সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে শাহাদাৎ নামে ৪ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু শাহাদাৎ একই গ্রামের জুয়েলের ছেলে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে বলরামপুর এলাকায় জুয়েল মিয়া নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ করছে। বাড়ি করার জন্য বাড়ির পাশে ডোবা তৈরি করে মাটি উত্তোলন করেছিল। সেই ডোবায় সেচপাম্পের পানি জমে ভরাট হয়।
সোমবার সকালে শাহাদাৎ সেই ডোবার পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি পরিবারের কেউ জানতো না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শাহাদাৎকে ডোবায় খুঁজে পায় তার পরিবার। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক শিশু শাহাদাৎকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি কেউ জানায়নি।
আরমান কবীরঃ অপারেশন ডেভিল হান্টের অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মো. ইসমাইল হোসেন ওরফে ইকো মিঞা (৩৬) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার মাধ্যমে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
এর আগে, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পৌর শহরের ফসলান্দী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ইকো মিঞা উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের শুশুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, ইকো মিঞার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় নাশকতার মামলা থাকায় ডেভিল হান্টের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানায় সোপর্দ করলে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ আদালতে তাকে প্রেরণ করে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আব্দুল আলীম (৩০) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় লুৎফর রহমান নামে এক আ’লীগ নেতাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ যুবদলের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
আহত আব্দুল আলীম উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি এবং তিনি একই ওয়ার্ডের বাংগাল শেখের ছেলে।
এদিকে, শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে লুৎফর রহমান নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ যুবদলের নেতাকর্মীরা।
লুৎফর রহমান উপজেলা গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক। তিনি টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পলাতক ছোট মনিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
জানা যায়, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় তানিয়া খাতুন নূরানী মাদরাসার সামনে একদল দুর্বৃত্ত যুবদল নেতা আলীমকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে রাস্তার পাশে বালুর স্তুপে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এরপর গোবিন্দাসী এলাকার জহিরুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। পরের দিন শনিবার সকালে গোবিন্দাসী যুবদলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমানের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার জুলহাস উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল আলীমকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে হামলা করেছে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) মহান শহীদ দিবসে কর্মসূচির মধ্যে ছিল- দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, ভোরে প্রভাতফেরী, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন-রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতাবৃত্তি, আলোচনা সভা, পুরষ্কার বিতরণ ইত্যাদি।
জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মসূচিগুলো দিনভর পালন করে।
এ উপলক্ষে প্রথম প্রহরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক শরীফা হক ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এদিন ভোরে বিভিন্ন দপ্তর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে প্রভাত ফেরী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্যাহ আল মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা আক্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনভর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের গান ও ত্রিবেণী-টাঙ্গাইলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সড়ক ও সড়কদ্বীপ এবং শহীদ মিনারে আল্পনা আঁকা হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রেমিকাকে ডেকে এনে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার মধুপুর উপজেলার পৌর শহরের মালাউড়ী কাজী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মধুপুর থানা থেকে ৩ থেকে ৪ শত মিটারের মধ্যেই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তদের আটক করেছে।
অভিযুক্ত দুই বন্ধু হলো- উপজেলার পঁচিশা গ্রামের সাইদুর রহমান খান রুবেলের ছেলে ফাহাদ খান ফাহিম (১৯) এবং একই জেলার গোপালপুর উপজেলার চরমােহাইল হেমনগর গ্রামের (মধুপুর মালাউড়ী কাজীপাড়ার ভাড়াটিয়া) মনিরুজ্জামানের ছেলে নাঈম মাহাদী সাফি (১৮)।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী পরিবারসহ একই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।
এ ঘটনায় বুধবার দিনগত রাত ১২ টার পর তরুণীর মা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও পর্ণোগ্রাফি ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, ওই তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকের সুবাদে ৮ মাস আগে ফাহিমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা বিভিন্ন স্থানে ডেটিং করে বেড়াতো। বিয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে, শারীরিক সম্পর্ক করে। ফাহিম তার বন্ধু সাফির কাছে ওইসব ছবি শেয়ার করে। এসব ছবি নিয়ে প্রেমিকের বন্ধু সাফি তরুণীকে ব্ল্যাক মেইল শুরু করে। ওইসব ছবি ডিলিট করার কথা বলে এক পর্যায়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ফাহিম বন্ধু সাফির পরিবারের ভাড়া বাসায় ওই তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করে।
সর্বশেষ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে দেখা করতে বন্ধু সাফির একই বাসায় আমন্ত্রণ জানায় প্রেমিক ফাহিম। আলাপের এক পর্যায়ে ফাহিম আবারও জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে। গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে বন্ধু সাফি। পরে সেই ছবি দেখিয়ে সাফি সুযোগ নিতে চাইলে ফাহিম বাধা না দিয়ে এতে সম্মতি জানায়।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবির ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও পর্ণোগ্রাফি ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পরই অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে টাকাও দাবি করতো। আটককৃতদের বিরুদ্ধে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা নয়, পর্ণোগ্রাফির ধারায়ও মামলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটকৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিবে বলে আশা করছি।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দেলদুয়ার-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাথরাইল বটতলা এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় বেল্লাল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত বেল্লাল হোসেন উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বেল্লাল হোসেন বটতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকায় ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি পিকআপ অপর একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে পিকআপ চালক রাশেদ (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত রাশেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে।
উভয় ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান।
