একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে রেল সেতু থেকে এক কাঠ ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। রবিবার (১৬ জুলাই)দুপুরে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের শালিনা গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি একটি হত্যাকান্ড।
ওই কাঠ ব্যবসায়ীর নাম মো. বাচ্চু মিয়া (৪২)। তিনি সদর উপজেলা মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী গ্রামের মৃত হুরমুজ আলী ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার তিনি ঘাটাইল উপজেলা গাছের বাগান কিনতে যান। রাতে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে এসে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সর্বশেষ কথা হয়। রাত ৮ টার পর থেকে তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। রাতে বাড়ি না ফেরায় তাকে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি খোঁজ করা হয়। ভোর রাতে ঘাটাইল থানায় খোঁজ নিলে পুলিশ শালিনা এলাকায় লাশ আছে বলে জানায়। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা বাচ্চুর লাশ শনাক্ত করে।
বাচ্চু মিয়ার বড় ভাই আব্দুল হামিদ বলেন, আমার ভাই কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফজলুল হক বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সঠিক রহস্য জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১১ বোতল বিদেশি মদসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত জাইদুল ইসলাম (২৭) কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চরবামান এলাকার আব্দুল ছাত্তারের ছেলে। সে মদগুলো নিয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়ার উদ্দেশ্য যাচ্ছিলো।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মুশফিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেলস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১১ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। সেই সাথে জাইদুল ইসলামকে আটক করে কালিহাতী থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা এবং পারখী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ১৭ জুলাই সোমবার। এ নির্বাচনে নৌকার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বহিষ্কার করা হয়েছে বিদ্রোহী ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে।
এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগে অদৃশ্য বিভক্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধ পরিকর। প্রার্থীরা শেষ সময়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট পেতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনেকের শংকাও রয়েছে।
জানা যায়- ২০১১ সালে বীরবসিান্দ ইউনিয়ন ভেঙে পারখী নামের নতুন একটি ইউনিয়ন গঠিত হয়। এবার নির্বাচনে বীরবাসিন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল খালেক (নৌকা)। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ইউনিয়নে আরো ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম শিকদার (আনারস) ও বর্তমান চেয়ারম্যান ছোহরাব আলী (মোটরসাইকেল সাইকেল) এবং মিতু আক্তার (চশমা)।
এদিকে পারখী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান তালুকদার তোতা (নৌকা)। তিনি কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদার (মোটর সাইকেল)। এছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হয়েছেন আব্দুস সবুর শামীম (গামছা)।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বীরবাসিন্দা ইউনিয়নে একাধিক মারামারি ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন এবং লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ছোহরাব আলীর বলেন, আমার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক আরিফুর রহমান লিটনকে (৫০) কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে নৌকা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। কস্তুরীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন এখন ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচনী অফিস ও গাড়ী ভাংচুর করে প্রচারনায় বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের কস্তুরীপাড়া জামে মসজিদের সামনে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজাফৈর বাজার এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে।
ছোহরাব আলী আরো বলেন, আমি নির্বাচন অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি আমাকে নিরেপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া একই ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার রাতে সিংনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক শরীফ আহমেদ রাজুসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়েছে।
আহতরা বলেন, হামলাকারীরা বর্তমান চেয়ারম্যান ছোহরাব হোসেনের লোকজন।
