আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের ফুসফুস খ্যাত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের ৭টি শতবর্ষী রেইনটি গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) টাঙ্গাইল শাখা ও সবুজ পৃথিবী নামের দুটি সংগঠনের উদ্যোগে এই ঘন্টা ব্যপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাপা টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ এএসএম সাইফুল্লাহ’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ইব্রাহীম খা সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা রঘুনাথ বসাক, বাপা টাঙ্গাইল শাখার সহ-সভাপতি মোঃ আজাহারুল ইসলাম খান, যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ রানা, মোঃ এরফানুজ্জামান রুনু, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম সিদ্দিকী, আওয়াল মাহমুদ, ডাঃ আজিজুল হক, সবুজ পৃথিবী মির্জাপুর শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন নবীন, কালিহাতী শাখার সভাপতি মোঃ বুলবুল হোসেন, সবুজ পৃথিবীর পরিচালক সারমিন আলম।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল শাখার সাধারণ সম্পাদক, সবুজ পৃথিবীর প্রতিষ্ঠাতা সহিদ মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের এইসব শতবর্ষী গাছ রক্ষায় আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আমরা এইসব গাছ পাহারা দিবো। কোন অবস্থাতেই এই ৭টি শতবর্ষী রেইনটি গাছ কাটা চলবে না। এই গাছ গুলো রক্ষার টাঙ্গাইলে ক্রিয়াশীল পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য ,শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ টাঙ্গাইল শহরের ফুসফুস খ্যাত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের ৭টি প্রাচীন রেইন টি গাছ কাটতে শুরু করে। কোন রকম টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই মেয়রের একক সিদ্ধান্তে শুরু হয় প্রাচীন এইসব বৃক্ষ নিধন। মূহুর্তের মধ্যেই সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটা বন্ধ হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। এরপর স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান আসেন।
স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান বলেন, আইনতভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো গাছ কাটতে চাইলে প্রথমত স্থানীয় সরকারে আবেদন করতে হবে এবং তারপর সেই আবেদন বন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হলে বন কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদন হওয়ার পর প্রকাশ্য নিলাম আহ্বান করে গাছ কাটার প্রক্রিয়া করতে হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বরাবর কোনো আবেদন দেয়া হয়নি, তাই কিছুটা নিয়ম বহির্ভূত হয়েছে, আর এজন্য গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
ইতিপূর্বে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর জেলা সদর রোড প্রশস্ত করনের সময় টাঙ্গাইল সদর থানা ভূমি অফিসের সামনের শত বছরের প্রাচীন বট গাছ কাটার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সেই দেড়শ বছরের প্রাচীন বট গাছ কেটে যাত্রী ছাউনী তৈরি করেন।
তৈরিকৃত সেই যাত্রী ছাউনী বর্তমানে শহরবাসীর কোন কাজেই আসছে না। যাত্রী ছাউনিটি এখন নেশাগ্রস্ত লোক ও ভবঘুরে ও রাতের মোক্ষি রানীদের দখলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নবনির্মিত মসজিদের নাম পরিবর্তন না হলে কর্তৃপক্ষকে মারধরের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মুতালিব হোসেন নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার গালা ও মগড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের নামে নির্মিত হচ্ছে ওই মসজিদ।
মসজিদটি মগড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বড়বাশালিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি দেওয়া সেই হুমকির অডিও ও ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় মুসুল্লীসহ দুই গ্রামবাসি।
