/ হোম / অপরাধ
বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার হোসেনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।

শনিবার (৯ আগষ্ট ) রাতে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেন সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ নামক প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের এক ছাত্রকে (১৩) জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন। বৃহস্পতিবার( ৭ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ১০ টায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শুক্রবার (৮ আগষ্ট) সকালে পরিবারকে বিষয়টি জানালে শনিবার রাতে তারা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে ড্রাগন ফল খাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মাদ্রাসার ভিতর ডেকে নেয় ও তার সাথে রাত্রিযাপন করতে বলে। রুমের বাতি বন্ধ করে তার হাত পা টিপে দিতে বলে। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলৎকার করে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। এ বিষয়ে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনে মামলা রজ্জু করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অগাস্ট ২০২৫ ১১:২৮:পিএম ১১ মাস আগে
মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাইব্রেরীতে গোপন পরীক্ষা, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা - Ekotar Kantho

মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাইব্রেরীতে গোপন পরীক্ষা, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাইব্রেরীতে সাত শিক্ষার্থীর গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে বেসরকারি লিটন একাডেমির ওই সাত শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি ভর্তি করাসহ প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে ওই সাত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেওয়াসহ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িত শিক্ষকদের বদলী ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ সুধীজনেরা।

জানা যায়, ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পাড়দিঘুলিয়া মৌজায় স্থাপিত হয় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা-৭৯০। এর মধ্যে বালক-৪০৬ আর বালিক ৩৮৪। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা-২১০। এর মধ্যে বালক-১২৪ আর বালিকা-৮৪। ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন তসলিমা জাহান।

নিয়ম বর্হিঃভুত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, আরাধ্যা শীল, খন্দকার আফসানা হেরা, জাকিয়া তাবাসুম বুশরা, সাবিহা বিনতে শামীম, সৈয়দ আনানূর, আয়শা সিদ্দিকা মুন, রনিত বসাক অর্পণ ও কুঞ্জ রায়।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মন্ত্রণালয় নির্দেশিত ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাই করা হচ্ছিল বলে শিক্ষকরা দাবি করলেও শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাইয়ের কোন খাতা দেখাতে পারেননি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও লিটন একাডেমির ৫ম শ্রেণীর উপস্থিতি খাতায় বিদ্যালয়ের গোপন ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে।

সরকারি নিয়মানুযায়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বশেষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ থাকলেও এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সম্প্রতি ওই সাত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

সরেজমিনে অভিভাবকদের তোলা অবৈধভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চলমান ওই পরীক্ষার ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন এই সংবাদের প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।

কোচিং শিক্ষার্থীদের গোপনে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় অভিভাবক ও সংবাদকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ দরজা বন্ধ করে দেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। কৌশলে পরীক্ষার খাতা সরিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের গল্পের বই পরতে দেন তারা।

গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার সর্বশেষ তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হলেও প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

প্রথম সাময়িক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে অধ্যায়নরত ৫ম শ্রেণীর ৪০ভাগ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে বলে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২১,২২,২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃত্তি প্রাপ্তির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কোচিং সেন্টারে অধ্যায়নরত ওই সাত শিক্ষার্থীকে গোপনে ভর্তি করানোসহ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরী কক্ষে গোপনে মে মাসে শেষ হওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইন। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার, লায়লা সিদ্দিকী আর স্বপন কুমারকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

টানা পনের বছর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতি বছরই অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে আর বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে বেসরকারি কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তসলিমা জাহান বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগি অভিভাবকরা।

গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ না হলে এবারও বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত বেশ কিছু শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। এখনও কেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গানো হয়নি এমন প্রশ্ন তোলাসহ গোপনে পরীক্ষা নেওয়া কোচিং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত শিক্ষার্থী তালিকায় তোলার শঙ্কা দেখছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করা সকল শিক্ষকের অন্যত্র বদলীসহ জড়িত সকলের কঠোর বিচার দাবি করেছেন তারা।

অভিভাবক কানিজের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির অপচেষ্টায় বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরতদের বাদ দিয়ে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। ওই সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন তারা। তাদের যোগসাজসে প্রতিবছরই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে কোচিংয়ের সাত শিক্ষার্থীর গোপনে মে মাসে শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আমিসহ সাংবাদিকরা পরীক্ষা চলাকালীন লাইব্রেরী কক্ষে প্রবেশ করি। শিক্ষার্থী আমাদের কাছে পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দায়িত্বরত সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। তারা আমাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ও লাইব্রেরী কক্ষ বন্ধ করে দেন। আমার মেয়েও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী, তাদের এই অনৈতিক চেষ্টায় আমার মেয়েটি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে কি? এ নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নষ্টকারী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী।

