একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তার জামিন বিষয়ে রুল তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক মেয়র মুক্তিকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২৭ এপ্রিল এই মামলায় সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। তার গুলিবিদ্ধ লাশ কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এ দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন। তাদের অপর দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে ২ হাজার ৩৮০ ইয়াবাসহ গৌরাঙ্গ গোস্বামী নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর সদস্যরা। শনিবার (১১ জুন) রাতে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই বড়টেকি উত্তরা স্পিনিং মিল সংলগ্ন হানিফ কাউন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত গৌরাঙ্গ গোস্বামী সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসী গ্রামের লব গোস্বামীর ছেলে।
রবিবার (১২ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এসময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মাদকবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় র্যাব।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরীক্ষার হলে ছুরি নিয়ে প্রবেশ করায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুন) সকালে উপজেলা সদরের সরকারি এসকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা চলছে। রোববার ছিল অষ্টম শ্রেণির বিশ্বপরিচয় পরীক্ষা। ওই ছাত্র প্যান্টের পকেটে ছুরি নিয়ে ৫ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আলো রানী পোদ্দারের সন্দেহ হলে তিনি পকেট থেকে ছুরিটি বের করেন।
ওই শিক্ষিকা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম খানকে জানান। পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমানকে জানান। ইউএনও অভিযুক্ত ছাত্রের অভিভাবকের অঙ্গীকারনামা রেখে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম খান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত ছাত্রের অভিভাবকের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একতার কন্ঠ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর মা ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দিলে রুবেল (২৫) ও তার সহযোগী ওসমান গনিকে (৩৩) গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত রুবেল উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও তার সহযোগী ওসমান গনি একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। রুবেল এক সন্তানের জনক। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী।
জানা যায়, রুবেলের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় কলেজছাত্রীর। ফেসবুকে নিয়মিত চলত কথাবার্তা। পরে দেখা-সাক্ষাৎ করে তারা। এভাবেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে কলেজছাত্রী। এ সময়ে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে রুবেল। পরে সেই ভিডিও ফেসুবকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় রুবেল। পরে তার কথামতো কাউকে না জানিয়ে কলেজছাত্রী চলে যায় চট্টগ্রামে। পরে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় থাকত তারা।
এদিকে কলেজছাত্রী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানেন না পরিবার। পরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেন। গত ৩০ মে নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে ওই ছাত্রীর মা ৫ জুন ভূঞাপুর থানায় একটি জিডি করেন। তারপর রুবেলের মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযান চালায় ভূঞাপুর থানার পুলিশ।
অভিযান চালিয়ে গত বুধবার(৮ জুন) চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে গ্রেপ্তার করেন। সেইসঙ্গে কলেজছাত্রীকেও উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (৯জুন)রাতে রুবেলের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন ছাত্রীর মা।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ ( ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত যুবক কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখানেও ধর্ষণের শিকার হয় কলেজছাত্রী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বখাটে রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগীকে শুক্রবার(১০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার ফোনে ওই মেয়েটিসহ একাধিক মেয়েদের নানা ধরনের ছবি পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে। এছাড়া মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গণধষর্ণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন। একই মামলায় আরেক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার গোপালপুর উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামের মৃত নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী কৃষ্ণ দাস, ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিঞ্জাপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে সৌরভ আহমেদ হৃদয় ও একই গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান। এছাড়া একই গ্রামের মেহেদী হাসান টিটুকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ জানান, ওই স্কুলছাত্রী ২০২১ সালের ২ আগস্ট বাড়ি থেকে নানির বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে কোথাও না পেয়ে ৪ আগস্ট গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান বাবা। পরে থানা থেকে তাকে জানানো হয়, মেয়ের একটি ছবি নিয়ে আসতে হবে। এ কথা শুনে ছবি আনতে বাড়ি চলে যান তিনি। ওইদিন ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর যমুনা নদীর পাড়ে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের পর নিহতের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় ওই দিনই বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উপজেলার ছাব্বিশা কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছবি দেখে স্বজনরা উদ্ধার হওয়া মরদেহটি স্কুলছাত্রীর বলে শনাক্ত করে পরিবারের লোকজন। