একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতি বিজরিত সন্তোষের সরকারি জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ রোধকল্পে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
শনিবার (১৩ মে)দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষ বাজারে মাওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত পীর শাহজামান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও বৃহত্তর সন্তোষের সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পীর শাহজামান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ,টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সমিতির যুগ্ম আহবায়ক মাসুম আহমেদ ও মশিউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেট। মাওলানা ভাসানী বলে গেছেন এখানে খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষরা দোকান করে খাবে। এই মার্কেট কখনও ভেঙ্গে দেয়া হবে না। কিন্তু ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র তাদের মধ্যে ৩৫% ও ৬৫% অবৈধ চুক্তিপত্র করে জলাশয় ভরাট করে এখানে বহুতল মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছেন।
তারা আরো বলেন,এখনও সময় আছে এই অবৈধ কাজ বন্ধ করুন। তা না হলে আমরা এর কঠিন জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। মানববন্ধন শেষে যে স্থানে মাটি ভরাট কার্যক্রম চলছিলো সেখানে গাছের চারা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেকুর ড্রাইভারকে বেকু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাফা (১৪) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।শুক্রবার (১২ মে) সন্ধ্যায় পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
সে উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী জাকির হোসেনের মেয়ে ও সখীপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাফা ও তার ছোট ভাই তাদের মাকে নিয়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। শুক্রবার দুপুরে তার মা গ্রামের বাড়িতে যান। বিকেল ৫টায় ছোটভাই বাসায় ফিরে স্কুলছাত্রী সাফাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ দৃশ্য দেখে সাফার ছোট ভাই চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, মরদেহের পা মাটির সঙ্গে ঠেকানো ছিল। এতে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা এ নিয়ে বেশ সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করছি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান , এখনই মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পা বাধাঁ ও গলায় রশি ঝুলানো অবস্থায় মো. ইফসুব মিয়া (৬০) নামের এক চা কফি ও জুতা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্বার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ মে) সকালে উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের পংবাইজোড়া বাজারের একটু অদুরে পুষ্টকামরি সালামের শ্যালো মেশিন ঘরের পাশে লাউ গাছের মাচা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন।
সে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের ইদ্দিস মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ মে) দুপুর দুইটার দিকে বাড়ী থেকে বের হয় ইউসুব। সারা দিন পংবাইজোড়া বাজারে তার নিজ দোকানে বেচাকেনা করেন। বিকেল পর্যন্ত দোকানে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন আশ পাশের দোকানীরা। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে শত শত নারী পুরুষ ভীড় জমায় ঘটনাস্থলে। এ সময় সালামের শ্যালো মেশিন ঘরের হাউজের উপরে লাউ গাছের মাচার খুটির সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত ও পা বাঁধা অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
নিহতের ছোট ভাই নূরুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বাড়ী থেকে বের হয় তার ভাই ইউসুব। চারটার দিকে পংবাইজোড়া বাজারে তার সাথে ভাই ইউসুবের দেখা ও কথা হয়। এর পর আর বাড়ি ফিরেনি সে। শুক্রবার সকালে ভাইয়ের মূত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে সালামের শ্যালো মেশিন ঘরের পাশে লাউয়ের মাচার খুটির সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত ও পা বাঁধা অবস্থায় তাকে দেখতে পান।
স্বামীর মত্যু শোকে কাতর থাকায় তার স্ত্রীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা । কিন্তু লাশের পা বাঁধা থাকার অবস্থা দেখে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে । থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল গ্রামে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার(১১ মে) সকালে শাহেদ টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ।
