একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পদে চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা ও নির্যাতন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। হুগড়া ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নূর এ আলম তুহিন। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অপর নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা নিজে নেতৃত্ব দিয়ে তার কর্মী সমর্থকদের উপর বিভিন্ন সময় হামলা, নির্যাতন করছেন। তার হামলার শিকার হয়ে অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মৈশা গ্রামের তোফাজ্জলকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি এখন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার শিকার হয়ে আরেকজনের মাথার খুলি ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তাকেও ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি এখন চোখে দেখতে পান না এবং তার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর চরহুগড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছয় বছরের শিশুপুত্রকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও আরো অনেককে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এভাবে ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগ জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ও নির্বাচন অফিসে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানান মো. নূর এ আলম তুহিন। একই সাথে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলম দুলাল, শেরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (অবঃ) আব্দুর রাজ্জাক, সরকারি এম এম আলী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শামসুল হুদা, টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জুয়েল, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মির্জা রনি আহম্মেদ রিংকু, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৈশা গ্রামের তোফাজ্জলের মা নূর জাহানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি পদে এ্যাডভোকেট জাফর জাফর আহমেদ (যুগান্তর), সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী জাকেরুল মওলা (আরটিভি) প্যানেলের বিজয়ী হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর)অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি এম এ ছাত্তার উকিল (মৌবাজার) ও একরামুল হক খান তুহিন (মাছরাঙা টিভি), যুগ্ম সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন (বাংলাদেশ প্রতিদিন) ও ইফতেখারুল অনুপম (জনকণ্ঠ), ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার মাসুদুল আলম (মজলুমের কণ্ঠ), সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী তাজ উদ্দিন রিপন (একুশে টিভি), দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক অরণ্য ইমতিয়াজ (কালেরকণ্ঠ),কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুর রহিম(সমকাল)কার্যনির্বাহীর সদস্যরা হলেন, ড. মো. কামরুজ্জামান (নিউনেশন), শামীম আলম মামুন (যমুনা টিভি), মামুনুর রহমান মিয়া (ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি), কাজী হেমায়েত হোসেন হিমু (সময় তরঙ্গ) ও সাহাবউদ্দিন মানিক (দি ফিনাশিয়াল এক্সপ্রেস)।
নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি করেন কাজী জাকেরুল মওলা (আরটিভি) ও মহব্বত হোসেন (এনটিভি)। এতে ৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কাজী জাকেরুল মওলা (আরটিভি) আর মহব্বত হোসেন পেয়েছেন ২১ ভোট। যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. নাসির উদ্দিন (বাংলাদেশ প্রতিদিন), ইফতেখারুল অনুপম (জনকণ্ঠ) ও মহিউদ্দিন সুমন (জিটিভি)। এ উভয়ে ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন (বাংলাদেশ প্রতিদিন) ও ইফতেখারুল অনুপম (জনকণ্ঠ)। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৩৩ ভোট পেয়ে বিজয় হয়েছেন কাজী তাজ উদ্দিন রিপন (একুশে টিভি)।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত পরিষদ
তার প্রতিদ্বন্দ্বি শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা পেয়েছেন ২৩ ভোট। এছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ পদে ৫জন বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ড. মো. কামরুজ্জামান (নিউনেশন), শামীম আলম মামুন (যমুনা টিভি) পেয়েছেন ৪৯ ভোট, মামুনুর রহমান মিয়া (ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি) পেয়েছেন ৪৫ ভোট, কাজী হেমায়েত হোসেন হিমু (সময় তরঙ্গ) পেয়েছেন ৪৩ ভোট আর সাহাবউদ্দিন মানিক (দি ফিনাশিয়াল এক্সপ্রেস) পেয়েছেন ৩৬ ভোট।
এর আগে সভাপতি পদে এ্যাডভোকেট জাফর জাফর আহমেদ (যুগান্তর), সহ-সভাপতি এম এ ছাত্তার উকিল (মৌবাজার) ও একরামুল হক খান তুহিন (মাছরাঙা টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার মাসুদুল আলম (মজলুমের কণ্ঠ), দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক অরণ্য ইমতিয়াজ (কালেরকণ্ঠ) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. হারুন-অর-রশিদ আর কমিশনার পাবলিক প্রসিকিউটর এস আকবর খান ও অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে।
