একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাকিবুল হাসান রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি আনন্দ মহন দে, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ ঝন্টু প্রমুখ।
এ সময় বিভিন্ন থানার ওসি ও বিভিন্ন উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, গত বছর জেলায় পূর্জামণ্ডপের সংখ্যা ছিলো ১ হাজার ২৬৫টি। এ বছর পূর্জা মণ্ডপের সংখ্যা হলো ১ হাজার ২৮১টি। পূর্জামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আনসার ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি পূর্জামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আশা করছি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এবারও পূর্জা অনুষ্ঠিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ রবিবার (১ অক্টোবর) ৪র্থ বর্ষে পা রাখলো এভারগ্রীণ ফিটনেস ক্লাব, টাঙ্গাইল। ২০২০ সালের ১ অক্টোবর আজকের এই দিনে ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে। এভারগ্রীণ ফিটনেস ক্লাব একটি শরীর চর্চা ও ক্রীড়া সংগঠন।
৪র্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে রবিবার দিনব্যাপি ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ণিল অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
সকাল ৭টা ৩০মিনিটে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করা হয়।
এর পর ক্লাবের সকল সদস্যের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য র্যালি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল নিড়ালা মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
এরপর রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিটে সুগন্ধা রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান সূচি র্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী, আড্ডা ও নৈশভোজের ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এ সয়ম উপস্থিত ছিলেন এভারগ্রীণ ফিটনেস ক্লাব টাঙ্গাইলের সমন্বয়ক সার্বিক সৈয়দ নাজমুল হোসেন, বর্ষপূর্তি উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক মোঃ নাজমুল হক রুমেল, যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মোঃ মাহবুবুর রহমান খান নাজিম, যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন, সমন্বয়ক মানব সম্পদ এনাদি হোসেন খান, মোঃ শফিকুল ইসলাম, হরুন-অর রশিদ, আরফান আলী, মোঃ নাজমুচ্ছাকীব বক্ সী সহ ক্লাবের সন্মানিত সদস্য বৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণের সময় কামাল হোসেন নামের এক এসআইয়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১ অক্টোবর) সকালে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে এক কিলোমিটার দৌড়ের সময় তার মৃত্যু হয়। তাকে হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহত কামাল হোসেন পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার পাকজল গ্রামের মৃত মোকসেদ আলী ফকিরের ছেলে।
তিনি বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার ডিসি নম্বর (৪৪)।
জানা গেছে, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ১নং কোম্পানির ডিপার্টমেন্টাল ক্যাডেট মো. কামাল হোসেন সকালে এক কিলোমিটার দৌড়ের পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরে তিনিসহ আরও কয়েকজন পিটি টেস্টের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা চিকিৎসা দিয়ে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ পিটিসিতে ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, ‘ওই পুলিশ সদস্যকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডেন্ট (ডিআইজি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় অ্যাডিশনাল ডিআইডিজ আশরাফুল আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের পেশাগত গুণগতমান ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে ‘মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কালিহাতীর এলেঙ্গা বঙ্গবন্ধু সেতু ব্রিজ রিসোর্টের মিনি কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর উদ্যোগে ও বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষক- বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামাল। প্রশিক্ষক ছিলেন- বাংলা ভিশনের সাবেক বার্তা-সম্পাদক নাসরিন বেগম গীতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক শওকত আলী।
মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জাতিসংঘ মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী অধিকার সনদ (সিডো), শিশু অধিকার সনদ, মানবাধিকার নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা, হতদরিদ্র নারীদের মানবাধিকার আদায়ে সমতা নিয়ে সাংবাদিকদের করণীয় বিষয়ক আলোচনা করা হয়।
মানবাধিকার সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার ২৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। তার মধ্যে ভূঞাপুরে ১৬ জন ও কালিহাতীতে ৯ জন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী শেষে নেওয়া সাংবাদিকদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। এরআগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- প্রবীণ সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল, অভিজিৎ ঘোষ ও মুশফিকুর রহমান মিল্টন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের মতো বার বার গাজীপুরের অতন্দ্র প্রহরী গোলরক্ষক মাহফুজের গায়ে টাঙ্গাইল জেলার আক্রমণ আচঁড়ে পড়লেও অটল মাহফুজকে পরাস্ত করতে পারেনি। উল্টো ৩৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল হজম করা টাঙ্গাইলের পরাজয় দেখলো ক্রীড়ামোদী হাজারো দর্শক।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে গাজীপুর জেলা ফুটবল দলের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হলো টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল দল।
