/ হোম / আমাদের টাঙ্গাইল
জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ফ্যাসিবাদ আবার সুযোগ নিবে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু - Ekotar Kantho

জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ফ্যাসিবাদ আবার সুযোগ নিবে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আরমান কবীরঃ বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ফ্যাসিবাদ আবার সুযোগ নিবে। গত বর্ধিত সভায় তারেক রহমান বলেছিলেন, সুদৃঢ় ঐক্যই রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র। আজকে নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কারণে ১৪, ১৮ ও ২৪ সালে দেশের জনগণ ভোট দিতে পারেনি। কারণ তারা ভোটকে ভয় পাইতো, জনগণের শক্তিকে ভয় পাইতো। এই মুহুর্তে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন চায়। নির্বাচন নিয়েও ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহর ও থানা বিএনপি’র উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র জনতার বিজয়ের বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বিপক্ষে যখন যে গেছে, তার পরিস্থিতি ভাল হয়নি। এরশাদ জনগণের ভোটকে লুণ্ঠন করেছিল, এরশাদ টিকতে পারেনি। খুনি শেখ হাসিনা জনগণের ভোট কেড়ে নিয়েছিল। ফ্যাসিবাদ উপাধি পেয়ে জনগণ থেকে ধিকৃত হয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে।

টুকু আরও বলেন, যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগণ আবার গর্জে উঠবে। আর তালবাহানা না করে জনগণের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন , জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।

পরে শহিদ মিনার থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অগাস্ট ২০২৫ ০২:১৪:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সম্মিলনের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই সম্মিলনে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আল-আমিন, সদস্য সচিব আবু আহমেদ শেরশাহ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি সহ আহত ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা।

আলোচনার এক পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জুলাই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এসময় জেলার জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও শহর বিএনপি’র আয়োজনে বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।

সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আজগর আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ।

এরআগে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলা ও শহর বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নেতাকর্মী অংশ নেয়।

দিনটি উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।

এদিন ‎ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গলবার দুপুর দেড় টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিকাল সাড়ে ৫টায় মুক্তমঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত, কবিতা ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে গণআন্দোলনের চেতনা তুলে ধরেন।

‎‎কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অগাস্ট ২০২৫ ০১:০৮:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতাদের নামে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতাদের নামে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে বিএনপি’র তিন নেতার নামে ‘মিথ্যা মামলা’ ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহত্তর সন্তোষের প্রতিবাদী ও শান্তিকামী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মনিরুজ্জামান, মাছুম আহমেদ, গফুর সিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জুবায়ের হোসেন, গোলাম রাব্বানী ও শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছভাবে বিএনপি’র রাজনীতি করে আসছেন। শনিবার একটি চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি’র তিন নেতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্ত এ মামলাটি কাল্পনিক ও ভুয়া, যেভাবে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলের নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলা দেওয়া হতো। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী নজরুল ইসলাম প্রথমে গ্রেপ্তার দুইজনকে নির্যাতন করে বিএনপি’র তিনজনের নাম বলতে বাধ্য করান। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের খাবার দিতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের দাবি করছি। একই সঙ্গে তাদের মুক্তির দাবি করছি।

পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন।

উল্লেখ্য, ‘কিলার গ্যাং’ নামে একটি সংগঠনের প্যাডে এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পাঠানো চিঠির ঘটনায় বিএনপি’র ওই তিন নেতা সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে ও শনিবার (২ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল পৌরসভার সন্তোষ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জেলা বিএনপি গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. অগাস্ট ২০২৫ ০৩:০০:এএম ৯ মাস আগে
অতীতে জনগণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দিনেও নিবে: টুকু - Ekotar Kantho

