একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও জেলার সকল সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরপুর কলেজ মাঠে জনসমাবেশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমাবেশ করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ছিলেন অনুপস্থিত। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনসভায় অনুপস্থিতি তৃণমুল নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। জনসভার পাশাপাশি এটাও ছিলো সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ছিলো আলোচনার বিষয়বস্তু। এরমধ্য দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব এতদিন অপ্রকাশ্যে থাকলেও রবিবারের জনসভার মধ্যে দিয়ে তা প্রকাশ্যে এলো। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৯নং সহ-সভাপতি মো. আনিছুর রহমান ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩ নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম দুলাল। যা ছিলো অত্যান্ত দৃষ্টিকটু।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের। সেইসঙ্গে এই আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান হিমু ও ইনসাফ আলী ওসমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা সবাই একাট্টা হয়েছেন সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছর ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। সংসদ সদস্য তার নিজের অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরপুরে সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামী অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেন। তারা এই প্রস্তাবের কথা কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ হোসেন জানান, এই প্রস্তাব অগ্রায্য করে সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। ব্যানারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদককে সঞ্চলনার দায়িত্ব দিয়ে নাম লেখা হলেও তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় না করে একাই সমাবেশের প্রচারণা শুরু করেন। তখন অন্য সবাই এ সমাবেশ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নাগরপুরের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ উঠেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ, সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও সংসদ সদস্যের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে তার অবসান ঘটবে। কিন্তু সমাবেশের মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছালো। তারা এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বর কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, সংসদ সদস্য রোববার যে সমাবেশ করলেন তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। সমাবেশের বিষয়ে তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের এড়িয়ে চলেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি এই সমাবেশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে সমাবেশ করবেন বলেও তিনি জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ হিমু বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দল পরিচালা করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড পরিচালানা করবেন স্থানীয় এমপি। কিন্তু স্থানীয় এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের মত করে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করছে। রোববারের জনসভাটি এমপির একক সিদ্ধান্তে আয়োজন করায় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসভায় উপস্থিত হয়নি। এতে সাধারণ ভোটারসহ তৃণমুল কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু জনসভায় বলেন, নাগরপুরের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ, নাগরপুর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আজ ঐক্যবদ্ধ ও অভিন্ন আছে। গুটি কয়েকজন মানুষ এখানে উপস্থিত নাই। আমি আশাকরি এখানে উপস্থিত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিবেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল আলীমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে যমুনা নদীতে টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর- গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির ও ভুঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ গ্রুপের পাল্টাপাল্টি নৌকা বাইচের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান স্থানীয়রা। তবে সংঘর্ষ এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আগামী ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর গোবিন্দাসী নৌকা ঘাটের যমুনা নদীতে ছোট মনির এমপির উদ্যোগে এবং ১৯-২৩ সেপ্টেম্বর একই স্থানে পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের উদ্যোগে নৌকা বাইচ হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে উভয়পক্ষই নৌকা বাইচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকার এমপি গ্রুপের লোকজন অস্থায়ী তোরণ নির্মাণকালে মেয়র গ্রুপের নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন এমপি পক্ষের লোকজন।
অপরদিকে, একইদিন সন্ধ্যায় মেয়র পক্ষের নৌকা বাইচ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দাসী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিনের নেতৃত্বে গোবিন্দাসী বাজারে এমপি গ্রুপের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মিছিল এবং সমাবেশ করে। উভয় গ্রুপের কোন্দলে গোবিন্দাসী এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এমপি ছোট মনির গ্রুপের নৌকা বাইচ পরিচালনা কমিটির সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খোকা জানান, এমপি ছোট মনির মহোদয়ের উদ্যোগে আমরা অনেক আগেই ১৯-২০ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচের আয়োজন করেছি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখিত তারিখেই নৌকা বাইচ হবে।
মেয়র গ্রুপের নৌকা বাইচ কমিটির সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, পূর্ব নির্ধারিত ২২-২৩ সেপ্টেম্বর এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মেয়র মহোদয়ের উদ্যোগে আমরা নৌকা বাইচের আয়োজন করি। নৌকা বাইচ যাতে সফল না হয় সে কারণে এমপি গ্রুপও ১৯-২০ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচের ঘোষণা দিয়েছে।
