আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে তেলের লরির আগুনে ২১টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার লাউহাটি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে লাউহাটি বাজারে তেলের দোকানের একটি মোটরসাইকেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তেই আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে। পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর ২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে খাবারের দোকান, মুদি দোকান, কম্পিউটারের দোকানসহ প্রায় ২১টি দোকান পুড়ে হাই হয়ে যায়।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল, নাগরপুর, দেলদুয়ার এবং মির্জাপুরের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহত হয়নি। আনুমানিক ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ট্রাক চালকের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকাল ৭টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উপজেলার হাতিয়া নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাহেরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ট্রাক চালকের নাম উত্তম কুমার দে(৪০)।সে বগুড়া সদর উপজেলার দিলীপ কুমারদের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, চালভর্তি একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঢাকাগামী আলুভর্তি আরেকটি ট্রাক হাতিয়া নামক স্থানে পৌঁছলে ওই দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে চালভর্তি ট্রাকের চালক মারা যান। আহত হন আরও দুইজন। পরে যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাহেরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহত চালভর্তি ট্রাক চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত দুইজনকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ইলিয়াস আলী নামে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) ৭ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মাসুদ খান, সার্জেন্ট খাইরুল ইসলাম, পুলিশ ভ্যানের চালক জামাল, কনস্টেবল হারুন-অর রশিদ ও রাশেদ, শ্রমিক ইলিয়াস আলী, আলু ব্যবসায়ী আল আমিন ও তুষার।
জানা গেছে, ঢাকাগামী আলুভর্তি একটি ট্রাক মহাসড়কের উপজেলার বাইপাস নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের ওপর তুলে দিলে ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে ট্রাকে থাকা আলুর বস্তা রাস্তায় পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ অ(ওসি) মাসুদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে রাস্তা সচল করতে রাত ৩টার দিকে ঢাকাগামী অপর একটি ট্রাকে আলুর বস্তাগুলো লোড করছিলেন শ্রমিকরা।
এ সময় পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন দুই আলু ব্যবসায়ী এবং ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা। এরমধ্যে ঢাকাগামী দ্রুতগতির অপর একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য, দুই আলু ব্যবসায়ী ও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পাঁচজনকে ভর্তি করা।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্রমিক ইলিয়াস আলীর মৃত্যু হয়।
নিহত ইলিয়াস আলী রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার গুলজার মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে সার্ভিস লেন দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। পরে শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক তিনটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতীর কামাক্ষা মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল আরোহী রাসেল রানা (২৫) সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার বাংগাছেও গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে এবং বকুল সরকার (১৭) একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন রাসেল ও বকুল। মহাসড়কের কালিহাতীর কামাক্ষামোড়ে পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পূর্ব থানার এসআই আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে লাশ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও দুই জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নল্যা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিএনজি চালক জামালপুর জেলার চাকথহ সরদার বাড়ী এলাকার জাহেদ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮) বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজ-রাজীব এন্টারপ্রাইজের যাত্রীবাহী একটি বাস জামালপুর হয়ে শেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে বাসটি উপজেলার নল্যা বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা টাঙ্গাইলগামী সিএনজির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি চালকসহ তিনজন গুরুত্বর আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিএনজি চালককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. শহিদুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত পরিবহন দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে শাহাদাৎ নামে ৪ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু শাহাদাৎ একই গ্রামের জুয়েলের ছেলে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে বলরামপুর এলাকায় জুয়েল মিয়া নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ করছে। বাড়ি করার জন্য বাড়ির পাশে ডোবা তৈরি করে মাটি উত্তোলন করেছিল। সেই ডোবায় সেচপাম্পের পানি জমে ভরাট হয়।
সোমবার সকালে শাহাদাৎ সেই ডোবার পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি পরিবারের কেউ জানতো না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শাহাদাৎকে ডোবায় খুঁজে পায় তার পরিবার। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক শিশু শাহাদাৎকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি কেউ জানায়নি।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দেলদুয়ার-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাথরাইল বটতলা এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় বেল্লাল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত বেল্লাল হোসেন উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বেল্লাল হোসেন বটতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকায় ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি পিকআপ অপর একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে পিকআপ চালক রাশেদ (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত রাশেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে।