বড়বাশালিয়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাঁ মাঠ আর গত ঈদুল ফিতরের পরের দিন স্থানীয় মাজেদার চা স্টলে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে মসজিদ নির্মাণে সম্পৃক্ত মুসুল্লীদের মারধরের হুমকি দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান বলে জানিয়েছেন মসজিদ নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা।
তাদের অভিযোগ, দুই গ্রামবাসির মসজিদ নির্মাণ ও নামকরণ নিয়ে কোন প্রশ্ন না থাকলেও জনপ্রতিনিধির ক্ষমতাবলে নাম পরিবর্তনের অজুহাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।
অ্যাডভোকেট মোতালিব হোসেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি টাঙ্গাইল টাঙ্গাইল আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী দূর্গাপুর-বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের দূর্গাপুরের নেতৃবৃন্দ ও মগড়া ইউনিয়নের বড় বাশালিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নেতৃবৃন্দ। মোট ১৪ শতাংশ জমিতে নির্মিত হচ্ছে মসজিদটি। উদ্যোগের সিদ্ধান্ত অনুসারে বড়বাশালিয়া গ্রামের আজিজুর রহমান মসজিদের নামে ১০ শতাংশ জমি দান করেন। বাকি ৪ শতাংশ জমি দূর্গাপুরের নেতৃবৃন্দ দান করেন। এছাড়াও মসজিদ নির্মাণে অধিকাংশ অর্থায়ন করছেন দূর্গাপুরের গ্রামবাসি। চলতি বছরের ৯ মার্চ থেকে যথারীতি নবনির্মিত ওই মসজিদে নামাজ আদায়ও শুরু করেছেন স্থানীয় মুসুল্লীরা।
মুসুল্লীদের অভিযোগ, মসজিদের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসি একমত থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান একাই বির্তক সৃষ্টি করছেন। মসজিদ নির্মাণের উনার কোন ভূমিকা না থাকলেও জোড়পূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বড়বাশালিয়ার একক নামে মসজিদটি নির্মাণের দাবি করছেন তিনি। মসজিদ আল্লাহর ঘর, এটি কারো ব্যক্তি সম্পদ নয়। মসজিদ নিয়ে উনার এমন নোংরা রাজনীতি মেনে নেয়া যায় না। ৬ মাস আগেও ইউপি চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে ও নতুন করে নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলেছেন গ্রামবাসির একমাত্র বড়বাশালিয়া দক্ষিণ পাড়া বায়তুন নাজাত জামে মসজিদ।

মগড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মসজিদের মুসুল্লী মো. মাজেদুর রহমান বলেন, আমার চাচা আজিজুর রহমান মসজিদের জন্য একাই দিয়েছেন ১০ শতাংশ জমি, বকি ৪ শতাংশ জমি দিয়েছেন দূর্গাপুরের মানুষ। এটি দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা। দুই গ্রামের নামে মসজিদের নামকরণ হওয়া নিয়ে সমস্যা কি? আমরা দুই গ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে মসজিদেও নাম দিয়েছি দূর্গাপুর বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
মসজিদের মুসুল্লী মো.ওয়াজেদ আলী বলেন, পূর্ব পুরুষের সমন্বয় অনুসারে আমরা এই দুই ইউনিয়নের মানুষ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দুই গ্রামের যৌথ নাম ব্যবহার করে আসছি। সেই নিয়ম মেনেই এই মসজিদটিও নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের পরের দিন মাজেদার চা স্টলে আমাদের হাত পা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন চেয়ারম্যান মোতালিব। সেই বক্তব্যের অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। আমরা শান্তি চাই বলে এখনও কোন আইনগত ব্যবস্থা নেইনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ব্যক্তি আক্রশ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। এ এলাকায় যৌথ নামে আর কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশি বড়বাশালিয়া কবরস্থান। বাঁশি কালিহাতী উপজেলা আর বড়বাশালিয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গ্রাম। এছাড়াও রয়েছে বড়বাশালিয়া দূর্গাপুর মসজিদ ও বড়বাশালিয়া ধলিহাটা মসজিদ। ওই প্রতিষ্ঠান গুলো নাম নিয়ে কোন সমস্যা না হলেও এই মসজিদের নামকরণ নিয়ে সমস্যা কি?