নৌকা বাইচে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ভুঞাপুর থানার অফিসার (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, দুপক্ষের নৌকা বাইচে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন জানান, নৌকা বাইচে উভয়পক্ষের লিখিত আবেদন পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠালে তিনি এমপি গ্রুপকে ১৯-২০ এবং ২২-২৩ সেপ্টেম্বর মেয়র গ্রুপকে অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়া বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরিবারের সাথে বোনের বিয়েতে গ্রামের বাড়িতে এসে পানিতে ডুবে মার্জিয়া আক্তার (১০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের খালুয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মার্জিয়া উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের খালুয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। সে নারায়ণগঞ্জের একটি কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেনির ছাত্রী ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাইয়ুম বিপ্লব।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজের বোনের বিয়ে উপলক্ষে মার্জিয়া তার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিজ বাড়িতে আসে। রবিবার মার্জিয়া তার ভাইসহ কয়েকজন শিশু বন্ধুদের সঙ্গে গ্রামের একটি পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল। হঠাৎ নৌকায় উঠে খেলতে গিয়ে পড়ে পানিতে ডুবে যায় সে। বন্ধুরা কিছুক্ষণ পর বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারকে জানায়। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে আল আমিন (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জয়দেবপুর – বঙ্গবন্ধু সেতু রেল সংযোগ সড়কের মির্জাপুর স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার কাজি পাড়া সিঙ্গিমারী গ্রামের আশরাফুল হকের ছেলে।
মির্জাপুরের স্টেশন মাষ্টার নাজমুল হুদা বকুল জানান, শনিবার গভীর রাতে চলাচলকারী কোন এক ট্রেনে কাটা পড়ে ওই যুবক নিহত হয়েছে বলে গেইটম্যান শফিকুল ইসলাম রবিবার সকাল ৬টার দিকে তাকে জানান।
তিনি আরো জানান,খবর পেয়ে টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। নিহতের ব্যাগের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চার দশমিক দুই মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া সহকারী মো. রবিউল হক বলেন, ‘উৎপত্তিস্থল টাঙ্গাইল শহরে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে চার দশমিক দুই।’
তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে টাঙ্গাইল শহর ও আশে পাশের জেলায় মূলত ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর মীম আক্তার (৯) ও ঝুমার আক্তার (৯) নামের দুই শিশুর লাশ পাওয়া গেল পুকুরে। শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হতেয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে একটি পুকুর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মীম ওই এলাকার কামরুল হাসানের মেয়ে ও ঝুমা বাবুল মিয়ার মেয়ে। তারা দুজনই হতেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার হওয়াতে উপজেলা জুড়ে চরম আতঙ্কে বিরাজ করছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ দুই শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের খাবার খেয়ে মীম ও ঝুমা খেলতে বের হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পরও তারা বাড়ি ফিরেনি। এরপর থেকে পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করে। রাত পৌনে ১০টা পর্যন্তও তাদের খোঁজ মেলেনি। পরে বাড়ির উত্তরপাশে পুকুরে জাল দিয়ে খোঁজাখুঁজির পর লাশ পাওয়া যায়।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যার পর শিশু মীম ও ঝুমার ছবিসহ নিখোঁজের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে নয় বছরের শিশু সামিয়াকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফলে পুনরায় একই বয়সের শিশু মীম ও ঝুমা নিখোঁজের খবরটি উপজেলাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন খান বলেন, ঘটনা জানতে পেরেই আমরা এলাকায় মাইকিং করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেছি। পরে পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, নিখোঁজের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। দ্রব্যের দাম মূলত চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে। তারপরও আমরা দ্রব্যমূল্য ভ্যানওয়ালা, রিকশাওয়ালা, দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি। এ জন্য আমরা একটি পদক্ষেপ নিয়েছি, সফল হব কি না নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে কিছুটা হলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছি।’
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সৃষ্টিসংঘ মাঠে শওকত মোমেন শাহজাহান ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে আসবে না অথচ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সারা পৃথিবীতে এভাবেই নির্বাচন হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম, পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান জয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোবাইলে গেম খেলতে না দেওয়ায় রুকন (১৩) নামে এক শিশুর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত রুকন লাঙ্গুলিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে স্থানীয় বোয়ালী পশ্চিমপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুকনকে তার মা মোবাইল রেখে পড়া-লেখা করতে বললে এবং মোবাইল হাত থেকে নিয়ে নিলে সে মায়ের সঙ্গে রাগ করে। এ সময় সে চিৎকার চেচামেচি করে ঘরের ভেতরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরে তার মা এসে ডাকাডাকি করলে রুকন কোনো সারা শব্দ করে না। পরে দরজা ভেঙে ঘরে গিয়ে দেখে কাপড় রাখার রশি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে রুকন আত্মহত্যা করেছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে আলু, পেঁয়াজ ও ডিম বিক্রি এবং মূল্য তালিকা না থাকায় টাঙ্গাইলে ৭টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত দোকানগুলো হচ্ছে- মেসার্স আলম ট্রেডার্স, আলী আজম ট্রেডার্স, মেসার্স বেল্লাল হোটেল ও একটি নাম বিহীন ডিমের দোকান।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপি টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজারের পাইকারী দোকানে অভিযান চালিয়ে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং একই বাজারে দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ৩ টি দোকানে জরিমানা করেন।
টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, সরকার ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম নির্ধারিত করে দেওয়ার ঘোষণা এখনও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হয়নি। তবে, ডিমের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজার তদারকির ফলে বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা ঝুলানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পার্ক বাজারের পাইকারী দোকানে তদারকিমূলক অভিযানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এ সময়ে সিনিয়র কৃষি বিপনন কমকর্তার কার্যালয়ের প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জেলা পুলিশ সহযোগিতা করে।