তানভীর আহম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। দেলদুয়ার থানা পুলিশ রিমান্ড দাবী করেন। রিমান্ড চাইতে বিলম্ব হওয়ায় টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম শাহেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশদেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, গত শনিবার বিকেলে মা ও দুই ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মনিরার মা আবেদা বেগম বাদী হয়ে মনিরার স্বামী শাহেদকে প্রধান আসমী করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত তিন চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ শাহেদকে গ্রেপ্তার করতে মাঠে নামে। শাহেদ আত্মগোপন করায় পুলিশ চেষ্টা করেও শাহেদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার শাহেদ স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। দেলদুয়ার থানা পুলিশ রিমান্ড দাবী করেছে। কিন্তু আদালত শাহেদকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল গ্রামে শাহেদের থাকার ঘর থেকে স্ত্রী মনিরা বেগম ও দুই শিশু সন্তান মুশফিক (৮) এবং দুই বছর বয়সী মাশরাফির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মনিরা বেগম একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী মৃত মকবুল হোসেন খান ও আবেদা বেগমের মেয়ে। হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ সাবেক পুলিশ সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলু মিয়ার ছেলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ছয় জুয়ারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (১০ মে) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছেন, ঘাটাইল উপজেলার পাঞ্জনা গ্রামের মো. শাহাদৎ খানের ছেলে মো. সিয়াম খান (২৭), গোপালপুর উপজেলার সুন্দর গ্রামের মো. মজিবর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল মোমিন (২৮), নন্দনপুর ফকিরবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল সামাদের ছেলে খন্দকার আব্দুল জলিল (৫০), ঝাওয়াইল গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জহির মিয়া (৩০), ডুবাইল আটাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল কাশেমের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২৪) ও মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মোহাম্মদ আলী আহমেদ সোহাগ (২৮)।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (৯ মে) মধ্য রাতে থানার এসআই মো. শফিকুল ইসলাম ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক উদ্ধার ডিউটি করার সময় খবর পান নন্দনপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়ার পতিত জমিতে তাস দিয়ে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা চলছে।
তিনি আরোও জানান, পরে তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনের চার ধারায় মামলা করা হয়। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই হেলে পড়া সেতুটি ৫ বছর পরেও নির্মিত হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সেতুটি না থাকায় পার্শ্ববর্তী ১০ গ্রামের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুন। উদ্বোধনের পূর্বেই হেলে পড়া সেতুটি উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের নিরাইল এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিজ খরচে পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় প্রকল্প পরিচালক। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ রয়েছে বাসাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগসাজসে পার পেয়ে গেছেন ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি-ফুলবাড়ি সড়কের নিরাইল এলাকায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে রয়েছে উদ্বোধনের আগে হেলে পড়া সেই সেতুটি। দেখে মনে হয় এক অভিসপ্ত নগরির ধ্বংসাবশেষ।এলাকাবাসীর অভিযোগ বার বার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সেতুটির বিষয়ে কোন প্রকার সুরাহ হয়নি।
সূত্রমতে, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১২৮টি সেতু নির্মাণ করে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়। বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি-ফুলবাড়ি সড়কের নিরাইল এলাকায় ৬০ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মানের কাজ পায় মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় উদ্বোধনের পূর্বেই সেতুটি হেলে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত শেষে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজ খরচে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়ার নিদের্শ দেয়।
