একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিজ ঘর থেকে রিয়া মনি মীম (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) রাতে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন তালুকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মীম ওই এলাকার গোলাম কিবরিয়া রিপন তালুকদারের মেয়ে। সে স্থানীয় নলিন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিহত মীমের মা সালমা বেগম (৪০) মেয়েকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই মা-মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া হত। বৃহস্পতিবার ঝগড়ার পর বিকেলে মীমের মা তার বাবার বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে চলে যায়। সেখান থেকে তার ছোট বোন শারমিনকে (১৯) সঙ্গে নিয়ে রাতেই বাড়ি ফেরেন। রাত ১২টার দিকে ঘরে মীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া রিপন তালুকদার বলেন, গভীর রাতে শ্যালিকা শারমিন আমাকে মোবাইল ফোনে জানায় মীম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রাতেই মীমের ঝুলন্ত মরদেহ নামিয়েছে তার মা ও খালা। পরে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা মীমের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক-মুখ দিয়ে ফেনা ও রক্ত পড়তে দেখা গেছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মাকে অসুস্থ অবস্থায় এনে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী যুবলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান সেলিমকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার আক্তারুজ্জামান সেলিম উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আহত দুইজনের মধ্যে একজন হলেন, ভূঞাপুর পৌরসভার ঘাটান্দি এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে রতন তালুকদার। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (৩০ মে) রাত ৮ টার দিকে ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক মহাসড়কের ভূঞাপুর পৌরসভার ফসলান্দি মোড়ের কলেজ গেট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ মে) বিকালে রেললাইন ক্রসিংয়ের পাশে ভূঞাপুর লিংকরোড বাইপাস সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান থেকে রাতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সেলিম ফেরার পথে হামলার শিকার হন ও কুপিয়ে জখম করা হয় তাকে।
এসময় বাধা দেওয়ায় তার সাথে থাকা রতন সহ আরও একজনকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আক্তারুজ্জামান সেলিমকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহত হয়েছে জানতে পেরেছি এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক বিক্রির দায়ে লিপি বেগম নামে এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ মে) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোস্তফা শাহরিয়ার খান ওই রায় দেন।
দন্ডিত লিপি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী সওদাগর পাড়ার তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী।
আদালতের সরকারি কৌঁশুলী এস আকবর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কৌঁশুলী এস আকবর খান জানান, ২০২২ সালের ৬ মার্চ টাঙ্গাইল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আহসান হাবীব ১০০ গ্রাম হেরোইন ও হেরোইন বিক্রির দুই লাখ ১৯ হাজার টাকাসহ লিপি আক্তারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেন। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পূর্বক তাকে মির্জাপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। মঙ্গলবার ওই মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিল। আদালত উভয় পক্ষের শুনানী শেষে লিপি আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।
তিনি জানান, মামলা চলাকালে লিপি আক্তার কারাগার থেকে একাধিকবার জামিন আবেদন করলেও প্রতিবারই আদালত না মঞ্জুর করেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা সাধারণত এত অল্প সময়ে শেষ হয়না। আদালতের সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা থাকায় মাত্র এক বছরের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনায় আকাশ (১৯) নামের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃত আকাশ উপজেলার কাজিরাপাড়া গ্রামের মাহফুজের ছেলে। হামলার শিকার আহনাব শাহরিয়ার নাবিল চ্যানেল আইয়ের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও বাসাইল প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন আহমেদের ছেলে।
নাবিল বাসাইল সরকারি গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রকাশ, হামলার শিকার নাবিল রোববার (২৮ মে) দুপুরে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কৃষিশিক্ষা পরীক্ষা শেষ করে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তার নিজ বিদ্যালয় বাসাইল সরকারি গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এসময় বাসাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই উৎপেতে থাকা ১০-১৫ জনের কিশোর গ্যাংয়ের একটি সংঘবদ্ধ দল নাবিলের পথরোধ করে। একপর্যায়ে কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে নাবিলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় নাবিলকে সেখান থেকে অপহরণের উদ্দেশ্যে মোটরসাইলেকে ওঠানোর চেষ্টা করে। নাবিলের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় নাবিলের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ সকল কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। পরে নাবিলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নাবিল বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নাবিলের বাবা মুসলিম উদ্দিন আহমেদ বাদি হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আকাশসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে আলমারিতে থাকা নগদ টাকা, ব্যাংকের চেক বই ও স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতদল।
রবিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বাহাদিপুর এলাকায় ওই সাবেক সেনাসদস্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল ঘরে ঢুকে আলমারিতে থাকা ১১ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নেন বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
আহতরা হলেন-উপজেলার বাহাদিপুর এলাকার মৃত ইদ্রিস হোসেন তালুকদারের ছেলে ও সাবেক সেনাসদস্য শামছুল হক তালুকদার হিরা (৬০) ও তার স্ত্রী বাহাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজমা খাতুন (৪৫)।
সোমবার (২৯ মে) দুপুরে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য তার স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে ওই বাড়িতে বসবাস করেন। তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন লন্ডন প্রবাসী এবং একজন ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। রবিবার গভীর রাতে বাড়ির বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে ডাকাতদলের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে। পরে ডাকাতির সময় শব্দ হওয়ায় তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এসময় ডাকাতদলকে বাধা দেওয়ায় শামছুল হককে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে তারা। তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে ডাকাতদলের সদস্যরা ঘরের স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেনাসদস্যের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হলে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, রবিবার মধ্যরাতে সেনাসদস্যের বাড়িতে চুরি ও তাকেসহ তার স্ত্রীকে কুপিয়ে আহতের খবর পেয়ে ওই বাড়িতে পরিদর্শন করা হয়। ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে গুরুতর আহত শামছুল হককে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না পেলেও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে কিশোরগ্যাংয়ের হামলায় আহনাব শাহরিয়ার নাবিল (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
রবিবার (২৮ মে) দুপুরে বাসাইল-পাথরঘাটা সড়কের বাসাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
হামলার শিকার নাবিল চ্যানেল আইয়ের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও বাসাইল প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন আহমেদের ছেলে। নাবিল বাসাইল সরকারি গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার নাবিল বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কৃষিশিক্ষা পরীক্ষা শেষ করে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তার নিজ বিদ্যালয় বাসাইল সরকারি গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এসময় বাসাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সামনে পৌছালে আগে থেকেই উৎপেতে থাকা ১০-১৫ জনের কিশোরগ্যাংয়ের একটি সংঘবদ্ধ দল নাবিলের পথরোধ করে। একপর্যায়ে কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে নাবিলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় নাবিলকে সেখান থেকে অপহরণের উদ্দেশ্যে মোটরসাইলেকে ওঠানোর চেষ্টা করে। নাবিলের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে নাবিলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নাবিলের বাবা মুসলিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে আমার ছেলে নাবিলকে গুরুতর আহত করেছে। এ সময় নাবিলের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ সকল কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এঘটনায় অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নাবিল বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের চাঞ্চল্যকর পার্ক বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আলী আকবর বাপ্পী(৩৩) হত্যার ঘটনায় ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। এছাড়াও তাদের কাছে থাকা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাড় দিঘুলিয়া এলাকার মোঃ নূরু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু (৩০), একই এলাকার ঝন্টু বেপারীর ছেলে মোঃ খোকন (৩১) ও মৃত শহীদ বেপারীর ছেলে ওলি (৩০)।
শনিবার (২৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।
ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান,ব্যবসায়ী বাপ্পি হত্যাকাণ্ডটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সোহেল রানার নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান ও তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) মোরাদুজ্জামান’সহ অন্যান্য অফিসার ফোর্সের অংশগ্রহণে একাধিক টিম ঘটনার পর থেকেই সাড়াশি অভিযান চালাতে থাকে। পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত তিন দিনে আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়। পরে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি (১৬৪) প্রদান করেছে।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবসায়ী বাপ্পির মা আজিমন বেগম (৫৫) মঙ্গলবার (২৩ মে) অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে মাছ বিক্রির দুইটি দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। নিহত বাপ্পি দীর্ঘদিন যাবৎ পার্ক বাজারে খুচরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। পার্ক বাজারে দুইটি মাছের দোকান আসামি খোকন, ওলি ও নিহত বাপ্পি তিনজনের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত দোকান ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি তিনজন মিলে পরিকল্পনা করে, বাপ্পিকে মারপিট করে ভয় দেখিয়ে দুইটি দোকানকে তিন ভাগ করে তারা তিনজন দোকান তিনটি নিয়ে নিবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার (২২ মে) বিকাল অনুমানিক ৩ থেকে ৪ ঘটিকার মধ্যে শহরের পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর এলাকায় খোকনের অটোরিক্সা গ্যারেজে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি বসে বাপ্পিকে মেরে ফেলার (হত্যা করার) পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু নিহত বাপ্পিকে রাত্রী অনুমানিক ১০.৩০ মিনিটে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দিঘুলিয়া ব্রীজের পশ্চিম-দক্ষিন পার্শ্বে লৌহজং নদীর পাড়ে বটগাছের নিচে আসামী খোকন ও ওলি আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
তিনি জানান, মেয়েলি বিষয়ে টাকা পয়সা নিয়ে একটি পার্টি আসবে এই লোভ দেখিয়ে নিহত বাপ্পিকে নিয়ে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু সময়ক্ষেপন করতে থাকে। সোমবার (২২ মে) দিনগত রাত আনুমানিক ১.৩০ মিনিটের দিকে আসামী খোকন ও ওলি তাদের হাতে থাকা ধারালো দা-বটি সহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে নিহত বাপ্পির কাছে এসে প্রথমে আসামী খোকন বাপ্পিকে বসা অবস্থায় পিছন দিক থেকে দা দিয়ে কোপ মারলে বাপ্পি উঠে রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। পরে রাস্তার কোনায় বাপ্পি পিছলে পরে যায়, ওই সময় আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি বাপ্পিকে পিছন থেকে ধাওয়া করে শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে দা-বটি‘সহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে মাথা, হাত ও পিঠের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।
তিনি আরোও জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাজু আহম্মেদ হাবলুকে বৃহস্পতিবার (২৫ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ওলি ও খোকনকে শুক্রবার (২৬ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জান্নাত রিপা ওই তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪) রেকর্ড করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে পর্নোগ্রাফি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের দায়ে পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে চার যুবককে অর্থদণ্ড সহ ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
এ সময় পর্নোগ্রাফির কাজে ব্যবহ্যত ৬টি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ ও ১০ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা ইয়াসমীন এবং সহকারী কমিশনার( ভূমি) জাকির হোসাইন পৃথক দুটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন, মধুপুর পৌর এলাকার কাইতকাই গ্রামের মো.শাহজাহান আলীর ছেলে সালমান খান(২২), মধুপুর সদরের ঝন্টু পালের ছেলে অনন্ত পাল(২১), একই এলাকার মেহেদী হাসান ফাহিম(২৩) ও ধনবাড়ী উপজেলার নরিল্যা গ্রামের মো.রফিকুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান(২১)।
উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্র জানা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াপাড়া মসজিদের পাশে সাইফুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে ওই যুবকরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের ব্যবসার আড়ালে পর্নোগ্রাফির মতো অপরাধমূলক কাজ করতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই চার যুবকে আটক ও তাদের ব্যবহ্যত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল জব্দ করা হয়। এ সময় তাদের অফিস থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়। তাদের ব্যবহিত অফিসটি সিলগালা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পর্নোগ্রাফি ও মাদক রাখার অপরাধে তাদের প্রত্যককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।
উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে উঠতি বয়সের যুবকরা রাত জেগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আড়ালে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে লাখ-লাখ টাকা উপার্জনে মেতে উঠে তারা। রাতভর তাদের ছুটাছুটি ও মাদক খেয়ে চিল্লাচিল্লিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয়ারা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং, মাদক গ্রহন ও পর্নোগ্রাফির। স্থানীয় প্রশাসন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালালে বেড়িয়ে আসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে প্রর্ণোগ্রাফির ব্যবসা ও মাদক সেবনের চিত্র।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আলী আকবর বাপ্পী (৩৩) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২২ মে) দিনগত রাত দেড়টার দিকে পৌর এলাকার পার দিঘুলীয়া শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত বাপ্পী টাঙ্গাইল পৌর সভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর দিঘুলীয়া এলাকার মৃত দেলবর বেপারির ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২২ মে) রাত ১২ দিকে মোবাইল ফোনে এক বড় ভাইয়ের কল পেয়ে বাপ্পী স্থানীয় একটি মুদির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে বাপ্পির স্ত্রী আখী আখতার শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে বাপ্পির রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, সোমবার রাতে ব্যবসায়ী বাপ্পিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে পার দিঘুলীয়া শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মডেল থানার উপপরিদর্শক সুলতান উদ্দিন খান ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরোও জানান, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য কুপিয়ে জখম করার চিহ্ন রয়েছে। থানায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য,বাপ্পি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে মাছের ব্যবসা করতো। সে বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল বাপ্পি। মাত্র তিন মাস আগে বাপ্পি এক কন্যা সন্তানের জনক হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাপ্পির পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের নজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মচারী পদে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নিকট আত্মীয়দের স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির চারটি শূন্যপদের বিপরীতে এই নিয়োগ দেয়া হয়।
এর মধ্যে তিনটি পদে সভাপতি রঞ্জু আহমেদের বোন-ভগ্নি জামাই এবং প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের ছেলেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির ৪ সদস্যরা।
এ ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত ৪ সদস্য মো. বাবুল আক্তার, মো. সাজ্জত হোসেন, এম আজিজুল হক পান্না ও মো. জমির উদ্দিন মাস্টার বাদি হয়ে ঢাকা হাই কোর্টে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়ে ২ জনকে বিবাদি করে একটি মামলা দ্বায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. বাবুল আক্তারসহ আরো ৩ সদস্য।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের ছেলে মো. হাফিজুর ইসলাম স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আর আয়া পদে সভাপতি রঞ্জু আহমেদের বোন মোছা. খালেদা ও পরিছন্নীকর্মী পদে ভগ্নি জামাই মো. মাহাবুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মী পদে মো. ছানোয়ার হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়।
অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি রঞ্জু আহমেদের মদদে অনিয়ম করে যাচ্ছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান। সভাপতির আস্থাভাজন প্রধান শিক্ষক চারটি পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চারটি পদে নিয়োগ পেতে ৮০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে মাত্র ১৭-১৮ জন আবেদনকারীকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির কারসাজিতে গত ১৬ এপ্রিল পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকেলেই চুড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর নিকট উপবৃত্তির কথা বলে টাকা নেওয়া এবং করোনাকালীন সময়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমি দাতা নজির আলীর ছেলে মো. দুলাল হোসেন ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী পদে নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। তিনি জানান, নিয়োগের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করেছিলেন প্রধান শিক্ষক। টাকা না দেয়ায় প্রবেশ পত্রে রোল নম্বর ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম উল্লেখ ছাড়াই প্রবেশপত্র দেয়া হয়। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেননি তিনি। এমন অভিযোগ করেন আরো বেশ কয়েকজন প্রার্থী।
পরিক্ষার্থী সবেজ আলীর বড় ভাই ছলিম হোসেন জানান, আমার ভাইয়ের চাকুরীর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক প্রথমে ৭ লাখ টাকা দাবি করে। আমি নগদ ১ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষককে দেই । টাকার গ্যারান্টি হিসেবে ওই প্রধান শিক্ষক ১ লাখ টাকার চেক দেয় আমাকে। পরবর্তীতে ১০ লাখ টাকা দাবি করাতে আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার ভাইয়ের চাকুরী হয়নি। নগদ ১ লাখ টাকাও ফেরৎ দিচ্ছেনা ওই প্রধান শিক্ষক।
