একতার কণ্ঠঃ দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর সোমবার (৭ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। শহরে প্রবেশের রাস্তায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় শতাধিক তোরণ।
টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম মাঠে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে জেলাব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কে হচ্ছেন সভাপতি, আর কে হচ্ছেন সম্পাদক—এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল ও সার্থক করতে ইতিমধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন উপজেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুককে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাহজান খান, অ্যাড. কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শিক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সানজিদা খানম, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, ইকবাল হোসেন অপু, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফজলুর রহমান ফারুককে সভাপতি, জোয়াহের ইসলাম জোয়াহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক একুশে পদক পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি আবারও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি মুরুব্বির স্থান দখল করে আছেন। তাই সভাপতি হিসেবে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এবারও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
জেলা আওয়ামী লীগের বর্তামান সাধারণ সম্পাদক জোয়াহের ইসলাম জোয়াহের ও যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি বলেন, “দীর্ঘ দিনের এই রাজনৈতিক পরিক্রমায় জেলার প্রত্যেক নেতাকর্মীর সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গত সম্মেলনেও আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। এবারও প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি দল আমার মূল্যায়ন করবে।”
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের বলেন, “স্মরণকালের সবচেয়ে সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগ আরও ঐক্যবদ্ধ হবে সুসংগঠিত হবে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অতীতেও দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাসমুক্ত রেখেছি। দলকে আরও সুসংগঠিত করে আগামী দিনে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনকে প্রতিহত করা হবে।”
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের মধুপুরে কৃষি জমির মাটি লুট করে টাইলস কোম্পানিতে বিক্রি করার দায়ে এক ব্যবসায়ী, ট্রাকের দুই চালক ও এক ভ্যেকু চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দিয়েছেন।
শনিবার( ৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন।
বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মাটি ব্যবসায়ী মধুপুর উপজেলার বিপ্রবাড়ী গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. আলামিন (২৫), ভেকুর চালক ঘাটাইল উপজেলার চাঁনতারা গ্রামের খেজমত আলীর ছেলে মো. আহাম্মদ আলী (২৬), ট্রাকের ডাইভার ঘাটাইল উপজেলার উত্তর লক্ষীন্দর গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (২৯) ও মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের সরুজ আলী ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৩)। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রথম জনকে ৬ মাস, ২য় জনকে ১ মাস ও পরের জনকে ১৫ দিন করে জেল দিয়েছেন।
মধুুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা ইয়াসমীন জানান, কুড়াগাছা ইউনিয়নের এ বাইদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষি জমি নষ্ট করে টাইলস কোম্পানিতে মাটি বিক্রি করে আসছে। বারবার তাদের মাটিসহ ট্রাক, ভেকু আটক করে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,কৃষি জমি নষ্টের ব্যাপারে সর্তক করলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। ৫ নভেম্বর পিরোজপুরের বলাইদ বাইদ থেকে ভেকু দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি উত্তোলন করে ট্রাক ভর্তির সময় এক মাটি ব্যবসায়ী ৩ ড্রাইভার ও মাটি ভর্তি দু’টি ট্রাক আটক করা হয়। পরে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ধারায় অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিনাশ্রম জেল প্রদান করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, খালেদা জিয়াকে আবারও জেলে পাঠানোর কথা বলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিক হয়নি। কারণ কারো উপকার করে তা বলতে হয় না। আপনার বাবা শুনলে (বঙ্গবন্ধু) রাগ করতেন, কষ্ট পেতেন।
দেশের বিভিন স্থানে বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়া ও গাড়ি বন্ধ করাও ঠিক হয়নি। গাড়ি চালু থাকলে যে লোক হতো গাড়ি বন্ধ করায় পায়ে হেঁটে সমাবেশে তার চেয়ে বেশি মানুষ হয়েছে। তাই এসব করে পার পাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন কাদের সিদ্দিকী।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি দেশের মালিক নন সেবক।
শনিবার(৫ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক সংবর্ধনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন কোন নির্বাচনই হয়নি। সবাই বলে সেটা ছিল ভোট চুরির নির্বাচন। আমার মেয়ে যদি নির্বাচিত হত তাহলে আমরাও হতাম ভোট চোরের দল। ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারাও চুরির ভোটে নির্বাচিত।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছিলাম ড. কামালকে ভালো নেতা মনে করে। কিন্তু তিনি ভালো নেতা নন, ভালো মানুষ। অনেকেই ভাবছেন আমরা কোন দিকে যাব? আমাদের পথ হলো সিরাতুম মুস্তাকিম, আমরা আল্লাহর পথে আছি।
সভায় আবদুস ছবুরের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, নাসরিন সিদ্দিকী, ইকবাল সিদ্দিকী, শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, শফিকুল ইসলাম দেলুয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার, হাবিবুন্নবী সোহেল, এ টি এম সালেক হিটলু, সানোয়ার হোসেন, আবু জাহিদ রিপন, আলমগীর সিদ্দিকী, দুলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় সেজাউল ইসলাম (৩০) নামে এক ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাত ১ টার দিকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়। সেজাউল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামের এরফান আলীর ছেলে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত ১ টার দিকে সেজাউল ইসলাম মিনি ট্রাক নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজ নামক স্থানে পৌঁছালে সামনে থাকা লোবেট গাড়ির পেছনে ধাক্কা মারে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণাধীন ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
