/ হোম / আমাদের টাঙ্গাইল
শেষ রাতে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে পিটুনির শিকার যুবলীগ নেতা - Ekotar Kantho

শেষ রাতে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে পিটুনির শিকার যুবলীগ নেতা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে শেষ রাতে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েন মো. উজ্জল হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতা।শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে মেয়েটির পরিবারের বিরুদ্ধে।এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি উজ্জল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করছেন। এই ডিভিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

নির্যাতনের শিকার উজ্জল হোসেন ঘারিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।

ভুক্তভোগী উজ্জল হোসেন জানান, ‘সকালে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। এসময় আমাকে ধরে নিয়ে যান সাবেক শ্বশুর, চাচা শ্বশুরসহ চারজন।পরে তারা আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করছেন। মারধরের কারণে আমার বাম হাত ভেঙে গেছে। আমি বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি।’

এ বিষয়ে উজ্জল হোসেনের সাবেক স্ত্রী জানান, সকালে ফজরের নামাজের পর বাড়ির পাশে হৈ চৈ শুনতে পাই। পরে জানতে পারি উজ্জল হোসেনকে কে বা কারা মারধর করেছে। তাকে মারধরের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর হোসেন জানান, ছয় মাস আগে সাটুরিয়া গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে উজ্জল হোসেনের বিয়ে হয়। আড়াই মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সম্প্রতি উজ্জল ওই মেয়ের সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) শেষ রাতে মেয়েটির সঙ্গে উজ্জল হোসেন দেখা করতে যান। মেয়েটির বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে উজ্জলকে আটক করে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব জানান, ‘বিষয়টি জানার পর উজ্জল হোসেনকে যুবলীগের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া জানান, ভিডিওটি দেখার পর এক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অক্টোবর ২০২২ ০২:৩৬:এএম ৪ বছর আগে
ভিক্ষা করে মাদক সেবন ও দামী গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা - Ekotar Kantho

ভিক্ষা করে মাদক সেবন ও দামী গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ভারত যাওয়ার কথা বলে টাকা সংগ্রহের সময় তিন প্রতারক আটক হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আকুর টাকুর পাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের দক্ষিণ কলেজ পাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শারিরীক প্রতিবন্ধী আবু রায়হান, অপর দুই সহযোগি হলেন একই এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে মোঃ একরাম, আব্দুল জব্বারের ছেলে হোসেন আলী। প্রত্যেকেরই বয়স আঠারোর নিচে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, এক পাহীন রায়হানকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত এই তিনজন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মানুষের নিকট থেকে চিকিৎসার জন্য অর্থ সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকুর টাকুর পাড়া এলাকায় সিদ্দিকী কটেজে গিয়ে তারা শুক্রবার (২১ অক্টোবর) চিকিৎসার জন্য ভারত যাবেন বলে রাজনীতি বিদ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীকে জানান।

মুরাদ সিদ্দিকী তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তোমাদের পাসপোর্ট আর ভিসার কাগজ নিয়ে আসো। আমি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহযোগিতা দেবো। পরবর্তীতে তারা ইতস্ততা শুরু করেন। তাদের আচরণ সন্দেহ জনক হলে তিনি একরাম হোসেনকে রেখে বাকি দুইজনকে ভিসা এবং চিকিৎসার কাগজপত্র আনার জন্য পাঠিয়ে দেন।

কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে ভুল শিকার করেন মুরাদ সিদ্দিকীর কাছে। তারা নিজেরাই স্বীকার করেন, প্রতিনিয়ত তারা এভাবেই চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্নজনের নিকট থেকে সহানুভূতি নিয়ে থাকেন।

বিষয়টি থানায় অবহিত করলে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান নেশার টাকা যোগানোর জন্যই তারা মানুষের নিকট থেকে প্রতি নিয়ত অর্থ জোগাড় করেন।

ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার সৌরভ দত্ত বলেন চিকিৎসার কথা বলে টাকা তুলে মাদক সেবন ও দামী গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা।

টাঙ্গাইল শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার সৌরভ দত্ত বলেন, চিকিৎসার কথা বলে টাকা তুলে মাদক সেবন ও দামী গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতারকদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের ডাকা হয়েছে। এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২২ ০৭:১৬:পিএম ৪ বছর আগে
সেই  আ’লীগ নেতার টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভোটাররা! - Ekotar Kantho

সেই  আ’লীগ নেতার টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভোটাররা!