এর আগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে এর ভোট গ্রহণ। নির্বাচনে ৬৭ টি ভোটের ৬৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে চারটি ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
একতার কণ্ঠ: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮.০৫ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সম্মান প্রদর্শন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়।
এর পর ভাইস-চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রত্যয়-৭১ এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ভাইস-চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে শহীদদের স্মরণে ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, অনুষদ, বিভিন্ন হল, বিভাগ, ভাসানী রিসার্চ সেন্টার, আই কিউ এ সি, অফিসার্স এসোসিয়েশন, ৩য় শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ভাসানী পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বাঁধন, ধ্রুবতারা সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষথেকেও প্রত্যয়-৭১ এর পাদদেশে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ছাত্রদের মোরগ লড়াই ও গোলক নিক্ষেপ, ছাত্রীদের জন্য হাঁড়ি ভাঙ্গা ও মিউজিক্যাল চেয়ার, শিক্ষিকা ও মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য পিলো পাসিং, বাচ্চাদের জন্য দৌড় ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিক্ষক, কর্মকর্তা, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এছাড়া স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পরিচালনায় সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শপথ অনুষ্ঠান বিকাল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।
সকল কর্মসূচিতে অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোষ্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেন।বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয় এবং গোবিন্দ মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শহর জুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ৫০ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচী। পরে জেলা সদরে অবস্থিত “শহীদ বেদীতে” ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধ জানান জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি।
এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় শহরের জেলা সদর রোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের শহীদ বেদীতেও।
সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারী এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে,সকাল ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, জেলখানা, হাসপাতাল, এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়ায় অবস্থিত নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ৬০ কর্মী ও ২০ স্বেচ্ছাসেবক দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার(১৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, কারখানার বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর মালামাল ও যন্ত্রাংশ আগুনে ছাই হয়ে গেছে। হিসাব না করে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানানো যাচ্ছেনা। তবে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা সূত্রে জানাগেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে কারখানার দোতলা ভবনের নিচতলার ফিনিশড গুডস ওয়্যারহাউসের (তৈরি মালামাল প্যাকেট করে রাখার স্থান) উত্তর-পূর্ব কোণায় অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ আগুন লাগে। এ সময় দ্বিতীয় তলায় প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন দেখে তারা দৌঁড়ে নিচে নামেন। তাড়াহুড়া করে দৌঁড়ে নামতে গিয়ে কয়েক শ্রমিক সামান্য আহত হন। এর মধ্যে কাদের মিয়া নামে এক শ্রমিককে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই কারখানার শ্রমিক জয়নুল আবেদীন ও কালাম জানান, বুধবার রাতে তারা ওই ভবনের পাশের মাঠে ভলিবল খেলছিলেন। রাত ১১টার দিকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনে তারা দৌঁড়ে ভেতরে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কারখানার ভেতরে রাখা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুত আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর তারা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, এলেঙ্গা, ঘাটাইল, সখীপুর, বাসাইল ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ৬০ কর্মী ও ২০ স্বেচ্ছাসেবক অক্লান্ত পরিশ্রম করে বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কারখানায় দাহ্যবস্তু হিসেবে ম্যাটেরিয়ালস, প্যাকিং বক্স থাকায় ও গোডাউনটি কয়েক লাখ স্কয়ার ফুটের হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। কেন- কী কারণে আগুন লেগেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেন নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের একমাত্র ছেলে ও দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিবিসিআই’র পরিচালক। ফজলুর রহমান খান ফারুক আওয়ামীলীগের পক্ষে এই আসনে ১৯৭১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাহিদুল নবী চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম কামরুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়েও মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের খান আহমেদ শুভ ছাড়াও জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ বৈরাবরি পার্টি থেকে পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে খান আহমেদ শুভ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। চায়ের দোকান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাব, হাটবাজারে নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচিত হতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনা করছেন। সরকার দলীয় প্রার্থী বর্তমান সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরছেন ভোটারদের মাঝে।
স্থানীয় ভোটার রাশেদ হাসান বলেন, যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে ও যাকে বিপদে পাশে পাওয়া যাবে এমন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। অপর ভোটার সফল বনিক বলেন, মির্জাপুরের অদূরে রাজধানী। যিনি মির্জাপুরকে রাজধানীর আদলে সাজাতে পারবেন, তাকে দলমত নির্বিশেষে ভোট দেবেন।
খান আহমেদ শুভ বলেন, ‘জনগণের সেবা ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নৌকাকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামীলীগ থেকে তাকে মনোনীত করায় খান আহমেদ শুভ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ নভেম্বর এই আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩০ নভেম্বর এই আসন শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ ডিসেম্বর। আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে কারাবন্দি ৯৭৬ জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে ওই টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।
জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, টাঙ্গাইল কারাগারে ৫২ জন নারীসহ ১ হাজার ২৪৬ জন বন্দি আছেন। এদের মধ্যে বুধবার ৯৭৩ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। টিকা প্রাপ্তদের মধ্যে ৩৬ জন নারী ও ৯৩৭ জন পুরুষ রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আসা আ্যাস্ট্রোজেনিকা ও সিনোফার্মার টিকা দেওয়া হয়েছে বন্দিদের। বাকি যারা আছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন মর্ডানা ও ফাইজারের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। তাদেরকে সেই সব প্রতিষ্ঠানের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জানান, সবাইকে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে আমরা কারাবন্দিদেরকেও ভ্যাকসিন দিচ্ছি। কয়েকজন বন্দি ফাইজারের প্রথম ডোজ নিয়েছে। আমরা তাদের একই কোম্পানির দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
একতার কণ্ঠঃ ওয়ালটন গ্রুপের অর্থায়নে টাঙ্গাইলে জেলা সদর পানির ট্যাংকের বধ্যভূমির পাশে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, টাঙ্গাইল পৌরভার মেয়র এস. এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়্যারম্যান শাহজাহান আনছারী প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, এই স্মৃতি কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু ও টাঙ্গাইলের সকল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, অডিও-ভিডিও, যুদ্ধকালীন ছবি ও দেশি-বিদেশি পত্রিকা সংরক্ষণ করা হবে। এই ভবণের চতুর্থ তলায় কনফারেন্স রুম থাকবে।
তিনি আরো জানান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৫২ এর ভাষা আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে চারতলা এই স্মৃতি কেন্দ্রে চারটি স্তম্ভে চার জাতীয় নেতা এবং মাঝখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থাকবে। বঙ্গবন্ধু ও টাঙ্গাইলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও শিক্ষার্থীরা ধারণা পাবে।
প্রকাশ, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও ওয়ালটনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে গত ৮ মার্চ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল প্রেসক্লাব আঙ্গিনায় ফুল বাগান তৈরির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে বাসাইল প্রেসক্লাব আঙ্গিনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার ফুলের চারা রোপনের মধ্যদিয়ে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল ইসলাম তালহা, সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপসহকারি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন, উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন, সাবেক সভাপতি এম শহিদুল ইসলাম, সাবেক সম্পাদক এমকে ভূইয়া সোহেল,প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল মিয়া, মিলন ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাসাইল প্রেসক্লাবের সামনে সৌন্দর্য বর্ধণ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ২টি কামিনী, ২০ টি গোলাপ, ৬০টি কসমস, ৬০টি সিলভিয়া, ১২০টি গাদা ফুলের চারা রোপন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৮ নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা নিশ্চিত করেছেন।