দুই শিশু হলো গোড়াই সোহাগপুর এলাকার লাল চাদের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩) এবং একই এলাকার ফজলুল করিমের মেয়ে খাদিজা (৩)।
পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে চারটার দিকে পাশাপাশি বাড়ির ওই দুই শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই এলাকার খোরশেদ আলমের নির্মাণাধীন ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাদের দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটির সুরতহাল করা হয়েছে। গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এস এম মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
বরখাস্তকৃত ওই শিক্ষকের নাম গৌরাঙ্গ সরকার (৪৮)। তিনি উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (২ নভেম্বর)রাতে ওই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে সখীপুর থানার পুলিশ প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক। সেখানে তিনি মুঠোফোনে গান বাজিয়ে ছাত্রীকে নাচতে বলেন। ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম জানান, ‘যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার চিঠিটি ই–মেইলে একটু আগে পেয়েছি। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে আমার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে উৎসাহ উদ্দীপনায় গারোদের ওয়ানগালা উৎসব পালন করা হয়েছে । সাংসারেক কমিউনিটি বাংলাদেশ নামের একটি গারো সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। দেশি-বিদেশি অতিথি ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের অসংখ্য লোক সমাগমে মুখরিত হযে ওঠে এই উৎসব।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর)সকালে উপজেলার আমলীতলা ফুটবল মাঠে দিনব্যাপী আ.বিমা ওয়ানগালার বর্ণিল কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধক ছিলেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট) আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং।
পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ওয়ারি নকরেক মারাক।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফ, মধুপুর উপজেলা আওয়ালীগের সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, মধুপুর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসাসিয়েশনের সভাপতি উইলিয়াম দাজেল, বিভিন্ন আদিবাসি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
এর আগে দিন শুরু হতেই মাঠের এক প্রান্তের সাজানো মঞ্চে খামাল (পুরোহিত) জলে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিয়ে জলকে পবিত্র করেন এবং ওই জল ভক্তদের উদ্দেশ্যে সিঞ্চন করে বলেন, এই পবিত্র জলের সংস্পর্শে যারা আসবে তারা যেন পবিত্র হয়ে উঠে, গ্রিক্কা, বিসাদিমদিমা, চাম্বিল মেসা, নকগাখা।
মধুপুর বনাঞ্চলের গারোদের সর্ববৃহত সামাজিক অনুষ্ঠান এই ওয়ানগালার আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভারতের মেঘালয়ের ডা সুরাকা তুরা ব্যান্ড দলের সংগীত পরিবেশন।
এছাড়াও সংগীত পরিবেশন করে সবুজ মাজি ,যাদু রিছিল ও ঢাকা কালচারাল গ্রুপের শিল্পীরা।
উৎসব উপলক্ষে মধুপুরের মেট্রো হসপিটালের সৌজন্যে একই মাঠে হেল্থ ক্যাম্প এ দিনব্যাপি দেয়া হবে ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা।
প্রকাশ,ওয়ানগালা (ইংরেজি: Wangala) উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় অঙ্গরাজ্য ও বাংলাদেশে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী গারো জাতির লোকদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি ওয়ান্ন নামেও পরিচিত। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে গারো পাহাড়ে এই উৎপব পালিত হয়।
আদিকাল থেকেই গারোদের বিশ্বাস, মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য তার প্রাকৃতিক যা কিছু সম্পদ সবই দেবতার সৃষ্টি এবং দান। দেবতা তাতারা পৃথিবী, সালজং পার্থিব ফসলাদি এবং সুষিমি রোগ নিরাময়কারী ও ঐশ্বর্য প্রদানকারী।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বিএনপি যতোই আন্দোলনের কথা বলুক, আমার দৃঢ় বিশ্বাস বিএনপি একটা পর্যায়ে গিয়ে নির্বাচনে আসবে। সেই পরিস্থিতি আমরা সৃষ্টি করবো ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থল টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। সোমবার (৭ নভেম্বর) এই স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে, সেই সরকারই নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকবে। আসলে নির্বাচন পরিচালনা করা সরকারের কোন দায়িত্ব নাই, এটির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একটা নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর করার জন্য সংবিধানের ১২৬ এ নির্দেশ দেয়া আছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আইজিপি, সেনাবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রী, সচিব সবার দায়িত্ব হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী চলা। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী দেশ চলবে। কাজেই আওয়ামী লীগ এখানে কোনো বিষয় নয়। একটা আইনের আওতায় নির্বাচন কমিশন করা হয়েছে। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন খুব গুরত্বপূর্ণ। নেতাকর্মীদের মাঝে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তাতে আমি মনে করি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বটি একটি মহাসমাবেশে পরিণত হবে। এই সম্মেলনটি সারা বাংলাদেশে একটি নতুন উদাহারণ সৃষ্টি করবে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফারুক, সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, আহসানুল ইসলাম টিটু, তানভীর হাসান ছোট মনির, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হয়েছেন এক শিক্ষক।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযাগ সূত্রে জানা গেছে, ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি সুফিয়া ওমর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ৬ মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান দেওয়ান।
