কালিহাতীতে বালুবাহী ট্রাকে ভেস্তে যাচ্ছে কোটি টাকার উন্নয়ন


০৮:০১ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৩
কালিহাতীতে বালুবাহী ট্রাকে ভেস্তে যাচ্ছে কোটি টাকার উন্নয়ন - Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পৌলী গ্রামে নির্মাণাধীন একটি পাকা সড়ক নির্মাণ শেষ না হতেই স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা সড়কটি ব্যবহার করে বালু বিক্রি করায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের কোটি টাকার উন্নয়নের এ প্রকল্প।

বালু ব্যবসায়ীরা অতান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ও স্থানীয় কাউন্সিলর এই ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলি হতে পৌলি দক্ষিন পাড়া পর্যন্ত পৌরসভার অর্থায়নে সড়কটি পাকা করণ করা হচ্ছে। এই সড়কের (সাবেক মেম্বার আব্দুল বারেকের বাড়ির সামনে) দুই পাশের পতিত জমিতে বলগেট দিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে। এই বালু আনলোড করে ওই জমিতে ফেলার জন্য লোহার মোটা পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওই লোহার পাইপগুলো সড়কের উপর দিয়েই নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জমাকৃত বালু একস্থান থেকে অন্যস্থানে নেওয়ার জন্য রাস্তার উপর দুটি স্যালো মেশিন বসানো হয়েছে। স্তুপকৃত বালু বিক্রি হওয়ার পর পরিবহনের জন্য ড্রামট্রাক লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে। ভেকু মেশিন দিয়ে অপেক্ষামান ট্রাকগুলোতে বালু তুলে দিচ্ছে। এই বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের ফলে কোটি টাকার নির্মাণাধীন সড়কটি বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া দিনরাত ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কের বালু উড়ে গিয়ে পার্শবর্তী বাড়িতে গিয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানায়, এই এলাকার কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষের যোগসাজসে প্রভাবশালী কিছু লোক বলগেট দিয়ে বালু এনে বিক্রি করছে। এলাকায় বলগেটের বালু আনলোড করায় নদীর পাড়ে দুইটি বাড়ির কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে হওয়া কোটি টাকায় নবনির্মিত এই সড়কটি ব্যবহার করে দিনে-রাতে বালুবাহী ট্রাক চলাচল করায় ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসীর চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলোবালি গিয়ে বসত-বাড়িতে পড়ায় বসবাস করা অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ট্রাকের হাইড্রলিক হর্ণের বিকট শব্দে ঘুম থেকে শিশুরা আচমকা চমকে উঠছে। তারা ওই সড়কটি রক্ষার্থে বালু ব্যবসা বন্ধের জোর দাবি জানায়।

বালু ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এলাকার কিছু যুবকরা মিলে সিরাজগঞ্জ থেকে বালু কিনে এনে বিক্রি করছি। নদী থেকে বালু তুলেতো বিক্রি করছি না। তবে নির্মাণাধীন সড়ক ব্যবহার করায় সড়কের যে ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।

এলেঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষ অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি কাউন্সিলর হওয়ার পর পৌলি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছেন। ফলে বিকল্প হিসেবে স্থানীয় ড্রাম ট্রাক ব্যবসায়ীরা সিরাজগঞ্জ থেকে বলগেট দিয়ে বালু এনে বিক্রি করছে। সড়কটি ব্যবহার করার জন্য বালু ব্যবসায়ীরা পৌরসভায় একটি দরখাস্ত দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বালু আনলোড করার সময় দু-একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটা আমি জানি। ওই ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলো মেরামত করার জন্য ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। তবে তিনি বালু ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নুর-এ আলম সিদ্দিকী জানান, নবনির্মিত সড়কটি ব্যবহারের জন্য বালু ব্যবসায়ীরা কোন দরখাস্ত পৌরসভায় দেয়নি। দক্ষিন পৌলিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সড়কটি পাকাকরণ করা হচ্ছে। সড়কের কোন প্রকার ক্ষয়-ক্ষতি পৌর কর্তৃপক্ষ বরদাস্ত করবেনা।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইএনও) মো.নাজমুল হুসেইন জানান, বলগেট দিয়ে বালু আনায় আইনগত কোন বাধা নেই। তবে সড়ক ব্যবহারে কোন প্রকার বেরিক্যাড দেওয়া যাবেনা। বেরিক্যাড দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।