শুরুতে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় ১১টি জেলার জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ওলিউজ্জামান, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেনসহ ১২টি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
খেলার শুরু থেকে টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়গণ আক্রমণ করে খেলতে থাকে। দক্ষ স্টাইকারের অভাবে টাঙ্গাইল জেলা কাঙ্খিত গোল করে এগিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো পাল্টা আক্রমণ থেকে ৩৭ মিনিটের সময় গাজীপুর জেলা দলের রানা আহমেদ গোল করে ১-০ গোলে দলকে এগিয়ে নেয়।
খেলায় পিছিয়ে পড়ে টাঙ্গাইল জেলা বার আক্রমণ করে খেলতে থাকে। কিন্তু গোল করে খেলায় সমতা আনতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময় টাঙ্গাইল একচেটিয়া আক্রমণ করে খেললেও গাজীপুরের গোলরক্ষক মাহফুজকে পরাস্ত করে গোল করতে পারেনি। গাজীপুরের গোলরক্ষক মাহফুজ টাঙ্গাইল জেলা দলের হেড কিংবা শট অসামান্য দক্ষতা ও ক্ষীপ্ততায় নিশ্চিত ৫টি গোল রক্ষা করেছেন।
টুর্নামেন্টে ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলা “যমুনা”ও “পদ্মা” ২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গোল্ডকাপ চ্যাম্পিনশীপে অংশগ্রহণ করছে।
কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের “যমুনা” গ্রুপের জেলা ফুটবল দলগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও স্বাগতিক টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল দল।
শরিয়তপুর স্টেডিয়ামে “পদ্মা” গ্রুপের দল গুলো হলো নারায়ানগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী ও স্বাগতিক শরিয়তপুর জেলা ফুটবল দল।
যমুনা ও পদ্মা গ্রুপ থেকে গ্রুপ ফাইনাল খেলে বিজয়ী দুটি জেলা শরিয়তপুর স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নের জন্য ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা করটিয়ার আবেদা খানম গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুখ উজ্জল করলেন শাফিহা ইয়াসফিন আদ্রিকা (১৬)। সে এ বছর এসএসসি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ।এছাড়া এসএসসি পরীক্ষায় টাঙ্গাইল জেলায় মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবেদা খানম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান।
শাফিহা ইয়াসফিন আদ্রিকা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকার সোয়েব হোসেন লাভলু চৌধুরী জৈষ্ঠ্য কন্যা এবং করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনুর নাতনী।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান জানান,এ বছর করটিয়া আবেদা খানম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন শাফিহা ইয়াসফিন আদ্রিকা। তার রোল নং ৫৫০৪৯৪, শাখা বানিজ্য। পরীক্ষায় সে জিপিএ -৫ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৯ সেপ্টেম্বর) রেজাল্ট সিট পাওয়ার পর নিশ্চিত হয় সে টাঙ্গাইল জেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় বানিজ্য শাখা থেকে তৃতীয়স্থান অধিকার করেছেন। এমন খবরে তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে খুশি ও আনন্দের জোয়ার বইছে।
জেলায় তৃতীয় স্থান অধিকারী আদ্রিকা তার অনুভুতি ব্যক্ত করে জানান, আমার ফলাফল ধারাবাহিকভাবে ভাল করতে চাই। আমার ইচ্ছা আছে বড় হয়ে একজন ভালো ব্যাংকার হতে চাই।
আদ্রিকার বাবা সোয়েব হোসেন লাভলু জানান, আদ্রিকার সাফল্য শুধু তার মেয়ের একার সাফল্য নয়,এই ফলাফল তার বিদ্যালয় ও জেলার সুনাম বয়ে এনেছে। আপনারা দোয়া করবেন আমার মেয়ে যেন ভবিষ্যতে আরও ভাল ফলাফল করে সবার মুখ উজ্জল করতে পারে।
আবেদা খানম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান জানান, আদ্রিকা আমাদের স্কুলের অত্যান্ত মেধাবী একজন ছাত্রী। আমাদের আশা ছিল, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় আদ্রিকা ভাল ফলাফল করবে। সে ভাল ফলাফল করে আমাদের স্কুলের মুখ সুনাম বৃদ্ধি করেছে। আশাকরি, এইচএসসি পরীক্ষায়ও সে ভাল ফলাফল করবে।
করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান,আদ্রিকার এই ফলাফলে আমি অত্যান্ত গর্বিত ও আনন্দিত। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী সামিয়া (৯) হত্যাকান্ডের ২২ দিন পর মূল আসামি সাব্বির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর)রাতে সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)বিকেলে সখীপুর থানা কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ও সখীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথদল এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঋণের টাকার পরিশোধ করতে সাব্বির মুক্তিপণের পরিকল্পনা করেছিল। সে ছিল ঋণগ্রস্ত। পাওনাদার তাকে ঋণ পরিশোধে চাপ দিচ্ছিল। পাওনাদারদের কথায় অপমানও বোধ করে সে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধান্ত নেয়, এমন কাউকে সে ‘অপহরণ’ করবে, যার বাবার কাছে নগদ অর্থ আছে এবং নগদ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সে ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে নিতে পারবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশু সামিয়ার পরিবারের কাছে নগদ অর্থ আছে। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে (সামিয়া) অপহরণের সিদ্ধান্ত নেয় সাব্বির।
