একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বংশাই নদীতে ডুবে শাজাহান আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বংশাই নদীর বিএডিসি এলাকার গোঁজা খালে ঘটনাটি ঘটেছে ।
নিহত শাজাহান আলী আউশনারা ইউনিয়নের বেলচুঙ্গি গ্রামের মৃত মসলিম উদ্দিন মসলতের ছেলে।
মৃতের স্বজনরা জানান, সারা বছরই মাছ ধরার নেশা ছিলো শাজাহান আলীর। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে ছেলে হাফিজুরকে সাথে নিয়ে বংশাই নদীতে মাছ ধরতে যায়। জাল টানার জন্য নদীতে নেমে জালের বাঁশ সরিয়ে নেয়ার সময় পানিতে ডুব দেয় শাহজাহান আলী। পরে ডুব দিয়ে না উঠায় তার ছেলে নদীতে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্থানীয়দের খবর দিলে তারাও খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের একটু অদূরে তার মরদেহ ভেসে উঠে এবং উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. আজিজুর রহমান শাহজাহান আলীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানান, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ডেঙ্গুজ্বরে মাকসুদা(৪৩) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নাগরপুর উপজেলার বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ নিয়ে এ মৌসুমে টাঙ্গাইলে ১৩ জন ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুবরণ করেছে। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন রোগী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ১৯২ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী।
এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৭ জন, নাগরপুরে ৩ জন, মির্জাপুরে ১২ জন, মধুপুরে ৪ জন ও ধনবাড়ী উপজেলায় ৬ জন রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রবিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে জেনারেল হাসপাতালের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘরের মাঝে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ইদ্রিস আলী জানান ,খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগতে পারে। যে জায়গায় আগুন লেগেছে সেখানে বড় মাইক্রোওয়েভ মেশিন দিয়ে মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাংগাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মো. জোবায়ের (১২) নামে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আড়াই পাড়া হামের মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশু জোবায়ের উপজেলার আড়াই পাড়া গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় ডাবাইল হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জোবায়ের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বিষাক্ত সাপ তাকে দংশন করে। তার চিৎকারে আশে পাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। পরে তার পায়ে ডোর বেধে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জোবায়েরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ বাড়িতে আনা হলে নিহতের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে একদিনের ভারী বৃষ্টির ফলে ভেসে গেছে মাছের পোনা। এতে করে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মৎস্য চাষীরা। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নতুন মৎস্য উদ্যোক্তারা। সরকারিভাবে প্রণোদনা সহায়তা না পেলে ঋনের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিরা। এদিকে, বৃষ্টির পানিতে নদী-নালা, খাল-বিলসহ ফসলি জমির ধানও তলিয়ে নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার ১২ টি উপজেলায় ৩’শ ৬৭টি পুকুর তলিয়ে যায়। তারমধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩০ জনের ৫০টি পুকুর, মির্জাপুরে ৫০ জনের ৫০ টি পুকুর, নাগরপুরে ৪৫ জনের ৪৫ টি পুকুর, সখীপুরে ৬২ জনের ১৬৭ টি পুকুর এবং ঘাটাইলে ৫৫ জনের ৫৫ টি পুকুর তলিয়ে যায়। এসব পুকুর থেকে ৮২ লাখ পোনা মাছ বেরিয়ে গেছে। যার মূল্য ৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
নতুন মৎস্য উদ্যোক্তা ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামের মো. হযরত আলী। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো বাড়ির পাশে এবার ২ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছিলাম। দু’মাসে বিভিন্ন প্রজাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করি। গত কয়েকদিন আগে একদিনের বৃষ্টির পানিতে পুকুর তলিয়ে সব পোনা বের হয়ে যায়। এনজিও থেকে ঋন করে মাছ চাষ করেছিলাম। আমার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর এলাকার মাছ চাষী মজিবুর রহমান, কদ্দুস মিয়া ও হুমায়ন কবীর বলেন, আমরা এ বছর ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। মাছের মধ্যে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও মিনার কার্ফসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ চাষ করি। সেগুলো বেশ বড় হয়েছিল। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টিতে পুকুর তলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পোনা মাছ লোকালয়ে বের হয়ে গেছে। পুকুর নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। বৃষ্টির পানিতে স্বপ্নগুলো ভেসে গেছে।
সখীপুর উপজেলার ইউসুফ হায়দার ও মন্টু সিকদারসহ আরও একাধিক মাছ চাষীরা বলেন, গত কয়েকতিন আগে হঠাৎ করে টানা ভারী বৃষ্টির পানিতে পুকুর তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এরআগে এমনভাবে কখনো ক্ষতি হয়নি। কিভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠব কিছু বুঝতে পারছি না। তাছাড়া এ পর্যন্ত মৎস্য অফিস থেকে কেউ খোঁজ-খবর নেয়নি। ক্ষতি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে মৎস্য অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গত কয়েকদিন আগে টানা বৃষ্টির পানির কারণে জেলার ৩৬৭টি ছোট-বড় পুকুর তলিয়ে ৮২ লাখ পোনা মাছ লোকায়ের খাল-বিলের পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা যদি ব্যাংক ঋণের জন্য সহযোগিতা চায় তাহলে দ্রুত তা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সাপের কামড়ে কালাম মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের মুরাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কালাম মিয়া কালিহাতি উপজেলার বল্লা এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে। তিনি মুরাইদ গ্রামে হযরত আলীর জামাতা। শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন তিনি।
কবির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আমরা কয়েকজন মিলে চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরতাম। কালাম মাঝেমধ্যে এসে দেখত জালে সাপ আটকা পড়েছে কিনা। সাপ আটকা পড়লে তাকে জানাতে বলত। মঙ্গলবার সকালে একটি সাপ জালে ধরা পড়লে তাকে জানাই, সে চায়না জাল থেকে সাপ ধরতে গিয়ে ছোবল খায়।
গারোবাজার এলাকার মো. বুলবুল তরফদার নামে একজন জানান, সাপ নিয়ে ঘটনাস্থল মুরাইদ থেকে অটোভ্যান চালিয়ে সাপুড়ে ওস্তাদের উদ্দেশে সাগরদিঘি বাজারের দিকে রওনা দেন কালাম। কিন্তু রাস্তায় গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে কালামকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আ. রাজ্জাক বলেন, সকালে খবর পাই একব্যক্তি সাপসহ রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। তিনি পেশায় একজন অটোভ্যানচালক। ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা জানান লোকটি মাঝেমধ্যে সাপ ধরত। পরে এলাকার লোকজন এসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক সিএনজিতে হঠাৎ করে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে সিএনজিতে থাকা যাত্রী ও চালক মো. সাইফুল মিয়া অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
সিএনজি চালক সাইফুল মিয়ার বাড়ি গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামে।
রবিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের ভূঞাপুর পৌর শহরের ডলি-কলি স্টোর নামে দোকানের সামনে সাইফুলের সিএনজিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মো. আনিছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে ডলি-কলি স্টোরের সামনে ওই সিএনজিতে একজন যাত্রী ওঠেন। তার কিছুক্ষণ পরই সিএনজি থেকে আগুন বের হতে থাকে। পরে যাত্রী ও চালক নেমে যায় এবং মুহুর্তেই পুরো সিএনজিতে আগুনে পুড়ে যায়। তারপর ঘটনাস্থলে লোকজন আগুন নেবাতে সহযোগিতা করেন।
এ ঘটনায় সিএনজি চালক সাইফুল মিয়া বলেন, দুপুরে এলেঙ্গা থেকে গ্যাস তুলে রওনা হই নলিন যাওয়ার উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে ভূঞাপুর পৌর শহরের ডলি-কলি স্টোরের সামনে পৌঁছলে নলিনের একজন যাত্রী উঠানোর পর কয়েক গজ আগানো হলে স্থানীয় লোকজন বলল আমার সিএনজিতে আগুন লেগেছে।
তিনি বলেন, এরপর তাৎক্ষণিক যাত্রীসহ আমি নেমে পড়ি। তখন মুহুর্তের মধ্যে পুরো সিএনজিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর লোকজন দ্রুততার সাথে আগুন নেবানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তারা এসে সকলের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও সিএনজির অনেক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে কিস্তি করে সিএনজিটি কিনেছিলাম। অভাব-অনটনে তিন সন্তানসহ ৬ সদস্যের পরিবার চলতো সিএনজির টাকায়। তা চোখের সামনে মুহুর্তেই পুড়ে গেল আমার স্বপ্ন। এখন প্রায় দেড় লাখ টাকার কাজ করাতে হবে। এমন অবস্থায় কিস্তি ও পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা ছাড়া উপায় নেই।
সিএনজিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মো. আনিছুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া হয় এবং দেখি আগুন জ্বলছে। পরে সকলের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুন লাগার সূত্রপাত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অটোরিক্সার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো পিকআপভ্যান উল্টে পড়ে লিটন মিয়া নামের এক অটোরিক্সা চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিক্সার এক নারী যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকালে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার বকলবাড়ীর ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অটোরিক্সার চালক লিটন উপজেলার চরভাতকুড়া গ্রামের আলী আকন্দের ছেলে।
এই ঘটনায় আহত শিখা (৩৫) ওই উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
ধনবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা টাঙ্গাইলগামী একটি পিক-আপ ভ্যান জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ফকিরবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত মুখী একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার উপর উল্টে পড়ে । এতে অটোতে থাকা চালক ও নারী যাত্রী গুরুতর আহত হয়। প্রথমে গুরুতর আহত অটো চালক লিটনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, পিক-আপ ভ্যানটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রিন্স আন্তনি রোজারিও (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (০৪ অক্টোবর) বিকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দী বাজার (নিশান মোড়) নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
