সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দেলদুয়ার-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাথরাইল বটতলা এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় বেল্লাল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত বেল্লাল হোসেন উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বেল্লাল হোসেন বটতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকায় ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি পিকআপ অপর একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে পিকআপ চালক রাশেদ (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত রাশেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে।
উভয় ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান।
একতার কণ্ঠঃ নিবন্ধন পুনর্বহালসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা জামায়াতের উদ্যােগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ শেষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসট্রিক্ট হেলিপ্যাড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ, জেলা নায়েবে আমীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শাখার সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীরসহ অন্য নেতাকর্মীরা। এসময় বক্তারা দলের নিবন্ধন পুনর্বহালসহ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় জেলা ও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমাবেশের উদ্দেশে জমায়েত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়া পাঞ্জা পাড়া এলাকায় সড়কের পাশের ড্রেন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ড্রেন থেকে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে রাস্তার পাশে ড্রেনে অপরিচিত এক ব্যক্তির মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ড্রেন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহটি উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ড্রেনের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে । প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে টাঙ্গাইলে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়, নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে একটি আনন্দ মিছিল শহরের নিরালা মোড় থেকে বের হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
এই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের নেতৃত্বদেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু। এসময় দ্যাইনা ইউনিয়নের বিএনপি’র বেশ কিছু নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে লাভলু মিয়া লাবু বলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন আমার বড় ভাই দ্যাইনা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যাকান্ডের অর্থদাতা। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফারুক চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ছানোয়ারের বাহামভূক্ত দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে অনেক নিরীহ গ্রামবাসী এলাকা ছাড়া হয়েছিল। অবিলম্বে আফজাল চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমারা শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দ্যাইনা ইউনিয়ন থেকে একটি বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই টাঙ্গাইল শহরসহ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা আনন্দ উল্লাস করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। লোকটি নিজেকে সাদা মনের মানুষ বলে দাবি করলেও এমন কোন অন্যায় কাজ নেই যেটা সে করেনি। আমি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার পেশায় তামাক ব্যবসায়ী, যিনি গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর থানায় শিক্ষার্থী মারুফ ও ইমন হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
সরকার পতনের দুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের কৌশল ঠিক করতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করে লক্ষধিক টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ঘাটাইল বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নাবিল এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা এবং মাহির এন্টারপ্রাইজকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ঘাটাইল উপজেলায় ঘাটাইল বাজারে অভিযান পরিচালনা করে দুটি ডিলারকে এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও এই দুটি ডিলারের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামনের রমজানের ঈদকে সামনে নিয়ে এ সমস্ত নকল প্রসাধনী বাজারের ছয়লাব করার চিন্তা ভাবনা করছে এই ব্যবসায়ীরা। কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে কোন সুবিধা নিতে যাতে না পারে এ ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জাহানারা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জ্বলসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
আরমান কবীরঃ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রি করায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় দোকানে `তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘ভালোবাসা বিরোধী’ বিক্ষোভ করেছেন তারা।
শুক্রবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর থানা কাছে কলেজ রোডে ‘মামা গিফট কর্নারে’ এই ভাঙচুর ও বিক্রির জন্য রাখা ফুল রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দোকানদার।
এসময় বিক্ষুদ্ধরা ‘ভালোবাসা দিবস, ভালোবাসা দিবস- চলবে না, চলবে না’, ‘প্রেমিক-প্রেমিকার গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
ফুলের দোকানদার আলম
জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দোকানে ফুল বিক্রি করি। এর মধ্যে শুক্রবার বিকালে কিছু লোকজন এসেই দোকানে হঠাৎ আক্রমণ ও ভাঙচুর করে ফুলগুলো রাস্তায় ফেলে দেয়।
“ভালবাসা দিবসে কেন ফুল বিক্রি করছি সেটাই অপরাধ। আরেকটি দোকান ভেঙেছে তাও কিছু বলিনি। আগেরদিন তারা নিষেধ করে গিয়েছিল।”
এদিকে স্থানীয় নিরিবিলি ফুড কর্নারের ম্যানেজার আসাদ খান বলেন, “ ১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হুজুররা এসে ফাস্টফুড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তখন তারা ফাস্টফুডে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন স্লোগানে দিয়েছিল। ফলে বাধ্য হয়ে শুক্রবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।”
এদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে শনিবার ভূঞাপুরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ‘বসন্তবরণ অনুষ্ঠান’ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূঞাপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, “ভালোবাসা দিবসের বিভিন্ন ঘটনার কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে বসন্তবরণের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান করা হবে।”
