একতার কণ্ঠঃ উনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি দোকানে হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ভিজিডি) চাল গোপনে বিক্রি করে পালিয়ে গেছেন ইউপি সচিব শেখ ফরিদ।
বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানায়, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ভিজিডি)চাল গত ১৩ এবং ১৪ তারিখে বিতরণ করা হয়। অনিয়ম করে বিতরণ করায় গোডাউনে থেকে যায় অনেক চালের বস্তা। যা বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার সময় তাদের নজরে আসে।
তারা আরও জানায়, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদ সুশীল নামের এক গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় কালোবাজারি আজাদের ভ্যানে ভর্তি করে চালের বস্তা বের করে নেন। পরে তা পরিষদ সংলগ্ন এক ওষুধের দোকানে নিয়ে সরকারি পাটের বস্তা থেকে
প্লাস্টিকের বস্তায় পরিবর্তন করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। তবে প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই সচিব ও কালোবাজারি আজাদ পালিয়ে যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের লোকজন বিক্রি করা চাল জব্দ করেন।
গ্রাম পুলিশ সুশীল জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম।সচিব ফোন করে পরিষদে আসতে বলেন এবং খালি বস্তা গুনতে বলেন। পরিষদে গিয়ে দেখি আজাদ ভ্যান গাড়িতে চাল তুলছেন। পরে আর কিছু জানিনা। আজাদ মাঝে মধ্যেই পরিষদ থেকে এভাবে চাল নেয়।
এ বিষয়ে অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদের বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, কয়েকদিন আগে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়। এসময় কয়েকজন কার্ড নিয়ে না আসায় চালগুলো গোডাউনে রাখা হয়। সকালে খবর পেয়ে পরিষদের গুদামের তালা ভেঙে দেখি চালের বস্তাগুলো নেই।
তিনি আরো জানান, এছাড়া সচিবকেও পরিষদে পাওয়া যায়নি। পরে ইউএনও’র উপস্থিতিতে আজাদ মিয়ার দোকান থেকে ১০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, চাল উদ্ধারের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ উঠা ওই সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, মেয়াদউত্তীর্ণ তারিখ না থাকা, ক্ষতিকারক রঙ ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরির অপরাধে দুই কারখানা মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া ও সল্লা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত দুই কারখানা হলো- সাদেক বেকারী ও মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টস।
অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরি করায় সাদেক বেকারীকে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনি এবং তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাব হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ইকবাল কবির ও এ কে এম রবিউল হোসেনের আদালত তাঁদের চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ভাই ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
গোলাম কিবরিয়ার আইনজীবী মো. এহসান হাবিব জানান, গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাবকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
শুনানিতে গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির, সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে গোলাম কিবরিয়া ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় অভিযোগ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে গোলাম কিবরিয়া আবার ধর্ষণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের অলোয়া মিঞা বাড়ি মোড় এলাকায় মাংস বিক্রি করার সময় ওই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার।
এরআগে ১শ ৫০ কেজি ওজনের মরা গরু কেটে বিক্রি করছিল ওই মাংস ব্যবসায়ী।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাংস ব্যবসায়ী হাসমত (৪৪) উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের হামিদ মন্ডলের ছেলে ।
জানা গেছে, মাংস ব্যবসায়ী হাসমত দীর্ঘদিন যাবদ অসুস্থ্য মরা গরু সংগ্রহ পূর্বক জবাই করে বিভিন্নস্থানে বিক্রি করে আসছিলেন। শনিবার রাতে অলোয়ার মিঞা বাড়ি মোড় এলাকায় বাজার দরের চেয়ে কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে মরা গরু বিক্রির বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংস ব্যবসায়ীকে হাতে- নাতে আটক করে। এসময় মাংস ব্যবসায়ী হাসমত মরা গরুর বিক্রির কথা স্বীকার করে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন জানান, মরা গরুর মাংস বিক্রির খবর পেয়ে ভেটেনারী সার্জনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে ওই মাংস ব্যবসায়ী মরা গরু বিক্রির কথা স্বীকার করায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি আরো জানান, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ভাগ্নের ছুরিকাঘাতে মামা আব্দুল জলিল (৪২) খুন হয়েছেন। কেরাম খেলা নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৫ এপ্রিল) ইফতারের আগমুহুর্তে মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের হরিণধরা বাজারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শোলাকুড়ি ইউনিয়নের গিলগাইছা বাজারে কেরাম খেলার সময় শিহাব উদ্দিন ও নোমান মিয়ার সাথে তাদের মামা আব্দুল জলিলের বিরোধ বাধে। এই ঘটনার জের ধরে হাতাহাতি থেকে মারামারিতে পরিণত হয়। এ সময় ভাগ্নে পক্ষের লোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও ছিলেন। বিষয়টি আপোস মীমাংসার জন্য আলোচনা চলমান।