বহিষ্কৃতরা হলেন, অর্জুনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আইয়ুব আলী মোল্লা; সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রহমান; উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালুকদার জিন্নাহ; গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম আকন্দ শাপলা; আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম; ছানোয়ার হোসেন তালুকদার ফিরোজ; উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম (আমিন); ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম; মো. আমিন মন্ডল; জয়নাল আবেদীন; যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক; নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ; সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পাভেল; জুরান আলী মন্ডল; কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. মোন্নাফ আলী; ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম তালুকদার; বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফজল হক ও কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. রফিকুল।
বহিস্কার প্রসঙ্গে তাহেরুল ইসলাম তোতা জানান, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় উল্লেখিত ১৮ নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা সদরে অবস্থিত “শহীদ বেদীতে” প্রথমে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে জেলা সদর রোডে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃবাংলা খবরের কাগজে তার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তারা চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে শান্ত, ভদ্র, এবং বিচক্ষণ তরুণ হিসেবেই জানতেন। তার চেহারা ছিল অমায়িক, মুখ ভরা ছিল ছোট করে ছাটা পরিপাটি দাড়ি। অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম বলতে ছিল—মুসলিম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের এক নেতার সঙ্গে তার প্রায়শ ফোনালাপ।
কিন্তু গত কিছুদিনের অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই ফোনালাপ নিছক সাধারণ কিছু ছিল না। এর সূত্র ধরেই জানা গেল এই মঈনুদ্দীন হলেন কমান্ডোর মতো গুপ্ত ঘাতক একটি সংগঠনের প্রধান যারা ঢাকায় একটি ইটভাটায় শত শত বিশিষ্ট বাঙালি অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজীবী ও সাংবাদিককে হত্যা করেছে।
ডিসেম্বর ১৭ তারিখে শেষ হওয়া যুদ্ধের আগের তিন দিন ধরে খাকি প্যান্ট আর কালো সোয়েটারের উর্দি পরা এই আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেছিল। সেই সময় যারা আটক হয়েছিলেন তারা বলেছেন, এদের লক্ষ্য ছিল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করা, যারা পাকিস্তান থেকে একটি স্বাধীন ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কাজ করেছেন।
অনেক বাঙালি মনে করেন তখনই যদি যুদ্ধ শেষ না হতো তাহলে আলবদর তাদের পরিকল্পনায় সফল হতো। ওই ইটভাটায় যে ১৫০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে তাদের অধিকাংশেরই ছিল নখ উপড়ানো এবং আঙুল কাটা। ইট ভাটার কাছের মাঠেই ২০টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে শত শত মানুষকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন
এটা এখন স্পষ্ট যে আলবদর হলো বাঙালিদের দ্বারা তৈরি বাহিনী, পশ্চিম পাকিস্তানী কিংবা ভারত থেকে আসা বিহারীদের, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের দ্বারা নয়।
‘পৃথিবীর এমন কিছু নেই যা আমাদের সঙ্গে ঘটেনি,’ বলছিলেন সম্পাদক এহতেশাম চৌধুরী, যার পত্রিকায় কাজ করতেন মঈনুদ্দীন।
আলবদর বাহিনী এহতেশাম চৌধুরীর ছোট ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করে। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এহতেশাম। আলবদর সদস্যরা সেই রাতে রাত বাড়িতে হানা দিয়েছিল।
যা ঘটেছে আমি যখন এটা ভাবি, আমার পা অসাড় হয়ে যায়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ভালো হতো, যদি তারা আমাদের নিচে চাপা পড়ে থাকত।’
এই আলবদর বাহিনী যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সজ্জিত ছিল এ ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রমাণ উঠে আসছে এখন।
পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডেস্কের উপর পাওয়া কিছু গোপনীয় কাগজে এই আলবদর বাহিনীর কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ক্যাপ্টেন তাহির, আলবদরের জন্য গাড়ি’, ‘আলবদরের ব্যবহার’—তাড়াহুড়ো করে লেখা একটি কাগজের নোটে পাওয়া গেছে।
ক্যাপ্টেন তাহিরকে বলা হয়ে থাকে, রাজাকার ও বিহারী মিলিশিয়ার একজন কিংবদন্তীতুল্য পাকিস্তানী কমান্ডার যাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করত।
