একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি কালে বাঁধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছে অন্তত সাত যাত্রী।
সোমবার(৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রক্তিপাড়ার নরকোণা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরতর হওয়ায় তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা গ্রামের মসির উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া (৪০) ও সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী কাকলি বেগম (৩৫)। বাকী পাঁচ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরে গেছেন।
পুলিশ ও বাসযাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মাদারগঞ্জ স্পেশাল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকা থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে গাজীপুরের চন্দ্রা নামকস্থান থেকে থেকে ৭ খেকে ৮ জন ডাকাত দল যাত্রীবেশে বাসটিতে উঠে। বাসটি মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ি পার হলে ডাকাত দল বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে ডাকাত দল সাত যাত্রীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। ডাকাতি শেষে তারা মধুপুরের রক্তিপাড়ার উত্তর পাশে নরকোণা এলাকায় বাস থেকে নেমে যায়।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত ও আটক করতে অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিয়ের দাবিতে পরকীয়া প্রেমিক আল-আমিনের (২৩) বাড়িতে দু’দিন ধরে অনশণ করছে এক তরুণী।
এদিকে তরুণী বাড়িতে আসার বিষয়টি টের পেয়ে প্রেমিক ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
রবিবার (২ এপ্রিল) বিকেল থেকে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে ওই তরুণীকে অনশণ করতে দেখা গেছে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের পর সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছেন প্রেমিক। এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগ না নিলে কোর্টের শরণাপন্ন হন বলে জানায় ওই তরুণী।
অভিযুক্ত প্রেমিক আল-আমিন গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের মো. বাদশার ছেলে।
অনশনরত প্রেমিকা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে বাগবাড়ি গ্রামের জহির তালুকদারের ছেলে মো. বেলালের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দু’বছরের মাথায় শ্বশুরবাড়ি আসা যাওয়ার পথে আল-আমিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে। আল-আমিন একদিন আমাকে বাড়িতে থেকে নিয়ে জামালপুরে সে যেখানে চাকরি করে সেখানে ৩/৪ দিন রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এরপর বাড়িতে এসে বিয়ে করবে বলে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে রেখে চলে যায়। তারপর থেকে সে আমার ফোন ধরছে না। বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে আল-আমিন ফোনে হত্যার হুমকি দিয়ে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, আল-আমিনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা জানার পর স্বামীর সঙ্গে আমার ডিভোর্স হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়েই বিয়ের দাবিতে আল-আমিনের বাড়িতে আসি। এই দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো। দাবি মেনে না নিলে প্রেমিকের বাড়িতেই ফাঁসি দিয়ে মারা যাবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বিয়ের দাবিতে একটি তরুণী অনশন করছে শুনেছি। এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য ও বাসী ইফতার সামগ্রী সংরক্ষণ করে বিক্রি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-খাবার হোটল গুলোতে মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ৪ হোটেল মালিক এবং ব্যবসায়ীকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
রবিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকার পাথাইলকান্দি বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তর টাঙ্গাইলের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে তদারকিমূলক এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত হোটেল ও দোকানগুলো হচ্ছে-
মেসার্স বিসমিল্লাহ হোটেলকে ৫ হাজার টাকা, মেসার্স মৌচাক মিষ্টিঘরকে ২ হাজার। মূল্য তালিকা না থাকায় মেসার্স ভাই ভাই ব্রয়লারকে ৩ হাজার ও মেসার্স রুবেল পোল্ট্রি হাউজকে ৩ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরের টাঙ্গাইলের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহীনুর আলম জানান, রমজান মাস উপলক্ষে হাট-বাজারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভূঞাপুর উপজেলার পাথাইলকান্দি বাজারেও তদারকির অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ফ্রীজে রেখে বাসি ইফতার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না থাকার অপরাধে ৪ হোটেল ও ব্যবসায়ীকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে সকলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাকলাপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে জনসচেতনতার বৃদ্ধির লক্ষে হ্যান্ড মাইকে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকারের এ ধরণের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন,পৃথিবীর কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই,ইলেকশন করবে নির্বাচন কমিশন,দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের তারা সকল দায়িত্ব পালন করবে,জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু প্রধানমন্ত্রী থাকবে। জাপান,শ্রীলংকা সহ বিভিন্ন দেশেও কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। এই সময় ক্ষমতা থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর তবে দায়িত্ব থাকবে। আর্মি চীফ, আইজিপি সহ সকল দায়িত্ব কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
রবিবার(২ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে মধুপুরের গড় এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১৫শত জন কৃষকের মাঝে ১ লক্ষ টাকা করে ৪% স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, স্বাধীনতা দিবসে তারা বলছে জয় বাংলা বলবে না। বিএনপি জামাত জয় বাংলা বলবে না,আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম জয় বাংলা বলে।
তিনি আরো বলেন,আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। দেশের একটি পত্রিকা বলছে যে স্বাধীনতা দরকার নাই আমি না খেয়ে থাকি,খুব কষ্ট লাগে এসব কথা শুনলে। ১০ বছরের শিশুকে ১০ টাকা হাতে দিয়ে ছবি তোলে বলে স্বাধীনতার দরকার নেই। এখনো যারা বলে স্বাধাীনতা দরকার নাই তারা পাকিস্তানের সহচর।
কৃষি ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের প্রসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজালের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার,মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছারোয়ার আলম খান আবু, ধনবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর হারুনির রশীদ হীরা প্রমূখ।