অতীতে জনগণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দিনেও নিবে: টুকু

আরমান কবীরঃ বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আমরা সব সময় এক কথার মধ্যে রয়েছি। আমরা পিআর পদ্ধতি নয়, ওয়েজ ম্যানেজমেন্ট যে পদ্ধতি আমাদের গতানুগতিক যে পদ্ধতি রয়েছে, মানুষ যেটিতে অভস্ত, যে এলাকার নেতা, ওই এলাকার লোনজন তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এই সময় যারা নিয়মের ব্যত্যয়ের কথা বলে, তাদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একটি ষড়যন্ত্র রয়েছে, নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য। আমরা জনগণের উপরে বিশ্বাসী। অতীতে জনগণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দিনেও নিবে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে ‘আমাদের টাঙ্গাইল আয়োজিত’ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি-২০২৫ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার চায়। এদেশের মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি আমরা, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে। আমরা ক্ষমতায় যাবো এ কথা আমরা বলিনা, মানুষের ভোটের অধিকার আমরা ফেরত দিতে চাই। মানুষ তার প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। দেশের মানুষ হচ্ছে এই দেশের মালিক। জনগণ ঠিক করবে এই দেশ কে পরিচালনা করবে।

টুকু আরো বলেন, সবাই পিআর পদ্ধতি চায় না। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কমেন্টস শুনছেন আপনারা। সোসাল মিডিয়া যারা দেখছেন, তারা অনেকেই শুনবেন। পাকিস্তানে টি-টুয়েন্টি তিনটি ক্রিকেট ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে সিরিজ জয়লাভ করেছে। পাকিস্তান পরবর্তী ম্যাচে বেশি রান করেছে এবং রানের যোগফলে পাকিস্তান বেশি আছে। তার মানে কি সিরিজ পাকিস্তান জয়লাভ করলো। মানুষ এই কমেন্টস করে, ভোট দিলাম সন্দিপে, এমপি পেলাম মালদ্বীপে। তার মানে আপনি ভোট দিবেন টাঙ্গাইলে, এমপি পাবেন নোয়াখালীর, তাহলে কি হবে? টাঙ্গাইলের মানুষের সম্পর্কে টাঙ্গাইলের মানুষেরই জানতে হবে।

দ্যা ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার মির্জা শাকিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দ্যা প্রেসিডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জুলফিকার আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০৮:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে অবৈধ সীসা কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অবৈধ সীসা কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পুরাতন ব্যাটারি থেকে সীসা উৎপাদনকারী দু’টি অবৈধ কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল এলাকায় (এলসিন ব্রিজ সংলগ্ন) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন, নাগরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক।

অভিযানকালে একটি অবৈধ কারখানা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অপর একটি কারখানায় তালা ঝুলিয়ে সীলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর মো. মাসুদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্রব কুমার সূর্যসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক জানান, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০৪:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতিকে অব্যাহতি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতিকে অব্যাহতি

আরমান কবীরঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি আব্দুল আউয়ালকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) জিয়া পরিষদের মহাসচিব প্রফেসর এমতাজ হোসেন লিখিতভাবে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেন।

লিখিত চিঠিতে জিয়া পরিষদের মহাসচিব উল্লেখ করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দেয়া আব্দুল আউয়ালের বক্তব্যের ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যা বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং জিয়া পরিষদের নেতাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার এই বক্তব্যে বিএনপি এবং জিয়া পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই তাকে জিয়া পরিষদের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি পদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের ১নং সহ-সভাপতি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল হোসেন শিশির বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। আমি এখন পর্যন্ত চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানাতে পারব।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. অগাস্ট ২০২৫ ০১:৫৬:এএম ৯ মাস আগে
মাওলানা ভাসানীরা না থাকলে শেখ মুজিব কখনো তৈরি হতো না : নাহিদ - Ekotar Kantho

মাওলানা ভাসানীরা না থাকলে শেখ মুজিব কখনো তৈরি হতো না : নাহিদ

আরমান কবীরঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা মওলানা ভাসানীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই। কারণ তাকে ইতিহাসে স্মরণ করা হয় না। ভাসানীর মতো মহান রাজনৈতিক পুরুষ, বাংলাদেশের স্থপতি থাকা সত্ত্বেও শুধু একজনকে জাতির পিতা ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৫৪ বছরে একজন ব্যক্তিকে পূজা করা হয়েছে। কিন্ত ভাসানীরা না থাকলে শেখ মুজিব কখনো তৈরি হতে পারতেন না।

মঙ্গলবার(২৯ জুলাই )দুপুর দেড়টায় টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই টাঙ্গাইলের প্রতিটি ইঞ্চি সংগ্রামের সাক্ষী। কৃষকের ঘামে গড়া এই টাঙ্গাইলেই মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে বহু ঐতিহাসিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ভাসানী শুধু বাংলাদেশের নয়, উপমহাদেশের অনন্য এক রাজনৈতিক পুরুষ। আসামের বাঙালি মুসলমান কৃষকদের জমির অধিকার আদায়ে তাঁর সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, তৃণমূল রাজনীতির পথিকৃৎ।”