তিনি আরও জানান, সে পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ঘটনার দিন (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে সামিয়া বিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে সাব্বির তার নিজের মুদির দোকান থেকে নেমে সামিয়ার পিছু ছুটে। সামিয়া তার বাড়ির ২০০ গজ মধ্যে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে তার (সামিয়া) গলার মধ্যে চেপে ধরে পাশের বাঁশ ঝাড়ের দিকে নিয়ে যায়। বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে গেলে সামিয়া বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করে বলে পুলিশ সুপারকে জানায় গ্রেপ্তার সাব্বির। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলেও জানায় সাব্বির।
পুলিশ সুপারকে আরও জানায়, মুক্তিপণের জন্য সিদ্ধান্ত নিলেও, যখন সামিয়া সাব্বিরকে চিনে ফেলেছে এবং ছেড়ে দিলে তার মহাবিপদ হবে, ভেবে সে সামিয়াকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বঁাশের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে।সাব্বির পুলিশ সুপারকে আরও জানায়, সকাল নয়টার মধ্যে সামিয়াকে হত্যার পর সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে ‘ইমু’ আইডি থেকে অডিও বার্তায় ৫ লাখ টাকা ‘মুক্তিপণ’ দাবি করে সামিয়ার বাবার মোবাইলে পাঠায়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, সাব্বির জানায় ‘সে একাই সামিয়াকে খুন করেছে’। মুক্তিপণই ছিল তার মূল পরিকল্পনা।
গ্রেফতারকৃত সাব্বির উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেন ও সামিয়ার বাবা প্রতিবেশী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)। খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ও সখীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথদল কাজ করছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। খুনের মূল ও একমাত্র আসামি সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত চলছে। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামি সাব্বিরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ এবার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে যাত্রা শুরু করেছে স্টেশন অণু-পাঠাগার।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে এই অণু-পাঠাগার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এই স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে অর্ধ-শতাধিক বিভিন্ন ধরনের বই নিয়ে এ অণু-পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
অণু-পাঠাগার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমুদিনী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার খান, সহ-সভাপতি ডাঃ রাজেন্দ্র দেবনাথ, কর পরিদর্শক খন্দকার মিজানুর রহমান, টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রকিবুল হাসান, বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান প্রমুখ।
টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি ট্রেনের অপেক্ষমাণ যাত্রী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ট্রেনের জন্য বিভিন্ন সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। তখন মোবাইলে সময় অপচয় করি। অপেক্ষার এ সময়টুকু এখন আমরা বই পড়ে আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারবো, খুবই ভালো লাগছে।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান জানান, যাতায়াতের পথে ট্রেনের জন্য স্টেশনে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় যাত্রীরা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করেন। স্টেশনে বই পড়ার সুযোগ থাকলে যাত্রীরা বই পড়ে আনন্দে সময় কাটানোর মধ্যদিয়ে মনোজগতকে পরিশুদ্ধ করতে পারবেন। বই পড়ার এ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। ইতোমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি বাজারে সেলুন অণু-পাঠাগার ও বাসস্ট্যান্ড অণু-পাঠাগার চালু করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পবিত্র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভা ও জশনে জুলুছে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন।বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।
সম্মানিত মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ঢাকা সাবেক প্রিন্সিপাল শাহ্ সুফি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আমীরুল ইসলাম (পি.এইচ.ডি), আহমাদাবাদ শরীফ করটিয়ার পীর সাহেব শাহ্ সুফি সাইফুল্লাহিল ক্বাতেয়ী, আহমাদাবাদ দরবার শরীফ বুহুলী টাঙ্গাইলের পীর সাহেব শাহ্ সুিফ ক্বারী মাওলানা হাবিবুল্লাহ আল আহমাদি।
বিশেষ মেহমান ছিলেন টাঙ্গাইল সরকারি এম এম আলী কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, সরকারি সা’দত কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. ছাইফুল মালেক আনসারী, পিচুরিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব শাহ সুফি আহমাদ আলী, দেলদুয়ার মৌলভীপাড়া শাহীবাগ দরবার শরীফের পীর সাহেব শাহ্ হারুন-অর-রশিদ।
জেলা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির সভাপতি ও হাজিবাগ দরবার শরীফের খাদেম অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস খসরু সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর আল কাদেরী, দেলদুয়ার আলালপুর ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ সুফি আব্দুল ওহাব সিরাজী।
সরকারি এম এম আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগি অধ্যাপক আলী আশরাফ খান আর গাউছিয়া কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোর্শেদ আলম মাসুদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিম প্রমুখ।
মহানবীর জন্মদিনের আলোচনা শেষে পৌর উদ্যান থেকে বেলা ১২টায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জশনে জুলুছের একটি বিশাল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূনরায় পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা আক্তার (২৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার কথিত স্বামী রাশেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
