বোন ঢাকায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেছে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।

ঘাটাইলে সরেজমিনে মৌসুমির বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে চলছে শোকের মাতম। তার মা বারেবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সেখানে পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন।
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মৌসুমির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক পুলিশ সদস্য আমাদের থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার (১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে রমনায় অবস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মাদ (অতিরিক্ত আইজিপি) তারিকের বাসায় যান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য। এসময় বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় ওই পুলিশ সদস্য রমনা থানায় বিষয়টি জানান। পরে রমনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাসার বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৌসুমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।
রমনা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় অতিরিক্ত আইজিপির বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার স্ত্রী-সন্তানরা তখন বাসার বাইরে ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মোহাম্মাদ তারিক বর্তমানে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
মৌসুমির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কী মনে করছে জানতে চাইলে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। তবে মরদেহের সুরতহাল আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে সে যদি আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে কী কারণে করেছে আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকার হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়িকে আটক করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) ভোরে সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের হেরোইনসহ ওই দুই মাদক ব্যবসায়িকে আটক করা হয়।
অভিযানে আটককৃতরা হলেন-রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর কানাপাড়া গ্রামের মো. আহাদুল এর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) ও মৃত আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী মোছাঃ বেগম (৪৫)।
উদ্ধারকৃত হেরোইনের পরিমাণ ১২৭ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকার নিটল সি.এন. জি পাম্পের সামনে ফাঁকা জায়গায় ইটের সলিং এর উপর অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর কানাপাড়া গ্রামের মো. আহাদুল এর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) ও মৃত আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী মোছাঃ বেগম (৪৫)কে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১২৭ গ্রাম হেরোইন, তিনটি মোবাইল ও এক হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬ (১) এর ৮ (গ) ধারায় একটি মামলা করেছে র্যাব।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকরাইল ইউনিয়নে বালু ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। গত এক সপ্তায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষজন আহত হয়েছে।
এসব ঘটনায় উভয়পক্ষই থানা ও আদালতে ১০-১২টি মামলা দায়ের করেছে। ফলে ওই এলাকার আট গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানাগেছে, নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন-১, পুনর্বাসন-২, পুনর্বাসন-৩ ও পুনর্বাসন-৪ এবং পলশিয়া, সারপলশিয়া, সিরাজকান্দি, পাটিতাপাড়া গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের মূল ব্যবসা বালু উত্তোলন ও সরবরাহ। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে ইউনয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার নৌকা এবং সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুল হক মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে মাসুদুল হক মাসুদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই বালু ঘাট দখলের চেষ্টায় সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

ওই এলাকায় মোট ১৩টি বালুঘাট রয়েছে। বালু ঘাটগুলো হচ্ছে- নাজির মেম্বারের ঘাট, কদ্দুছ সরকারের ঘাট, ভাবীর ঘাট, মাসুদ মেম্বারের ঘাট, নুহু মেম্বারের ঘাট, করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট, মিনহাজ মন্ডলের ঘাট, ছানোয়ারের ঘাট, বাবুর ঘাট, তাঁতি লীগের ঘাট এবং চিতুলিয়াপাড়া ঘাট। এক সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) কাছ থেকে ডাব(পুকুরের পার) ইজারা নিয়ে ও জমির মালিকদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এলাকার লোকদের সাথে নিয়ে ওইসব বালুঘাট পরিচালনা করতেন। বাসেক ডাব ইজারা দেওয়া বাতিল করায় জমির মালিকদের সাথে বালু ব্যবসার হিস্যা দেওয়ার চুক্তি কিংবা অংশীদারিত্ব দিয়ে স্থানীয় লোকজন রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বালু ঘাটগুলোর মধ্যে করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট ও মিনহাজ মন্ডলের ঘাট সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পরিচালনা করেন। অন্য বালুঘাটগুলো বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ(সাবেক মেম্বার) তার নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের নেতাকর্মীদের বালুঘাট চারটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
