আরমান কবীরঃ কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গোপন তৎপরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা ও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূণরায় পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা মেনে নিতে না পেরে একটি চিহ্নিত মহল তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্তরসূরি। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারেক রহমান ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বরদাশত করা হবে না।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার’ স্বৈরাচার আর রাজাকার, মিলেমিশে একাকার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেবো রক্ত’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব এম এ বাতেন, যুগ্ম-আহবায়ক রাকিবুল ইসলামসহ ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা।
আরমান কবীরঃ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম রূপকার ও স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সোমবার (১৪ জুলাই) দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ কলেজের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল- কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজে স্থাপিত শাজাহান সিরাজের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণ সভা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ইত্যাদি।
আলোচনা সভায় কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল হক বুলবুলের সভাপতিত্বে অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক মাইন উদ্দিন মিয়া ও শিক্ষক প্রতিনিধি রশিদুল ইসলাম রতনসহ কলেজের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।
এ উপলক্ষে ঢাকা ও তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, শাজাহান সিরাজ ৬৬-এর ছয় দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে নতুন রাজনৈতিক দল জাসদ (সিরাজ) গঠন করেন এবং পরে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জাসদ বিলুপ্ত করে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন।
তিনি জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শাজাহান সিরাজ ১৯৯১ সালে বিএনপির শাসনামলে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক তারেক শামস খান হিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নাগরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তারেক শামস খান হিমু নাগরপুর উপজেলার তেবারিয়া গ্রামের মৃত হুমায়ন খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার নামে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকার পর সোমবার ভোরে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নাগরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি দল তাকে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, নাগরপুর থানা পুলিশ সোমবার বেলা ৩টার দিকে তারেক শামস হিমুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েক লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে এই বর্ষায় এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।
টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল অংশে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের আওতায় ২৪.৬৫০ কি.মি. অংশে রিজিড প্রেভমেন্ট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ। এতে টাঙ্গাইল অংশে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ২শত ৯৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা।
প্রকল্পের কাজ পায় আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ও এনডিই নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন ৫টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় প্যাকেজ ১ ও প্যাকেজ ২ এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ৫ এর অন্তর্ভুক্ত ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুটি প্যাকেজ ৩ ও ৪ এ কাজ করছে এনডিই নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরমধ্যে আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ১ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ৮.৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
প্যাকেজ ২ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২৯.৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
প্যাকেজ ৫-এর ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ২.২১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সময় বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে কোন আবেদন জমা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল-র্যাব-আরসি।
তবে এনডিই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২টি প্যাকেজর মধ্যে একটির ৩-এর ৯২ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বাকি প্যাকেজ ৪-এর ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
এই নির্মানাধীন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের এমন অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই যাওয়ার উপায় নেই। না যায় হাটা না চালানো যায় রিকশা। যে টাকা আয় করি তার বেশিরভাগই রিকশা মেরামত করতেই খরচ হয়ে যায় ।
মোটরসাইকেল আরোহী ইকবাল কবীর বলেন, উন্নয়নের নামে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। কষ্ট লাঘবের জন্য সড়কের উন্নয়ন অথচ কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। লাভ হলো কি?