লিটন একাডেমির পরিচালক লিটন রাহা বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাই। কোন শিক্ষার্থী কোন স্কুলে ভর্তি আছে বা হবে সেটি আমার কাজ না।
বুধবার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোপনে নেওয়া পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের নাম আপনার পঞ্চম শ্রেণীর উপস্থিতি তালিকায় কিভাবে আসলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এক নামে একাধিক জন থাকতেই পারে। মডেলের গোপন পরীক্ষার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার একাডেমির খ্যাতি দেখে আমার বিরুদ্ধে এখন অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে বলেও জানান তিনি।

মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিম জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রীর অভিভাবক কানিজ বৃত্তি তালিকায় তার মেয়ের নাম দেওয়া হবেনা এমন শঙ্কা থেকে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন।

শ্রেণী কক্ষ থাকতে কেন লাইব্রেরীতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কারণে লাইব্রেরী কক্ষে নিয়ে ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাইয়ের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক লায়লা। কানিজ সেটিকে ওই শিক্ষার্থীদের গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রচার করছে। সাংবাদিকদের দেখে কেন ওই শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই পরীক্ষার খাতা সরিয়ে গল্পের বই পরতে দেওয়া হয় এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থীদের শিখন যাচাইয়ের খাতা দেখতে চাওয়া হলে সেটি দেখাতে পারেননি তিনি। এবার বিদ্যালয় থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের ফোন পেয়ে তিনি এসেছেন। পরীক্ষার বিষয়টি জানতেন না তিনি। তবে বিতর্কিত ওই সাত শিক্ষার্থীর নাম বৃত্তি তালিকায় যাবেনা বলে আমাকে কথা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান।

বুধবার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয়নি বলে জানান সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আলমগীর হোসাইন। তাহলে কর্মস্থল ছেড়ে বিদ্যালয়ে কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ফোন দিয়ে বিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা এসেছে বলে জানানোর কারণেই তার আসা। অভিযোগের বিষয় যাচাই বাছাই করার আশ্বাস দেন তিনি।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো.শামসুজ্জামান বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখতে বলা হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০২:এএম ১১ মাস আগে
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের মানববন্ধন - Ekotar Kantho

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

আরমান কবীরঃ গাজীপুরে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বিরুপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এতে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাংবাদিক কাজী তাজউদ্দিন রিপন, মামুনুর রহমান মামুন, শামিম আল মামুন মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক তুহিনকে যেভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা একটি স্বাধীন দেশে কল্পনাও করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অগাস্ট ২০২৫ ০২:১২:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যৌথবাহিনীর অভিযানে দালাল চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যৌথবাহিনীর অভিযানে দালাল চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যৌথবাহিনীর অভিযানে দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের ১৬ হাজার ৫’শত টাকা অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌধুরী মালঞ্চ গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে মো. মাসুদ রানা (২৭), টাঙ্গাইল পৌরসভার ভালুককান্দি এলাকার সোনাউল্লার ছেলে মো. খোকোন হোসেন (২৫), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গালা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২২), কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের সল্লা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২৩), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. আনিস মিয়া (২২)।

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের সদস্যরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছিল। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো জানান, এসময় দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে ১৬ হাজার ৫’শত টাকা অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড অন্য প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪-ইবি ব্যাটেলিয়নের ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ফারুকের নেতৃত্বে একটি টহল দলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অগাস্ট ২০২৫ ০৩:৫৭:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুরস্থ হযরত ফাতেমা (রা.) মাদ্রাসার হিফজ শাখার এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১০) যৌন নিগ্রহের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ (২৫) ও তার বড় ভাই ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর (বৈল্যা) থেকে ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে ও বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, শহরের এনায়েতপুর (বৈল্যা) পালপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদুল্লাহ ধুলেরচর মাদ্রাসার পাশে হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে পরিচালক হিসেবে চালাচ্ছিল। পরে তার ছোট ভাই ওবায়দুল্লাহকে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি নানা অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া ইত্যাদি অপকর্ম করে আসছিলেন।

গত ২৭ জুলাই আবাসিকে থেকে মাদ্রাসার হিফজ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে চোখ বেঁধে পড়নের কাপড় খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ সহ যৌন নিগ্রহের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু শিক্ষার্থী পালিয়ে কক্ষ থেকে দৌঁড়ে বেড়িয়ে গিয়ে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। তার মা স্থানীয় মাতব্বরদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লার কাছে বিচার চান। পরিচালক মাদ্রাসার ওই শিক্ষক তার ভাই হওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়।

এ সময় পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বলেন, শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ পালিয়ে গেছে, সে যদি অপরাধী হয়ে থাকে আইন তাকে শাস্তি দিবে- আপনারা থানায় যান।

এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই শিশুশিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-৮, তাং-৬/৮/২০২৫ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর বুধবার বিকালে পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।

এলাকাবাসী জানায়, হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ মাদ্রাসার ওয়াশরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অপকর্ম করে। ইতোপূর্বে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে তিনি শিকার বানিয়েছেন। মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হলে মোহাম্মদুল্লাহ সব ক্ষেত্রেই ঘটনা ধামাচাপা দেন। হিফজ শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা ও অভিভাকদের সচেতনতায় এবার তিনি সফল হতে পারেনি। এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটির পরিচালক ও তার লম্পট ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

যৌন নিগ্রহের শিকার শিশু শিক্ষার্থীর মা ও মামলার বাদী জানান, লম্পট শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ ইতোপূর্বেও এ ধরণের কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনটিরই বিচার হয়নি। শাস্তি না হওয়ায় সাহসী হয়ে তার শিশুকন্যাকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিগ্রহ করার চেষ্টার অভিযোগে তার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ ও তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০৪:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে অবৈধ সীসা কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অবৈধ সীসা কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পুরাতন ব্যাটারি থেকে সীসা উৎপাদনকারী দু’টি অবৈধ কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল এলাকায় (এলসিন ব্রিজ সংলগ্ন) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন, নাগরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক।

অভিযানকালে একটি অবৈধ কারখানা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অপর একটি কারখানায় তালা ঝুলিয়ে সীলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর মো. মাসুদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্রব কুমার সূর্যসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক জানান, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০৪:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের পাশে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের পাশে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা রেলস্টেশনের পাশে এক যুবতীকে (২২) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৬ জুলাই ) সকালে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকুশিয়া সুতার পাড়া এলাকার সেন্টু চন্দ্র দাশের ছেলে দুলাল চন্দ্র (২৮), হালিম খানের ছেলে সজিব খান (১৯) ও মৃত কিসমত মিয়ার ছেলে রুপু মিয়া (২৭)। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশায় সিএনজি চালক।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে ওই যুবতি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগর থেকে ঢাকা এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে আসেন। সেখান থেকে তিনি চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ভুলবশত উত্তরবঙ্গগামী দ্রুতযান ট্রেনে উঠে পড়ে। এসময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে উঠে অন্যযাত্রীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা টাঙ্গাইলের কথা বলেন। পরে ওই যুবতী রাত সাড়ে ১২ টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলস্টেশনে নামেন। এসময় ওই নারী স্টেশনে নেমে জিআরপি পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। জিআরপি পুলিশের এক সদস্য সিএনজি চালক দুলালকে ঢাকার ট্রেনে উঠিয়ে দেয়ার কথা বলে।

এ সময় ওই তরুণীকে ফুসলিয়ে প্রথমে স্টেশনের পিছনে কাঠবাগানে নিয়ে দুলাল ধর্ষণ করে। পরে স্টেশন সংলগ্ন ব্রাহ্মণকুশিয়া গ্রামে অভিযুক্ত রুপু মিয়ার বাড়িতে নিয়ে রুপু মিয়া ও সজিব খান ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার পর ওই যুবতি শনিবার ভোরের দিকে রেলস্টেশনে গিয়ে রেল পুলিশকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে তারা থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সকালে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ওই নারী বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত আসামীদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জুলাই ২০২৫ ০১:৪০:এএম ১২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলের (৩৮) পুলিশ হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে আটককৃত রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রুবেল সখিপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞার দাবি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিহত রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় জুরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ৩টার দিকে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে পুলিশ রুবেলকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।

সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, সখীপুর থানার এসআই লিবাস নাইট ডিউটি করার সময় বেপরোয়া আচরণের কারণে রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় তার প্রেসার বাড়ার কারণে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা বেগতিক হলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রুবেলের মা বলেন, আমার সুস্থ ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। হঠাৎ শুনি পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ তাঁকে টাঙ্গাইল নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার ছেলে মারা গেছে! মা হিসেবে এই রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই, বিচার চাই।

এদিকে রুবেলের চাচা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, আমরা প্রথমে রুবেলের সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছিলাম। এখন পুলিশ যদিও রুবেলকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থাকে, তবে বিষয়টি আমাদের জানানো উচিত ছিল। না জানিয়ে কেনো তারা থানায় নিয়ে গেল? পুলিশের কথা যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তবে আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হার্ট অ্যাটাকে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি দেখছি না। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে লাশ চেয়েছিল। কিন্তু আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে বিএনপি নেতা রুবেলের মৃত্যুর খবর শুনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে রুবেলের বাসায় গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জুলাই ২০২৫ ০৩:২৬:এএম ১২ মাস আগে
যুক্তরাষ্ট্র ফেরত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