তারা আরো জানায়,শনিবার ইফতারের পূর্বমুহুর্তে আব্দুল জলিল হরিণধরা বাজারে মোটরসাইকেলে পেট্রল তুলছিলেন। এ সময় তার দুই ভাগ্নে শিহাব ও নোমান অতর্কিতভাবে আব্দুল জলিলের উপর হামলা চালায়। তাদের ছুরিকাঘাতে আব্দুল জলিল তাৎক্ষণাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন জানান, আব্দুল জলিল খুন হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ আরজু মিয়া (৫০) নামে সৌদি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যাক দেশি বিদেশি অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আরজু মিয়া স্বল্প মহেড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। সে সৌদি প্রবাসী।
পুলিশ সূত্র জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার স্বল্প মহেড়া গ্রামে আরজু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। আরজু মিয়ার বসত ঘরে তল্লাসী চালিয়ে ইতালির তৈরি দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, চার রাউন্ড তাজা গুলি, একটি রাম দা, কয়েকটি চাকু, কয়েকটি ছুরি, দুটি চাপাতি, তিনটি টর্চ লাইট, এন্টি কাটার, দুটি প্লাস, কয়েকটি স্কুড্রাইভার, মোবাইল ফোন, স্টিল টেপসহ বিপুল সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করে। এসময় আরজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মির্জাপুর থানার মিডিয়া কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, আরজু মিয়ার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে ।
মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে আরজু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল সংখ্যক দেশে তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশ, আরজু মিয়া চাকরি নিয়ে গত তিন বছর আগে সৌদি পারি জমান। গত (৭ ফেব্রুয়ারি) ছুটিতে দেশে আসেন। এর আগে তিনি দক্ষিন কোরিয়ায় ১০ বছর চাকরি করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাকিব হোসেন (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১ টার দিকে রাকিবের বসত ঘরের আড়া থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
সে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জগৎপুরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন টোকার ছেলে ।রাকিব স্থানীয় নিকলা দড়িপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পরিবার ও রাকিবের ভগ্নিপতি আসলাম জানান, রবিবার বিকেলে রাকিবের বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শেষে বাড়ি এসে ইফতার করে। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বের হয়। রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে আসে। পরে রাত ১টার দিকে বন্ধুদের ফোন করে বলে, ‘তোরা আমাকে আর পাবি না।’
বন্ধুরা ‘আত্মহত্যার’ আশঙ্কা টের পেয়ে রাকিবের বাড়ি গিয়ে তার ভাবিকে জানায়। তখন দ্রুত তার বসত ঘরের দরজায় ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে বন্ধুরা দরজা ভেঙে ফেলে। ঘরে প্রবেশ করে দেখে রাকিব ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে আড়া থেকে রাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ নামায় তার পরিবার।
রাকিবের বন্ধু আতিক, জুয়েল, হিরা ও রানা জানায়, রবিবার বিকেলে আমরা নঈম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে একসঙ্গে ক্রিকেট খেলি। খেলা শেষে ইফতারের আগে সবাই বাড়ি ফিরে যাই। এরপর কেন এমন হলো আমরা বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গোপালপুর থানার পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত স্কুল ছাত্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জেলা অটোরিক্সা-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়া হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সদর রোডের টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন উল্লাস, নিহত জুলহাস মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে জুলিয়া আক্তার, বোন রেজিয়া বেগম ও ভাগিনা সবুজ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা- ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়াকে বাসাইল পৌর এলাকার কুমারজানীতে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