তবে ভূঞাপুর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, “ফুল দোকানের ঘটনার বিষয়টি জানা নেই। এছাড়া ভাঙচুরের বিষয়েও কোনো অভিযোগ পাইনি বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান।
শুক্রবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর থানা কাছে কলেজ রোডে ‘মামা গিফট কর্নারে ভাঙচুর করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নারী সমন্বয়ক ফাতেমা রহমান বীথি উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভিক্টোরিয়া ফুড জোনের সামনে সমন্বয়ক বীথিসহ তার সঙ্গে থাকা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে চার বখাটে যুবক।
প্রতিবাদ করলে উল্টো ওই নারী সমন্বয়কের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এ সময় আশে পাশে থাকা লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলেও তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানা গেছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের একজন অমিয় ও অন্যজন মুন্না। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও মেলেনি।
ফাতেমা রহমান বীথি টাঙ্গাইল আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থগিত হওয়া কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের ওপর বসা দুই যুবক সমন্বয়ক বীথির সঙ্গে তর্কাতর্কি করছে। এ সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে ফাতেমা রহমান বীথি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ওই বখাটেরা অনুসরণ করছিল। পরে সেখান থেকে ভিক্টোরিয়া ফুড জোনে আসার পর তারা উত্ত্যক্ত করে। এ সময় তারা বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেছে। পরে প্রতিবাদ করলে তারা খারাপ আচরণ করে। একপর্যায়ে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ওই বখাটেদের শাস্তি দাবি করছি।’
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, ঘটনার পর ফাতেমা রহমান বীথি আমাকে ফোনে জানালে আমি ছুটিতে থাকায় সাব-ইন্সপেক্টর (এস আই) নজরুলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের অসদাচরণের অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে অবস্থান নিয়েছিল আহতরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টা থেকে জেলা শিল্পকলার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করেছেন তারা। এতে ওই সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারী।
আহতরা জানায়, সকালে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইলের ২১৭ জন আহতের মাঝে আর্থিক অনুদান দেয়ার জন্য শিল্পকলায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় তিন ক্যাটাগরিতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে চেক দেয়া হয়। এতে আহতদের ৫ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। এসময় তারা জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কথা না বলে চলে যান।
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে আহতরা জেলা শিল্পকলার সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দল্লাহ আল মামুন এবং জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের আশ্বাসে আহতরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ সময় আহত সোহানুর রহমান সোহান, সাইদুল রহমান, মিজানুর রহমান, খাইরুল ইসলামসহ আন্দোলনে আহত অর্ধশতাধিক আহত উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় ডেভিল হান্ট অপারেশনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ২১জন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলররা রয়েছেন।
রাতভর অভিযানে আটক হওয়া নেতাকর্মীদের জেলার বিভিন্ন জায়গার নাশকতার মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার স্ব স্ব থানা পুলিশ আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, সারাদেশে ডেভিল হান্ট অপারেশনের লক্ষে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গ্রাম পর্যায়ে এসব অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকমীদের আটক করা হয়। পরে আটক করা এসব নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জেলার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার, দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও কোকডহরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন।
ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদার এবং পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনকে আটক করা হয়। এছাড়া মধুপুরে ১জন, গোপালপুরে ৪জন, ঘাটাইলে ২জন, টাঙ্গাইল সদরে ৪জন, মির্জাপুরে ৩জন, সখীপুরে ১জন ও নাগরপুরে ১জন রয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া জানান, আটক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, আটককৃতরা টাঙ্গাইল সদর থানার নাশকতা মামলার আসামি। পরে তাদের টাঙ্গাইল সদর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদারকে(৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নারান্দিয়ার নিজ বাসভবন তাকে গ্রেপ্তার করে কালিহাতী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার নারান্দিয়ায় নিজ বাসভবন থেকে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালিহাতী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চেয়ারম্যানকে আটক করা হয়।
এবিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাসুদ তালুকদারকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাসের পাশ থেকে অভিজিত কুমার (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বাসাইল থানা পুলিশ।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের গুল্যা এলাকা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অভিজিত কুমার সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের রিপন চন্দ্র সরকারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে যুবকের মরদেহ দেখতে পাই। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তার প্যান্টের প্যাকেটে থাকা জন্ম সনদ, সার্টিফিকেট দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা যাইনি। পরে তার প্যান্টের প্যাকেট থেকে কাগজ দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষে অটোচালক বাপ্পি(২৫) নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাপ্পি উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্যা গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকাল ১০টার দিকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে বাপ্পি বাসাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। কলিয়া এলাকায় পৌঁছালে মাটির বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালক বাপ্পি গুরুতর আহত হলে তাকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জালাল উদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।