দূর্গাপুর-বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সেক্রেটারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান মোতালিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন কারো কোন প্রশ্ন ছিল না। মসজিদটি দুই গ্রামের হওয়ায় এবং দুই গ্রামে কোন মানুষ যেন নিজের মনে করে অন্যকে ছোট না করতে পারে সেজন্যই মসজিদটির নামকরণ হয়েছে দূর্গপুর বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। দুই গ্রামের নামকরণ নিয়ে এখন কেন প্রশ্ন উঠছে। চেয়ারম্যান মোতালিব কেন মুসুল্লীদের হাত পা কেটে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন সেটি আমি জানিনা।
তিনি আরও বলেন, আমরা এক সমাজের মানুষ, রাগ ও ক্ষোভে মোতালিব ওই বক্তব্য দিলেও আমি মনে করি, তেমন কিছুই হবে না।
এ বিষয়ে ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোতালিব হোসেন।
একতার কণ্ঠঃ অবশেষে দৃশ্যমান হলো প্রমত্তা যমুনার বুকে দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’। এই রেলসেতু নির্মাণের সর্বশেষ ৪৯ নম্বর স্প্যানটি শনিবার (২০ এপ্রিল) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন যমুনার বুকে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’।
এ ব্যাপারে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’ প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প দীর্ঘতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এই সেতুর সুপার স্ট্রাকচার (বাহ্যিক দৃশ্যমান) পুরোটাই শেষ হয়েছে। এখন রেলসেতুর কিছু কাজ বাকি রয়েছে। রেলসেতুতে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণও শেষের দিকে। হয়তো আগস্ট মাসে পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে। পরীক্ষামূলক সব কাজ শেষ করে এ বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই রেলসেতু উদ্বোধন করবেন।
রেল মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু রেলসেতুটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ ও রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রান্সএশিয়ান রেলপথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি বেগবান হবে।
যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে দেশের দীর্ঘতম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে ৭২ ভাগ অর্থ ঋণ দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। জাপানের আইএইচআই, এসএমসিসি, ওবায়শি করপোরেশন, জেএফই ও টিওএ করপোরেশন এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ অংশে দুটি প্যাকেজের আওতায় ৫০টি পিলার ও ৪৯টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর স্প্যানে স্লিপারবিহীন রেললাইন বসানো হচ্ছে। দেশের রেললাইনে জাপানি এ প্রযুক্তির ব্যবহার এটাই প্রথম। এ প্রযুক্তিতে স্টিল স্ট্রাকচারের গার্ডারের সঙ্গে রেললাইনের সংযোগ প্রযুক্তিতে কোনো স্লিপার থাকবে না। রেলসেতুতে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ দুই ধরনের রেললাইনের সমন্বয়ে ডুয়েলগেজ ট্র্যাক বসানোর কাজ চলছে। ডাবল লাইনের এই সেতুতে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর অর্ধাবৃত্তাকৃতির বিপরীত অংশে ভারী লোহার পাত যুক্ত করে সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করায় একটি ট্রেনকে সেতু পাড়ি দিতে ২২ মিনিট সময় লাগে। এতে করে সেতুর দুই দিকে ট্রেনের জট সৃষ্টি হয়। এ কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগে প্রতিটি ট্রেনকে গড়ে ৩০ মিনিট করে বেশি লাগে।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’ প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু চালু হলে প্রতিদিন ৬৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। নতুন রেলসেতু চালু হলে একদিকে যেমন ট্রেনে গতি ফিরবে তেমনি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মেসবাহ (৪৪) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মদিনায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হাবিবুল্লাহ মেসবাহ জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামের মাওলানা মো. আবদুল হাইয়ের ছেলে।
নিহত হাবিবুল্লাহ মেসবাহ টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল থানা মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ মেসবাহ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে মদিনা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। সে সময় তিনি এক হজ্জ কাফেলার মোয়াল্লিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্ত্রী, ২ ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, তার মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে তার মরদেহ কবে দেশে আনা যাবে সেটা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, বামাশিস’র কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ ও টাঙ্গাইল জেলা ইমাম মোয়াজ্জেম সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন তার স্বামী।
শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের পরিবার।
নিহতের নাম পাপিয়া বেগম (৪৫)। সে ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাঞ্জানা গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী।
