আরমান কবীরঃ স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার চাঁদাবাজ অসংখ্য রাঘব-বোয়ালরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও দেশে নব্য চাঁদাবাজদের আধিপত্য বেড়ে গেছে। এসব চাঁদাবাজদের কারণে ব্যবসায়ীরা ভালোভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিন পার করছে। এই নব্য চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে না পারলে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। গণঅধিকার পরিষদ আগামীতে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিবে। সে লক্ষে গণঅধিকার পরিষদ পাড়া-মহল্লায় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও দলটির দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান।
শাকিল উজ্জামান বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও কারাগারে থাকা অবস্থায় রিমান্ড শেষে বলেছিল— আওয়ামী লীগের ৯০% পড়ে গেছে আর ১০% ধাক্কা দেন। আপনারাই সেই ১০% ধাক্কা দিয়েছিলেন। বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে এক আপোষহীন চরিত্রের নাম নুরুল হক নুরু। এই নুর কোন সময়ে আপোষ করে নাই, ভবিষ্যতেও আপোষ করবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর শহরের বাজার এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের ২১ দফা ঘোষণাপত্র দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে শাকিল উজ্জামান বলেন, গণঅধিকার পরিষদের গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে চাঁদাবাজ, দূর্নীতিবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা ছাত্র, শ্রমিক জনতাকে সাথে নিয়ে গণআন্দোলন শুরু করছি। যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখার জন্য গণঅধিকার পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—টাঙ্গাইল জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি রুবেল খান, শামছুল হক সুজন, জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক এসএম সিহাব, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি সজিব, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নসিম উদ্দিন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নবাব আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি সজিব, সহ-সভাপতি রেজাউল হান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক রনি প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আপত্তিকর অবস্থায় পরকীয়া প্রেমিকসহ মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী রেহানা পারভীন (৩৮) জনতার হাতে আটক হয়েছেন। বর্তমানে তার প্রেমিকসহ তিনি ভূঞাপুর থানা হেফাজতে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ভূঞাপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক আওয়ামী লীগ নেত্রী রেহানা পারভীন উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি পলশিয়া গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী এবং তার পরকীয়া প্রেমিকের নাম বাবলু মিয়া (৪৫)।
বাবলু একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। বাবলু মিয়া ৪ ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের বাবা এবং রেহেনা পারভীন ৩ সন্তানের মা। গত বুধবার রাতে উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামে ওই নারী নেত্রী রেহানার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিকরাইল ইউনিয়ন নারী নেত্রী রেহানা পারভীন এবং বাবলুর মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। প্রায়ই বাবলু রেহানার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো।
বুধবার রাতে রেহানার বাড়িতে তারা একত্রিত হলে, অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের আটক করে। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে তাদের মারধরও করেন। পরে খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রেহেনা পারভীনের ছেলে আব্দুল্লাহ জানায়, বাবলু মিয়ার সাথে তাদের পারিবারিক এবং ধারদেনা সম্পর্ক রয়েছে। এর বাইরে কোনো সম্পর্ক নেই, এটি ষড়যন্ত্র।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজের (ভিএফসি) ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) রাতে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভিএফসির চেয়ারম্যান ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সিনিয়র- যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ হাসান মালা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই ফুটবল টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণকারী সকল দলের জার্সি উন্মোচন করা হয়। একই সাথে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
পরে বিবেকানন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী, টাঙ্গাইল ক্লাব রোড ব্যান্ড ও জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ সঙ্গীত পরিবেশন করে।
এই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে পৌর উদ্যানকে মুখরিত করে তোলে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ম্যুরাল ভেঙে এক ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ জুন ) বিকেলে উপজেলার পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদিয়া আক্তার (১১) ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে পাটজাগ গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। পুলিশ মঙ্গলবার (১০ জুন ) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা জালাল উদ্দিনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় চত্বরে ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ঈদের সাত দিন আগে নির্মাণকাজ শুরু হয়। সোমবার বিকেলে সাদিয়া, আমেনা ও নেহা ওই স্কুল মাঠে খেলছিল। সন্ধ্যার আগে ওই তিনজন নির্মাণাধীন স্থাপনার ওপর ওঠে। একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়লে সাদিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আমেনা ও নেহা সামান্য আহত হয়।
পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের মঙ্গলবার সকালে বলেন, এটা নিছক একটি দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় আমরা মর্মহত।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভুঞা বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া এলাকার যৌনপল্লিতে বাসনা আক্তার (১৯) নামে এক যৌনকর্মীর রহস্য জনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে যৌনকর্মীদের অভিযোগ বাসনা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার কথিত প্রেমিক মাসুদ।
তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটির বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, বাসনা আক্তারের মা-বাবা নেই। ছোটবেলা থেকেই শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লিতে বড় হয়েছে সে। পরে সেখানেই যৌনকর্মী হিসেবে যোগ দেন তিনি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চর খিদিরপুর গ্রামের মৃত মোঃ লাল মিয়ার ছেলে মাসুদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বাসনা। মাসুদ পেশায় একজন রিকশাচালক।
ঘটনা প্রসঙ্গে কর্মরত যৌনকর্মীরা জানায়, প্রতিনিয়তই বাসনার ঘরে যাতায়াত করতেন মাসুদ। তাদের মধ্যে প্রায় সব সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। মঙ্গলবার দুপুরে মাসুদকে বাসনা কয়েকবার ফোন দিয়ে আসতে বলেন। বারবার ফোন দেওয়ার ফলে মাসুদ সেখানে আসতে বাধ্য হয়। পতিতালয়ের পাশেই বিক্রি হয় রেক্টিফাইড স্পিরিট। সেই দোকান থেকে মাসুদ রেক্টিফাইড স্পিরিট নিয়ে আসেন। তারপর তারা বেশ কিছুক্ষণ বাসনার ঘরে অবস্থান করেন। কিছুক্ষণ পরে মাসুদ ডাক চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের যৌনকর্মীরা বাসনার ঘরের কাছে ছুটে আসেন। তারা এসে বাসনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা মাসুদকে ঘরের বাহিরে এনে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। ঘরের মালিক টাঙ্গাইল সদর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত মাসুদকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তানবীর আহাম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসনা আক্তারের কথিত প্রেমিক মাসুদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরমান কবীরঃ যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আযহা’র জেলার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭জুন)সকাল আটটায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মুফতি সোলাইমান, নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যান কামনা ও বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়।
ঈদ জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলা-কুলি ও কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো: শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আব্দুল্যাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহবুব হাসান, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
এ ছাড়াও জেলার এই প্রধান ঈদ জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নানা শ্রেণী পেশার সহস্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত,টাঙ্গাইল জেলার এবার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৩২টি ঈদগাঁ মাঠে শনিবার (৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে কালিহাতী উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৪২টি এবং ধনবাড়ী উপজেলায় সর্বনিম্ন ১৬টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ হিসাবের বাইরেও গ্রাম-পাড়া-মহল্লার অনেক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার নাগবাড়ীতে বাসের ছাদ থেকে পড়ে আরও একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ইন্নিবাড়ী এলাকায় ট্রেনে ও উপজেলার নাগবাড়ী এলাকায় বাসের ছাদ থেকে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
বাসের ছাদ থেকে পড়ে নিহত যুবকের নাম রানা ইসলাম। সে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার দাড়িয়া কয়ড়াপাড়া গামের মোতালেবের ছেলে। রানা ইসলাম ঢাকা থেকে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন বলে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রেনের ছাদে ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি ফিরছিল। ট্রেনটি এলেঙ্গা পৌরসভার ইন্নিবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় ট্রেন থামেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
একই উপজেলার নাগবাড়ী এলাকায় পাবনাগামী বাসের ছাদ থেকে পড়ে রানা নামে এক যাত্রী মারা যায়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, বাসটি সখীপুর হয়ে কালিহাতী দিয়ে পাবনায় যাচ্ছিল। পথে সোহেল রানার শরীর খারাপ লাগলে বাসের ছাদে উঠে বসেন তিনি। সেখান থেকে পড়ে গিয়ে তিনি মারা যান।
তিনি আরও জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে যাচ্ছে। এতে বাসে বা ট্রেনে স্থান সংকুলন না হওয়ায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বাসের বা ট্রেনের ছাদে চড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
আরমান কবীরঃ আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদুল আজহা’। এই উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কোরবানীর পশু ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন হাটে হাটে দোড়ঝাপ শুরু করেছেন। অন্যদিকে, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বানাতে ও কিনতে ছুটছেন কামারের দোকান গুলোতে। তবে কামাররা জানান, এখনো আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না দোকান গুলোতে।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের কামারের দোকান গুলো ঘুরে দেখা যায়, দা, বটি, চাপাতি, ছুরি, দেশি কুড়াল,চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন কামাররা।
ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও জমে উঠেনি আগের মতো কামারিদের দোকানগুলো। কামার শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২’শ থেকে ৩’শ টাকা, দা ৬’শ থেকে ৯’শ টাকা, বটি ৯’শ থেকে হাজারেরও উপরে, পশু জবাই ছুরি ৮’শ থেকে দেড় হাজার টাকা, চাইনিজ কুড়াল ৮’শ, দেশিও কুড়াল ৬’শ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা।
তাদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, তাদের সকলেরই পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া এ পেশা। তাই তারা ঐতিহ্য হিসাবে ধরে রাখছেন এ পেশাকে।
কামার সত্যরঞ্জন দাস ও উদয় সরকারের সাথে কথা হয়। তাঁরা ৪০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত।
তারা জানান, আগের মত আর তেমন কাজ নেই। এখন আমাদের এ পেশায় নুন আনতে পানতা ফুরানোর মত অবস্থা। সারা বছর কাজ না থাকায় মুসলমানদের ধর্মীয় এ উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। তাতে কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠা যায়। বাপ-দাদার পেশা, এ পেশাই জীবন বাঁচাই, ছাড়তেও পারি না। তারপরেও কয়লার দাম বেশী হওয়ায় আমাদের হিমশিম খেতে হয়। এর সাথে কাজ করা লোক ও এখন আর পাওয়া যায় না, পরিশ্রম বেশি তাই এ পেশা থেকে লোক সরে যাচ্ছে । আগে কয়লা ও লোহার দাম কম ছিল তাই খাটা খাটনি করে ভালো দাম পাওয়া যেত। এখন তেমন টা হয় না।
তারা আরও বলেন, বাপ দাদার পৈত্তিক এই পেশায় জীবন বাঁচানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সরকার। তাই পেটের দায়ে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই এখন অন্য পেশায় ঝুকছেন।
টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে কথা হয় জেলা সদর থেকে আসা ক্রেতা আব্দুর রহমানের সাথে তিনি জানান, গরু কোরবানীর জন্য দা, ছুরি ও চাপাতির অর্ডার দিয়েছি। ঈদ আসলে দাম একটু বাড়ে। তবুও আমাদের বানাতে হয়। কোরবানীর পশু কেনার যে সময় লাগে এখন তার চেয়ে বেশী সময় লাগে সরঞ্জামাদি বানাতে ।
তিনি আরও বলেন, তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম একটু কম বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া এবার কামারের দোকান গুলোতে ভীড়ও কম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৭৪টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি পশু। তবে জেলায় কত পরিবার কামার পেশার সাথে যুক্ত আছেন সে তথ্য জানাতে পারেননি সরকারের সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান দপ্তর।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা।
বুধবার (৪ জুন) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৭ হাজার ৫৬৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ টাকা।
অপরদিকে, ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৯০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮১ হাজার ৫০ টাকা।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ানকে আটক করেছে হযরত শাহজাহাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ জুন ) সকালে থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দরে তাকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত হেলাল দেওয়ান বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ৪ আগষ্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচী চলছিল। ওই সময়ে দুস্কৃতিকারীরা হাইওয়ে থানায় হামলা করে। এসময় পুলিশের গুলিতে গোড়াই লালবাড়ি এলাকার কিশোর হিমেলের দুচোখ অন্ধ হয়ে যায় । ওই ঘটনায় হিমেলের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলার বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান তালিকাভুক্ত আসামী। ওই মামলার আসামী হিসেবে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ানকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হিমেলের মায়ের করা মামলার তিনি তালিকাভুক্ত আসামী। তাকে বিমান বন্দর থেকে আনতে মির্জাপুর থানা পুলিশ রওনা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জর্ডান প্রবাসীর মাইক্রোবাসে ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতাসহ পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (২ জুন) ঢাকার সাভার এবং মিরপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া চারটি মোবাইল, নগদ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, বারিশালের ইউসুব জমাদ্দারের ছেলে মোঃ আব্দুল হাকিম, মোঃ আমির হোসেনের ছেলে সোহাগ, মোঃ আসাদ আলীর ছেলে রোমান, সুবহান সিকদারের ছেলে মিলন সিকদার এবং ইয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে মোঃ আরিফ হোসেন।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান তার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য ,গত ৩১ মে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া বাইপাস এলাকায় জর্ডান প্রবাসী এক নারীর মাইক্রোবাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় মহাসড়কে থাকা টহলপুলিশ বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস রেখে পালিয়ে যায়। এসময় ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে পুলিশের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর ওই নারীর ছোট বোন বাদি হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির (কাদের) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে শহরের ছয়আনী বাজার রোডস্থ পার্টি কার্যালয়ে জেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান যুবরাজ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, জাতীয় মহিলা পার্টি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মনোয়ারা খন্দকার প্রমুখ।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সলিমুল্লাহ খান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলার ঘটনাটি কাপুরুষিত ঘটনা। অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।অন্যথায় এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির উদ্যোগে সেটা কঠোরভাবে পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করা হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। এই আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে। তারপরও জাতীয় পার্টিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও উপজেলা কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।