মির্জাপুর গোড়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ


০৮:০২ পিএম, ৯ জুলাই ২০২৫
মির্জাপুর গোড়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ - Ekotar Kantho
গোড়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হক

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ভূমি অফিস অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দিনের পর দিন হয়রানির সাথে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

অভিযোগের তীর বর্তমান উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হকের দিকে। তিনি যোগদানের পর থেকেই গোড়াই ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানিয়েছেন, পদে পদে বাড়তি টাকা না দিলে কোনো সেবাই মিলছে না এই ভূমি অফিসে।

জমি খারিজ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দিনের পর দিন হয়রানির সাথে রয়েছে নানা ভোগান্তি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে জমি খারিজ পাওয়ার বিধান থাকলেও এখানে ৫ থেকে ৬ মাস ধরে নানা অজুহাতে আটকে রাখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছ থেকে এভাবেই অবৈধভাবে টাকা নিয়ে জমির খাজনা খারিজ করছেন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল হক। কেউ টাকা দিতে না পারলে জমি খারিজের কাগজপত্র নেন না তিনি। এমনই এক ভুক্তভোগী গোড়াই মমিন নগর এলাকার আব্দুস সাত্তার।

তিনি গত মে মাসে গোড়াই মৌজার ৬৫ শতক জমি খারিজ করতে গিয়েছিলেন ভূমি অফিসে। তার ১৩ শতক জমি অন্য দাগে থাকায় উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেই জমি খারিজ করতে তাকে ৬ দিন ঘুরিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় খারিজের আবেদন নেননি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।

এছাড়া গোড়াই এলাকার মো. সৌরভ হোসেন ১৮২ গোড়াই মৌজার ৬০৯২ দাগের ০.১৩০০ একর জমির নামজারি করার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার আওয়াল সরজমিন পরিদর্শন করে জমির শ্রেণী গড়মিল দেখতে পান। পরে সেই জমি এক লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করে দেন এসিল্যান্ড নিজেই এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।

গোড়াই গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল মালেক জানান, তার ছোট ভাই রাজ্জাকের কাছ থেকে ১৮ শতক জমি খারিজের বিপরীতে এই নায়েব তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিসের জন্য নিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতকিছু আপনার জানার প্রয়োজন নেই।

দালাল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খাজনা খারিজের নয়-ছয় খেলায় অফিসের এই কর্মকর্তা ২ থেকে ৩ জন বহিরাগত দিয়েও টাকা লেনদেন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা তার কাজ বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে গোড়াই ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, জমির শ্রেণী গড়মিল কোন বিষয় নয়। আইন মোতাবেক এটি নামজারি না হলেও এসিল্যান্ড স্যার ইচ্ছে করলে এটি করে দিতে পারে। তবে এ নিয়ে কোন সংবাদ না করাটাই ভালো। তবে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়নি তিনি অস্বীকার করেন।


খবরটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।