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “ভাসানীই প্রথম বুঝেছিলেন পাকিস্তানের সঙ্গে এক ছাদের নিচে বাঙালির টিকে থাকা অসম্ভব। কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বিদায়ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন।”

ভাসানীর অবদান স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তাঁকে ইতিহাসে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। শেরে বাংলা ফজলুল হক এবং মওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের বাদ দিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। অথচ শেখ মুজিবুর রহমানও ভাসানীর রাজনৈতিক ধারার উত্তরসূরি।”

তিনি বলেন, “১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেপথ্য কারিগর ছিলেন মওলানা ভাসানী। আমরা তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দেশের সামনে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চাই।”

তিনি বলেন, এই টাঙ্গাইলের প্রতিটি ইঞ্চি সংগ্রামের সাক্ষী দেয়। কৃষকের ঘামে গড়া এই টাঙ্গাইল আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। টাঙ্গাইল আসলেই প্রথম যার কথাটি বলতে হয় তিনি হলেন মেহনতি ও গণমানুষের নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো উপমহাদেশের একজন অনন্য রাজনৈতিক পুরুষ ছিলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী,

উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আজাদ খান ভাসানী, টাঙ্গাইল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেলসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

এই পথ সভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গাজীপুর জেলার উদ্দেশ্য টাঙ্গাইল ত্যাগ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. জুলাই ২০২৫ ০১:৩১:এএম ৯ মাস আগে
মাওলানা ভাসানীর আদর্শেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই: নাহিদ ইসলাম - Ekotar Kantho

মাওলানা ভাসানীর আদর্শেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই: নাহিদ ইসলাম

আরমান কবীরঃ মাওলানা ভাসানীর পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী যে মেহনতি মানুষের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, এনসিপি সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে জুলাই পদযাত্রায় টাঙ্গাইলে এসে সন্তোষে মাওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী ছিলেন কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যিনি একইসঙ্গে পিণ্ডি ও দিল্লীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।’

মাওলানা ভাসানী ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের কারিগর ছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী যে মেহনতি মানুষের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, এনসিপি সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই দায়িত্বের রাজনীতি নিয়েই মাওলানা ভাসানীর পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আজাদ খান ভাসানী, টাঙ্গাইল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেলসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পদযাত্রাকে সফল করতে এরমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নাগরিক পার্টির নেতারা। মাজার জিয়ারত শেষে তারা রাতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়কদের পদচারণায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা সদরের শামসুল হক তোরণ থেকে পদযাত্রাটি শুরু হবে। পরে সেটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিরালামোড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. জুলাই ২০২৫ ০১:৩৯:এএম ৯ মাস আগে
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: টাঙ্গাইলের দুই শিক্ষার্থীর কবরে বিমানবাহিনীর শ্রদ্ধা - Ekotar Kantho

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: টাঙ্গাইলের দুই শিক্ষার্থীর কবরে বিমানবাহিনীর শ্রদ্ধা

আরমান কবীরঃ ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুরের মেহনাজ আফরিন হুমায়রা ও মির্জাপুরের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদের কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হতেয়া কেরানিপাড়া এলাকায় হুমায়রার কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানঘাটির উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় হুমায়রার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

পরে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরিবারের সদস্যরা সখীপুরের বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানবাহিনীর ঘাঁটিটি হুমায়রার নামে করার দাবি জানান।

এরপর মির্জাপুরের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদের কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিমানবাহিনী সব সময় দেশ ও জনগণের পাশে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, আহতদের সব ধরনের সহযোগিতার জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। নিহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

হুমায়রার পরিবারের পক্ষে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হুমায়রা অনেক মেধাবী ছিল। বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। সখীপুরের বিমান ঘাটিটি হুমায়রার নামে করার দাবি করছি।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. জুলাই ২০২৫ ০২:১০:এএম ৯ মাস আগে
যিনি প্রধানমন্ত্রী হোন তিনি তার পকেটে ক্ষমতা নিয়ে থাকেন: জোনায়েদ সাকি - Ekotar Kantho