বক্তারা আরো বলেন, অবিলম্বে অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি। এছাড়াও জনস্বার্থে রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শ্বাশুড়ির সামনেই স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী। রবিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম সুমিতা (৩৮)। তিনি জেলার মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহত সুমিতার স্বামী মিনজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে সুমিতা’র সঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামের মৃত আজগর মিয়ার ছেলে মিনজু মিয়ার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি মিনজু মিয়া শ্বশুড় বাড়ির ওয়ারিশ সম্পত্তি এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিণ্যের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন স্বামী মিনজু মিয়া।
পরে সুমিতা বোনের বাড়ি পাশের উপজেলা মির্জাপুরের মহেড়া গ্রামে আশ্রয় নেন। শনিবার(৮ এপ্রিল) কৌশলে ভগ্নীপতি আমির হোসেনের মাধ্যমে মোবাইলে স্ত্রীকে বাড়িতে আসতে বলে মিনজু। সরল বিশ্বাসে সুমিতা তার বোন ববিতা ও তার মা হালিমাকে সাথে নিয়ে শনিবার স্বামীর বাড়ি আসে।
রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামী মিনজু মিয়া গাছ কাটায় ব্যবহৃত রডের তৈরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কোপাতে থাকে স্ত্রী সুমিতাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় বাঁধা দিলে মা হালিমা ও বোন ববিতা আহত হন।
সুমিতার মা হালিমা বেগম জানান, মেয়েকে তার সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মেয়ের চিৎকারে স্থানীয় কেউ এগিয়ে আসেনি। ওয়ারিশের সামান্য কিছু টাকার জন্য তাদের তিন জনকেই হত্যা করতে চেয়েছিল মিনজু মিয়া।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীনভাবে ‘কাপ দই’সহ বিভিন্ন ধরণের বেকারি পণ্য সামগ্রী তৈরির অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
রবিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার হরিপুর এলাকায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ভেজাল বিরোধী তদারকিমূলক এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
এ বিষয়ে শিকদার শাহীনুর আলম জানান, অনুমোদনহীনভাবে বেকারী সামগ্রী তৈরি, মোড়কে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ ও মূল্য না দেওয়ার অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে মাইকিং করে প্রচারণা, লিফলেট ও প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ভূঞাপুর সচেতন নারী সমাজ। মিছিলে প্রায় ৪ শতাধিক নারী অংশ নেয়।
শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে সচেতন নারী সমাজের উদ্যোগে ভূঞাপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনির নামে নানা ধরণের স্লোগানসহ ফাঁসি দাবি জানান তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন রেখা খাতুন ও সূচি বেগম।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে অন্ত:সত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্ত করে তার ফাঁসি দাবি করছি। যদি তাদের ফাঁসি না দেওয়া হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত বুধবার ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী। বৃহস্পতিবার ৬ এপ্রিল বিকালে ওই কিশোরী আদালতে দন্ডবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী এমপি’র বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ায় জেলার রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অটো ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ঈমান আলী (৩৮) নামে এক অটোচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে।
শুক্রবার(৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পোড়াবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে খাগড়াটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত ঈমান আলী উপজেলার দড়িচৈথট্র গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে পেশায় একজন অটোচালক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা)।
সে শুক্রবার রাতে উপজেলার গারোবাজার থেকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। ফেরার পথে রাত অনুমান ১০টার সময় অটোরিকশা নিয়ে পোড়াবাড়ি-গারোবাজার সড়কের খাগড়াটা এলাকায় পৌঁছলে ছিনতাইকারীরা সড়ক অবরোধ করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় অটোচালক ঈমান আলী বাধা দেয়। তখন ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমান আলীর গলায় আঘাত করলে তার শ্বাসনালি কেটে যায়। সে আহত অবস্থায়ই অটোরিকশা চালিয়ে লোকালয়ে চলে আসে ও চিৎকার দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গেলে ছিনতাইকারীদল পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঈমান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।