আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।
নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’
নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঝিনাই নদীর ওপর একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে কাজটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদার। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ। নদীটির দুইপাড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে প্রতিনিয়ত পারাপার হতে হচ্ছে।
জানা গেছে, বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার সংযোগস্থল কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ব্রিজটি প্রায় ১০ বছর আগে পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর ২০২০ সালে ২৭ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮ টাকা ব্যয়ে সেখানে নতুন করে ২৫৬ মিটার গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন হয়। কাজটি পায় হায়দার কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড মো. লিয়াকত আলী জেবি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৮ মার্চ নতুন ব্র্রিজের কাজ শুরু করে। ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারেনি। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ মাস আগে নির্মাণকাজটি বন্ধ রেখে রাতের আধাঁরে পালিয়ে যায়। এই দীর্ঘ ছয় মাসেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউই ব্রিজটি দেখতেও আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ঘুরে লাশ দাফন করতে হয়। ব্রিজটির কারণে নদীর দুইপাড়ের মানুষের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ লাগবে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এই ব্রিজটি বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার জন্য খুবই জরুরি। এই ব্রিজ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতস্থল। এখানে একটি ঈদগা মাঠ রয়েছে, সেখানে ছয়টি গ্রামের মানুষ একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য একটি কবরস্থান রয়েছে। মানুষ মারা গেলে নৌকায় করে লাশ নিয়ে দাফন করতে হয়। নদীর দুইপাড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নৌকাযোগে পারাপার হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। এই দীর্ঘ সময়েও কাজটি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এমতাবস্থায় প্রায় ছয় মাস হলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুজ্জামান বক্তার বলেন, ‘কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৬৬ মিটার ব্রিজের কাজটি ২০১৯ সালে টেন্ডার হয়। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠান শুরুতেই বিলম্ব করে কাজ শুরু করে। প্রথমে কাজের কিছুটা অগ্রগতি ছিল। এক বছর পর থেকে কাজের গতি কমে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন- ঠিদাকারী প্রতিষ্ঠান যদি যথা সময়ে কাজ না করে তাহলে টেন্ডার বাতিল করা হবে। ব্রিজটির কারণে অসংখ্য মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। ব্রিজটি দ্রুতসময়ের মধ্যে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘বাসাইল উপজেলার কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৫৬ মিটার ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজটির বর্তমানে অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। বেশ কিছুদিন ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ শুরু করে আবার বন্ধ করে দেয়। কাজটি বাতিলের জন্য আমাদের জেলা কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু কাজটি অনেক ধরে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। সুতরাং কাজটি বাতিল করার জন্য আবার সুপারিশ করা হবে। কাজটি বন্ধ রাখায় ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার জন্য প্রস্তাব করা হবে। রি-টেন্ডার করে খুব দ্রুত কাজটি শেষ করা হবে।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং-এ সমস্যা হচ্ছে। এজন্য কাজটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের সাথে ন্যাশনাল ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। সেখানে আমার একটি বিল পড়ে আছে। ব্যাংকিং-এ সমস্যা সমাধান না হলে তো ব্রিজের কাজটি আমাদের করতে দিবে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও )মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। মূলত ঠিকাদারের কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে সর্বশেষ পত্র দিয়েছে কাজটি করার জন্য। ঠিকাদার কাজটি না করলে পুনরায় টেন্ডার করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজটি দ্রুত শেষ করবেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকে দুর্বৃত্তরা ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২ মে) রাতে উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম শহীদুল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের সান্ডালপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে।
সে ধোপাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
মিজানুরের চাচা মহির উদ্দিন ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ভাইঘাট বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে মিজানুর একটি দোকানের সামনে বসে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ডেকে মসজিদের কাছের একটি গলিতে নিয়ে যায় অপরিচিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত। ওই গলিতে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে সটকে পরলে স্থানীয়রা মিজানুরকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। টাঙ্গাইল নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম শহীদুল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ মে ) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার শামীম আল মামুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল খোকন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় আমাকে ২০নং আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক মো: উজ্জল মিয়া, ইসলাম খান ও এনামুল হক রৌফকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত আমরা ৪ জন টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছি। আমরা কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি ও আমার স্ত্রীসহ গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গমন করি এবং একই মাসের ২৭ তারিখে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দেশে ফিরে আছি। যার প্রমাণ আমার পাসপোর্টের ভিসা, ইমিগ্রেশনে বহির্গমন, অন্তগমন সিল।