সিরাজকান্দি গ্রামের বাবলু মিয়া, পলান শেখ, পলশিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, মোখলেছুর রহমান, অটোভ্যান চালক আলামিন, আব্দুর রহিম, সিরাজকান্দি বাজারের খোদাবক্স সহ আরও অনেকে জানান, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যকার বিরোধ মূলত: ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ মনে করেন সাবেক চেয়ারম্যানের ইন্দনে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার মনে করেন, ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের ইন্দনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাসুদুল হক মাসুদ বালুঘাট দখলে নিতে হামলা চালাচ্ছে। উভয় পক্ষের এহেন ঘটনায় এলাকার মানুষ বাইরে বের হতে পারছেনা। তারা আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। বাজারে যেতে পারছেনা, কোন রকমে গেলেও দোকানপাট খুলতে পারছেনা। অনেকেই ভিন্ন স্থানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ভ্যান-অটোরিকশা থামিয়ে মারপিট করা হচ্ছে। তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২৭ মে(শুক্রবার) দুপুরে পাটিতাপাড়া এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন মিনহাজ মন্ডলের ঘাটে বালু তোলা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় ঘাট দখলে নিতে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন ওই ঘাটে হামলা চালায়। পাশের মোজাফ্ফর প্রামানিক ও ফেরদৌস প্রামানিকের বাড়ি থেকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ও লাঠি সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০-৩৫জন আহত হয়।
২৯ মে(রোববার) সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন বাগানবাড়ী বালুঘাট বর্তমান চেয়ারম্যানের ভাই রফিক ও নুহু মেম্বার ভূঞাপুর পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের গাড়ি চালক আ. আলীম ও এপিএস পাভেলের উপস্থিতিতে দখল করতে যায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের নেংড়া বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ২৫-২৬ জন আহত হয়। ৩০ মে(সোমবার) ওই দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। ৩১ মে(মঙ্গলবার) বতমান চেয়ারম্যানের সমর্থক জুরান মন্ডল ও নুহু মেম্বারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সমর্থক বাগানবাড়ী বালুঘাট দখল করতে যায়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়। ১ জুন(বুধবার) ভাবীর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়।
উল্লেখিত ঘটনায় গত এক সপ্তায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় পাল্টা- পাল্টি অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ওই ঘটনাগুলোয় ভূঞাপুর থানা ও টাঙ্গাইলের আদালতে ১০-১২টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুঘাট কেউ কারোটা দখল করছে না। তবে জমির মালিকরা সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে জমি না দেওয়ায় তাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ঘটনাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। আবার হামলার শিকার যারা হয়েছেন তারাও থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার জানান, তার নামে কোন বালুর ঘাট নেই। তিনি বালুর ব্যবসাও করেন না। পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মাসুদ চেয়ারম্যান, নুরুল ইসলাম ওরফে নুহু মেম্বার ও জুরান মন্ডলের নেতৃত্বে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন ও হামলা চালানো হচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্দনে বালু ঘাট দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। দুইটি মামলায় এ পর্যন্ত ১০জনকে আটক করা হয়েছে। নিকরাইল এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল ধরণের ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ জানান, নিকরাইল ইউনিয়নে বালুঘাটকে কেন্দ্র করে হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ঘাট সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ায় এসব ঘটনা ঘটছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইশরাত জাহান জানান, সমস্যাটি মূলত রাজনৈতিক। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দুই পক্ষের সাখে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় দুই বখাটেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১নং পুর্নবাসন গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. স্বপন (১৮) ও আ. আলিমের ছেলে মো. সাগর (১৮)।
বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে, রোববার (২৯ মে) দুপুরে মাদরাসার মেয়েদের কমন রুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি মারছিল জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। ঘটনাটি ওই মাদরাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দু’জনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে যায় শিক্ষকরা। আটক জাহিদকে কৃতকর্মের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে সোমবার (৩০ মে) দুপুরে ওই মাদরাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ টিফিনের সময় নামাজ পড়তে পুনর্বাসনের মাঝামাঝি কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে পৌঁছালে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারার জন্য পথ আটকায়।

একপর্যায়ে বখাটেরা তাকে রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে আহত করে। পরে এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
