সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতীর কামাক্ষা মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল আরোহী রাসেল রানা (২৫) সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার বাংগাছেও গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে এবং বকুল সরকার (১৭) একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন রাসেল ও বকুল। মহাসড়কের কালিহাতীর কামাক্ষামোড়ে পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পূর্ব থানার এসআই আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে লাশ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ‘পাগলের আশ্রম’ চালু করার ঘটনায় ছাত্র প্রতিনিধি মারইয়াম মুকাদ্দাসকে (মিষ্টি) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
রোববার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আকুরটাকুর পাড়া হাউজিং এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) রাতে সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি হিসেবে মারইয়াম মুকাদ্দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে নয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মারিয়ামের স্বামীর নাম শাহ্ আলমাস, বাবার নাম মাজাহারুল ইসলাম। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের যশিহাটী গ্রামে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়া ছোট কালীবাড়ি সড়কে জোয়াহেরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের কেঁচিগেটের ছয়টি তালা ভেঙে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি অজ্ঞতনামা আরও আট থেকে নয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ভবনে ঢোকেন। তাঁরা ৫ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যান। এ ছাড়া আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁরা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিন্নমূল মানুষকে ভবনের কক্ষে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাদী (রওশন আরা খান) বাসায় গিয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাসকে ঘটনার বিষয় জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় মারিয়াম ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন আরাকে বলেন, এ বাড়িতে বসবাস করতে হলে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় আগামী সাত দিনের মধ্যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মারিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে সোমবার (১০ মার্চ) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মারইয়াম মুকাদ্দাসের নেতৃত্বে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ও সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি দখল করে বৃদ্ধাশ্রম, পাগলদের আশ্রম, পশু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
শনিবার (৮ মার্চ) জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ছিন্নমূল মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের ওঠানো হয়। পরে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন শরিফের নেতৃত্বে ১৭ জন ছিন্নমূল মানুষকে উদ্ধার করে দখল হওয়া বাড়িটি খালি করা হয়। শনিবার রাত দুইটার দিকে মুচলেকা নিয়ে মারিয়ামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে ময়মনসিংহের ধলা ও গাজীপুরের কাশিমপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরে ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের করায় প্রকাশ্যে হামলা ও ক্রমাগত হুমকীতে বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ কারণে অবিলম্বে ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাদী বিএনপি নেত্রী জাহানারা আক্তার।
টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি জাহানারা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তার নাগরপুর উপজেলা সদরের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা তাকে ও তার ছোট ছেলে জাহিদ হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট ও নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে নাগরপুর থানায় মামলা (নং-২, তাং-১/০৩/২০২৫) দায়ের করেন। এদিন তিনি ও তার বড় ছেলে সিরাজ আল মাসুদ ছোট ছেলে জাহিদ হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে বাড়ি থেকে বের হলেই ৫ থেকে ৬ জনের একদল লোক দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় তার বড় ছেলে সিরাজ আল মাসুদ হামলা প্রতিহত করতে গেলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রনক (১৯) নামে একজনকে আটকে ফেলেন। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নাগরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা আক্তার বলেন, রনককে পুলিশে সোপর্দ করার পর থেকে ডাকাতরা নানা পরিচয়ে নানাভাবে (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল) হুমকী-ধমকি দিতে থাকে। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বাবনাপাড়া গ্রামের কিরন মিয়ার ছেলে ফাহাতকে (২০) গ্রেপ্তার করে। এতে ডাকাতরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকী-ধমকি দিয়ে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হলেও তারা কার্যত বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি এসএম মহিউদ্দিন মাহমুদ ওরফে মোহন (তিনটি মামলার আসামি) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি নিজে এবং অন্যদের সহযোগিতায় গুলি করে মেরে লাশ গুম করাসহ নানা হুমকী-ধমকি দিচ্ছেন। তাদের ক্রমাগত হুমকীতে ভীত হয়ে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অধিক কর্মতৎপরতার পাশাপাশি প্রধান আসামিসহ অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, দেলদুয়ার উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রেবেকা পারভিনসহ পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাহাবউদ্দিন মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলাসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ধর্ষনের সর্বোচ্চ বিচার ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৯ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু যৌন নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
এতে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, শিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠক মোনালিসা মুন্নি, সমাজকর্মী নাহার চাকলাদার, সাংবাদিক রতন সিদ্দিকী ও আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্র ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক তাওহীদা সপ্নীল, দপ্তর সম্পাদক প্রেমা সরকার, পৌর কমিটির আহবায়ক আদিবা হুমায়রা, সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মুনঈম, সদস্য শিশির প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ ঠিক তার উলটো পথে হাঁটছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কেবল খান দান আর ঘুমান আর মধ্য রাতে তামাশার প্রেস বিজ্ঞপ্তি করেন। আমরা এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই এবং আছিয়াসহ সকল ধর্ষণের বিচার চাই।
তারা আরও বলেন, ২৪-এর ছাত্র শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানের পরেও বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। আমরা মাগুরায় ৮ বছরের শিশু আসিয়াকে ধর্ষিতা হতে দেখলাম। আমরা মির্জাপুরের ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষিতা হতে দেখলাম।
সাহান হাসানঃ ‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (৮ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্যাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ‘পাগলের আশ্রম’ চালু করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক পরিচয়ধারী এক তরুণী।
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে প্রায় ২৫ জন ছিন্নমূল মানসিক প্রতিবন্ধীকে নিয়ে এই আশ্রম চালু করেন তিনি।
ওই তরুণীর নাম মারইয়াম মুকাদ্দাস ওরফে মিষ্টি। তিনি নিজেকে আল মুকাদ্দাস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের যশিহাটি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজহারুল ইসলামের মেয়ে তিনি। স্নাতক করেছেন ঢাকার শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জোয়াহেরুল ইসলামের শহরের ছোট কালিবাড়ী এলাকার বাড়িটি দখলের সময় সেখানে সাবেক এই সংসদ সদস্যের পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বেলা তিনটার দিকে শহরের ছোট কালিবাড়ী এলাকায় জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা ভবনের নিচতলায় বিভিন্ন বয়সের ১১ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ অবস্থান করছেন। আরও লোকজন ছিলেন ভবনটির তৃতীয় তলায়। সেখানে অবস্থান করছিলেন মারইয়াম মুকাদ্দাস নামের ওই তরুণী। এসময় তিনি বলেন, তার এই আশ্রম সদর উপজেলার খেজুরতলা এলাকায় ছিল। শনিবার দুপুরে জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়িতে এটি স্থানান্তর করা হলো। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা জনগণের টাকা লুটপাট করে বাড়িঘরসহ এসব সম্পদ করেছিলেন। তাই এগুলো এখন জনকল্যাণে ব্যবহার করা হবে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মারইয়াম মুকাদ্দাসের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
দুই দিন আগে মারইয়াম মুকাদ্দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের বাসা পাগলের আশ্রম, প্রয়াত সভাপতি ফজলুর রহমান খানের বাসা প্রতিবন্ধীদের আশ্রম, সাবেক এমপি তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের বাসা অ্যানিমেল শেল্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেলের বাসা বৃদ্ধাশ্রম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বাসা এতিমখানা এবং আওয়ামী লীগ অফিস পাবলিক টয়লেট করা হবে। সেখানে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আরও নাম সাজেস্ট করুন, তথ্য দিন। একেক করে সমাজের ও টাঙ্গাইলের উন্নয়নের কাজে লাগুক আওয়ামী লীগের অবৈধ সম্পদ।’