নিহতের ভাতিজা ফারুক হোসেন জানান, তার চাচা আনিছুর রহমান ঘাটাইল উপজেলা সহকারি মৎস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাঞ্জানা গ্রামে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাসা ভাড়া করে পাশ্ববর্তী উপজেলা কালিহাতীতে থাকতেন। শুক্রবার সকালে কালিহাতী থেকে মোটরসাইকেল যোগে স্ত্রী পাপিয়াকে নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। সকাল ৮ টার দিকে বাড়ির কাছাকাছি বানিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছলে তার স্ত্রী মোটরসাইকেলের পেছন থেকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আনিসুর রহমান নিজেও মহাসড়কে পড়ে যান।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাপিয়া বেগম। চিকিৎসকের বরাদ দিয়ে ফারুক জানান, বর্তমানে তার চাচা আনিছ শঙ্কামুক্ত আছেন।
ঘাটাইল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সজল খান জানান, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ সপ্তাহব্যাপী তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জেলার শহর ও গ্রামের জনজীবন। এর সাথে অনাবৃষ্টি যোগ হওয়ায় এক প্রকার বাধ্য না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছে না জেলা বাসী।
শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিস। এটিই জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে নিশ্চিত করেছেন অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল হোসাইন।
তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর ৩টায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আরও বাড়বে। সন্ধ্যা ৬টায় সর্বশেষ তাপমাত্রা মাপা হবে। আরও দুইদিন এ দাবদাহ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।
সরেজমিনে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহর, দাইন্যা ও হুগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বাইরে আসা লোকজন গরম সইতে না পেরে চায়ের দোকান ও গাছপালার নিচে আশ্রয় নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে আরও কয়েক গুণ।
রাস্তাঘাট এক প্রকার জন-মানব শূন্য। প্রখর সূর্যের তাপে রাস্তাঘাটে টেকা দায়। বাতাস এলে তার সাথে আসছে ধুলা-বালি ও গরম বাতাস। কেউ বাড়ি থেকে বের হলেও বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ধুলাবালি থেকে বাঁচতে ছাতা ও মুখে মাক্স ব্যবহার করছে।
হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল বাজারে কথা হয় সবজি বিক্রেতা ঈমান আলীর সাথে। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমে বাজারে কোনো ক্রেতা নেই। পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই তিনি সবজি নিয়ে বসে আছেন বিক্রির আশায়। গরমের কারণে তার বিক্রি অর্ধেক কমে গেছে।
দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে কথা হয় আখের রস বিক্রেতা মুন্না মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন যাবত তার আখের রস বিক্রি অনেক গুন বেড়েছে। প্রচন্ড গরমে মানুষ বাধ্য হয়েই আখের রস বেশি বেশি খাচ্ছে। বেচা-বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় মুন্নার মুখে তৃপ্তির হাসি।
টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে কথা হয় সাহান হাসানের সাথে। তিনি বলেন, আমি বটতলা থেকে মার্কাস মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছিলাম। মসজিদের ভিতরেও প্রচন্ড গরম। এছাড়া ঈদগাহ্ মাঠ যেন ধুলা-বালির রাজত্ব। গরম ও ধুলা-বালিতে টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করাই দায়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মশা। কবে যে বৃষ্টি হবে একমাত্র আল্লাহ্ পাক ভালো জানেন।
এ অবস্থায় দেশব্যাপী শুক্রবার তিন দিনের জন্য সতর্কতামূলক হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
শুক্রবার আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জারির কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়- দেশের ওপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ আরও তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়।
এছাড়া সারা দেশে হিট আল্যার্ট জারি থাকলেও কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
অন্যদিকে তাপদাহের চাপে রোগী বেড়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে। গরমে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবীরা।
এমন পরিস্থিতিতে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন ও তরল খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন জেলার
সিভিল সার্জন।
একতার কণ্ঠঃ মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিয়ে, ইভটিজিং, জুয়ারোধ, চাঞ্চল্যকর হত্যাকন্ডের দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের গ্রেপ্তার, অপরাধ দমন এবং সর্বাধিক ওয়ারেন্ট তামিল লক্ষ্য পূরণ করাসহ ভালো কাজের বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে আবারও শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আহসান উল্লাহ্। তিনি জেলার ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত মাসের কল্যাণ সভায় তাকে শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় ওসি আহসান উল্লাহ্’র হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট (পুরস্কার) তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার (বিপিএম) (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)। এতে জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনিয়ে জেলার মধ্যে চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন তিনি। একইসাথে ভূঞাপুর থানাও শ্রেষ্ঠ হয়েছে এবং থানার এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলসহ ৯ জন ক্রেস্ট সম্মাননা পেয়েছেন। তার এই অর্জনে উপজেলার সুধীজন, বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক সংগঠন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার মহোদয় (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এর