যিনি প্রধানমন্ত্রী হোন তিনি তার পকেটে ক্ষমতা নিয়ে থাকেন: জোনায়েদ সাকি

আরমান কবীরঃ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারি জোনায়েদ সাকি বলেছেন,যিনি প্রধানমন্ত্রী হোন তার কাছে সব ক্ষমতা, আর সেই ক্ষমতা খাঁটিয়ে জনগণের প্রতি স্টিম রুলার চালিয়েছে।জনগণের সব অধিকার কেঁড়ে নিয়েছিলো।এছাড়া ভোটের অধিকারও কেঁড়ে নিয়েছিলো শেখ হাসিনা,এ জন্য ২০০৮ সালে তত্ববায়ধক সরকার গঠন করেছিলো কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে ২০১১ সালে বাতিল করে দেন।

রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল নিরালা মোড়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টাঙ্গাইল জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আয়োজনে জুলাই শহীদদের স্বরণে জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন,যদি আমরা একদম ফ্যাসিবাদ দূর করতে না পারি তাহলে এদেশ ঠিক হবেনা,গত ১৮ বছর যাবত দেশের মানুষ লড়াই করছে,বিগত সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাদের উপর অত্যাচার নিপিড়ন,গুম হত্যা সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেছে যার বর্ণনা দেওয়া যাবেনা। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো,জনগণ তখনো বুঝে উঠেনি কিন্তু এবার ২৪শে মানুষের স্ফুলিঙ্গ ফুটে উঠেছিলো। যার ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথি,গণসংহতি আন্দোলনের টাঙ্গাইল পৌর কমিটির সদস্য সচিব ফারজানা জেসমিন,জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বেগম প্রমূখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. জুলাই ২০২৫ ০৩:৪৪:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে মাইলস্টোনের নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতাকর্মীরা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাইলস্টোনের নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতাকর্মীরা

আরমান কবীরঃ উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে জেলার মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদ (১৪) এবং সখীপুর উপজেলায় হ‌তেয়া কেরা‌নিপাড়া গ্রামের হুমায়রের বাড়িতে গিয়ে তারা সমবেদনা জানান। পরে নিহতদের কবর জিয়ারত করা হয়।

এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু তানভীর এবং হুমাইয়ার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় নিহতের বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, গত ২১ তারিখ দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরদিন টাঙ্গাইলের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. জুলাই ২০২৫ ০২:৪৩:এএম ৯ মাস আগে
মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৩ কোটি টাকা - Ekotar Kantho

মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৩ কোটি টাকা

আরমান কবীরঃ আবহাওয়া অনুকূল আর যথাযথ পরিচর্যার কারণে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। আনারসের রাজ্যে ৩ জাতের আনারস আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে ক্যালেন্ডার জাতের আনারসে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।
মধুপুরের বাজারগুলোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আনারস বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জলছত্র কৃষি মার্কেট, গারোবাজার, মোটেরবাজারসহ অন্যান্য বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত তিন কোটি টাকার আনারস দেশের বিভিন্ন প্রন্তে নিয়ে যাচ্ছে কৃষক-ব্যবসায়িরা।

মধুপুরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, মধুপুরে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ক্যালেন্ডার জাতের ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, জলডুগি বা হানিকুইন ২ হাজার ৩৯২ হেক্টর এবং এমডি-টু ২৬ হেক্টরে আনারস আবাদ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের সংযোগস্থলে আনারসের জন্ম হলেও ১৫৪৮ সালে ভারত উপমহাদেশে আনারসের আগমন ঘটে। ১৯৪২ সালে বাংলাদেশের মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামের মিজি দয়াময়ী সাংমা মেঘালয় থেকে ৭৫০টি চারা এনে প্রথমে আনারস আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৭ কোটি আনারস চারা পাহাড়ী অঞ্চলে শোভা পাচ্ছে। শুধুমাত্র ক্যালেন্ডার জাতের প্রায় ১১ কোটি আনারস বাজারজাতের উপযোগি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫শ কোটি টাকার উপরে।

সূত্র জানায়, মধুপুরের ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে আনারস আবাদ হয়। পাহাড়ী ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়িরা আনারস আবাদ করে থাকেন। এদিকে প্রান্তিক চাষিরা ব্যয়বহুল আনারস আবাদ করতে না পেরে তাদের জমি লিজ দিয়ে থাকেন। ধনাঢ্যরা বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই বছরের জন্য লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, লিজ মানি, জমি প্রস্তুত করণ, সার-কীটনাশক, পিজিআর প্রয়োগ, রোপন ও সংগ্রহ করে বাজারজাত পর্যন্ত প্রতিটি আনারসে ব্যয় হয় ১৫-১৮ টাকা। যাদের নিজস্ব জমি এবং নিজে শ্রম দেন তাদে ব্যয় হয় ১০-১১ টাকা। বর্তমানে এই আনারস ছোটগুলো ১৩-১৭ টাকা, মাঝারি আনারস ২৫-৩৫ টাকা আর বড় আনারস ৩৫-৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রমাস পর্যন্ত এই আনারস সংগ্রহ ও বিপনণ চলবে।

উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার ফারুক আহমেদ জানান, কৃষকরা প্রতিদিন ভোরেই ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, ভ্যান ও সাইকেলসহ বিভিন্ন বাহনে জলছত্র, মোটেরবাজার, গারোবাজার, আশ্রাসহ বিভিন্ন বাজারে আনারস নিয়ে আসেন। এছাড়া বড় কৃষক বা আনারস ব্যবসায়িরা খেত থেকেই ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়ক বেয়ে কৃষকরা সাইকেল, অটোরিক্সা, সিএনজি ও ভ্যান রিক্সা দিয়ে বাজারে আনারস নিয়ে আসছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে সাড়িবদ্ধভাবে আনারস নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। অনেকেই আনারস কেনাবেচায় ব্যস্ত। কেউ কেউ আনারস কিনে স্তুপ করছেন। কেউবা উঠাচ্ছেন ট্রাকে। বিশাল কর্মযজ্ঞে কথা বলার সুযোগও তাদের কম।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আনারস ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। গোপিনাথপুরের লিটন সরকার ২৫ টাকা দরে, বেরীবাইদ গ্রামের রবিউল ৩৫ টাকা দরে, আশ্রা গ্রামের আশরাফ ৪০ টাকা দরে প্রতিটি আনারস বিক্রি করেছেন। এবার লাভের মুখ দেখায় তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠেছে।
খুলনার ব্যবসায়ি আব্দুল বারেক জানান, তিনি ৪০ টাকা দরে আনারস কিনেছেন। খুলনায় এই আনারসের ব্যাপক চাহিদা। তারমতো প্রায় সত্তুরের অধিক বেপারি মধুপুরের আনারস দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে থাকেন।
হবিগঞ্জের আনারস ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, মধুপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ঢাকা, কুষ্টিয়া, বগুড়া, সিলেট, নাটোর, রাজশাহী, খুলনা, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুরসহ সারা দেশেই আনারস সরবরাহ হয়। মধুপুরের আনারসের চাহিদা ও লাভ দুই বেশি।

জলছত্র ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মুন্সি জানান, জলছত্র কৃষি বাজারসহ গারোবাজার, আউশনারা, মহিষমারা, আশ্রা, মোটেরবাজার, শোলাকুড়ী, দোখলাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্পটে আনারস ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। বড় কৃষক বা বেপারিরা খেতের পাশেই ট্রাক ভর্তি করে আনারস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে থাকেন।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, মধুপুরের অর্থকরী ফসল আনারসের ঐতিহ্য ধরে রেখে উৎপাদন বাড়ানো গেলে অনেক সম্ভাবনার দাড় উম্মোচন হবে। আনারস বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্র অর্জনের পাশাপাশির জেম, জেলি, জুস উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার সুযোগ রয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার আনারসের আকার বড় হওয়ায় কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছে। প্রতিদিন বাজারগুলোতে প্রায় ৩ কোটি টাকার আনারস বিক্রি হচ্ছে। এই মৌসুমে মধুপুরে প্রায় ৭শ কোটি টাকার আনারস বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। আনারস বিদেশে রপ্তানি করা এবং আনারস দিয়ে জেম, জেলিসহ নানা উপকরণ তৈরি করে বিপণনের মাধ্যমে বৈদেশিক মূদ্র অর্জন সম্ভব। এ নিয়ে কৃষি বিভাগ ইতোমধেই কাজ শুরু করছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জুলাই ২০২৫ ০২:৫৯:এএম ৯ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।