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাসাইলের পরাজিত সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিতরণকৃত টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভোটাররা।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটাররা নিজ উদ্যোগে ভোটের আগে গ্রহনকৃত টাকা ফেরত দিতে শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ফেরত পেয়েছেন। তিনি বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভোটের আগে বিতরণকৃত টাকা ফেরত চেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। মূহুর্তের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে তা ভাইরাল হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়। এরপর থেকে পরাজিত ওই প্রার্থীকে টাকা গ্রহনকারী ভোটাররা (জনপ্রতিনিধি) নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ড (বাসাইল) সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য উপজেলার ফুলকি ইউপির ৮ জন, হাবলা ইউপির ৫, পৌরসভার ৫, সদর ইউপির ১১, কাউলজানী ইউপির ৯, কাঞ্চনপুর ইউপির ৫ ও কাশিল ইউপির ৭ জনপ্রতিনিধিকে টাকা প্রদান করেন।

ওই পরাজিত প্রার্থী প্রত্যেক ভোটারকে (জনপ্রতিনিধি) ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেন। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হওয়ার পর বুধবার(১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাবলা, সদর, কাঞ্চনপুর, কাউলজানী ও ফুলকি ইউপির অন্তত ৭ জন ভোটার দুই লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে সকল ভোটাররা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে কেন টাকা বিতরণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, ভোটাররাই একা দেখা করার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করেছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাই তিনি ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছিলেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হওয়ার পর পর সকলেই নেওয়া টাকা ফেরত দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর উমর ফারুক জানান, নির্বাচনে ভোট কেনা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে হরণ করা। একজন মানুষের মানবিক সত্ত্বাকে হরণ করার সামিল। এক সময় যারা ভোট কিনতেন বা বিক্রি করতেন তারা এটা নিয়ে লজ্জাবোধ করতেন। এখন ওই মূল্য বোধগুলো অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। ভোট কেনা-বেচায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় নির্বাচন কেন্দ্রীক এমন অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ড (বাসাইল) মোট ভোটার ৯৪ জন। ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ৩ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ওই সদস্য পদে মো. নাছির খান ৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ হোসাইন খান পেয়েছেন ২১ ভোট, মিজানুর রহমান খান পেয়েছেন ১১ ভোট, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ ভোট ও আতিকুর রহমান কোন ভোটই পাননি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২২ ০৪:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
ঘাটাইলে আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ অভিষেক - Ekotar Kantho

ঘাটাইলে আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ অভিষেক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসে আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম কর্নেল কমান্ড্যান্টের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসে সামরিক রীতি মেনে এ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষ রোপণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, ডাইরেক্টর অব মেডিকেল সার্ভিসেস (আর্মি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২২ ০৪:২৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল বিএনপি’র অভ্যন্তরীন কোন্দল চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল বিএনপি’র অভ্যন্তরীন কোন্দল চরমে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বিএনপি অভ্যন্তরীন কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করছে। কোন্দলের কারণে জেলার অভ্যন্তরীন বিএনপির রাজনীতি এখন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

ফলে দলীয় কোন্দল এখন জেলা সদর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যন্ত।

দলের মধ্যে রেষারেষি আর বিভক্তি এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে যে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করছে দলটির নেতাকর্মীরা।কোন্দলের কারণে প্রায় কর্মসুচিতে সচরাচর অংশ নিতে দেখা যায়না অনেক নেতাকেই।

এই কোন্দলের আচঁর লেগেছে যুবদল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও। বিভক্তির শিকার এসব সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত থাকছেন।

যা তৃনমুল ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ নেতায় নেতায় দ্বন্দ্বের কারণে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিএনপি ক্রমেই দূর্বল হয়ে পড়ছে।