দিক-নির্দেশনায় মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিয়ে, ইভটিজিংরোধ ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকন্ডের দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারসহ বিশেষ অবদানের জন্য চতুর্থ বার আমাকে শ্রেষ্ঠ ওসি ও ভূঞাপুর থানাকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভূঞাপুর থানার কর্মরত সকল পুলিশ সদস্য এবং উপজেলার সকলের সার্বিক সহযোগিতায় ভূঞাপুর থানার এমন এক সাফল্যময় গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জন সকলের। তাছাড়া জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ও থানা নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেল। ভূঞাপুর থানা সকলের জন্য উন্মুক্ত। আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো কিছু করতে ভূঞাপুর উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঁদার দাবিতে সৌদি প্রবাসী এক নারীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কলেজ পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে সৌদি প্রবাসী এই নারী হেনা বেগম (৩৮) শনিবার রাতেই টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া সোমবার (১৫ এপ্রিল) হেনা বেগম টাঙ্গাইলের র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডারের বরাবর আরও একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোছা. হেনা বেগম টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ কলেজপাড়া এলাকার মৃত হায়াত আলীর মেয়ে। সে ও তার স্বামী দীর্ঘ ৮ বছর যাবত সৌদি প্রবাসী। ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য সম্প্রতি ২ মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসেন তিনি। তার স্বামী এখনো সৌদি আরবে থাকায় তিনি তার বাবার বাড়ি দক্ষিণ কলেজ পাড়ার বাসায় ওঠেন। হেনা বেগমের কাছে প্রতিবেশী মো. মুন্না, মো. আকাশ, মো. হিটলু, মো. মোজাম্মেল, হাসি বেগম ও মুন্নি ঈদ উপলক্ষে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। হেনা বেগম চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বিবাদীগণ একজোট হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে তার ও তার ভাই বিজিবিতে কর্মরত মো. জহিরুল ইসলামের বসত বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় ঘরে রক্ষিত আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ঘরে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল, গলার চেইন ও হাতের আংটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এসময় হেনা বেগমের নানু নুরজাহান বেগম বাধা প্রদান করলে তাকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে যায় দাবিকৃত চাঁদা না দিলে হেনা বেগমের পরিবারের সকল সদস্যকে মেরে গুম করে ফেলা হবে।
এ প্রসঙ্গে মোছা. হেনা বেগম বলেন, আমি ও আমার স্বামী দীর্ঘ ৮ বছর যাবত সৌদি প্রবাসী। আমরা বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছি। অথচ আমি আমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিবাদীগণ প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। যেকোনো সময় তাঁরা আমাদের উপর আবার হামলা চালাতে পারে। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. মুন্না, মো. আকাশ, মো. হিটলু, মো. মোজাম্মেল, হাসি বেগম ও মুন্নি পলাতক থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: মামুন জামান (সজল) বলেন, বিষয়টি আমি জানি। বাদী ও বিবাদীগণ পরস্পরের আত্মীয় হওয়ায় নিজেদের মধ্যে বসে মীমাংসা করার জন্য বলা হয়েছে। মীমাংসার সময় আমার তরফ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ইমানুর রহমান জানান, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বর্তমানে বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের একই স্থানে একই সময়ে সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কোন পক্ষকেই সমাবেশ করতে দেয়নি জেলা প্রশাসন।
জেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ, সচেতন নাগরিক সমাজ ও জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একই সময় সমাবেশের আহ্বান করায় বর্তমানে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও বিবাদমান দুই গ্রুপের কাউকেই শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমাবেশ স্থলে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। ফলে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ যথাক্রমে পৌরসভার সামনে ও থানা পাড়া ‘রবি’ অফিস মোড়ে এবং পূর্ব আদালত পাড়া মোড়ে তাদের কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত করে সংক্ষিপ্ত পথ সমাবেশ করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সমাবেশ স্থলে ও শহরের মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের ভ্রাম্যমান টহল দল শহরময় প্রদক্ষিণ করে। সকালে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, টাঙ্গাইল শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, দুই পক্ষ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় কোন পক্ষকেই সমাবেশ না করতে দেয়ার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একটি অংশ ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত দলের শহর শাখা থেকে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ‘টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারের এই সমাবেশের আহ্বান করে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল প্রমুখ।