বৃহস্পতিবার( ২৮ সেপ্টেম্বর)ভোরে ঢাকার সাভারের আমতলীর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রাশেদুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১ এর যৌথ একটি দল অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা কান্ডের পর থেকে রাশেদ পলাতক ছিল।
তিনি আরও জানান,খাদিজা আক্তার ও রাশেদ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের বিয়ের বিষয়টি খাদিজা আক্তারের পরিবারের লোকজন জানতে পারেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের কোন খোঁজ খবর না পেয়ে পরিবারের লোকজন বাসায় গিয়ে রুমের দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পরিবারের লোকজন ও বাসার মালিকসহ তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে তারা খাদিজা আক্তারকে খাটের উপরে পড়ে থাকতে দেখতে পান।
এসময় খাদিজার পায়ের গোড়ালীর পিছনের রগ কাটা ছিল। ঘটনার পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের বড় ভাই ইমান আলী (২৫) বাদী হয়ে রাশেদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল ইসলাম জানায়, মুন্নি আক্তার নামে তার স্ত্রী ও ৩ সন্তান রয়েছে। খাদিজা আক্তারের সম্পর্কের কথা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্বের স্ত্রীর সাথে তার মনোমালিন্য ছিল। খাদিজাকে নিয়ে সংসার করা অবস্থায় খাদিজা আক্তারও রাশেদের কাছে টাকা দাবি করেন।বারবার টাকা দাবি করায় এক পর্যায়ে রাশেদ উত্তেজিত হয়ে খাদিজাকে হত্যা করে।
একতার কণ্ঠঃ বিশেষ বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল টাঙ্গাইলের মধুপুর আওয়ামী লীগের বিভক্তি। উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশেষ বর্ধিত সভা’। কিন্তু তাতে উপস্থিত ছিলেন না দলটির উপজেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতা।
মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান ওরফে আবু খাঁ টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেন। গত মে মাসে এ ঘোষণা দেওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভক্তি প্রকাশ হতে থাকে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর অনুসারীরা সরোয়ার আলম খানের প্রার্থিতাকে ভালোভাবে নেননি। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগে বিভক্তি বাড়তে থাকে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি ও সরোয়ার আলম খান গত ২৩ জুন সমাবেশের আয়োজন করেন। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে দুই পক্ষের ‘মুখ দেখাদেখি’ বন্ধ হয়ে যায়।
আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর ফরহাদুল ইসলাম ও সাদিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকালের বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়।
মধুপুর অডিটরিয়ামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও তাঁদের অনুসারীরা অংশ নেননি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের নামে বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। কিন্তু আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কিছুই জানি না। যাঁরা এই সভা ডেকেছেন, তাঁরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে।’
সভা সূত্র জানায়, বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াকুব আলী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইয়াকুব আলী গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশেষ বর্ধিত সভা সফল হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবং ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দু-একজন অনুসারী ছাড়া সব নেতা-কর্মী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান বলেছেন, অনেক নেতাদের ভয় ও লোভ দেখিয়ে বর্ধিত সভায় নেওয়া হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনা করে খুব শিগগিরই উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকবেন।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলেছেন, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ আসনে ২০০১ সালে আব্দুর রাজ্জাক দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য হন। দুবার তিনি মন্ত্রীও হয়েছেন। মধুপুরে দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব দিয়ে রাখতেন সরোয়ার আলম খানকে। একসময় সরোয়ার দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে মে মাসে ঘোষণা দেন। গণমাধ্যমে কৃষিমন্ত্রীকে কটুক্তি করে বক্তব্য দেন। এর পর থেকেই দলীয় কোন্দল প্রকাশ পায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় মনিরা আক্তার(১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের ঘাটাইল-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের কুশারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মনিরা আক্তার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সরাবাড়ী কাজলা গ্রামের মান্নান মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৪জন।হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিল।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, মনিরা ও তার তিন বান্ধবী ধলাপাড়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শেষে অটোরিকশা যোগে করে বাড়ি ফিরছিল।
তিনি আরও জানান,পথে ঘাটাইল-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মনিরা আক্তার নিহত হন।আহত হয় তার তিন বান্ধবীসহ অটোরিকশার চালক।
তিনি জানান,স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।