অন্য আরেকটি পাতায় লেখা রয়েছে ‘নিজাম উদ্দিন, মোটিভেটেড নিউজ’। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন বাঙালি সাংবাদিক যিনি পাকিস্তানবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে সুবিদিত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তার নামের পাশে পেন্সিল দিয়ে অজ্ঞাত বিশেষ এক ধরনের চিহ্ন আঁকা ছিল।
তবে হত্যাকারীরা কিছু ক্লু রেখে গেছে। রাতে কারফিউ চলাকালীন তারা তাদের টার্গেটকে তুলে নিয়ে যায়। তারা কখনোই নিজেদের পরিচয় দিত না। কড়া পাহারার মধ্যে দূরে নিয়ে গিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়।
যুদ্ধ শেষ হবার আগের দিন ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সেই ইটভাটার পাশে যে কৃষকদের বসবাস, তারা কালো সোয়েটার, খাকি প্যান্ট পরা লোকদের দেখেছেন অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে ধরে নিয়ে যেতে। কিন্তু চোখ বাঁধা লোকগুলো কারা ছিলেন তা দেখার জন্য খুব কাছে যেতে পারেননি তারা।
হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন লোক সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন এই ঘটনার কথা বলার জন্য। পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মোহাম্মদ রউফ ১৩ তারিখ ভোরবেলা দরজায় জোরে টোকার শব্দ শুনে জেগে উঠেছিলেন। উত্তর দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। দরজায় দাঁড়ানো ১২ জন সশস্ত্র লোককে তিনি বলেছিলেন তার স্বামী বাসায় নেই, কিন্তু এরপরও তারা জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে।
‘তারা আমাকে কিছুই বলেনি। যতক্ষণ না তারা তাকে (স্বামীকে) পেয়েছে ততক্ষণ ঘর তল্লাশি করেছে’ বলেন মিসেস রউফ।
‘এরপর তারা তাকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায়।’
ভাগ্যক্রমে, রউফ যে পেস্ট্রিশপে কেনাকাটা করতেন সেই দোকানেরই এক কর্মচারীকে তার সঙ্গে একই ঘরে বন্দী রাখা হয়। শ্রী চন্দপাল নামের পেস্ট্রিশপের সেই কর্মচারী পরে আলবদরের দলে থাকা এক বন্ধুর মধ্যস্থতায় মুক্তি পায়।
‘ওখানে ৪২ জন ছিলাম আমরা সেই রুমে’ চন্দপাল বলেন, ‘আমাদের সবার হাত ছিল পিছমোড়া করে বাঁধা এবং চোখ কাপড়ে ঢাকা। একটা পর্যায়ে আমি চোখের বাঁধন আলগা করতে পারি। সেই রুমের অধিকাংশ লোক ছিলেন পেশায় অধ্যাপক এবং ডাক্তার। সেখানকার প্রহরীরা আমাদের কিছু খেতে দেয়নি। এমনকি আমরা যখন পানি চাইছিলাম তারা হেসে বলেছিল যাও ইন্দিরা গান্ধীকে বলো।’
চন্দপাল বলছিলেন, ওদের সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের আলোচনা শুনে আলবদরের বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‘তারা বলছিল কেন বাঙালিদের হত্যা করা দরকার। আমরা অন্য ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনছিলাম।’
‘সেই রাতে প্রহরীরা প্রফেসর রউফসহ ১০ জনকে নিয়ে যায় যারা আর ফিরে আসেননি।’
ডিসেম্বর ১৫ তারিখ যখন চন্দপাল মুক্তি পান, তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ঢাকার শারীরিক শিক্ষা কলেজের একটি ডরমিটরিতে যা আমেরিকান সাহায্যে তৈরি করা আধুনিক ভবন ছিল।
কলেজের দারোয়ান মকবুল হোসাইনও সেই রাতগুলোর কথা মনে করেন। ‘সুন্দর কাপড় পরা এবং হাত বাঁধা অবস্থায় শত শত লোককে সেখানে নিয়ে আসা হতো। ওই ঘরগুলো থেকে আমরা সব সময় আর্তনাদ আর চিৎকার শুনতে পেতাম,’ বলেন তিনি।
আলবদর নামটি নেওয়া হয়েছে মদিনার কাছে যে জায়গায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে মহান যুদ্ধ করেছিলেন সেখান থেকে। তার (নবীর) অসংখ্য সাহসী সেনাকে এই নাম দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকার জেলে আটক আছেন এরকম একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপোর্টার মঈনুদ্দীন ছিলেন এই আলবদরের মূল হোতা। মঈনুদ্দীনের সঙ্গে তার ঘরেই থাকত এরকম একজনের একটি ডায়রি পাওয়া গেছে যেখানে আলবদর বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা এবং তারা কত টাকা চাঁদা দিয়েছিল তা উল্লেখ ছিল।
এই দুজন যে বাড়িটিতে থাকতেন তার সামনে ছিল ঢাকার জামায়াতে ইসলামীর সদর দপ্তর। মৌলবাদীদের এই দলটি গত বছর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। আলবদর বাহিনী হলো জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় এক শাখা সংগঠন যাদেরকে গত মার্চে পাক বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর খুব সতর্কতার সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে।
পূর্বদেশ পত্রিকার এক সহকর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি হবার পর মঈনুদ্দীনকে ১৩ ডিসেম্বর শেষবারের মতো ঢাকায় দেখা গিয়েছিল। তার সেই সহকর্মীকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলবদর সদস্যরা তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
সেই অফিসের আরেক কর্মী আতিকুর রহমান এখন মঈনুদ্দীনকে খুঁজতে শুরু করেছেন। রহমান বলেন, ‘আমরা তাকে খুঁজে বের করব, এর আগ পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’
[চৌধুরী মঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করতেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।]
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে, সাংবাদিক ফক্স বাটারফিল্ড প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন, অনুবাদ করেছেন এফ এম মিজানুর রহমান।
তথ্য সূত্রঃ দি ডেইলি স্টার অন লাইন