দলীয় কোন্দল ও বিভক্তি নিরসন করতে না পারলে আগামী দিনে আন্দোলন কর্মসূচি পালন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম খেসারত দিতে হবে বলে মনে করছেন তৃণমুল নেতাকর্মীরা।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোন্দল দীর্ঘদিনের পুরোনো। বিগত ১৯৯৭ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বুলবুল নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত হওয়ার পরে এক পর্যায়ে এ দু’নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বহিস্কারের ঘটনাও ঘটে।

পরে ২০০৯ সালের ২১ জুন এডভোকেট আহমেদ আযমকে আহবায়ক ও কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

তখন জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে। ২০১১ সালের ৯ জুন পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

মুলত দু’পক্ষেই নিজেদের পছন্দের লোক কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করতে গিয়ে কমিটি গঠন করতে দুবছর সময় লাগে। মূলত তখন থেকেই বিএনপির অন্তর্দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়।

আহমেদ আযম খানের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে তখন থেকেই বিএনপির একটি অংশ সরব হয়ে উঠে।

তখন বিএনপিতে বিভক্তির কারণে জেলা ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মূল দলে বিভক্তির কারণে এসব অঙ্গ সংগঠনেও বিভক্তি দেখা দেয়।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে আহবায়ক ও মাহমুদুল হক সানুকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সব উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়। কিন্ত কয়েক মাসের মধ্যে ওই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে পুনরায় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটিতে আহমেদ আযম খান আহবায়ক হলেও বাদ পড়েন সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, যুগ্ম-আহবায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদুসহ অনেক নেতা। এঘটনায় জেলা বিএনপির বিশাল একটি অংশ ক্ষুব্দ হন।

তাদের অভিযোগ আহমেদ আযম খান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার পক্ষের লোকজন দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। পদবঞ্চিত এই অংশটি আহমেদ আযমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করেন।

তারা সংবাদ সম্মেলন করে ছাইদুল হক ছাদু ও মাহমুদুল হক সানুর নেতৃত্বে বিএনপির সকল কার্ষক্রম চলবে বলে ঘোষনা দেন। তার অংশ হিসেবে তারা পৌরশহর ও সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করেন।

গত ২৩ আগষ্ট আশরাফ পাহেলীকে সভাপতি ও সাবেক ভিপি নুরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর শহর বিএনপি ও শফিকুর রহমান খান শফিককে সভাপতি ও আজহারুল ইসলাম লাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করে।

বিদ্রোহী কমিটির নেতা শফিকুর রহমান খান শফিক জানান, আমরা ইতিমধ্যে ১২টি ইউনিয়ন কমিটি করেছি। অধিকাংশ ওয়ার্ড কমিটি করা হয়েছে। দুই একটি কমিটি বাকি রয়েছে। এগুলো শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সদর উপজেলা ও পৌরশহর সম্মেলন করব।

যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি শেষ করে গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি সম্মেলন করা হয়েছে। ওই সম্মেলনে আজগর আলীকে সভাপতি ও আব্দুর রউফকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর উপজেলা ও পৌর কাউন্সিলর মেহেদী হাসান আলীমকে সভাপতি ও ইজাজুল হক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর শহর কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যুগ্ম-আহবায়ক হাসানুজ্জামিল শাহিন বলেন, বিদ্রোহীদের কমিটি গঠনের সাংগঠনিক কোন ভিত্তি নেই। তারা যা করছে তা নিয়ম বহির্ভূত ও অগঠনতান্ত্রিক কাজ । দলের ভেতর তারা বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে। কেন্দ্রে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে খুব শিঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ব্যর্থতার কারণে যদি কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয় তাহলে আহমেদ আযমও আহবায়ক থাকার কথা নয়। অর্থাৎ তিনি প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁতকারী সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে ব্যবসা বানিজ্য করছেন এমন লোক আহবায়ক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। যা জেলার অধিকাংশ সিনিয়র নেতারা মেনে নিতে পারছেন না।

জেলা বিএনপির আহবায়ক আহমেদ আযম খান বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। এখানে মত পার্থক্য থাকবে। আহবায়ক কমিটির সব যুগ্ম-আহবায়কসহ সকল নেতৃবৃন্দ আমাদের পক্ষে রয়েছে। পদ বঞ্চিত হয়ে দুই একজন বিদ্রোহ করতেই পারে।