যুক্তরাষ্ট্র ফেরত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক তারেক শামস খান হিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নাগরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত তারেক শামস খান হিমু নাগরপুর উপজেলার তেবারিয়া গ্রামের মৃত হুমায়ন খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার নামে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকার পর সোমবার ভোরে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নাগরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি দল তাকে থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরও জানান, নাগরপুর থানা পুলিশ সোমবার বেলা ৩টার দিকে তারেক শামস হিমুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জুলাই ২০২৫ ০১:২১:এএম ১২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুট, আরও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুট, আরও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আরও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৯জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা হলো, সহকারী উপ-পরিদর্শক শামীম আল আজাদ।

বরখাস্তকৃত এই ৪জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তারা ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সালেহা বেগমের বাড়িতে অভিযানে গিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করেছেন তারা।

উপ-পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালেহা বেগম তার অভিযোগে বলেছেন, কর্মকর্তারা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য না পেয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি তাদের ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। সে সময় তারা ঘরে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান।

টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জুলাই ২০২৫ ০৩:৩৯:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইল ম্যাটসের হোস্টেলে মিললো ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল ম্যাটসের হোস্টেলে মিললো ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) হোস্টেলে এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।

বুধবার (৯ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ম্যাটসের হোস্টেল থেকে এই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

নিহত ছাত্রীর নাম নিশাদ সাদিয়া তুন্না (২১)। সে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলকুমার গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। নিশাত টাঙ্গাইল ম্যাটসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল ম্যাটসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. সানজিদা আক্তার জানান, নিশাত ও তার এক সহপাঠী হোস্টেলের একটি রুমে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি অন্য রুমে একা থাকার জন্য চলে যান। বুধবার সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সে ম্যাটসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জুলাই ২০২৫ ০৩:২০:এএম ১ বছর আগে
মির্জাপুর গোড়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ - Ekotar Kantho

মির্জাপুর গোড়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ভূমি অফিস অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দিনের পর দিন হয়রানির সাথে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

অভিযোগের তীর বর্তমান উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হকের দিকে। তিনি যোগদানের পর থেকেই গোড়াই ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানিয়েছেন, পদে পদে বাড়তি টাকা না দিলে কোনো সেবাই মিলছে না এই ভূমি অফিসে।

জমি খারিজ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দিনের পর দিন হয়রানির সাথে রয়েছে নানা ভোগান্তি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে জমি খারিজ পাওয়ার বিধান থাকলেও এখানে ৫ থেকে ৬ মাস ধরে নানা অজুহাতে আটকে রাখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছ থেকে এভাবেই অবৈধভাবে টাকা নিয়ে জমির খাজনা খারিজ করছেন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল হক। কেউ টাকা দিতে না পারলে জমি খারিজের কাগজপত্র নেন না তিনি। এমনই এক ভুক্তভোগী গোড়াই মমিন নগর এলাকার আব্দুস সাত্তার।

তিনি গত মে মাসে গোড়াই মৌজার ৬৫ শতক জমি খারিজ করতে গিয়েছিলেন ভূমি অফিসে। তার ১৩ শতক জমি অন্য দাগে থাকায় উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেই জমি খারিজ করতে তাকে ৬ দিন ঘুরিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় খারিজের আবেদন নেননি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।

এছাড়া গোড়াই এলাকার মো. সৌরভ হোসেন ১৮২ গোড়াই মৌজার ৬০৯২ দাগের ০.১৩০০ একর জমির নামজারি করার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার আওয়াল সরজমিন পরিদর্শন করে জমির শ্রেণী গড়মিল দেখতে পান। পরে সেই জমি এক লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করে দেন এসিল্যান্ড নিজেই এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।

গোড়াই গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল মালেক জানান, তার ছোট ভাই রাজ্জাকের কাছ থেকে ১৮ শতক জমি খারিজের বিপরীতে এই নায়েব তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিসের জন্য নিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতকিছু আপনার জানার প্রয়োজন নেই।

দালাল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খাজনা খারিজের নয়-ছয় খেলায় অফিসের এই কর্মকর্তা ২ থেকে ৩ জন বহিরাগত দিয়েও টাকা লেনদেন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা তার কাজ বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে গোড়াই ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, জমির শ্রেণী গড়মিল কোন বিষয় নয়। আইন মোতাবেক এটি নামজারি না হলেও এসিল্যান্ড স্যার ইচ্ছে করলে এটি করে দিতে পারে। তবে এ নিয়ে কোন সংবাদ না করাটাই ভালো। তবে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়নি তিনি অস্বীকার করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জুলাই ২০২৫ ০২:০২:এএম ১ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।