দপ্তিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন বারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি মো. মর্তুজ আলী জানান, নিয়ম বর্হিভুতভাবে কিছু দিন পুর্বে বিদ্যালয়ের শুন্য তিনটি পদের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির আত্মীয় স্বজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি একটি পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে চলছে। যতদ্রুত সম্ভব এই পরিবারতন্ত্র থেকে বিদ্যালয়কে বের করে আনা যাবে তত দ্রুতই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়বে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, স্বার্থ উদ্ধার না হওয়ায় তারা অনিয়মের কথা তুলছেন। এছাড়াও আমার ছেলে পরীক্ষায় পাস করেছে, নিয়ম অনুযায়ী তার চাকরি হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও দপ্তিয়র ইউয়িন আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মো.রঞ্জু আহামেদ জানান, আমার বোন খালেদা ও ভাগ্নি জামাই মো. মাহাবুর হোসেন তাদের মেধায় চাকরী পেয়েছেন। কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ব্যাপারটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ( শিক্ষা ও আইসিটি) সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। সুতরাং এবিষয়ে কোন মন্তব্য করা উচিত হবেনা বলে জানান তিনি।
তিনি আরোও বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করা হবে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ ভুল চিকিৎসায় এক যুবকের পিত্তথলি কাটার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল শহরের সোনিয়া নার্সিং হোমের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তুহিন তালুকদারের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২১ মে) দুপুরে ওই ভুক্তভোগী যুবক মো. পারভেজ প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল পেটের ব্যথা নিয়ে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তুহিন তালুকদারের কাছে যান পারভেজ। ওই চিকিৎসক পারভেজকে দেখে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে করানোর পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন পারভেজ। পরে সেই রিপোর্ট দেখালে চিকিৎসক তাৎক্ষনিক অপারেশন করতে হবে বলে জানান। ওই দিনই পারভেজের পেটে অস্ত্রোপচার করে পিত্তথলি কেটে ফেলেন ডা. মো. তুহিন তালুকদার।
অপারেশনের পরে রোগীর স্বজনদের পিত্তথলি দেখালে তাতে কোনও পাথর ছিল না। একপর্যায়ে জানানো হয়, কেটে ফেলা পিত্তথলিতে কোনও ক্যান্সারের জীবাণু রয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর কারণে পিত্তথলি নার্সিং হোমে রেখে দেওয়া হয়েছে।
অপারেশনের কয়েকদিন পরে পারভেজকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন রোগীর স্বজনরা দেখতে পান, পারভেজের স্থানে পারভীন নামের এক নারীর রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক তার পিত্তথলি কেটে ফেলেছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পারভেজের স্ত্রী তামান্না হাসান বিজলি বলেন, ‘চিকিৎসক তুহিন ও নার্সিং হোমের মালিক আবুল কালাম রিজভী ভুল চিকিৎসার জন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন তারা।’
ভুল চিকিৎসার শিকার মো. পারভেজ বলেন, ‘ওই দিন আমার সঙ্গে পারভীন নামের এক নারীর পিত্তথলির অপারেশন করা হয়। ডাক্তার ওই নারীর রিপোর্ট দেখে আমার চিকিৎসা করেছেন। পিত্তথলি কাটার পর থেকে পেটে এখনো ব্যথা করে। ব্যথার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হচ্ছে। ভুল চিকিৎসার প্রতিকার চাইলে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ হুমকি দিচ্ছে। ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণার কারণে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

সোনিয়া নার্সিং হোমের মালিক আবুল কালাম রিজভী বলেন, ‘সঠিকভাবেই ওই রোগীর পিত্তথলির অপারেশন হয়েছে। তবে তার রিপোর্টের স্থালে একজন নারীর রিপোর্ট চলে যায়। নার্সিং হোমে ওই দিন ৫টি অপারেশন হয়েছে। এছাড়া পিত্তথলির বায়োপসি রিপোর্ট হারিয়ে গেছে। এখন ওই রোগী টাকা ফেরত চাচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. মো. তুহিন তালুকদারের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর তাকে বারবার মুঠোফোনে খুদেবার্তা (মেসেজ) পাঠানো হলেও কোন জবাব দেননি তিনি।
একতার কণ্ঠঃ ডান হাতে ত্রিশুল ও বাম হাতে ঘটি (কলস) নিয়ে পুলিশের দুই সদস্য সাজাপ্রাপ্ত আসামির বাসায় হাজির।
রবিবার ( ২১ মে) সকালে ভিক্ষু সন্ন্যাসী সেজে আসামিকে গ্রেপ্তার করে মির্জাপুর থানার এস.আই রামকৃষ্ণ। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন, কনস্টেবল মো. দেলোয়ার হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী আসামীর নাম হোসনে আরা। তিনি উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
এস.আই রামকৃষ্ণ জানান, কোর্টের দুইটি মামলার ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) আসামি হোসনে আরা। মামলার পর থেকেই পুলিশের ভয়ে বিভিন্নস্থানে রাত্রিযাপন করেন। দিনের বেলায় বাসায় থাকলেও প্যান্ট, শার্ট পরিহিত যেকোনো মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই সে আত্মগোপনে চলে যেতো। তাই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিকল্প পন্থা অবলম্বন করেন, মির্জাপুর থানার এস.আই রামকৃষ্ণ।
তিনি আরোও জানান, রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভিক্ষু সন্ন্যাসী সেজে ওই আসামীর বাসায় হাজির হন পুলিশের দুই সদস্য। পরে তেলিপাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের আসামীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।