একতার কণ্ঠঃ নিবন্ধন পুনর্বহালসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা জামায়াতের উদ্যােগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ শেষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসট্রিক্ট হেলিপ্যাড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ, জেলা নায়েবে আমীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শাখার সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীরসহ অন্য নেতাকর্মীরা। এসময় বক্তারা দলের নিবন্ধন পুনর্বহালসহ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় জেলা ও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমাবেশের উদ্দেশে জমায়েত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়া পাঞ্জা পাড়া এলাকায় সড়কের পাশের ড্রেন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ড্রেন থেকে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে রাস্তার পাশে ড্রেনে অপরিচিত এক ব্যক্তির মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ড্রেন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহটি উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ড্রেনের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে । প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে টাঙ্গাইলে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়, নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে একটি আনন্দ মিছিল শহরের নিরালা মোড় থেকে বের হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
এই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের নেতৃত্বদেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু। এসময় দ্যাইনা ইউনিয়নের বিএনপি’র বেশ কিছু নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে লাভলু মিয়া লাবু বলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন আমার বড় ভাই দ্যাইনা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যাকান্ডের অর্থদাতা। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফারুক চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ছানোয়ারের বাহামভূক্ত দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে অনেক নিরীহ গ্রামবাসী এলাকা ছাড়া হয়েছিল। অবিলম্বে আফজাল চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমারা শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দ্যাইনা ইউনিয়ন থেকে একটি বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই টাঙ্গাইল শহরসহ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা আনন্দ উল্লাস করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। লোকটি নিজেকে সাদা মনের মানুষ বলে দাবি করলেও এমন কোন অন্যায় কাজ নেই যেটা সে করেনি। আমি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার পেশায় তামাক ব্যবসায়ী, যিনি গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর থানায় শিক্ষার্থী মারুফ ও ইমন হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
সরকার পতনের দুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের কৌশল ঠিক করতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করে লক্ষধিক টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ঘাটাইল বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নাবিল এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা এবং মাহির এন্টারপ্রাইজকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ঘাটাইল উপজেলায় ঘাটাইল বাজারে অভিযান পরিচালনা করে দুটি ডিলারকে এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও এই দুটি ডিলারের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামনের রমজানের ঈদকে সামনে নিয়ে এ সমস্ত নকল প্রসাধনী বাজারের ছয়লাব করার চিন্তা ভাবনা করছে এই ব্যবসায়ীরা। কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে কোন সুবিধা নিতে যাতে না পারে এ ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জাহানারা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জ্বলসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
আরমান কবীরঃ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রি করায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় দোকানে `তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘ভালোবাসা বিরোধী’ বিক্ষোভ করেছেন তারা।
শুক্রবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর থানা কাছে কলেজ রোডে ‘মামা গিফট কর্নারে’ এই ভাঙচুর ও বিক্রির জন্য রাখা ফুল রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দোকানদার।
এসময় বিক্ষুদ্ধরা ‘ভালোবাসা দিবস, ভালোবাসা দিবস- চলবে না, চলবে না’, ‘প্রেমিক-প্রেমিকার গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
ফুলের দোকানদার আলম
জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দোকানে ফুল বিক্রি করি। এর মধ্যে শুক্রবার বিকালে কিছু লোকজন এসেই দোকানে হঠাৎ আক্রমণ ও ভাঙচুর করে ফুলগুলো রাস্তায় ফেলে দেয়।
“ভালবাসা দিবসে কেন ফুল বিক্রি করছি সেটাই অপরাধ। আরেকটি দোকান ভেঙেছে তাও কিছু বলিনি। আগেরদিন তারা নিষেধ করে গিয়েছিল।”
এদিকে স্থানীয় নিরিবিলি ফুড কর্নারের ম্যানেজার আসাদ খান বলেন, “ ১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হুজুররা এসে ফাস্টফুড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তখন তারা ফাস্টফুডে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন স্লোগানে দিয়েছিল। ফলে বাধ্য হয়ে শুক্রবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।”
এদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে শনিবার ভূঞাপুরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ‘বসন্তবরণ অনুষ্ঠান’ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূঞাপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, “ভালোবাসা দিবসের বিভিন্ন ঘটনার কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে বসন্তবরণের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান করা হবে।”
তবে ভূঞাপুর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, “ফুল দোকানের ঘটনার বিষয়টি জানা নেই। এছাড়া ভাঙচুরের বিষয়েও কোনো অভিযোগ পাইনি বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান।
শুক্রবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর থানা কাছে কলেজ রোডে ‘মামা গিফট কর্নারে ভাঙচুর করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নারী সমন্বয়ক ফাতেমা রহমান বীথি উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভিক্টোরিয়া ফুড জোনের সামনে সমন্বয়ক বীথিসহ তার সঙ্গে থাকা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে চার বখাটে যুবক।
প্রতিবাদ করলে উল্টো ওই নারী সমন্বয়কের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এ সময় আশে পাশে থাকা লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলেও তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানা গেছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের একজন অমিয় ও অন্যজন মুন্না। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও মেলেনি।
ফাতেমা রহমান বীথি টাঙ্গাইল আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থগিত হওয়া কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের ওপর বসা দুই যুবক সমন্বয়ক বীথির সঙ্গে তর্কাতর্কি করছে। এ সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে ফাতেমা রহমান বীথি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ওই বখাটেরা অনুসরণ করছিল। পরে সেখান থেকে ভিক্টোরিয়া ফুড জোনে আসার পর তারা উত্ত্যক্ত করে। এ সময় তারা বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেছে। পরে প্রতিবাদ করলে তারা খারাপ আচরণ করে। একপর্যায়ে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ওই বখাটেদের শাস্তি দাবি করছি।’
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, ঘটনার পর ফাতেমা রহমান বীথি আমাকে ফোনে জানালে আমি ছুটিতে থাকায় সাব-ইন্সপেক্টর (এস আই) নজরুলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।