অপরদিকে, শহরের পার্ক বাজারে বেশি দামে আলু, পেঁয়াজ ও ডিম বিক্রি করায় শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৩ জন ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি ভ্যান চার্জ দেওয়ার গ্যারেজ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কবির উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধুপা খাগরাটা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। সে পেশায় একজন ভ্যানচালক।
এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলের পৃথক পৃথক স্থান থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান জানান, একটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা।
এদিকে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলার ভুঞাপুরে প্রবাসীর স্ত্রী’র মরদেহ ঘরের বক্স খাটের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বামী মোস্তাক পালিয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রবাসীর স্ত্রী মুনিয়া ইসলাম (৩২) গোপালপুর উপজেলার নলীন এলাকার নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে এবং একই উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের আজমত আলীর ছেলে ব্রুনাই প্রবাসী মোস্তাকের স্ত্রী।
একই দিন ভূঞাপুরে ঘর থেকে সুলতানা সুরাইয়া(৬৫) নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুলতানা সুরাইয়া ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নিউজ এডিটর আবু সায়েম আকন্দের মা এবং পশ্চিম ভূঞাপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আকন্দের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে পৌরসভার পশ্চিশ ভূঞাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- একদিন আগে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে দৃষ্কৃতিকারীরা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৌরসভায় জমি বুঝে পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করে খাইরুল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে তিনিসহ পৌরসভার সার্ভেয়ারসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা জমি পরিমাপ করতে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোতালেব নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পৌরসভার লোকজনদের উপর হামলা করে এবং মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারিরা খায়রুলকে ছুরিকাঘাত করলে তার পেট পুরোটা কেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কবির হোসেন (২৭) নামে এক অটোভ্যান চালকের রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর)ভোর ৭ টায় উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি ভ্যান চার্জ দেওয়ার গ্যারেজ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি )মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কবির উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধুপা খাগরাটা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। সে পেশায় একজন অটোভ্যান চালক। তার দুটি পিকআপ গাড়িও আছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কবির সহ আরোও তিন অটোভ্যান চালক মিলে স্থানীয় চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি গ্যারেজে প্রতিরাতে ভ্যান চার্জ দেন। ঐ চারজন চালকের মধ্যে একজন করে ভ্যানচালক ঐ গ্যারেজে প্রতিরাতে পাহারায় থাকতেন। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর)রাতে পাহারার পালা ছিল কবিরের। রাতে ভ্যান চার্জ দিয়ে গ্যারেজে ছিলেন কবির ।
ঐ গ্যারেজের একজন ভ্যান চালক জাবির হোসেন মুরগির ট্রিপ দেওয়ার জন্য রাতে বাহিরে ছিলেন। পরে শনিবার দিবাগত রাত ৪ টায় ভ্যান চার্জ দেওয়ার জন্য ঐ গ্যারেজে গেলে কবিরের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে কবিরের পরিবার কে খবর দিলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘাটাইল ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান , একটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মুনিয়া ইসলাম (৩২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ভূঞাপুর পৌর শহরের ঘাটান্দি গ্রামের গণেশ মোড় নামক এলাকায় জহুরুল ইসলামের পাঁচ তলার বাসার তিন তলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুনিয়া পাশ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের নুরল ইসলামের মেয়ে এবং তার স্বামী মোস্তাক আহমেদ একই উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের আজমত আলীর ছেলে। তাদের দাম্পত্য জীবনে আল মাসুদ (১০) এবং নবীন (৪) বছরের দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তারা গণেশ মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। এ ঘটনায় আল মাসুদ ও নবীনের প্রবাস ফেরত বাবা মোস্তাক আহমেদ পলাতক রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তাক আহমেদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রুনাই থেকে দেশে ফিরেন। তারপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ হতো। দুই ছেলের একজন তার খালার বাসায় ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এক রুমে ছেলেকে ঘুমিয়ে রেখে অন্য রুমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ বক্স খাটের নিচে রেখে শুক্রবার ভোরে বাসার মুল দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়েছে মোস্তাক। সকালে ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে ডাকচিৎকার করলেও আশপাশের কেউ কোন ভাড়াটিয়া এগিয়ে যায়নি। পরে বাসার কেয়ারটেকার বাসার দরজা খুলে দেয়।
এদিকে, মুনিয়া ইসলামের খোঁজ না পেয়ে বাসার বিভিন্ন রুমে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে স্বজনরা। একপর্যায়ে ছোট ছেলের বক্স খাটের নিচে দেখতে বলে। পরে বক্সখাটের পাতাটন খুলে মুনিয়ার মরদেহ দেখতে পায়। স্বজনদের ধারণা, মোস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়া ইসলামকে গলা টিপে বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
মুনিয়া ইসলামের ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা চলছিল স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে। পরে বড় বোন নাসরিন আক্তার কয়েকদিন আগে দুইজনকে বুঝিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছিল। এরপর আর কিছু জানি না। সন্ধ্যায় খবর পেলাম বোনের মরদেহ বাসার বক্স খাটের নিচে রেখে দেওয়া হয়েছে। ওর স্বামী মোস্তাক পালিয়েছে। বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ বক্স খাটের নিচে রেখে পালিয়েছে ঘাতক মোস্তাক। তার শাস্তি চাই।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল শেষে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। মুনিয়া ইসলামের স্বামী মোস্তাক আহমেদ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। এনিয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।