এরপর মঙ্গলবার (৩১ মে) ওই শিক্ষক বাদি হয়ে জড়িতদের আসামী করে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ এবং বুধবার (১ জুন) মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে স্বপন ও সাগর নামে দুই বখাটে কে আটক করে র্যাব।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানা গেছে, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বহুদিন ধরে তারা মাদরাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে। পরে আটককৃতদের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া এক রোগীর মরদেহ মিললো নদীতে। বুধবার (১ জুন) সকালে হাসপাতাল সংলগ্ন বৈরাণ নদী থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ওই ব্যক্তির নাম বেলায়েত হোসেন (৭৬)।তিনি পৌরশহরের সূতি পলাশ গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, বেলায়েত হোসেন ২০০৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অবসরে যান। নানা কারণে স্বজনদের সাথে তার দুরত্ব তৈরি হয়। এরপর ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর দেখা দেয় মানসিক ভারসাম্যহীনতা। এ কারণে গত তিন বছর যাবৎ নিজ বাড়ি ছেড়ে উপজেলার উত্তর পাথালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন। গত ২৭ মে জ্বর ও পেট ব্যথা নিয়ে তিনি গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। গত রোববার হাসপাতাল থেকে তিনি উধাও হয়ে যান। আত্মীয় স্বজনরা কেউ আর তাঁকে খুঁজে পায়নি।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার প্রসেনজিৎ কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, সবার অজান্তে সে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তাঁকে কোথাও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমি গত দুইদিন যাবৎ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ মিটিংয়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। ওই ব্যাপারে হাসপাতালে কি ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সেটি জেনে আমি রাতে জানাবো।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে পিবিআই ও সিআইডি পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে লাশ সনাক্তে সক্ষম হন। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী উধাওয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সোমবার (৩০ মে) বিকালে নিখোঁজ ভ্যান চালক হৃদয়ের (১৭) মরদেহ ছাতিহাটি সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে নিখোঁজের সাত দিন পর হৃদয়ের মরদেহ রোববার (২৯ মে) বিকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারোটিয়ার পুংলি নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট সোমবার দুপুরে হস্তান্তর করে সদর থানা পুলিশ।
হৃদয় কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (২২ মে) সন্ধ্যায় একটি ফোন পেয়ে সে ভ্যান নিয়ে সুরুজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এঘটনায় হৃদয়ের মা রাশেদা বেগম বুধবার (২৫মে) কালিহাতী থানায় একটি অভিযোগ করেন।
হৃদয়ের মা রাশেদা বেগম বলেন, একই এলাকার মৃত লালচাঁনের ছেলে রাজু ও নজরুলের ছেলে ইয়ামিন নতুন ভ্যানের জন্য ফোনে ডেকে নিয়ে হৃদয়কে মেরে সুরুজ নদীতে ফেলে দেয়। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
রাশেদা বেগম আরো বলেন, পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলো হৃদয়, ওর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি কষ্ট করে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে দুটি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি।অভাবের কারনে হৃদয়কে পড়াতে পারি নাই। দুই মাস আগে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে নতুন একটি ভ্যান কিনে দিয়েছি। ভ্যান চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতো হৃদয় ।
এবিষয়ে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, আমরা অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা ও তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ছাত্রীদের টয়লেটে উঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সিরাজকান্দী দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি নজরুল ইসলামকে মারধর করেছে বখাটেরা। সোমবার (৩০ মে) দুপুরে ওই মাদরাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এ ঘটনা।
জানা যায়, রোববার (২৯ মে) দুপুরে মাদরাসার ছাত্রীদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল জাহিদ ও সাগর নামে দুই বখাটে। ঘটনাটি শিক্ষকদের নজরে পড়লে জাহিদকে আটক করে অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশ ও মাদরাসার সভাপতিকে জানানোর কথা শুনে জাহিদ পালানোর চেষ্টা করলে ছাত্ররা তাকে ধরে ফেলে। পরে খবর পেয়ে সুজন নামের একজন এসে জাহিদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জের ধরে সোমবার দুপুরে পুনর্বাসন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। এসময় বখাটেরা রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রাখে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এছাড়া কোনো মামলা না করার জন্য শিক্ষক নজরুল ইসলামের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের লোকজন জানান, নিকরাইল ইউনিয়নের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি তাদের মামলা না করে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
সিরাজকান্দি দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস জানান, নজরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ভুঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ব্যক্তির নাম মো. হাসমত আলী (৪২)।বাবা ছামেদ আলীকে হত্যার দায়ে মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা কাদের এ রায় দেন।
দণ্ডিত হাসমত ঘাটাইল উপজেলার রামদেবপুর হেংগারচালা গ্রামের ছামেদ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, হাসমত ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে তার বাবার কাছে নেশার জন্য টাকা চায়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসমত তাকে পেটাতে শুরু করে। এসময় হাসমতের মা হাসনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করে। পরে বাড়িতে থাকা কোদাল দিয়ে ছামেদ আলীর গলা, মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে। এতে ঘরের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরে মা হাসনা বেগমকে কোপাতে গেলে এলাকার লোকজন এসে হাসমতকে ধরে ফেলে। রাতেই তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরদিন হাসমতের মা বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তদন্ত শেষে ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল হাসান ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে হাসমত আলী জেল হাজতে ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।