এরপর পরই ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটি পুনরায় নির্মাণের লক্ষে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভাঙ্গা শুরু করে। এর অংশ হিসাবে সেতুটির উপরের অংশ ভেঙ্গে রড বের করে নিয়ে যায়। কিন্তু এরপর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটি পুনরায় নির্মাণ না করে দিয়ে কাজ শেষে করে বিল তুলে নেয়। ঐ সময় অভিযোগ ওঠে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন সাত লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। এতে করে ওই প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শেষ না করেই সেতুটি ভেঙ্গে ব্যবহৃত রড ও কংক্রিট নিয়ে যায়। এতে করে সড়ক ব্যবহারকারীদের দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করে।
এদিকে দীর্ঘ দিনেও ফুলকি-ফুলবাড়ি সড়কের নিরাইল এলাকায় সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বালিয়া, ফুলকি, ফুলবাড়ি, বাঘিল, নিরাইলসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের। একজন মুমূর্ষ রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে ১০ কিমি রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিরাইল এলাকার রবি মিয়া বলেন, হেলে পড়া সেতু দিয়ে বড় গাড়ি চলাচল না করতে পারলেও সাধারন মানুষ পাড় হতে পারতো। কিন্তু সেতুটি ভেঙ্গে ফেলায় এখন আমাদের দূর্ভোগ আরোও বেরে গেছে। আমাদের এলাকা কৃষি প্রধান এলাকা। সেতুটি না থাকায় আমরা কৃষি পন্যেরও ন্যায্য মূল্য পাই না।
স্কুলছাত্র মো. রামিম বলে, বর্ষা মৌসুমে আমার দূর্ভোগের কোন সীমা থাকে না। বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় অনেক সময় আমাদের বই খাতা ভিজে যায়।
এ বিষয়ে ফুলকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামছুল আলম (বিজু) বলেন, যখন ওই সেতুটি নির্মাণ হয়, তখন আমি চেয়ারম্যান ছিলাম না। তবে আমি চাই আমার এলাকার জনগণের সুবিধার জন্য ওই স্থানে একটি সেতু পুনরায় নির্মাণ হোক। এ জন্য আমি খুব শীঘ্রই জেলা প্রাশাসক বরাবর একটি আবেদন করবো।
এ ব্যাপারে জানতে বাসাইল উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের ক্ষতি হবে জেনে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করে দেয়নি। এ ছাড়া ওই স্থানে প্রতিষ্ঠানই সেতু নির্মানের কোন প্রকার প্রকল্প পুনরায় হাতে নেয়নি বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার জানান, দুর্নীতির বিষয়ে যাচাই বাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জনগনের সুবিধার জন্য সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করার জন্য খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও তার পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুরে সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মৈশা গ্রামে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর এস এস প্লাস্টিক ডোর ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী মো.শাহীন আলম এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী মো. শাহীন আলম বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখে সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা তার পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত মৈশা মৌজার সাড়ে ৪৬ শতাংশ চাষের জমি আমার নিকট বিক্রির প্রস্তাব করে। যাহার বিক্রি মুল্যে নির্ধারিত হয় ৫ লাখ ৭৭ হাজার সাত শত টাকা। ওই দিনই ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করিয়া ও ৫২ হাজার ৭’শ টাকা বাকি রাখিয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মজনু সরকার ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পঞ্চতারা বেগমের স্বাক্ষীতে উক্ত জমির বায়না পত্র সম্পন্ন করি। উক্ত জমির বায়না সম্পন্ন হওয়ায় ওই জমির উপর আর এস এস প্লাস্টিক ডোর ফ্যাক্টরি স্থাপন করি। বর্তমানে এই ফ্যাক্টরিতে ৩০ জন শ্রমিকের কর্মরত আছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৭ বছরেও তোফাজ্জল হোসেন তোফা তার বায়নাকৃত সম্পত্তি আমাকে রেজিস্ট্রি দলিল না করিয়া দিয়া, নানান তালবাহানা করে আসছে। উপরন্ত জমি রেজিস্ট্রির জন্য চাপ দিলে গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় তোফাজ্জল হোসেন তোফা তার ক্যাডার বাহিনীর প্রধান ফরিদসহ বেশকিছু সন্ত্রাসী আমার প্রতিষ্ঠানে আসিয়া প্রাণনাশ ও গুম করিয়া ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে বাঁশের খাম দিয়া সন্ত্রাসী ফরিদ আমাকে মারতে উদ্যত হয়। আমার ডাক চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরে উক্ত জমি রক্ষায় গত ৫ মার্চ টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়ায়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। এছাড়া টাঙ্গাইল সদর থানায় জীবন রক্ষার্থে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি)করতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতার প্রভাবে উক্ত জিডিটি গ্রহন করেননি।