উভয় ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়া পাঞ্জা পাড়া এলাকায় সড়কের পাশের ড্রেন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ড্রেন থেকে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে রাস্তার পাশে ড্রেনে অপরিচিত এক ব্যক্তির মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ড্রেন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহটি উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ড্রেনের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে । প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষে অটোচালক বাপ্পি(২৫) নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাপ্পি উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্যা গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকাল ১০টার দিকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে বাপ্পি বাসাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। কলিয়া এলাকায় পৌঁছালে মাটির বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালক বাপ্পি গুরুতর আহত হলে তাকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জালাল উদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহবুব আলম (২৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
সোমবার(২৭ জানুয়ারি ) ভোরে উপজেলার ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের কুঠিবয়ড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহবুব আলম জেলার গোপালপুর উপজেলার বসুবাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে, সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাহবুব আলম তার এক সহকর্মীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ভূঞাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। ভোর ৬টার দিকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে কুঠিবয়ড়া নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বিআরটিসির একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাহবুবের মৃত্যু হয়। আহত হয় এক মোটরসাইকেল আরোহী।দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে, সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করে।
পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে এম রেজাউল করিম জানান, মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সাভারে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনে নিহত বাবা-মা ও ছেলেকে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত অপরজনকে গোপালপুরে দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি )রাত সোয়া ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গ্রামে সামাজিক কবরস্থানে নিহত তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে অ্যাম্বুলেন্স গাড়িতে আগুনে নিহত চারজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
নিহতদের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন— ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শারমিন ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ।
নিহেতর এক স্বজন হাবিব সিদ্দিকী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ঢাকা থেকে চারজনের মরদেহ রাতে ঘাটাইলে আসে। প্রথমে বাবা ও ছেলের জানাজা হয়েছে। এরপর দুইবোনের জানাজা হয়। পরে সামাজিক কবরস্থানে বাবা মা ও ছেলের দাফন করা হয়। আরেকজনের গ্রামের বাড়ি যেহেতু গোপালপুর সেহেতু সেখানে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান। নিহতরা হলেন— ঘাটাইলের ভবনদত্ত গ্রামের ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী, তার স্ত্রী মহসিনা সিদ্দিকী, ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও মহসিনার বোন সীমা খন্দকার। সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে বাড়ি।
একতার কণ্ঠঃ ছোট্ট ফাহিমকে (৯) একা রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার বাবা, মা ও বড়ভাই। একই পথের যাত্রী হয়েছেন তার খালাও।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি)দুপুরে ফাহিমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে রাখা চারটি লাশের খাটিয়া। পাশেই সামাজিক কবরস্থানে চলছে কবর খোঁড়ার কাজ।
খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন স্বজনরা। এসেছেন এলাকাবাসীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিছুক্ষণের মধ্যে রবিন মিয়া নামে একজন গোপালপুর থেকে ফাহিমকে বাড়ি নিয়ে আসলেন। উঠোনে চেয়ারে বসতে দেওয়া হল তাকে। ঘিরে ধরলেন স্বজনরা। কেউ একজন পাশে থেকে বাবা-মা আর ভাইয়ের কথা তাকে জিজ্ঞেস করলে জবাবে সে জানায়, ‘মা-বাবা আর ভাই ঢাকা গেছে। লাশ আনতে গেছে মানুষ।’
এতটুকুর বাইরে ফাহিমের মুখ থেকে আর কোনো কথা বের হচ্ছিল না। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। চাচি শিউলী বেগম বুকে জড়িয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন সদ্য এতিম ফাহিমকে।
বুধবার রাতে সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার বাবা ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী (৪৭), মা মহসিনা সিদ্দিকী (৩৬), বড়ভাই ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও খালা সীমা খন্দকার (৩৮)। ফারুখ তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভবনদত্ত গ্রামে। আর সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে।
নিহত ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী ছিলেন ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার ছোটভাই মামুন সিদ্দিকী বলেন, তারা তিন ভাই একবোন। বোন সবার বড়। ইতালি প্রবাসী। বড়ভাই ফারুখ হোসেন সিদ্দিকীর বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেধাবী ছাত্র। শ্রেণিতে তার রোল দুই। ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী গোপালপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসায় হোস্টেলে থেকে হেফজ পড়ছে। ফুয়াদ হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে অসুস্থ। শরীরে রক্ত কমে যায়। তবে ডাক্তার বলেছেন থ্যালাসেমিয়া নয়।
মামুন আরও জানান বুধবার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি গোপালপুরে যান ফুয়াদ। ওই রাতে হঠাৎ করে বাথরুমে গিয়ে পড়ে যায় ফুয়াদ। দ্রুত রাত ১১টার দিকে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তার মা মহসিনা সিদ্দিকা ও খালা সীমা খন্দকার। পথে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন ফারুখ সিদ্দিকী। মামুন জানান, রাতে তার কাছে ফোন করে সবাইকে দোয়া করতে বলেন। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।
নিহত ফারুখ সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী তার চাচাতো বোন সোমা সিদ্দিকা বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোনে কথা হয়। এরপর রাতে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান ঢাকায় পুলিশে কর্মরত নিহত সীমা খন্দকারের স্বামী।
নিহত ফারুক হোসেন সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী মো. রুবেল মিঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক খুব নীতিবান ছিলেন। একজন নীতিবান মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন শিক্ষক আর হবে না। আমাদের সবসময় আগলে রাখতেন।
স্থানীয় দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জানান, রাতে তিনি ফারুক সিদ্দিকীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি আসেন। এক সঙ্গে চা পান করেছেন। তার ভাষ্য এলাকায় ফারুক সিদ্দিকীর মতো ভালো মানুষ আর হবে না। তার মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো গ্রামের মানুষ।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের ফুলবাড়িয়া পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান।