একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে পিকআপভ্যান ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ছেলে। মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শি ও স্থানীয়রা জানান, কাইতকাই গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী শাহজাহানের স্ত্রী ছাহেরা (৩৫) ও তার ছেলে সোয়াইব (৬) সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে ধনবাড়ী থেকে স্বামীর বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কাইতকাই সামাজিক বনায়ন নার্সারির কাছে পৌঁছালে একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে আহত ছাহেরা মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ পিকআপভ্যানটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যান।
এ ব্যাপ্যারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পিকআপটিভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাইভেটকার চালক মিল্টন মিয়া (৩৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সখীপুর-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের কালিয়া বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিল্টন মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের গাজেশ্বরী গ্রামের মোতাহার মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কালিয়া বাজারে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেটকার চালক মিল্টন গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মিল্টন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৩১ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলা সদরের নগরজালফৈ বাইপাস এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে প্রাইভেটকারের সামনের অংশ ধুমড়ে মুচড়ে গেছে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- প্রাইভেটকারচালক মো. ইলিয়াস হোসেন (৩৫) সে বরগুনা জেলা সদরের সোনাখালী গ্রামের আ. মান্নানের ছেলে। নিহত অপরজন হচ্ছেন, সিরাজগঞ্জ সদরের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে শাহ আলম (৪৫)।
এ দুর্ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার মৃত দারুজ্জামান তালুকদারের ছেলে মো. আনিছুর রহমান (৫৫) ও একই জেলার সদর উপজেলার আইএইচ সিরাজী রোডের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে এ কে এম মাহফুজুর রহমান আল্লাল (৫৫) আহত হয়েছেন।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাজেদুল ইসলাম জানান , রবিবার সকালে তিনজন যাত্রী নিয়ে প্রাইভেটকারের চালক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন।প্রাইভেটকারটি নগরজালফৈ বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়।
তিনি আরও জানান, এতে ঘটনাস্থলে চালক নিহত হন। আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুই জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় খাদিজা আক্তার (২৫) নামের এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৪ টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদিজা আক্তার উপজেলার দৈবগাতী গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বিকালে জোকারচর বাসস্ট্যান্ডে সড়ক পারাপার হওয়ার জন্য সড়কের দক্ষিণপাশে দাঁড়িয়ে ছিল খাদিজা। পথিমধ্যে উত্তরবঙ্গগামী বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল ওই নারীকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৭ টা ১০ মিনিটের দিকে সে মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে সেখান থেকে দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় ঢাকা-সখীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তক্তারচালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম সাজিবুল হাসান সুজন (৩৫)। তিনি উপজেলার বড়চওনা গ্রামের আবদুল বাছেদের ছেলে। সে স্থানীয় বড়চওনা বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় সুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুজনের পরিবার জানায়, সুজন মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে তক্তারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশটি সুজনের বাড়ি পৌঁছে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, দাঁড়ানো ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়নি।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে লরি ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আগুন ধরে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এলেঙ্গা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জোকার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর আশরাফ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কনটেইনারবাহী লরি ও উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা কাভার্ডভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।এতে দুই গাড়িতেই আগুন ধরে যায়। এতে দুইজন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পরে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। এ
ঘটনায় আহত অপরজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. সেলিম হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার এলেঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল আরোহী সেলিম হোসেন জেলার গোপালপুর উপজেলা সদরের মাদারজানি এলাকার জব্বার খলিফার ছেলে। সে গাজীপুর জেলার শফিপুর আনসার একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, বিকেলে গোপালপুর থেকে মোটরসাইকেল যোগে সেলিম হোসেন টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই ট্রাকটি স্থানীয় লোকজন আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি বোঝাই ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিক্সার চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
শনিবার (১৬ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার গোড়াই মিলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার বহুড়িয়া ইউনিয়নের শফি উদ্দিনের ছেলে অটোরিক্সার চালক তোফাজ্জল হোসেন (৩৫) এবং দেউহাটা গ্রামের রতন বাকালির ছেলে অটোরিক্সার যাত্রী সুশান্ত বাকালি (৩৫) ।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, রাতে যাত্রী নিয়ে অটোরিক্সাটি দেউহাটার দিকে যাচ্ছিল। এসময় পিছন থেকে মাটি বোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক অটোরিক্সাটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিক্সার চালক নিহত হয় ও অটোরিক্সায় থাকা ৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুল্লা এলাকায় ট্রাক চাপায় এক পুলিশের এসআই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৯ মার্চ) দুপুরে মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মো. ইউনুস আলী উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসাবে কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মো. ইউনুস আলী কেরানীগঞ্জ থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত থাকার পূর্বে তিন বছর টাঙ্গাইল থানায় কর্মরত ছিলেন। সে সুবাধে তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বের বাসা টাঙ্গাইল মডেল থানার পাশেই বসবাস করেন। গত কয়েক দিন পূর্বে তিনি ছুটিতে আসেন। শনিবার দুপুরে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য মোটসাইকেল যোগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছালে পিছন থেকে দ্রুত গতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমীন জানান, ঘাতক ট্রাক ও চালককে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ ।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে গোড়াই হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়।
সে উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের আয়নাল মিয়ার ছেলে।
মেহেদী বেইলি রোডের বহুতল ভবনের ২য় তলায় একটি ফাস্টফুডের দোকানে চাকরি করতেন। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এই ভবনে আগুনে নিহত ৪৬ জনের মধ্যে তিনিও একজন।
নিহতের ছোট ভাই ইসরাফিল একই জায়গায় কাজ করলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি একটি কাজে ভবনের অন্য একটি তলায় গিয়েছিলেন। যে কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে আছেন।
শুক্রবার (১ মার্চ) নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মা ও বোন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মেহেদীর অকালমৃত্যু এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছে না। ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় বাবা আয়নাল মিয়া।
নিহত মেহেদীর ভাই ইসরাফিল বলেন, তারা দুই ভাই একই জায়গায় কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের আগেই তিনি একটি কাজে ভবনের অন্য আরেকটি ফ্লোরে ছিলেন। পরে তিনি ভবন থেকে লাফিয়ে প্রাণে বাঁচেন। সকালে ভাইয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে এসে দাফন করেছেন। সরকারের কাছে সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বোন সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার ভাই বৃহস্পতিবার ফোন দিয়ে বলেছে- তুমি বাবার বাড়ি যাও, আমি আসব। আমার সেই ভাই আর এলো না। আমার ভাই রেস্টুরেন্টে চাকরি করত। আমার ভাইয়ের আয় দিয়ে সংসার চলত। মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন পেত। শুক্রবার আসার কথা ছিল। আর এলো না আমার ভাই।
বাবা আয়নাল হক জানান, অভাব অনটনের সংসার চালাতেই দুই ভাই কাজ করতেন বেইলি রোডের ওই ভবনে। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে মেহেদীর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। পাসপোর্ট করার জন্য কাগজপত্র রেডি করতেছিল। মেহেদী স্বপ্ন দেখতো, বিদেশে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের অভাব অনটন দূর করবে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। তার স্বপ্ন পূরণ হলো না। সরকারের কাছে তিনিও সহযোগিতা কামনা করছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিলা বিনতে মতিন জানান, মেহেদীর পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে। এই পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হাফেজ আবু রায়হান (১৭) নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীর নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন সড়ক) পুষ্টকামুরী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফেজ আবু রায়হানের বাড়ি উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। সে এ বছর মির্জাপুর আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বাবা স্কুলশিক্ষক হাবিবুর রহমান। তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু রায়হান এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। বাবা হাবিবুর রহমান উপজেলার ছিট মামুদপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে মির্জাপুর সদরের আফাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যাচ্ছিল রায়হান। ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে উপজেলার বাঁশতৈল পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার বাবার। পথিমধ্যে পুষ্টকামুরী এলাকায় পৌঁছালে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে আহত হন। এ সময় গরুভর্তি একটি পিকআপ পরীক্ষার্থী আবু রায়হানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলু মিয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক পিকআপ নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ও বীরহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ভূঞাপুর পৌর শহরের বীরহাটি গ্রামের আব্দুল হালিম (৩৮), বামনা হাটা গ্রামের জহুরুল ইসলাম (২৩), ফসলান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান (৩৮), পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামের লিলি বেগম (৩০), ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের কেরামত আলী (৬৫), স্কুলছাত্রী জুই খাতুন (৯), পৌরসভার বেতুয়া এলাকার জহুরা (৫০) এবং নিকরাইল এলাকার নাসিমা বেগম (৪৫)। অপর আহত আরও ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহত জহুরুল ইসলাম জানান, ইব্রাহীম খাঁ মাজারের কাছে একটি পাগলা কুকুর লাফ দিয়ে আমার উপর এসে পড়ে এবং পায়ে কামড়ে দেয়। এরপরই সেখানে থাকা আরও কয়েকজনকে কামড়ে দিয়েছে।
অপর আহত উপজেলার কষ্টাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আতিকুর রহমান জানান, বাসা থেকে বের হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিতে যাওয়ার সময়ই দৌড়ে এসে কুকুর কামড়ে দিয়েছে। পরে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে এসে দেখি ভ্যাকসিন নেই। বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে দিতে হয়েছে।
এদিকে, পাগলা কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণ না করায় বিভিন্ন জায়গাতে গিয়ে পথচারীদের উপর আক্রমণ ও কামড়াচ্ছেন। এতে আহতদের সংখ্যা বাড়ছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে গুরুত্বর আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইফাত ফারজানা জানান, কুকুরের আক্রমণে শিকার হয়ে ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুত্বর ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের কিনে আনতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি জানা নেই। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।