তিনি আরো বলেন, তবে আমি তাদের গুরুত্ব দিচ্ছি না। তারা ভুল বুঝছে, সংশোধন হলে এমনিতেই তারা ফিরে আসবে। গত বৃহস্পতিবার শহর ও সদর উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশানার বাইরে গিয়ে দলে যে কেউ অসাংগঠনিক বা নিয়ম বহির্ভূত কাজ করলে দল তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২২ ০২:৫১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে গোয়াল ঘরে আগুন লেগে গবাদিপশু পুড়ে ছাই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গোয়াল ঘরে আগুন লেগে গবাদিপশু পুড়ে ছাই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা পূর্ব পাড়া এলাকার কৃষক আনোয়ার বাদশার গোয়াল ঘরে আগুন লেগে দু’টি গরু ও পাঁচটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত ভোর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন নেভানোর আগেই গরু ও ছাগলগুলো মারা যায়।

জানা যায়, কৃষক আনোয়ার বাদশা মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিনের মতো গোয়াল ঘরের পাশে লাকড়ির মধ্যে আগুন দেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে এ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

আরো জানা যায়, আগুন লেগে দুটি গরু, পাঁচটি ছাগলসহ টিনের গোয়ালঘরটিও পুড়ে গেছে।সবমিলে অন্তত ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওতে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ রয়েছে বলেও জানা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার বাদশা জানান , কৃষি জমি চাষাবাদ করে ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে অভাবের সংসার আমার। গরু ও ছাগলগুলো মারা যাওয়ায় আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম কামরুল হাসান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জানান, কৃষক আনোয়ার বাদশার গরুগুলো পুড়ে মারা যাওয়াতে তার বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এ অবস্থায় তার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২২ ০১:১৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অপহৃত শিশু সাভার থেকে উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অপহৃত শিশু সাভার থেকে উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে অপহৃত শিশু রীমাকে (৫) সাভারের হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুর সৎচাচা ফেরদাউস হাওলাদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণের ঘটনায় রীমার বাবা রাসেল খান সখীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, রাসেল পরিবার নিয়ে সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন। কয়েকদিন আগে তার সৎভাই ফেরদাউস হাওলাদার বেড়াতে আসেন। রবিবার (১৬ অক্টোবর) ফেরদাউস শিশু রীমাকে অপহরণ করে সাভার নিয়ে যান। সেখানে এক দোকানের সামনে রীমাকে রেখে তিনি দূরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখতে থাকেন। রীমা কান্না শুরু করলে লোকজন ভিড় করে। কাউকে না পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে গার্মেন্টকর্মী আর্জিনার আক্তারের জিম্মায় দেন। পরে ফেরদাউস হাওলাদার রীমার বাবা রাসেল খানের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পুলিশ ফেরদাউসকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি আবাসিক হোটেলে থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে নিয়ে শিশু রীমাকে আরজিনার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। সখীপুর থানার ওসি রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাসেল খান জানান, সৎভাই ফেরদাউস হাওলাদার বেড়াতে আসে। পরে সে আমার মেয়েকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২২ ০১:৪৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাহাবুব আলম মহিন (৪২) নামে ব্যাটারিচালিত এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আছিমতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহাবুব আলম মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী পূর্বপাড়া গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মাহাবুব প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মির্জাপুর বাজারে অটোরিকশা চালাতেন। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সন্ধ্যায় তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় স্কচটেপ পেঁচানো এবং মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মরদেহ দেখে পরিচয় শনাক্ত করে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. নভেম্বর ২০২২ ০৮:৩৫:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মসজিদের জমি বিরোধের জেরে  কমিটির সম্পাদককে পিটিয়ে জখম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মসজিদের জমি বিরোধের জেরে কমিটির সম্পাদককে পিটিয়ে জখম

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের মধুপুরে মসজিদের ওয়াকফ্কৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ দু’জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

শুক্রবার(১৪ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লুচিয়ানগর গ্রামে জুমার নামাজের পরপরই এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।