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জোয়াহেরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ অর্ধ ডজন মামলা আছে। তাঁর বাড়ি দখলের বিষয়ে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তাঁর মেয়ে জাকিয়া ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তাঁদের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তাঁদের পরিবারের প্রায় সবার নামেই মামলা থাকায় বাড়িতে থাকছেন না। তিনি আরও বলেন, ‘দেশে আইন নেই, প্রশাসন নেই, তাই এমন অরাজকতা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল শাখার সদস্যসচিব আবু আহমেদ শেরশাহ বলেন, ‘মারইয়াম মুকাদ্দাস বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে নেই। ওনার কোনো কর্মের দায় আমরা নেব না। আন্দোলনের সময় অনেকেই সক্রিয় ছিল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল শাখার আহ্বায়ক আলামিন তাঁর ফেসবুকে ওয়ালে লিখেছেন, মিষ্টি আপুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমি অবগত নই; এবং আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, আমার সহযোদ্ধারাও অবগত নন। তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি আমার কোনো ধরনের সমর্থন নেই।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি লোকমুখে শুনেছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা, নির্যাতন ও হয়রানীর অভিযোগ করেছেন সংখ্যালঘু পরিবারের এক নারী।
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্তোরায় সাংবাদিক সম্মেলনে উর্মিতা সাহা কলি নামের এক নারী অভিযোগ করেন, হামলা-মামলা থেকে রেহাই পেতে স্বামীকে তালাক দেয়ার পরেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেননা তিনি।
লিখিত বক্তব্যে উর্মিতা সাহা কলি জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় ১৪ বছর আগে সোনারতরী নামের একটি এনজি’র কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৪ সালে তার স্বামী পিন্টু দে সেখানে কর্মী হিসেবে যোগদান করেন। মির্জাপুরের সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ’র ঘনিষ্ট ও আশির্বাদপুষ্ট মো. জাহাঙ্গীর আলম হলেন এই সংস্থার নির্বাহী পরিচালক। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু গত প্রায় এক বছর আগে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের প্রায় চার কোটি টাকা সংস্থার একাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় আমার স্বামী পিন্টু দের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, অর্থ লোপাটের বিষয়টি আগেই জানতে পেরে তার স্বামী পিন্টু দে লোপাটের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব কিছুই এমপি সাহেব অবগত আছেন। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন। এর কিছুদিন পর জানতে পারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিন্টু দের নামে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর থেকেই পিন্টু বাড়ি ছাড়া হন। তাকে না পেয়ে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন আমার বাড়িতে এসে হুমকি ধামকি দেয়।
তিনি আরও জানান, এসময় তারা আসবাবপত্র ভাংচুর এবং এক পর্যায়ে আমার ১২ বছরের একমাত্র মেয়ে উপমা দে কে অপহরণের চেষ্টাও করে। এ ঘটনার পর এলাকার লোকজন আমাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। আমার নামেও মামলা হবে এমন কথাও বলেন অনেকে। এ অবস্থায় কোন কুল কিনারা না পেয়ে আমি স্বামীকে তালাক দেই। কিন্তু তাতেও আমি রেহাই পাইনি। জাহাঙ্গীর আলমের এনজিওর কিছু গ্রাহক ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে আমার বাড়িতে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়। বাড়ির কাছে মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে। এবং আমাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে আমি হামলা ও ভাঙচুরের মামলা দায়ের করি। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। এরপর আমি থানায় দুইটি সাধারন ডায়েরি করি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ছয়মাস আত্মগোপনে থাকার পর পিন্টু দে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পায়। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাকেব গত ১৫ দিন আগে নিন্ম আদালতে হাজির হতে গেলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পিন্টুকে আদালত চত্বর থেকে তুলে নিতে চেষ্টা করে। কিন্তু আশপাশের লোকজনের বাঁধার মুখে তারা ব্যর্থ হয়। মামলায় পিন্টু দে কারাগারে রয়েছে। অজ্ঞাত স্থান থেকে জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক সংসদ সদস্যের সন্ত্রাসীরা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী উর্মিতা সাহা কলি প্রভাবশালীদের হামলা-মামলা, নির্যাতন ও হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা পেতে গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অপহরণের পর বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ মার্চ) দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে শহরের থানাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় মোমিনুল ইসলাম (৩৩) নামে অপহৃত একজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ব্রাহ্মণ কুলিয়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিন তালুকদার (৩২) ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে কুতুব উদ্দিন রনি (২৮)।