ঘটনাটি ওই ছাত্রী তার বাবা একই স্কুলের ধর্মবিষয়ক শিক্ষক লুৎফর রহমান শেখকে জানায়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বুধবার মোটরসাইকেলে করে মেয়েকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন শিক্ষক লুৎফর রহমান শেখ। হামলাকারী অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ও তার সঙ্গীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লুৎফর রহমান ও তার মেয়েকে নামিয়ে লাঠি ও জুতা দিয়ে বেদম মারধর করে।
দেলদুয়ার থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন মৃধা বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ চাকরি স্থায়ীকরণসহ ১৪ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেনকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা।
বুধবার (০৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টা থেকে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপচার্য অবরুদ্ধ রয়েছেন।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি এসএম মাহফুজুর রহমান জানান, তৃতীয় শ্রেণির ২২ জন কর্মচারী তিন বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করছেন।
সম্প্রতি ১৫টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ১৫টি পদের বিপরীতে এডহক ভিত্তিতে নিয়োজিত ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হোক।
কিন্তু উপাচার্য এ দাবি মানছেন না। তাই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে বুধবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
ভিসি প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন জানান, ২০১৯ সালে তৎকালীন ভিসি তৃতীয় শ্রেণির ২২ জন কর্মচারীকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে দুই দফায় ১৫টি পদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ওই ১৫ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এসময় কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা ১৫ পদের বিপরীতে ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ী করার দাবিও করছেন। এ দাবিতে বুধবার সকাল থেকে তাকে (ভিসি) অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছেন। কিন্তু তারা তাদের দাবিতে অনড়।
তিনি আরও জানান, আরও সাতটি পদ বাড়াতে তিনি ইউজিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি পদ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
তালাবদ্ধ করে রেখে উপচার্যের ব্যক্তিস্বাধীনতা হনন করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গর্ভবতী ফাতেমা আক্তার (৩৫) লাশ উদ্বার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। বুধবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সহবতপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজের ৬ দিন পর ঝুলন্ত অবস্থায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ফাতেমা আক্তার সহবতপুর গ্রামের মৃত সমাজ মিয়ার ৩য় কন্যা।
পবিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফাতেমার বিয়ের কয়েক বছর পর সন্তান সহ ১ম স্বামী আলীম, ফাতেমাকে তালাক দেয়। ফাতেমা সংসারের অভাবের তারনায় সৌদি পাড়ি দেন। টানা ৫ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরত আসে। পরে ফাতেমা ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরী নেন। চাকুরী সুবাদে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার মো. আরশেদ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া সাথে প্রথমে প্রেম পরে বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় ২ মাস পর রুবেলের ছোট ভাই শামীমের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে ফাতেমা। পরে রুবেলকে তালাক দিয়ে ছোট ভাই শামীমকে বিয়ে করে সাত মাস ধরে ঘর সংসার করে আসছিল। এরই মধ্যে চার মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে ফাতেমা।
গত (২৭ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার স্বামীসহ ফাতেমা তার বাবার বাড়ী সহবতপুর আসেন। পরের দিন সকালে স্বামী শামীম ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রী ফাতেমাকে আর খোঁজে পান না। ফাতেমার বাড়ীর লোকজন স্বামী শামীমকে চাপ সৃষ্টি করলে শামীম কোন কিছু উত্তর না দিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়। নিহত ফাতেমার বাড়ীর লোকজন শামীমের মোবাইল ফোনে যোগযোগ করলে শামীম নানা রকম কথা বার্তা বলে। নিখোঁজের ৬ দিন পর বাড়ির পাশ থেকে মাটি আনতে গিয়ে ঝোপের মধ্যে ফাতেমার ঝুলান্ত লাশ দেখতে পান চাচাতো ভাবি পারুল।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (তদন্ত) হাসান সরকার জাহিদ বলেন, সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্ত জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গৌরাঙ্গ সরকার (৫২) নামের এক প্রধান শিক্ষককে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাতীবান্ধা মহিষডাঙ্গা নিজ এলাকা থেকে আটক করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।
তিনি উপজেলার হাতীবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের সভাপতি জোসনা সরকার বুধবার (২ নভেম্বর)ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গের বিচার ও বদলি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার( ২৭ অক্টোবর)স্কুল ছুটির পর একটি কক্ষে ওই শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে (১১) কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। ওই শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেয় প্রধান শিক্ষক। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়। শিক্ষার্থী ভয়ে দুইদিন কিছু না বললেও পরবর্তীতে গত রবিবার(৩১ অক্টোবর) তার পরিবারের কাছে সবকিছু প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য নিপেন মজুমদার জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি প্রমাণ রয়েছে। লজ্জায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা গোপন রেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জোসনা সরকার জানান, ওই শিক্ষকের অসভ্যতার কারণে দিনদিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফিউল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষার্থীর চাচা বলাই বাদ্যকরের অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।