তিনি বলেন, আমার ওই ফ্যাক্টরিটি ব্যাংক ও ব্যাক্তিগত পর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে স্থাপন করেছি।বর্তমানে ওই আ’লীগ নেতার ভয়ে আমি ও আমার পরিবার এলাকা ছাড়া হওয়ার ফ্যাক্টরিটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে থাকায় ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের জীবন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য মো. শওকত আলী, স্থানীয় মাতাব্বর আজিবর দেওয়ান, তায়েজ উদ্দিন, সামাদ মিঞা, আবু হানিফ ,আব্দুল মান্নানসহ শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রাইসকুকার কার্টুনের ভেতর থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার সিংগুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার পশ্চিম পাড়া কবরস্থান জামে মসজিদের পাশ থেকে অজ্ঞাত নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া নবজাতকের সাথে কার্টুনে লেখাযুক্ত একটি কাগজের টুকরো পাওয়া যায়। এতে লেখা ছিল- ‘দয়া করে আপনারা কেউ দাফন করুন, কিছু টাকা রেখে গেলাম। বাচ্চাটা ১২ ঘণ্টা বেঁচে ছিল।’ নবজাতকের সাথে কার্টুনে এক হাজার টাকাও ছিল।
এই নবজাতকটি দেখতে স্থানীয় ও আশ-পাশের এলাকার বিভিন্ন লোকজন ভিড় করে।
এ ঘটনায় মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা জানান, ফজরের নামাজ ও সকালে মক্তব শেষে বাড়িতে ধানের কাজ করছিলাম। সে সময় খবর আসে মসজিদের দরজার পাশে একটি রাইসকুকার রাখা। রাইসকুকারের কার্টুনটি দেখে কেউ কেউ ধারণা করছিল অন্যকিছু থাকতে পারে। তাই ভয়ে কেউ কার্টুনটি খুলতে সাহস পাচ্ছিল না।
তিনি আরো জানান, এরপর ঘটনাস্থল মসজিদে এসে দেখি সামনের দরজার পাশে কার্টুন। পরে মসজিদ কমিটির লোকজনদের সাথে নিয়ে কার্টুনটি খুলে দেখি ফুটফুটে এক মৃত নবজতাক ও সাথে লেখা যুক্ত এক টুকরো কাগজ রয়েছে। এ বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতকটি দেখতে ভিড় করে উচ্ছুক জনতা। তারপর পুলিশকে খবর দিলে নবজাতকটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কার্টুনসহ নবজাতকটির মরদেহ উদ্ধার ও সুরতাহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে নবজাতকটির লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইাল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ভেলুয়াটিকি বাইকার চালা এলাকায় দিনের বেলায় সংঘবদ্ধ চিহ্নিত গাছ চোরের দল কেটে নিয়ে গেছে মুল্যবান গজারীর গাছ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতাধীন বটতলী বীটের অন্তর্ভুক্ত বাইকার চালা পাহারী অঞ্চলে দুইমাসে প্রায় ১০লক্ষাধিক মুল্যবান গজারী গাছ কেটে নিয়েছে এলাকার চিহ্নিত গাছ চোর চক্র।
গত দুইমাস আগে মুল্যবান গজারী গাছ থাকলেও দুইমাস পরে গিয়ে দেখা যায় বাগান মরুভুমির মতো খালি পড়ে আছে।
এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এই বাগানে প্রায় ৫০০ শত মুল্যবান গজারী গাছ ছিলো কিন্তু চোরের দল দিনে দুপুরে কেটে নিয়ে গেছে। যার আনুমানিক মুল্য ১০লাখ টাকা হতে পারে ।এভাবে দিনের বেলায় গাছ চুরি যাওয়াতে প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব পরছে পরিবেশের উপর।
এ বিষয়ে ধলাপাড়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুঞ্জরুল ইসলাম জানান, আমরা কিছু গাছ উদ্ধার করেছি বাকিটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে জামাল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহফুজ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল র্যাব-১২ সিপিসি ৩ এর কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত মাহফুজ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুমিনপুর গ্রামের ছোবহান মন্ডলের ছেলে।
কোম্পানী অধিনায়ক জানান, রোববার (৭ মে) বিকেলে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার নলমারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্ব শক্রতার জের ধরে গত ২২ এপ্রিল ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন জামাল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ঢাকা মহানগরের সুপার স্পেসালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন জামাল।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় নিহত জামাল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ মাসুদা বেগম ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে ধনবাড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ধনবাড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ স্বামী শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস একে একে বিক্রি করেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তাঁর টিনের ঘরটিও বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিল। এর জেরে স্ত্রী মনিরা বেগম ও দুই সন্তানকে শাহেদ হত্যা করে পালিয়েছে, এমন ধারণা করছেন মনিরার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। পুলিশও বিষয়টি সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে গতকাল শনিবার(৬ মে) সন্ধ্যায় মো. শাহেদের স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাশেই বিছানায় পড়ে ছিল শাহেদের দুই ছেলে মুসফিক (৮) ও মাশরাফির (২) লাশ। ঘটনার পর থেকে শাহেদ পলাতক।