কালিহাতী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলামিন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতেই রকিবুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ছোহরাব হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৪৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। হেলাল উদ্দীন নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচন করায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসাথে চূড়ান্ত বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছোহরাব আলী, একই ইউনিয়নের উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সেলিম সিকদার ও পারখী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদার। তাদেরকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল খালেক ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান তালুকদার তোতা বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ নৌকাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে ৪ টি অভিযোগ দিয়েছেন। সেগুলো আমরা তদন্ত করছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা সকল পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা কালিহাতীতে এসে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় করেছেন। সেখানে পুলিশ প্রশাসন ও প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোন প্রকার শংকা নেই। বীরবাসিন্দা ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৭০৫ এবং পারখী ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৫৮৪ জন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্ধুর ৭ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইসমাইল মন্ডল (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইসমাইলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ইসমাইল একই গ্রামের হযরত মন্ডলের ছেলে। সম্পর্কে ইসমাইল শিশুটির চাচা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইসমাইল তার বন্ধুর মেয়েকে পা টিপে দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেন। পরে শিশুটির মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার করে ঘর থেকে বের হয়ে তার মাকে ঘটনাটি বলে।
এদিকে শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন বাড়িতে এসে ইসমাইলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।
ওই শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
শিশুর বাবা বলেন, ইসমাইল আমার অবুঝ শিশু মেয়েটিকে পা টিপে দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেন। পরে মুখ চেপে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি মেম্বারসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় মিমাংসার কথা বলছেন।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, শিশুর বিষয়ে অন্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সত্যতা কতটুকু জানি না।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণচেষ্টার প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি আমরা আরো খতিয়ে দেখছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থক এক প্রধান শিক্ষককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে নৌকা পার্থীর কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারনা অফিস ও গাড়ী ভাংচুর করে প্রচারনায় বাঁধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১২ জুলাই ) সন্ধ্যায় উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরী পাড়া জামে মসজিদের সামনে ও বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই ) দুপুরে রাজাফৈর বাজার এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরিফুর রহমান লিটন (৫০) কস্তুরী পাড়া গ্রামের মজিবর সিকদারের ছেলে। তিনি কস্তুরী পাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহরাব হোসেনের (মটরসাইকেল প্রতীক) প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুর রহমান লিটন। তিনি বুধবার স্থানীয় কস্তুরী পাড়া বাজার এলাকায় দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন। এক পর্যায়ে মাগরিবের নামাজের সময় হলে পাশের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি বাজারের আবুখার ওষুধের দোকানের সামনে আসলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মো. হান্নান, আকরব হোসেন, আব্দুল হাই বলেন, আমরা বাজারে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছিলাম। অতর্কিত ভাবে বাজারের উত্তর দিক থেকে এসে অজ্ঞাত ১০/১৫ জন নৌকার সমর্থকরা লিটন মাষ্টারের মাথায় কোপ দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে এলোপাথারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তারা বলেন, শালা নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করার পরিনতি। তার ডাক চিকৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাইক নিয়ে একটি ব্যটারি চালিত অটোরিকশা যোগে মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রচারনা চালানোকালে কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গাড়ি ও মাইক ভাংচুর করে।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী সোহরাব আলী বলেন, এ ঘটনায় আমি জেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি আমাকে নিরেপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন।
বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মো. আব্দুল খালেক মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত রয়েছি, লিটন মাষ্টারের উপর হামলার বিষয়ে আমি পরে কথা বলবো’।
এ বিষয়ে জানতে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমানকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনটি।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শরিফুল হক বলেন, সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। আমরা যে কোন নির্বাচনী সহিংসতাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ করেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আলম মিয়া (২৭) নামের এক অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১২ জুলাই) রাতে জেলার ঘাটাইল উপজেলার ছুনুটিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আলম মিয়া ঘাটাইল উপজেলার ছুনুটিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী মাস্টারের ছেলে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন আলম মিয়ার ঘরে সিঁধ কাটা দেখতে পায়। এ সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা আলম মিয়াকে ডাকাডাকি করে। কোনো সাঁড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