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৬ আগস্ট ভূঞাপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। পরে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গণধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত শ্রী কৃষ্ণ দাস, সৌরভ আহমেদ হৃদয়, মিজানুর রহমান ও মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে তিনজনের ফাঁসি ও একজনকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার পর আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান ভূইয়াকে হত্যার দায়ে একজনকে আমৃত্যু ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রেজা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামানের ভায়রা। তিনি দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের শামছু মিয়ার ছেলে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো—রেজাউলের স্ত্রী আলো বেগম, বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া, যশিহাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রেজভী ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের আবু বক্কর ভূইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। তিন দিন পর পার্শ্ববর্তী মহেশখালী গ্রামের জমির আইল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর ভূইয়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে মনিরুজ্জামানের ভায়রা রেজাউল ও শ্যালিকা আলো বেগমসহ দণ্ডিতদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাসাইল থানার তৎকালীন উপ-রিদর্শক (এসআই) শ্যামল দত্ত ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিদের মধ্যে আলমগীর, আলো বেগম ও লাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউল ও রেজভী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভায় লাঞ্ছিত ও ধারালো অস্ত্রাঘাতের শিকার হয়েছেন পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেম। বুধবার (৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত জেলা জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভাস্থলে প্রবেশ মুখে ঘটনাটি ঘটে।
এ হামলার অভিযোগ উঠেছে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকের সমর্থক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার টাঙ্গাইল শহরস্থ ঢাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদশী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দলের পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়ার মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেমের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকের অবস্থান আর পেশি শক্তি প্রকাশে সমর্থক নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি। ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তারা আমার সমর্থক বা দলের নেতাকর্মী নয়, হতে পারে বহিরাগতা। আমার সমর্থক নেতাকর্মীদের গায়ে আমার ছবি আর নামসহ গেঞ্জি ছিল। ফুটেজ দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা জানান তিনি।
জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসী চিন্তা থেকে ঘটানো হয়েছে। হামলাকারীরা ছবিসহ গেঞ্জি পড়া ছিল।এরা আমাদের দলের নেতাকর্মী নয়। তারা আমাকে সভাস্থলে প্রবেশের সময় ধাক্কা মেরেছিল।
চিকিৎসারত পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেম বলেন, এই সংসদীয় আসনের প্রার্থী হতে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত আর তিনি ক্ষমতাবান সেটি প্রচার করতেই ঘটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু জানান, আমার সামনেই হামলার এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাটি খুবই খারাপ হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠণসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দলের মাঝে যারা এই সমস্ত গুন্ডামী মাস্তানি করবেন তাদের দলে জায়গা নেই। আমার সামনে ঘটনাটি ঘটানো কোন শুভনীয় কাজ হয়নি। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন তাদের ভবিষ্যত ভালো হবে না। কেননা জাতীয় পার্টি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করে না।
বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। বিশিষ অতিথি ছিলেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও অতিরিক্ত মহাসচিব (ঢাকা বিভাগ) লিয়াকত হোসেন খোকা, প্রেসিডিয়াম মেম্বার মো. জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নাজিম উদ্দিন। বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেম।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির এক নেতার গোপনাঙ্গ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনৈতিক সম্পর্কের জেরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বড় বেলতা গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমানের গোপনাঙ্গ কেটে দিয়েছেন দুই শ্যালকের স্ত্রী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৬ জুন) গভীর রাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন বজলুর রহমান।
বজলুর রহমানের চাচাতো ভাই স্থানীয় মেম্বার পোলু জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই শ্যালকের স্ত্রীর সাথে বজলুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। সে বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়িতে আর্থিক সহায়তা করতো। তার আর্থিক সহায়তায় দুই শ্যালক সৌদি যায়। তার এনজিও থেকে ঋণও দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে নিয়মিত কিস্তির টাকার জন্য যাতায়াত ছিলো। গত সোমবার (৬ জুন) রাতে ওই দুই নারী কৌশলে তাকে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ব্লেড দিয়ে গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। ঘটনাটি যেহেতু আত্মীয়ের মধ্যে ঘটেছে তাই মামলা হয়নি, দুই পক্ষ থেকে মীমাংসা করার আলোচনা চলছে।
অভিযুক্ত দুই প্রবাসীর স্ত্রী জানান, বজলুর রহমান নিয়মিত তাদের নির্যাতন করতো। সোমবার গভীর রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে দুইজনের সাথে মেলামেশা করার চেষ্টা করে। পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাতের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে বজলুর রহমানের গোপনাঙ্গ কেটে দেয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাজেদ জানান, পরিবারের অভিযোগ নেই। তারা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করছেন বলে উভয়ের অভিভাবক জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার ( ৭ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার সিরাজকান্দি দাখিল মাদ্রাসার সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্তে বাধা ও প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের বহিরাগত যেসব বখাটেরা লাঞ্ছিত ও মাধধর করে আহত করেছে তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ইভটিজিংকারী বখাটে অভিযুক্ত দুইজন গ্রেফতার হলেও বাকিদের গ্রেফতারে গড়িমসি করছে পুলিশ। তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কদ্দুস, সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি দেয় জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দুইজনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে আসে শিক্ষকরা।পরে জাহিদকে তার এক বড়ভাই ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
পরের দিন সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুনর্বাসনের কাছে পৌঁছলে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে তাদের মারার জন্য পথ আটকায়। একপর্যায়ে বখাটেরা রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে। পরে স্থানীয় ও শিক্ষকরা তাদের উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন
ঘটনার একদিন পর আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে ভূঞাপুর থানায় মামলা করলে টাঙ্গাইল র্যা ব-১২ সিপিসি ৩ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গত বুধবার সাগর ও স্বপনকে গ্রেফতার করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে র্যা ব।পরে বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠায় ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কলেজ ছাত্রী সুনিকা খাতুনের হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুন ) দুপুরে উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