প্রিন্স আন্তনি রোজারিও ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়ানগর এলাকার ফিলিপ রোজারিও’র ছেলে।
তিনি যমুনা নদীর ওপর নির্মাণাধীণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের আইএইচআই কোম্পানির এক কর্মচারী এবং সহকারী বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রিন্স আন্তনি রোজারিও নামে ব্যক্তিটি দুপুরের খাবার খেয়ে মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিরাজকান্দী বাজারে পৌঁছলে তার সামনে থাকা বালুভর্তি একটি ট্রাক ওভারটেক করার চেষ্টা করে। সেসময় বালুভর্তি ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করে যায়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া জানান, খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের টাঙ্গাইল জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।
এসআই লিটন মিয়া আরও জানান, নিহত ব্যক্তি নির্মাণাধীণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের আইএইচআই কোম্পানিতে সহকারী বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পুনাবার্সন গ্রামে পরিবার নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ পাঁচ বন্ধু কলেজে পড়েন। তারা সবাই ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। থাকেন ঘাটাইল উপজেলার শাহপুর এলাকার রাকিব ম্যানশন ছাত্রাবাসে। এই ছাত্রবাসের পাশেই রয়েছে পুকুর। সেই পুকুরে সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে গোসল করতে নামেন এই পাঁচ বন্ধু। চার বন্ধু সাঁতরে পাড়ে উঠলেও মাঝ পুকুরে ডুবে যান নূর ইসলাম (১৮)। প্রায় দেড়ঘণ্টা পর পুকুর থেকে স্থানীয়রা তার লাশ উদ্ধার করেন।
নিহত কলেজ ছাত্র নূর উপজেলার গারোবাজার এলাকার নতুন বাজার গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
নূরের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে যাওয়া নাহিদ হাসান বলেন, আমি, নূর, রাসেল মিয়া, কাউসার আহমেদ ও আব্দুল্লাহ ছাত্রাবাসের পাশের পুকুরে গোসল করতে যাই। পুকুরটি বেশ বড়। পুকুরের লম্বালম্বি এপার থেকে ওপার সাঁতার দেই আমরা। আমরা তিন জন সাঁতরে পাড়ে উঠলেও নূরকে দেখতে পাইনি। এসময় পুকুরে সাঁতাররত কাউসারকে জিজ্ঞেস করি নূরের অবস্থান।
নাহিদ জানান, এমন কথায় কাউসার শুরুতে ভাবেন তার সঙ্গে মজা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সবাই মিলে নূরকে অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে খোঁজ করেন ছাত্রাবাসে। সেখানেও দেখা না পেয়ে বিষয়টি অবগত করেন ছাত্রাবাসের বড় ভাইদের। এরই মধ্যে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম ফোন করেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগে পুকুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ চালান। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুকুরে নামার আগে স্থানীয় লোকজন নূরের লাশ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনাটি তার বাড়ির পাশেই। বিষয়টি জানার পর তিনি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করেন। স্থানীয় যুবকরা খবর পেয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। মাঝ পুকুরেই ওই কলেজ ছাত্র ডুবে যায়।
ঘাটাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সুজন মিয়া বলেন, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে যান। পুকুরে ডুবুরি নামাতে যাবেন ঠিক সেই সময় স্থানীয় একজনের পায়ের সঙ্গে নূরের মরদেহ উঠে আসে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পুকুরের মাঝখানে ডুবে যান নূর। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনীপ্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি চলক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিএনজি চালক উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মাজম ফকিরের ছেলে আজমত আলী (৬৫)।
বঙ্গবন্ধু সেতু পুর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর আশরাফ জানান, দুপুরে আজমত সিএনজি নিয়ে রেলক্রসিং পাড় হওয়ার সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিএনজিকে ধাক্কা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এতে ঘটনাস্থলেই চালক আজমত নিহত হন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মরদেহ ও সিএনজিটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণের সময় কামাল হোসেন নামের এক এসআইয়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১ অক্টোবর) সকালে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে এক কিলোমিটার দৌড়ের সময় তার মৃত্যু হয়। তাকে হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহত কামাল হোসেন পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার পাকজল গ্রামের মৃত মোকসেদ আলী ফকিরের ছেলে।
তিনি বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার ডিসি নম্বর (৪৪)।
জানা গেছে, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ১নং কোম্পানির ডিপার্টমেন্টাল ক্যাডেট মো. কামাল হোসেন সকালে এক কিলোমিটার দৌড়ের পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরে তিনিসহ আরও কয়েকজন পিটি টেস্টের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা চিকিৎসা দিয়ে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ পিটিসিতে ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, ‘ওই পুলিশ সদস্যকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডেন্ট (ডিআইজি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় অ্যাডিশনাল ডিআইডিজ আশরাফুল আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’