একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তরের) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) যোগদান করেছেন মো. মীর মোশারফ হোসেন।
তিনি ২০১৯ সালে ১৮ জুলাই থেকে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় যোগদান করেন।
তিনি কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থাকাকালীন তার কর্ম এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গী, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
মীর মোশারফ হোসেনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তরের) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি পুলিশে যোগদানের পর থেকে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস, ইভটিজিংকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, তার কাছে প্রতিটি মানুষই আপন তবে অপরাধীরা পার পাবে না। তার অফিসে একজন ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তি আসলে যে সম্মান পাবে, ঠিক তেমনি দিন মজুর রিক্সা চালক আসলেও ঠিক একই সম্মান পাবে। মানুষের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য।
মীর মোশারফ হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্যকর্মকর্তা মৃত আব্দুল হক সরকারের ছেলে। বৈবাহিক জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
উল্লেখ্য,মীর মোশারফ হোসেন জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৯৩ সালে পুলিশ বাহিনীতে এসআই হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি টাঙ্গাইল সদর থানা, মির্জাপুর, বাসাইল, কালিহাতী থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া শরীয়তপুরগামী স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চে নিহত তিন যাত্রীর একজন টাঙ্গাইলের শাকিল আহমেদ শান্ত (২০)। তিনি সদর উপজেলা দাইন্যা ইউনিয়নের ঘোষপাড়ার মুদি দোকানী নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
রোববার (২২ অক্টোবর) সকালে মৃত্যুর খবরটি শাকিলের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়।
পরে নিহত শাকিলের বড়ভাই সরোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়াসহ কয়েকজন নিকট আত্মীয় টাঙ্গাইল থেকে শরিয়তপুর যান লাশ আনার জন্য।
সরোয়ার হোসেন রোববার সন্ধ্যায় জানান, আমরা তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট শাকিল আহমেদ শান্ত। সে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টস কারাখানায় চাকরি করতো। যতটুকু জানতে পেরেছি শাকিলের বন্ধু গোসাইরহাটের তানজিলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার জন্য শনিবার ( ২২ অক্টোবর) রাতে রওনা হয়। তানজিল কয়েকবার আমাদের বাড়িতেও এসেছিল। ওরা একসাথে চাকরি করতো। রবিবার সকালে আমরা দুর্ঘটনার খবর পাই।
কাপড় ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন আরো জানান, আমার বোনটি প্রতিবন্ধী। সবার আদরের ছোট ভাই শাকিলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। এমন দুর্ভাগ্য যেনো আর কোন পরিবারে না আসে। আমরা আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করবো।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার সকালে আমার কাছে খবর আসে। পরে ইউপি সদস্য লিটন মিয়াকে শাকিলের লাশ আনতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে পাঠিয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি ও কোমল পানীয় রাখার দায়ে জেলা শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত অভিজাত নুরজাহান রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি ভেন্যুকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দা তামান্না তাসনীম জানান, টাঙ্গাইল ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত নুরজাহান রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি ভেন্যুকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি ব্যবহার করে বার্গার তৈরি, মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানীয় বিক্রির জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ এবং পূর্বের দিনের বিরিয়ানি, চিকেন ফ্রাই ও সবজি সংরক্ষণ এবং প্রস্তুতকৃত খাবার এবং কাঁচা মাংস একসাথে সংরক্ষণের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৩ এবং ৫১ ধারায় মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন চিনির পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এই ভ্রাম্যমান আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এর নির্দেশনা ও অর্পিত ক্ষমতাবলে, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

এছাড়া, জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সার্বিক সহযোগীতা করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব হারুন-অর-রশীদ।
অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক পুলিশের ১২তম বিসিএস কর্মকর্তা। তাকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-২ পদে পদায়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
খন্দকার গোলাম ফারুক ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ঘাটানদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শহরের আশেকপুর সদর উপজেলা পরিষদ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের নগরজলফৈ এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি প্রমুখ।
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নিরাপদ সড়ক চাইসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কলেজ পাড়া থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচ ডাকাতকে আটক করেছে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার(২২ অক্টোবর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হল- সদর উপজেলার থানা পাড়ার মো.রফিক ও সম্রাট, খোদ্দ যুগনীর ইউসুফ আলী, বেপাড়ি পাড়ার হৃদয় ও কালিহাতী উপজেলার রাজাবাড়ি গ্রামের লেলিন।
টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া পিপিএম জানান, শুক্রবার রাতে কলেজ পাড়ায় ৮-১০ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। এসময় রফিক, সম্রাট, ইউসুফ আলী, হৃদয় ও লেলিনকে পুলিশ আটক করতে পারলেও অজ্ঞাত আরো ৩/ ৪ জন পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল মডেল থানার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মাগন্তিনগর গ্রামে মৌমাছির কামড়ে তানভীর হাসান (২৫) নামে এক নববিবাহিত যুবকের মৃত্যু হয়েছে ।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর)সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।বেরীবাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জুলহাস উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তানভীর হাসান মধুপুর উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের মাগুন্তিনগর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
তানভীরের হাসানের মামা সোলায়মান সেলিম জানান, বৃহস্পতিবার(২০ অক্টোবর) সকালে তানভীরের বাবা আব্দুল খালেক বাড়ি থেকে মুদির দোকানে যাচ্ছিলেন। বাড়ির অদূরে মৌমাছির ঝাঁক তাঁকে আক্রমণ করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধারে দৌড়ে আসে বড় ছেলে তানভীর হাসান। মাটিতে লুটিয়ে পড়া বাবাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতেই মৌমাছির ঝাঁক তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়। সে খালি গায়ে থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীরে পালাক্রমে মৌমাছি কামড়াতে থাকে। মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচতে তানভীর দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। মৌমাছির দলও তার শরীরে দফায় দফায় কামড়াতে থাকে। একপর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় আশপাশের লোকজন আগুনের ধোঁয়া তৈরি করে মৌমাছি তাড়িয়ে তানভীরকে উদ্ধার করে। পরে তানভীরকে দ্রুত মধুপুর উপজেলা ১০০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়।
সোলায়মান সেলিম আরও জানান, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সেখানে অবস্থায় আরো অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
প্রকাশ, তানভীর সরকারি সা’দত কলেজ থেকে চলতি বছর শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন। এ বছরের ১৩ অক্টোবর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর নুরুল ইসলাম (৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মীর দেওহাটা গ্রামের বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নুরুল ইসলাম উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের মােসলেম খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার বড়শি নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় নুরুল ইসলাম। এরপর গত দুই দিন পরিবারের লোকজন বিভিন্নস্থানে খোঁজ করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। পরে শুক্রবার বিকেলে মীর দেওহাটা গ্রামের বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির এভাবে মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্ততি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে শেষ রাতে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েন মো. উজ্জল হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতা।শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে মেয়েটির পরিবারের বিরুদ্ধে।এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি উজ্জল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করছেন। এই ডিভিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
নির্যাতনের শিকার উজ্জল হোসেন ঘারিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
ভুক্তভোগী উজ্জল হোসেন জানান, ‘সকালে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। এসময় আমাকে ধরে নিয়ে যান সাবেক শ্বশুর, চাচা শ্বশুরসহ চারজন।পরে তারা আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করছেন। মারধরের কারণে আমার বাম হাত ভেঙে গেছে। আমি বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি।’
এ বিষয়ে উজ্জল হোসেনের সাবেক স্ত্রী জানান, সকালে ফজরের নামাজের পর বাড়ির পাশে হৈ চৈ শুনতে পাই। পরে জানতে পারি উজ্জল হোসেনকে কে বা কারা মারধর করেছে। তাকে মারধরের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর হোসেন জানান, ছয় মাস আগে সাটুরিয়া গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে উজ্জল হোসেনের বিয়ে হয়। আড়াই মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সম্প্রতি উজ্জল ওই মেয়ের সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) শেষ রাতে মেয়েটির সঙ্গে উজ্জল হোসেন দেখা করতে যান। মেয়েটির বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে উজ্জলকে আটক করে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব জানান, ‘বিষয়টি জানার পর উজ্জল হোসেনকে যুবলীগের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া জানান, ভিডিওটি দেখার পর এক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ভারত যাওয়ার কথা বলে টাকা সংগ্রহের সময় তিন প্রতারক আটক হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আকুর টাকুর পাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের দক্ষিণ কলেজ পাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শারিরীক প্রতিবন্ধী আবু রায়হান, অপর দুই সহযোগি হলেন একই এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে মোঃ একরাম, আব্দুল জব্বারের ছেলে হোসেন আলী। প্রত্যেকেরই বয়স আঠারোর নিচে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, এক পাহীন রায়হানকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত এই তিনজন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মানুষের নিকট থেকে চিকিৎসার জন্য অর্থ সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকুর টাকুর পাড়া এলাকায় সিদ্দিকী কটেজে গিয়ে তারা শুক্রবার (২১ অক্টোবর) চিকিৎসার জন্য ভারত যাবেন বলে রাজনীতি বিদ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীকে জানান।
মুরাদ সিদ্দিকী তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তোমাদের পাসপোর্ট আর ভিসার কাগজ নিয়ে আসো। আমি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহযোগিতা দেবো। পরবর্তীতে তারা ইতস্ততা শুরু করেন। তাদের আচরণ সন্দেহ জনক হলে তিনি একরাম হোসেনকে রেখে বাকি দুইজনকে ভিসা এবং চিকিৎসার কাগজপত্র আনার জন্য পাঠিয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে ভুল শিকার করেন মুরাদ সিদ্দিকীর কাছে। তারা নিজেরাই স্বীকার করেন, প্রতিনিয়ত তারা এভাবেই চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্নজনের নিকট থেকে সহানুভূতি নিয়ে থাকেন।
বিষয়টি থানায় অবহিত করলে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান নেশার টাকা যোগানোর জন্যই তারা মানুষের নিকট থেকে প্রতি নিয়ত অর্থ জোগাড় করেন।
ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার সৌরভ দত্ত বলেন চিকিৎসার কথা বলে টাকা তুলে মাদক সেবন ও দামী গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা।
টাঙ্গাইল শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার সৌরভ দত্ত বলেন, চিকিৎসার কথা বলে টাকা তুলে মাদক সেবন ও দামী গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতারকদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের ডাকা হয়েছে। এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাসাইলের পরাজিত সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিতরণকৃত টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভোটাররা।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটাররা নিজ উদ্যোগে ভোটের আগে গ্রহনকৃত টাকা ফেরত দিতে শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ফেরত পেয়েছেন। তিনি বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভোটের আগে বিতরণকৃত টাকা ফেরত চেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। মূহুর্তের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে তা ভাইরাল হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়। এরপর থেকে পরাজিত ওই প্রার্থীকে টাকা গ্রহনকারী ভোটাররা (জনপ্রতিনিধি) নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ড (বাসাইল) সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য উপজেলার ফুলকি ইউপির ৮ জন, হাবলা ইউপির ৫, পৌরসভার ৫, সদর ইউপির ১১, কাউলজানী ইউপির ৯, কাঞ্চনপুর ইউপির ৫ ও কাশিল ইউপির ৭ জনপ্রতিনিধিকে টাকা প্রদান করেন।
ওই পরাজিত প্রার্থী প্রত্যেক ভোটারকে (জনপ্রতিনিধি) ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেন। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হওয়ার পর বুধবার(১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাবলা, সদর, কাঞ্চনপুর, কাউলজানী ও ফুলকি ইউপির অন্তত ৭ জন ভোটার দুই লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে সকল ভোটাররা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে কেন টাকা বিতরণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, ভোটাররাই একা দেখা করার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করেছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাই তিনি ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছিলেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হওয়ার পর পর সকলেই নেওয়া টাকা ফেরত দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর উমর ফারুক জানান, নির্বাচনে ভোট কেনা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে হরণ করা। একজন মানুষের মানবিক সত্ত্বাকে হরণ করার সামিল। এক সময় যারা ভোট কিনতেন বা বিক্রি করতেন তারা এটা নিয়ে লজ্জাবোধ করতেন। এখন ওই মূল্য বোধগুলো অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। ভোট কেনা-বেচায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় নির্বাচন কেন্দ্রীক এমন অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ড (বাসাইল) মোট ভোটার ৯৪ জন। ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ৩ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ওই সদস্য পদে মো. নাছির খান ৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ হোসাইন খান পেয়েছেন ২১ ভোট, মিজানুর রহমান খান পেয়েছেন ১১ ভোট, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ ভোট ও আতিকুর রহমান কোন ভোটই পাননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসে আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম কর্নেল কমান্ড্যান্টের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসে সামরিক রীতি মেনে এ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষ রোপণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, ডাইরেক্টর অব মেডিকেল সার্ভিসেস (আর্মি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।