অপর পক্ষ “জেলা শ্রমিক ফেডারেশন” এর ব্যানারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে একই দিন একই সময় শ্রমিক সমাবেশের আহ্বান করে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বালা মিয়া, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির এমপি ও ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ওরফে আমিন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থানে বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে অন্তত ৬টি বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শহরের পৌর ভবনের সামনে দুটি, শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পূর্ব পাশের কোনায় একটি, শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি ও টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিকট শব্দে দফায় দফায় বিষ্ফোরণের পর সাধারণ মানুষ দিদ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এসময় নিরালা মোড়সহ শহর ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে তৈরি
হয় আতঙ্ক।
পরে পুলিশের একটি দল পৌর ভবনের সামনে থেকে অবিষ্ফোরিত তিনটি তাজা বিষ্ফোরক উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের একই সময়ে দুটি সমাবেশ আহবান করা হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে আতঙ্ক তৈরি করার লক্ষ্যে একটি পক্ষ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ডাকা রাজনৈতিক মিছিল ও সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে বলেন জানান টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।
বিষ্ফোরণের ঘটনার পর শহরে পুলিশ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত
পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন হেলমেট পরিহিত আরোহী পৌর ভবনের সামনে এসে হঠাৎ দুটি বিষ্ফোরণ ঘটায়। এসময় তারা আরো তিনটি বিষ্ফোরক ছুড়লেও তা বিষ্ফোরিত হয়নি। পরে একটি মোটরসাইকেল বিন্দুবাসিনী বালক বিদ্যালয়ের পেছনের সড়ক দিয়ে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’র দিকে চলে যায়। অপর মোটরসাইকেলটি ক্লাব রোড হয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলে যায়।
তারা আরও জানায়, পরে পুলিশ এসে টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে থেকে তিনটি অবিষ্ফোরিত বিষ্ফোরক উদ্ধার করে এবং বিষ্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব বলেন, কে বা কাহারা মোটরসাইকেল যোগে এসে পৌর ভবনের সামনে দুটি বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া এখান থেকে তিনটি অবিষ্ফোরিত বিষ্ফোরক উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এগুলো ককটেল নাকি অন্য বিষ্ফোরক তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে আমার কাছে মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিষ্ফোরণ ঘটনার পর তাদের মিছিলের অনুমোদি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যারা এই বিষ্ফোরণ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ ‘পৃথক দুটি ব্যানারে’ বৃহস্পতিবার একই স্থানে একই সময়ে সমাবেশের আহ্বান করেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এক পক্ষ টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একটি সমাবেশ আহ্বান করেছেন। তাঁরা ধর্ষণ মামলার আসামি শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি করছে।
অপর পক্ষ জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে একই দিন একই সময় শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বালা মিয়া, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ও ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ওরফে আমিন।
তানভীর হাসান টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া তাঁর ভাই।
টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারের নেতৃত্বে রয়েছেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম সিরাজুল হক, সদর উপজেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল।
একতার কন্ঠ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাস- মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো রনি হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল চালকের নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সরাতৈল নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোঃ রনি হোসেন (৩০) কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার চাঁদ প্রামাণিকের ছেলে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর আশরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয় মোটরসাইকেল চালক। মোঃ রনি। এ সময় তার সাথে থাকা একজন আরোহীও আহত হয়।
তিনি জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থেকে আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই জনকে উদ্ধার করা হয়।পরে গুরুতর আহত মোটরসাইকেল চালক রনিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কন্ঠ: গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একতা এক্সপ্রেসে ট্রেনের ছাদে থাকা হানিফ মিয়া নামে এক যাত্রীর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
নিহত হানিফ জয়পুরহাট জেলার আমতলী থানার আমতলী গ্রামের আ. হান্নানের ছেলে।
ঘারিন্দা রেলস্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর জানান, জয়পুরহাট থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে উঠে নিহত হানিফ মিয়া।
পথিমধ্যে কোথায় কীভাবে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে তা কেউ বলতে পারেনি। ট্রেনটি টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল স্টেশনে এসে পৌঁছালে মরদেহটি দেখার পর উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহটি রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।