তিনি আরও জানান,পরে বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) পুলিশ গিয়ে আলম মিয়ার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, রাতের কোনো এক সময় চোর চক্র আলম মিয়ার ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরি করার সময় হয়তো আলম মিয়া ওই চোরদের চিনে ফেলায় এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাত ২টার দিকে গোলপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার শিকার আহতরা হলেন- ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম মহব্বত, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শরীফ হোসেন, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক বিজয় সরকার, বানিয়াজান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি অন্তর হাসান, যদুনাথপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সুমন, সাধারণ সম্পাদক মামুন খান।
এছাড়াও বলিভদ্র ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ আজিজুর রহমানের ছেলে মির্জা হাবিব হাসান, মুশুদ্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি স্বাধীন, বীরতারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহান হাসান ও মাইক্রোবাসের চালকসহ কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়।
জানা গেছে, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতকর্মীরা নয়াপল্টনে দলীয় সমাবেশে যোগদানের জন্যে মঙ্গলবার রাতে একটি মাইক্রোবাসযোগে রওনা হয়। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মাইক্রোবাসটি গোপালপুর উপজেলার শিমলা বাজারের কাছে পৌঁছলে দেশীও অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে তাদের উরপর হামলা চালায় দৃস্কৃতকারীরা।
এ ঘটনায় এলোপাথারি কুপিয়ে ও লাঠির আঘাতে ১২ জনকেই আহত করা হয়। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্ককাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাদেরকে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজুর রহমান বলেন, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গোপালপুর শিমলা বাজারে পৌছলে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা মাইক্রোবাস থামিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় । এতে মাইক্রোবাসের ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্ককাজনক।
এ ঘটনায় গোপালপুর থানার (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কারা কি কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া কারো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আট মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবা মো. সাহেদকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী লতিফপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ঝুমা আক্তারের সঙ্গে সাহেদ মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশুটির বয়স আট মাস। সাহেদের সঙ্গে অন্য নারীর অনৈতিক সম্পর্ক আছে এমন অভিযোগে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এ কারণে মাঝে মধ্যেই ঝুমাকে মারধর করতেন সাহেদ। সর্বশেষ দেড় মাস আগে ঝুমাকে মারধর করলে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে তিনদিন আগে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসেন সাহেদ। রোববার দিবাগত রাতেও ঝুমাকে মারধর করেন সাহেদ।
ঝুমা বলেন, সকালে রান্না করার সময় কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি ছেলের সঙ্গে আমার স্বামী শুয়ে আছে। তখন তার মুখ লাল দেখেছি। তার কিছুক্ষণ পর আবার কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঘরে গেলে ছেলের নাকে রক্ত দেখি ও মুখ দিয়ে লালা বের হতে দেখি। আমার স্বামী আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া জানান, এ ঘটনায় শিশুর বাবা সাহেদকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম’র নেতৃত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. কুদরত আলীর উপস্থিতিতে রবিবার ( ৯ জুলাই) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে সমাবেত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম বলেন, তারেক শামস্ খান হিমু’র উপস্থিতিতে এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী গ্রামের মুন্সিপাড়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মতবিনিময় সভায় সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মীবাহিনী সন্ত্রাসী কায়দায় নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপনের ওপর অতর্কিত হামলা করে আহত করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অস্থিতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের পক্ষ হতে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সাবেক ভিপি জহুরুল আমিন, শিক্ষা ও মানব কল্যাণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দেলদার আহমেদ সুভন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রৌশনারা বেগম, উপজেলা আ’লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মো. আজিজুল হক, আব্দুল আলিম, সামেজ মিয়া, শহীদুল হক কিরণ, আতিকুর রহমান নিল্টু প্রমূখ।