এতে কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, নিহত সুনিকার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মনববন্ধনে হেমনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম, প্রভাষক সোহেল রানা, আজমত হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব হাসান টুটুল, কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাকিল আহমেদ, ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাবেক সম্পাদক সবুজ আহমেদ, সুনিকার বাবা দুলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা সুনিকার হত্যাকারী তার স্বামী সুমনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল হেমনগর ডিগ্রি কলেজর শিক্ষার্থী সুনিকার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। সুনিকা সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তাদের সংসার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত ২১ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নতুন শিমলা পাড়া গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রী সুনিকা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তার স্বামী সুমন (৩১)। ঘটনার পর সুনিকার বাবা গোপালপুর থানায় মেয়ের স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ে করেন। এরপরই পুলিশ সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সহপাঠী সুমাইয়া হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শামসুল হক কলেজ মোড় এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও শামসুল হক কলেজ, লুৎফর রহমান মতিন কলেজ, এলেঙ্গা বিএম কলেজ, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়াইহাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এসময় বক্তব্য দেন- এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর, লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, এলেঙ্গা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম তালুকদার, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা ও নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।

একাধিক ছাত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়া তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরদিকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, ইভটিজিং মুক্ত শিক্ষাঙ্গন এবং রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।
নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া জানান, এ হত্যাকাণ্ড একা ঘটানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করেছিল। আমরা মামলা করার পরও তাদের আদালতে পাঠায়নি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরও বিচার দাবি করছি। আমরা ধারণা করছি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত।
এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, এলেঙ্গা ক্লাব থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সৃষ্টি। এ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সুমাইয়াকে হত্যা করেছে। কিশোর গ্যাং তৈরিতে যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাই। যে ছুরি দিয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে সেই ছুরি হাতে নিয়ে ৭২ ঘণ্টা আগে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মনির টিকটক করেছে। ভিডিওটি প্রশাসনের সব গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আছে। এছাড়াও ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। এলেঙ্গা শিক্ষা নগরীকে যারা অরক্ষিত বানাতে চায়, সেই হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করছি। এই ফাঁসির মধ্য দিয়ে এলেঙ্গা আবার শান্তির নগরীতে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মনির ছাড়া হত্যাকাণ্ডে কিংবা পরিকল্পনায় আর কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবর সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার কলেজ পাড়া এলাকার খোকনের নির্মাণাধীন বাড়ির নীচতলার সিঁড়িকোঠা থেকে সুমাইয়ার মরদেহ ও আহত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমাইয়া কালিহাতী পালিমা গ্রামের ফেরদৌস আলমের মেয়ে। পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মনিরের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ফেরদৌস আলম বাদী হয়ে মনিরকে আসামি থানায় মামলা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বুড়িগঙ্গা নদী পানি প্রবাহ বৃদ্ধি প্রকল্পে উত্তোলনকৃত সরকারি বালু রাতের আঁধারে বিক্রি করছে একটি চক্র।
সরকারি বিধি নিষেধ তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছাঁয়ায় ওই মহলটি সরকারি বালু বিক্রির এই হরিলুট চালাচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতার কারনে বর্তমানে বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও, চক্রটি আবার বালু বিক্রির জন্য তৎপর হয়ে উঠছে।
জানাগেছে, এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে স্থানীয় আশরাফ আলী, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ভুইয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা রাসেল ভুইয়া, দেলোয়ার হোসেন, অছিমুদ্দিন, ফজল হক, হারুন , জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, রিপন মিয়া, অমিত ও জাকির মিয়া খননকৃত বালু রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দেদারছে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে নিউ ধলেশ্বরী নদীর পাশে খননকৃত সরকারি বালু রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবার তৎপর হয়ে উঠে প্রভাবশালী এই চক্রটি। কোন ভাবেই সরকারি এই বালু বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমান আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করলে প্রশাসনের চোখকে অতি সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায়। তাই রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি করছে একটি চিহ্নিত চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।সারারাত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমসহ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।

এই অবৈধ বালু বিক্রি চক্রের হোতা আশরাফ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে দুদিন ধরে অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বালু বিক্রি শুরু হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাজমুল হোসাইন জানান, অবৈধভাবে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ধলাটেঙ্গর ও কুড়িঘুড়িয়া নামকস্থানে যদি অবৈধভাবে বালু বিক্রি করা হয়ে থাকে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। সরকারি উত্তোলনকৃত বালু রাতের আঁধারে বিক্রিকারীদের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনকে মামলা করতে বলা হয়েছে। আশাকরি, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।