রোববার(৭ মে) দুপুরে মনিরার মা আবেদা বেগম বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, মামলায় মনিরার স্বামীসহ তিনজনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও তিন–চারজনকে আসামি করা হয়েছে। সুরতহালে দেখা গেছে, দুই ছেলেকে ঘাড় মটকে হত্যা করা হয়েছে। মনিরার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর রবিবার দুপুরে তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় নিজ গ্রামে তাঁদের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
সকালে দেলদুয়ার উপজেলার চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোক বইছে। মনিরার বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি রাস্তার এপার-ওপার। মনিরার ঘর খোলা পড়ে আছে। সেখানে ঢুকে দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে তাঁদের জামাকাপড়। ঘরের পেছন দিকে সিঁধ কাটা। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, এ সিঁধ কেটেই ঘর থেকে মনিরার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
ওই গ্রামের শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া জানান, মনিরার স্বামী শাহেদের বাবা ফজলু মিয়া পুলিশে চাকরি করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে একটি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গ্রাম ছেড়েছেন।
শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি স্ত্রীর গয়না, ঘরের থালাবাটি বিক্রি করে নেশা করতেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তাঁর বসতঘর ২০ হাজার টাকায় চাচাতো ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। ঘর ভেঙে নেওয়ার পর শাহেদ স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার ঘরে ওঠেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে ঝগড়া চলছিল। ঝগড়ার জেরে স্ত্রী–সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে মনে করছেন মনিরার মা আবেদা বেগম।
মনিরার ফুফাতো ভাই জামাল মিয়া জানান, শাহেদ নেশা করতেন। হত্যা করার আগে স্ত্রী–সন্তানকে কোনো ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করতে পারেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে যখন ঘর থেকে মনিরা ও তাঁর দুই ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়, তখনো শাহেদ বাড়িতে ছিলেন। পরে একপর্যায়ে চলে যান। একে একে তাঁদের অন্য চাচাতো ভাইয়েরা বাড়ি ত্যাগ করেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, শাহেদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্রুত এ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মাসহ দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার(৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চকতৈল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেউলী ইউপি চেয়ারম্যান তাহমিনা হক।
তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় চকতৈল গ্রামের শাহেদের স্ত্রী মনিরা বেগম(২৫) তার দুই ছেলে মুশফিক (৫) ও মাশরাফিকে (২) হত্যা করে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাদের তিনজনের লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে দেলদুয়ার থানা পুলিশ লাশ তিনটি উদ্ধার করে।
তবে একসঙ্গে দুই ছেলেকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা নাকি তাদেরকে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি হত্যা করেছে এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ধারণা, তিনজনকে হত্যা করে সিঁদ কেটে কেউ পালিয়ে গেছে।
এদিকে হত্যার আলোচনা উঠায় নিহত মনিরা বেগমের স্বামী শাহেদ পলাতক রয়েছে। ফলে সন্দেহের তীর শাহেদের দিকে। শাহেদ দেউলী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফজলুর ছেলে।
স্বামীর আত্মগোপন ও মনিরা বেগমের ঝুলন্ত লাশ মাটিতে লেগে থাকায় সন্দেহের গভীরতা বাড়ছে।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, আমি ঘটনাস্থলে। লাশ তিনটি উদ্ধার হয়েছে। স্বামী শাহেদ পলাতক রয়েছ। শাহেদকে খুঁজে পেলে এবং লাশ তিনটি ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।