এছাড়াও সমাবেসে মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জজ কামাল, যুবলীগ নেতা এস এম আনোয়ার হোসেন, নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আল মামুন, আ’লীগ নেতা আবুল কাশেম, শফিউল আলম সিজার, ধুবড়িয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সেন্টু সহ অন্যান্য সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (০৭ জুলাই) বিকালে দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী ঈদ পুনর্মিলনী মতবিনিময় সভা চলাকালীন সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আ’লীগ কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ খান হিমুর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থেকে নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান কালে এলাসিন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মী আনিসুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রায় ১২ থেকে ২০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শারীরিকভাবে আহত করে।
একতার কণ্ঠঃ বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রবিবার (২ জুলাই ) রাতে মো. সাদ্দাম হোসেন নামের এক মুঠোফোন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। সাদ্দামের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বন্ধুরা সাদ্দামকে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে যায়। হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তার বন্ধুরা। পুলিশেরও ধারণা সাদ্দামকে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম রবিবার বিকালে এলেঙ্গা রাজাবাড়ী এলাকার বন্ধু রাব্বি, অমিত, লিসান, বাপ্পীসহ ছয় বন্ধু ঈদ পরবর্তী ঘুরতে বের হয়। রাতে পরিবারের সদস্যরা খবর পান সাদ্দাম অসুস্থ। তার কিছুক্ষণ পর খবর পান সাদ্দাম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
স্ত্রী রুপা বেগম বলেন, আমি সাদ্দামকে ফোন দেয়ার পর সে আমাকে বলে ‘আমি রাব্বি ও লিসানদের সঙ্গে ঘুরতে আসছি। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি আমাকে বাঁচাও।’ তারপর ওরা ফোন নিয়ে নেয়। এরপর বার বার ফোন দিয়েও সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে রাব্বি, বাপ্পীর ফোন নম্বর বন্ধ।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ডে ফ্লাইওভারের নিচে বিবস্ত্র অবস্থায় যুবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
তিনি আরও জানান, তখন তিনি আল্লাহ অল্লাহ করতেছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই যুবককে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে নাকি পরিকল্পিত হত্যা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী রাশেদকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের নরুন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আলিসা বেগম (২৮)। আর তার স্বামী রাশেদ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান ,ঈদের আগের দিন আলিসা শ্বশুর বাড়ি থেকে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার নরুন্দা পূর্বপাড়া আসেন। রোববার দুপুরে আলিসার স্বামী রাশেদ এসে ছেলে মেয়েকে নিয়ে যান। সোমবার বিকেলে আলিসা তার বাবার বাড়ি নরুন্দা গ্রামে ঘরের ভেতর শুয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্বামী রাশেদ মিয়া শ্বশুর বাড়ি এসে ঘরের ভেতর ঢুকে স্ত্রী আলিসাকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
তিনি আরো জানান,খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী রাশেদকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত রাশেদ ঢাকায় গাড়ির মিস্ত্রির কাজ করেন। এই ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ( ২ জুলাই ) বিকালে নাগরপুর উপজেলা সদরের কলেজ পাড়া এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম শাহনাজ আক্তার (৪৫)। তিনি উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ গ্রামের সৌদী প্রবাসী মোশারফ হোসেনের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকে নিহতের কিশোরী কন্যা ফারজানা আক্তার (১৫) নিখোঁজ রয়েছে।
নিহতের পিতা আব্দুল বাতেন জানান, আমার মেয়ের জামাই অনেক বছর ধরে সৌদী প্রবাসী। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে প্রবাসী, অপর ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। মেয়েকে নিয়ে উপজেলা সদরের নিজেদের চারতলা বাড়ির চারতলায় বসবাস করত শাহনাজ । আমার জানা মতে মেয়ে ও নাতীদের সাথে কারো কখনও ঝগড়া বিবাদ ছিল না। কিভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল কিছুই বুঝতে পারছি না। শনিবার (১ জুলাই) বিকালে মেয়ের সাথে কথা হয়েছে। ফজরের নামাজের পর মেয়েকে ফোন দিয়ে আর পায়নি। দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পাই। ঘটনার পর থেকে নাতনিও নিখোঁজ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তবে কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নাতনিকে তুলে নিয়ে গেছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। আমি পুলিশের কাছে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিখোঁজ নাতনীকে দ্রুত উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ওই বাসার ভারাটিয়া অপু আক্তার বলেন, দুপুরে চারতলায় পানি আনতে গিয়ে দেখতে পাই চার তলার দরজা খোলা। শাহনাজ আপার লাশ খাটের উপর পরে রয়েছে। তাঁর মেয়ে রুমে নেই। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে দুপুরে নিহতের লাশ উদ্বার করে পুলিশ। নিহতের গলায় ফাঁস লাগানোর চিহৃ রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।