আর মামলার নথিতে ঘটনার বিবরণীতে বলা হয়েছে, অপরাধ সংগঠিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখ সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে। যেখানে আমি দেশেই উপস্থিত ছিলাম না, আমি কিভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করি। একই অবস্থা মামলার ১১০নং আসমি মো: উজ্জল মিয়ার। তিনিও উন্নত চিকিৎসার জন্য উল্লেখিত সময় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার প্রমাণ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার ১৮নং আসামি সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিক্রেট কোচ ইসলাম খান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ও তার ক্রিকেট একাডেমির ছাত্ররা আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে। যার প্রমাণ স্বরূপ আন্দোলনে অংশগ্রহণের ছবি আপনাদেরকে দেখানো হয়েছে। মামলার ৮৮নং আসামি টাঙ্গাইলের সাবেক কৃতি ফুটবলার এনামুল হক রৌফ তার দু’বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। তিনি ঘটনার দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামীম আল মামুন জানান, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন ও বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান এই মিথ্যা মামলার মূল কারিগর। তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বর্তমানে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা করায় আমাদের এই ৪ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠককে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এই মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়ারদের নিয়ে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলাম খান, মো. হামিদুর রহমান, মেহেদী ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, এনামুল হক, রাশেদুল আলম মনি, মো. উজ্জ্বল মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলাম।
এর পূর্বে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ২ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ৭২ হাজার ৬২ পরীক্ষার্থী আবেদন করে। মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ১ হাজার ৮১৯ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করে।
জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ২৮ এপ্রিল। আগামী ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে আবেদন করে এক লাখ ৪২ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটে আবেদন করে সাত হাজার ৩০৭ জন পরীক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।
কমিটির আহ্বায়ক ও মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, দেশের জিএসটি গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভাইস-চ্যান্সেলরদের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ‘সি’ ও ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী শুক্রবার ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষাও সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে হবে বলে আশা করছি। পরীক্ষা চলাকালীন পর্যন্ত দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের( এলজিইডি) জেলা কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদক জানায়, জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি, একাধিক প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করেই বিধিবহির্ভূতভাবে অগ্রিম বিল উত্তোলন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা এবং ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের গুণগতমান বজায় না রাখা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এলজিইডি’র বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দুদক টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. নুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। অভিযোগ গুলো মাঠ পর্যায়ে গিয়ে যাচাই বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে জেলার কালিহাতী, মধুপুর, ভূঞাপুর ও সখীপুর উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ১ হাজার পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবাসহ এক ইউপি সদস্য ও এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন রহমান (৩৫)। সে হাবলা ইউনিয়নের জয়শত গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। অপরজন হলেন, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দুবলাবাড়ি গ্রামের মো. রজত আলীর ছেলে মো. তহর আলী (৩৭)।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি দক্ষিণ) উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাইজ উদ্দিন জানান, রবিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর বাইপাস এলাকার আব্দুর রহমানের খাবার হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য সুজন রহমান ও তহর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা ১ হাজার পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় দুটি রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চার প্রকৌশলী এবং দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. বাসেদ আলী টাঙ্গাইলের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
একটি মামলার আসামিরা হলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্রেন্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শহীদুর রহমান খান, এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং ও মূল্যায়ন শাখায় কর্মরত) রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান (বর্তমানে বিদেশে শিক্ষা ছুটিতে), একই উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খান এবং মাইনুল হক (বর্তমানে ঘাটাইলে কর্মরত)।
অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈয়দ মজিবর রহমানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মজিবর রহমান এবং এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খানকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ রিজিওনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের তেবাড়িয়া জিসি-দপ্তিয়র ইউপিসি অফিস সড়কে বিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজে ডাব্লিউবিএম ও সাববেইজের ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫০৯ টাকার কাজ কম করা হয়। এছাড়া, ৭৫ মিটার সড়কের কোনো কাজ না করেই ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬ টাকা অর্থাৎ মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৫৪৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একই রাস্তায় প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে ৩১ লাখ ১ হাজার ৫৯১ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অপরদিকে, এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের সিংজোড়া-গয়হাটা (ভাররা জিসি-সলিমাবাদ আরডিএস ভায়া গয়হাটা ইউপি) ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কে বিসি সার্ফেস উন্নয়ন কাজে প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৫১০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফখরুল ইসলাম জানান, রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২০ এপ্রিল একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নাগরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বর্তমানে কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখানো রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দ্বারা পরিমাপ গ্রহণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, তদন্তে কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শেষ হলো দেড়শ’ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী ‘জামাই মেলা’। এ মেলায় জামাই ছাড়াও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল। ফলে আয়োজক কমিটিসহ মেলায় আগত সকল ধরনের দোকানিরাও তাদের পণ্য ভালো বিক্রি করতে পেরে অনেক খুশি।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুর বাছিরননেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়। মেলা চলেছে রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত।
জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছর ধরে সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ রসুলপুরে তিন দিনব্যাপী এই ‘জামাই মেলা’ বসে। মেলাকে কেন্দ্র করে জেলার কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল ও সদর উপজেলার আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। মেলা উপলক্ষে জামাইকে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরাও বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এ ছাড়া মেয়ের জামাইরা মেলা থেকে শ্বশুরবাড়ির জন্য বিভিন্ন কেনাকাটা করেন।
এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দোকানিরা এসেছিল বিভিন্ন পণ্য নিয়ে। দোকানে বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকানসহ ছোট-বড় দোকান বসেছিল।
রবিবার সন্ধ্যায় কথা হয় হাসান হাসান নামের এক দর্শনার্থীর সাথে। তিনি বলেন, মেলাটি জামাই মেলা নামে পরিচিত। মেলাটিকে কেন্দ্র করে এ এলাকার জামাইরা একত্রিত হয়েছিল। এমন মেলায় আসতে পেরে খুবই আনন্দিত তিনি।
স্থানীয় রসুলপুরের বাসিন্দা সেলিম মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়শ বছর ধরে এ মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজা-পার্বণের মতোই এ মেলা একটি উৎসব। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, আমার একটি মাত্র বোন। বছরে একরার আসে এ জামাই মেলাকে কেন্দ্র করে। গতবার মেলায় জামাই আসতে পারেনি। এবার তিনি এসেছেন।
মেলায় আগত জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তিনি প্রতিবছর এই মেলায় ঘুরতে আসেন। মেলা থেকে বাড়ীর জন্য কয়েক কেজি মিষ্টান্ন ‘রসগোল্লা’ কিনেছেন।
রসুলপুরের জামাই স্বপন মন্ডল বলেন, গতবার আসতে পারিনি। এবারের মেলাতে প্রথম দিন আসিনি। আজ তৃতীয় দিন সকালে এসেছি। শ্বশুরবাড়ি এসে বিকেলে মেলায় আসছি। শ্বশুরবাড়ির বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন জিনিস কিনেছি। পরে মাছ এবং মিষ্টি কিনে নিয়ে যাব। আমার শাশুড়ি মেলায় আসার সময় দুই হাজার টাকা দিয়েছেন।
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান বলেন, মেলা সফল করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছিলেন দোকানিরা। তারা খাবারের দোকান, মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনীর দোকানও দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইড এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রসুলপুরের এ মেলাটি বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম। রবিবার রাত ৮টার দিকে মেলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন দিনে মেলায় প্রায় দুই কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শ্রমিকদল নেতা ফজল হক (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪৫) এবং ছেলে মনিরুজ্জামান (২৫)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশিনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজল হক বংশিনগর গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বাঁশতৈল ইউনিয়ন শ্রমিকদলের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৭ বছর আগে ফজল হকের দাদি ৫৫ শতাংশ জমি তাকে রেজিস্ট্রি করে দেন। বিষয়টি তিনি সম্প্রতি জানতে পেরে জমিটি দখল বুঝে নিতে উদ্যোগ নেন। তিনি এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলাও করেছিলেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং মাতব্বরদের নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছে। তবে তাতে কোন সমাধান হয়নি।
রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফজল হকের ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে পারভেজ দেশীয় অস্ত্রসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক নিয়ে ওই জমিতে বেড়া দিতে যান। খবর পেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রতিবাদ করতে ঘটনাস্থলে গেলে ফজল হককে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে।