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তো নাই। তাহলে ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।
আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে যে সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করে তাদের অপারগতায় দীর্ঘদিন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আমরা উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণের সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে বলে আশা করছি। রাস্তার কাজ শেষ করতে ব্যাংক জটিলতা দেখা দিয়েছে। একারনে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি আমাদের প্রতিষ্ঠান খুবশীঘ্রই ব্যাংক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে । তাছাড়া নকশায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত জমির মালিকগণ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বিলম্ব করা ও জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করায় কাজের গতি ধীর হয়েছে। তবে শীঘ্রই এইসব সমস্যা সমাধান পূর্বক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ (প্যাকেজ ১, প্যাকেজ ২ ও প্যাকেজ ৫) গাফিলতির কারনে গত কয়েক মাস যাবত কাজটি শেষ করার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক তাগিদ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহাদয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। তবুও কাজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের চুক্তির সাথে নিরাপত্তা জামানতের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিরাপত্তা জামানত দাখিল না করায় সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়কে গত ৫ জানুয়ারী এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, গত বছরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদেরকে গত ৪ মার্চ সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইল, ১০ মার্চ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় ও পিপিআর ২০০৮ মোতাবেক চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৩ জুন স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ওই সড়কের বিষয়ে সচিব মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনেশন করা হবে। পরবর্তীতে তাদের লাইন্সেস হ্যাম্পার করা হবে।
আরমান কবীরঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমাদেরকে বিনির্মাণ করতে হবে একটি গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পূর্ব শর্ত হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। তাই জাতীয়তাবাদী দলকে বিজয়ী করতে আমাদেরকে দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের ভালোবাসা অর্জন ও মনকে জয় করে দলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নিজেদেরকে নিবেদিত করতে হবে।
এসময় তিনি নিজেকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান খান রন্টু, জেলা ছাত্র দলের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান খান, জেলা ছাত্র দলের সাবেক নেতা এনামুল হক স্বাধীন, শ্রমিকদল নেতা বাবুল সরকার, জাকসুর সাবেক এজিএস মোকলেছুর রহমান বাদল, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুজ্জামান টুটুলসহ বিভিন্ন পযার্য়ের নেতাকর্মীগণ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সংসদের (এসডিএস) তিন শতাধিক গ্রাহককে প্রায় দুই যুগ পর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল শিশু একাডেমির মিলনায়তনে নাজমুল এগ্রোফিসারিজ অ্যান্ড ডেইরী ফার্মের উদ্যোগে গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ঈদের আগেও অর্ধশতাধিক গ্রাহকের মাঝে ৩০ লক্ষাধিক টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
টাকা ফেরত পাওয়া মো. ওবায়দুল্ল্যাহ বলেন, ৫০ হাজার টাকা খুব কষ্ট করে জমিয়েছিলাম। টাকা গুলো ফেরত পেয়ে খুবই উপকার হলো। টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনার কাজে ব্যয় করতে পারবো।
মনোয়ারা বেগম বলেন, এই কষ্টের টাকা ফেরত পাবো তা কল্পনাও করিনি। প্রায় ২৫ বছর পর টাকা গুলো ফেরত পেয়ে খুব ভাল লাগছে।
এসডিএস গ্রাহক কমিটির সভাপতি সালাম চাকলাদার বলেন, গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে আমরা দীর্ঘদিন আইনী লড়াই করেছি। যাদের ডকুমেন্ট আছে, তাদেরই টাকা দেওয়া হচ্ছে।
এসডিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা বলেন, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। যাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে, তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদেরই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম সারাদেশেই ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) ইয়াসির আরাফাত, সরকারি কৌশলী শফিকুল ইসলাম রিপন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ, এসডিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা , কাতুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান সম্মুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আরও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৯জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা হলো, সহকারী উপ-পরিদর্শক শামীম আল আজাদ।
বরখাস্তকৃত এই ৪জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তারা ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সালেহা বেগমের বাড়িতে অভিযানে গিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করেছেন তারা।
উপ-পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালেহা বেগম তার অভিযোগে বলেছেন, কর্মকর্তারা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য না পেয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি তাদের ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। সে সময় তারা ঘরে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান।
টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) হোস্টেলে এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
বুধবার (৯ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ম্যাটসের হোস্টেল থেকে এই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।
নিহত ছাত্রীর নাম নিশাদ সাদিয়া তুন্না (২১)। সে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলকুমার গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। নিশাত টাঙ্গাইল ম্যাটসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল ম্যাটসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. সানজিদা আক্তার জানান, নিশাত ও তার এক সহপাঠী হোস্টেলের একটি রুমে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি অন্য রুমে একা থাকার জন্য চলে যান। বুধবার সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সে ম্যাটসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ভূমি অফিস অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দিনের পর দিন হয়রানির সাথে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
অভিযোগের তীর বর্তমান উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হকের দিকে। তিনি যোগদানের পর থেকেই গোড়াই ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানিয়েছেন, পদে পদে বাড়তি টাকা না দিলে কোনো সেবাই মিলছে না এই ভূমি অফিসে।
জমি খারিজ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দিনের পর দিন হয়রানির সাথে রয়েছে নানা ভোগান্তি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে জমি খারিজ পাওয়ার বিধান থাকলেও এখানে ৫ থেকে ৬ মাস ধরে নানা অজুহাতে আটকে রাখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছ থেকে এভাবেই অবৈধভাবে টাকা নিয়ে জমির খাজনা খারিজ করছেন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল হক। কেউ টাকা দিতে না পারলে জমি খারিজের কাগজপত্র নেন না তিনি। এমনই এক ভুক্তভোগী গোড়াই মমিন নগর এলাকার আব্দুস সাত্তার।
তিনি গত মে মাসে গোড়াই মৌজার ৬৫ শতক জমি খারিজ করতে গিয়েছিলেন ভূমি অফিসে। তার ১৩ শতক জমি অন্য দাগে থাকায় উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেই জমি খারিজ করতে তাকে ৬ দিন ঘুরিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় খারিজের আবেদন নেননি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।
এছাড়া গোড়াই এলাকার মো. সৌরভ হোসেন ১৮২ গোড়াই মৌজার ৬০৯২ দাগের ০.১৩০০ একর জমির নামজারি করার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার আওয়াল সরজমিন পরিদর্শন করে জমির শ্রেণী গড়মিল দেখতে পান। পরে সেই জমি এক লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করে দেন এসিল্যান্ড নিজেই এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।
গোড়াই গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল মালেক জানান, তার ছোট ভাই রাজ্জাকের কাছ থেকে ১৮ শতক জমি খারিজের বিপরীতে এই নায়েব তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিসের জন্য নিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতকিছু আপনার জানার প্রয়োজন নেই।
দালাল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খাজনা খারিজের নয়-ছয় খেলায় অফিসের এই কর্মকর্তা ২ থেকে ৩ জন বহিরাগত দিয়েও টাকা লেনদেন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা তার কাজ বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে গোড়াই ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, জমির শ্রেণী গড়মিল কোন বিষয় নয়। আইন মোতাবেক এটি নামজারি না হলেও এসিল্যান্ড স্যার ইচ্ছে করলে এটি করে দিতে পারে। তবে এ নিয়ে কোন সংবাদ না করাটাই ভালো। তবে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়নি তিনি অস্বীকার করেন।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সার্বিক সহযোগিতায় সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিনব্যাপী সদর উপজেলার খাদিজা আবু বক্কর উচ্চ বিদ্যালয় ও সুবর্ণতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ উপহার দিতে হলে আমাদের সবাইকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে হবে।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, ছিলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত কর্মকর্তারা হলেন, পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তারা সাবেক কাউন্সিলর সালেহা বেগমের বাড়িতে অভিযানে গিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করেছেন।
উপ-পরিচালক আবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালেহা বেগম তার অভিযোগে বলেছেন, কর্মকর্তারা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য না পেয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি তাদের ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। সে সময় তারা ঘরে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার গুম-খুন করে বিদায় হয়েছে। তাদেরকে জনগণ আর বাংলার মাটিতে দেখতে চায় না। বিএনপি যখন যে ওয়াদা করে আল্লাহর রহমতে সে ওয়াদা পূরণ করেছে।
রবিবার (৬ জুলাই) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ও বাঘিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ৩১ দফা জাতির সামনে ইতোমধ্যেই উপস্থাপন করেছেন। সেই ৩১ দফাতে প্রত্যেক এলাকাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা চিন্তা করেছেন। বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়, তাহলে প্রতিটি এলাকাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য সৈয়দ শহিদুল আলম টিটু, জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।