আহত মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আঃ বারী খান বর্তমানে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত সাধারণ সম্পাদক আঃ বারী খানের ভাই আব্দুর রাজ্জাক খান মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও লিখিত অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, একটি মহল মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লুচিয়ানগরবাড়ী দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজসহ মসজিদের জমির দলিল সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সাধারণ সম্পাদক ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দুইটার সময় জুমার নামাজ শেষে মসজিদের জমির দলিল ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ সময় একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে শাহীন আলম (৩০), আঃ গফুরের ছেলে শামছুল হক (৪০), মৃত দারোগ আলীর ছেলে মজিবুর রহমান (৬০) ও আঃ গফুর মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আঃ বারী ও আঃ রাজ্জাককে এলোপাথারী কিলঘুষি মেরে শরীর জখম করে ।

লিখিত অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটির সম্পাদক আঃ বারীকে ইটের আঘাতে রক্তাক্ত করা হয়। এতে সে মাথায় ও ঠোটে আঘাত পেলে তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদের জমির দলিল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। জমির রের্কড নিয়ে সমস্যা ও বিরোধ ছিল। এ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটির সম্পাদক প্রতিপক্ষের মারপিটে আহত হয় বলে তিনি জানান।

মসজিদের কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার বাবাকেও এ সময় পিটিয়ে আহত করা হয়েছে । তার বাবার হাতে আঘাত পেয়েছে।

আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনা যতদূর শুনেছি জায়গা জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। তবে তিনি পুরো বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

মধুপুর থানার এস আই নুরুল আমিন জানান, তিনি ঘটনার স্থলে গিয়েছিলেন। মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ। ঘটনার আগের দিন দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরের দিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ হতে না হতেই এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান,এ ঘটনায় আহত আঃ বারী খানের ভাই আঃ রাজ্জাক খান মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. অক্টোবর ২০২২ ০১:৪৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে রক্তাক্ত অবস্থায় নারীকে উদ্ধার,হাসপাতালে মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে রক্তাক্ত অবস্থায় নারীকে উদ্ধার,হাসপাতালে মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার ভুঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের অর্জুনা ইউনিয়নের তারাই কবরস্থানের পাশ থেকে মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) গভীর রাতে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মালা(৩২) নামে এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত মালা বেগম উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের তারা খানের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান,রাতে কবরস্থানের পাশে সড়কে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ভুঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মাহমুদুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুমুর্ষু অবস্থায় মালা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ভুঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার উদ্দেশ্য আঘাত করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২২ ০৬:০৯:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভোট কিনেও পরাজিত, টাকা ফেরত চাইলেন আ.লীগ নেতা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভোট কিনেও পরাজিত, টাকা ফেরত চাইলেন আ.লীগ নেতা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে ভোট কিনেও হেরেছেন রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। নির্বাচনে ভোট না দেওয়া জনপ্রতিনিধিদের কাছে টাকা ফেরত চেয়েছেন তিনি। এমনকি, ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এই প্রার্থী।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে টাকা ফেরতের আহ্বান জানান তিনি। পরে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেন। রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আমরা চার জন প্রার্থী ছিলাম। ভোটার ছিলেন ৯৪ জন। দিন শেষে জানা গেলো, প্রত্যেক প্রার্থী ৫০-৬০ জন ভোটারকে টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে আমাকে ৬০ জন ভোটার কথা দিলেও ৫৫ জন আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। ভোট দিলেন মাত্র সাত জন। এই হলো ভোটারদের আসল চরিত্র। পৃথিবীর সবকিছু একবার দেখলে চেনা যায়, শুধু মানুষ বাদে। আমাকে যারা ভোট দেননি মনে হয় আপনাদের নামের তালিকা হওয়ার আগে টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। আপনারা না জনপ্রতিনিধি। ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেন, এটা আপনার অধিকার। তাই বলে টাকা নেবেন চার জনের কাছ থেকে, ভোট দেবেন একজনকে। এটা কেমন চরিত্র আপনাদের? আপনাদের কাছ থেকে জনগণ কি সেবা পেতে পারে?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি ছিল। অনেক ভোটার একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি এখন সর্বমহলে শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম বলেন, ‘প্রত্যেক প্রার্থী ৫০-৬০ জন ভোটারকে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন। একজন ভোটারকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার করে টাকা দিতে হয়েছে। আবার অনেক ভোটারকে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমাকেও কিনতে হয়েছে টাকা দিয়ে ভোট। হয়তো সম্পর্কের কারণে আমার কম টাকা লেগেছে। তবে সর্বনিম্ন ২০ হাজারের নিচে কেউ টাকা নেননি। একজন ভোটার আমার সামনে খাম খুলে টাকা গুনে নিয়েছেন। টাকা কম থাকায় আরও পাঁচ হাজার টাকা চেয়ে নিয়েছেন। একজন ভোটার চার বার বিক্রি হয়েছেন। এমন হলে নির্বাচন কীভাবে করবো। তবে ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনে দাঁড়াবো না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভোটার বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটার টাকা নিয়েছেন। আমি নিয়েছি একজনের কাছ থেকে। এ ছাড়া আরও দুজন আমাকে জোর করে টাকা দিয়েছেন। নির্বাচনে হেরে এখন টাকা ফেরত চাচ্ছেন তারা।’

বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল বলেন, ‘ভোটারদের টাকা দেওয়ার বিষয়টি এখন প্রার্থীরা বলছেন। এক প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। অবশ্য পরে তিনি সেটি ডিলিট করে দিয়েছেন। তারা কেন ভোট কিনলেন বুঝলাম না।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কেউ টাকা লেনদেনের বিষয়ে অভিযোগ করেনি। এখন পরাজিত হয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন। ভোটারদের টাকা দিয়ে থাকলে তিনি এটা অন্যায় করেছেন।’

এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. উমর ফারুক বলেন, ভোট কেনা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া। একজন মানুষের মানবিক সত্ত্বাকে হরণ করার অপরাধ। সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি নীতি-নৈতিকতা মানবিক বর্জিত ও মানবিক বিসর্জিত। যার ফলে এখন এই বিষয়গুলো প্রকাশ্যেই ঘটে। এক সময় যারা ভোট কিনতো বা বিক্রি করতো- তারা এটাতে লজ্জাবোধ করতো। এখন ওই মূল্যবোধগুলো অবক্ষয় বা নষ্ট হয়ে গেছে। এটা একটা স্বাভাবিক সহনশীল মাত্রায় এটা মানুষ বিবেচনা করছে। এতে একজন ব্যক্তি তার আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক মূল্যবোধ মানুষ এখন আর বুঝতে পারে না। ভোট কেনা-বেচায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। যারা রাজনৈতিক ব্যক্তি বা ভোটদাতা রয়েছেন- তাদের মানবিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে সচেতন এবং সতর্ক হতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তিশালীভাবে আইনের যে প্রয়োগ, সেটা করতে হবে। এটার ব্যাপারে আইন আছে। তবে আইনের প্রয়োগটা সেই অর্থে ব্যবহার হয় না। নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি যদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়, তাহলে মানুষ এটা থেকে বিরত থাকবে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে (বাসাইল) সদস্য পদে সোমবার (১৭ অক্টোবর) বাসাইল উপজেলা হলরুমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাছির খান টিউবওয়েল প্রতীকে ৫৫ ভোট পেয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অটোরিকশা প্রতীকের প্রার্থী হোসাইন খান সবুজ পান ২১ ভোট। এছাড়া উটপাখি প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম সাত ভোট, মিজানুর রহমান খান হাতি প্রতীকে ১১ ভোট ও আতিকুর রহমান তালা প্রতীকে কোনও ভোট পাননি। সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে খালেদা সিদ্দিকী পান ৪১ ভোট, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রওশন আরা আক্তার রিতা ২১ ভোট ও হরিণ প্রতীকের প্রার্থী রুমা খান পান ৩১ ভোট।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২২ ০৩:৫১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও সখীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকালে মির্জাপুর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড ও সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী কলাবাগান এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী পূর্বপাড়ার বদর সিকদারের ছেলে এলিম সিকদার (৪২) ও সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী বটতলা এলাকার ফজল হকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৪)। নিহত এলিম সিকদার পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ও মনোয়ারা বেগম পেশায় গৃহিণী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলিম সিকদার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, মনোয়ারা বেগম সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী কলাবাগান এলাকায় রাস্তা পাড় হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এ সময় মনোয়ারা বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা টুটুল দুই জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২২ ০১:৩৮:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।