এ সময় ফজল হকের স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ছেলে মনিরুজ্জামানকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজল হককে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ফজল হকের সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, লাশের সুরতহাল হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুরে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু হয়েছে। স্থানীয় রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে রবিবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত। এই মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) রসুলপুরে এই জামাই মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ। আর মেলায় জমায়েত হন ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা। এ মেলার বয়স দেড়শ বছরেও বেশি হবে। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজাপার্বণের মতোই এই মেলা উৎসবের। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে ব্রিটিশ আমলে শুরু হলেও এখন এটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। মেলাকে সামনে রেখে রসুলপুর ও এর আশপাশের বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। আর জামাইকে মেলা উপলক্ষে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরা বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এছাড়া রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করা হয়ে থাকে। এতে করে মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে।
এছাড়া মেলার দিন শাশুড়ি মেয়ের জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে জামাই বাজার করে এনে শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান। এ কারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। তিন দিনে রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, মুড়ি-মুড়কি, আকড়ি, চিনির সাজ, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানসহ ছোট-বড় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানও আছে। এছাড়া এ মেলায় একাধিক ফার্নিচারের দোকানও বসেছে। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলে-মেয়েরাও এ মেলা উপভোগ করছে। তবে মেলার স্থানটি ছোট হওয়ায় ও প্রচন্ড গরমের কারণে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নাজেহাল অবস্থা। এছাড়া শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে মেলায় তিল ধারনের জায়গা নেই। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় ঢুকতে না পেরে মন খারাপ করে ফিরে চলে যাচ্ছে। এদিকে মেলায় কোন ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পাশের পেট্রলপাম্পসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই গাড়ি রেখে মেলায় প্রবেশ করছে।
স্থানীয় রসুলপুর গ্রামের রবীন মিয়া বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। বাড়ির মেয়ের জামাইরা মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়ি আসায় ও মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মেলাটি প্রতিবছর জমে উঠে। এটি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও বড় মেলা।
কালিহাতী থেকে আসা আদর ঘোষ (এলাকার জামাই) বলেন, প্রতিবছরই আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। এই মেলা আমাদের জামাইদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়। সব মিলিয়ে আমরা মেলার এই তিন দিন আনন্দে মেতে উঠি।
টাঙ্গাইল শহর থেকে মেলায় ঘুরতে আসা চাকরিজীবী শিরীন আক্তার বলেন, এই মেলাটি একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা শুনে প্রথমবারের মত ঘুরতে এসেছি। তবে মেলায় কিছুটা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশাকরি, মেলা কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলিকে নজরে আনবেন। বিশেষ করে, যদি সম্ভব হয় মেলাটি আরো বড় জায়গায় আয়োজন করলে অনেক সুন্দরভাবে দর্শনার্থীরা এই মেলাটি উপভোগ করতে পারবে। আমি এই মেলার সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করছি।
মেলায় ঘুরতে আসা স্থানীয় আছমা বেগম বলেন, এটি টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। শুক্রবার দুপুর থেকেই নারী পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মেলায় ভিড় করছে। তারা বিভিন্নভাবে মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেওবা তাদের পছন্দের সামগ্রী কেনাকাটা করছেন ।
মেলায় আসা আকড়ি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মেলা আসলে একটু বাড়তি লাভের আশায় কয়েক বছর যাবত এই মেলায় আকড়ি বিক্রি করে আসছি। বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে আকড়ি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। অন্যান্য মেলার চেয়ে এ মেলা অনেক নিরাপদ।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলায় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। এই মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মেলায় খাবার আইটেম, খেলনাসহ বিভিন্ন ফার্নিচারও পাওয়া যায়। মেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মেলার নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে প্রচন্ড গরম পড়ায় মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লোকজনের ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাইফুল আলম (৪০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ডুবাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত সাব্বির আহমেদের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে তিন টার দিকে সাইফুল আলম এক জেলেকে সাথে নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে মির্জাপুরের একটি হ্যাচারিতে মাছের রেনু কিনতে যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছলে তিন ছিনতাই মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাইফুল আলম তাদের বাঁধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।