পুলিশ জানায়, অপহৃত মোমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে টাঙ্গাইল শহরের রেজিস্ট্রি পাড়ায় কর্মরত ছিলেন। এ সুবাদে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিয়া মনি নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। বুধবার (৫ মার্চ) রাতে রিয়া মনি মোমিনুলকে শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ে ডেকে আনেন। পরে তার সঙ্গে থাকা দুইজন মোমিনুলকে জোরপূর্বক শহরের থানাপাড়ার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পরবর্তীতে তারা বাড়ি থেকে নগদ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেয় পরিবারকে। অপহরণকারীরা মোমিনুল ইসলামের সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বলে বাড়িতে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দিতে বলে। পরে মোমিনুলের বাবা মোহাম্মদ আলী প্রথমে বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা দেন। পরে তার স্ত্রী বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকার জন্য তারা মোমিনুল ইসলামকে মারধর ও নির্যাতন করে। এভাবে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা দিতে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। বিষয়টি পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোমিনুল ইসলামকে উদ্ধার করে। এসময় দুইজনকে আটক করা হয়। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মোমিনুল ইসলাম রাতে বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দেবরের দায়ের কোপে ভাবি খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা-বাবা ও চাচাসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ইচাইল গ্রামের ভাদিলাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ইচাইল গ্রামের ভাদিলাপাড়ার নিমাই সরকারের ছেলে মোটরসাইকেল মেকানিক আনন্দ সরকার বুধবার বিকেলে বাড়ি গিয়ে চাচাতো ভাই রঞ্জিত সরকারের স্ত্রী রাজেশ্বরী সরকারের (৩৬) কাছে দা চান। দা পাওয়ার পর হঠাৎ আনন্দ সরকার বৌদি রাজেশ্বরীকে মাথায় কোপাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাবা নিমাই সরকার, মা মিষ্টি সরকার, চাচা দুলাল সরকার, আরেক বৌদি দিপা সরকার, সুমা সরকার এবং প্রতিবেশী দিগেন সরকারকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এদের মধ্যে নিমাই সরকার ও সুমা সরকার বাদে ৪ জনকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আনন্দ সরকারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রাজেশ্বরী সরকারের ১৭ বছরের একটি কন্যা ও ৭ মাসের একটি ছেলে রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনন্দ সরকার বলেন, আমার মোটরসাইকেলের কিকার ঠিক করতে বৌদির কাছে দা চেয়েছিলাম। দা হাতে নেওয়ার পর মাথায় চক্কর মারে। এরপর কী হইছে আমি জানি না।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, ঘটনার পর আনন্দ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের সাফর্তা বৈরাম খানের লেবু বাগান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার সাফর্তা গ্রামের সেলিম খানের ছেলে মো. রাকিব খান (২৪) ও লালমনিহার জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পাখাতি গ্রামের মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩৭)।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, মাদক বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে বৈরাম খানের লেবু বাগানে অভিযান চালায় তারা। এসময় পুলিশকে দেখে গ্রেপ্তার বাদশা মিয়া ও রাকিব খান দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে।
তিনি আরও জানান, বাজারের ব্যাগে ভর্তি ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো. শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুক্তিযোদ্ধাগণ ও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করার লক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও দুই জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নল্যা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিএনজি চালক জামালপুর জেলার চাকথহ সরদার বাড়ী এলাকার জাহেদ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮) বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজ-রাজীব এন্টারপ্রাইজের যাত্রীবাহী একটি বাস জামালপুর হয়ে শেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে বাসটি উপজেলার নল্যা বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা টাঙ্গাইলগামী সিএনজির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি চালকসহ তিনজন গুরুত্বর আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিএনজি চালককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. শহিদুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত পরিবহন দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।