পরে মধুপুর গড় এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে এবি ব্যাংক স্বল্প সুদে ১ হাজার ৫’শ জন কৃষকের মাঝে কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
মধুপুরে ১২’শ ও ধনবাড়ি উপজেলার ৩’শ জন কৃষকদের মাঝে এ স্বল্প সুদে এ কৃষি ঋণ বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দেবরের লাঠির আঘাতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রুহুল আমিনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ এপ্রিল)গভীর রাতে উপজেলার সুরীরচালা গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (২ এপ্রিল) সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওই গ্রামের গৃহবধূ জরিনা বেগম (৪২) হত্যাকাণ্ডে ইন্ধনদাতা হিসেবে মামলার আসামি হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রুহুল আমিন কাকড়াজান ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ, মামলার বাদী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার(৩১ মার্চ) সকালে উপজেলার সুরীরচালা গ্রামের প্রবাসী সাহেব আলীর স্ত্রী জরিনা বেগমের সঙ্গে তাঁর দেবর আবদুস ছালাম মিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আবদুস ছালাম লাঠি দিয়ে তাঁর ভাবি জরিনার মাথায় আঘাত করেন। এক দিন পর শনিবার জরিনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে নিহত জরিনার মেয়ে স্বপ্না আক্তার বাদী হয়ে তাঁর চাচা আবদুস ছালাম মিয়াকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নামে সখীপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্য রুহুল আমিনকেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে আসামি করা হয়। পুলিশ রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার প্রধান আসামিসহ ছয়জন পলাতক রয়েছেন।
নিহত জরিনার মেয়ে স্বপ্না আক্তার জানান, ‘ছোট্ট একটি ঘটনায় ওরা সবাই মিলে আমার মাকে মেরে ফেলেছে। রুহুল মেম্বার আমার চাচাকে না থামিয়ে উল্টো উসকে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রবিবার সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে ইউপি সদস্যকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য হওয়ার পর নানাভাবে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া রুহুল আমিন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি সমিতির সদস্যরা প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের মা তমিরন নেছাকে হত্যা মামলার আসামি ছেলে বাদশা মিয়া (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (১ এপ্রিল)মধ্য রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কান্দাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান,বাদশা মিয়ার সাথে তার ছোট বোন কহিনুর বেগমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটনার দিন বাড়ির উঠানে বাদশা মিয়ার তার ছোট বোনের সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছোট বোনকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তাদের মা নিহত তমিরন নেছা বাদশাকে থামানোর চেষ্ঠা করে। তখন বাদশা উঠানে থাকা ধারালো দা দিয়ে ছোট বোন কোহিনুরকে কোপ দিতে গেলে তাদের মা বাঁধা দেয়। এসময় বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
তিনি আরো জানান,এ ঘটনার কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এরপর থেকে বাদশা পলাতক ছিল। পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর পরিচয় নিয়ে ঢাকা মহানগরের বাড্ডা এবং পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কান্দাইল এলাকায় আত্নগোপন করে। এই মামলার বিচার শেষে ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত বাদশাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।
তিনি জানান,বাদশা মিয়াকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দেবর সালাম মিয়ার লাঠির আঘাতে ভাবি জরিনা আক্তার (৪২) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে স্বপ্না আক্তার সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
শনিবার(১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার(৩১ মার্চ) সকালে তিনি গুরুতর আহত হন।
নিহত জরিনা আক্তার উপজেলার সুরীরচালা গ্রামের প্রবাসী সাহেব আলীর স্ত্রী।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দেবর সালাম মিয়ার সাথে জরিনা আক্তারের তুচ্ছ বিষয় কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সালাম মিয়ার একটি কাঠ দিয়ে জরিনার মাথায় আঘাত করলে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘ছোট্ট একটি ঘটনায় সবাই মিলে আমার রোজাদার মাকে হত্যা করেছে। আমি মায়ের হত্যার বিচার চাই।’
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে স্বপ্না আক্তার মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫ হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব। শুক্রবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানাধীন গোলচত্বর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার বিজুল কঞ্চিহাগি গ্রামের মৃত নজিবুদ্দিনের ছেলে আকরামুল (৪৭) ও একই উপজেলার দিওর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে মোক্তার হোসেন (২৮)।
র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের রবিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানাধীন গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালালে দৌঁড়ে পালানোর সময় তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটককৃতরা অভিনব কৌশলে ঢাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অনিক চন্দ্র কোচ (১৮) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের নলুয়া বাজারের শ্রীবাস সরকারের বাইসাইকেল গ্যারেজের ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক চন্দ্র কোচ বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ঘাটেশ্বরী গ্রামের শচীন্দ্র কোচের ছেলে ।
সে নলুয়া বাজারে শ্রীবাস সরকারের বাইসাইকেল গ্যারেজের মেকানিক হিসেবে কাজ করতো।
ওই দোকানের মালিক শ্রীবাস সরকার জানায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অনিল ও তার বন্ধুরা মিলে দোকানের ছাদে পিকনিকের আয়োজন করে। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ মাসুদ রানা জানায়, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এই অবৈধভাবে বালু কাটার ফলে কোটি টাকায় নির্মিত ও জনগুরুত্বপুর্ন এলেঙ্গা ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোন সুরাহা হচ্ছেনা। প্রশাসনের সাথে আতাঁত করেই নদী থেকে বালু কেটে বিক্রি করছে ওই মহলটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার চুইনাবাড়ি ও বাঁশি গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত এলেংজানী নদীর পাড়ে দুইটি ভেকু বসিয়ে দিনরাত বালু কাটা হচ্ছে। কর্তনকৃত এই বালু ছোট ড্রাম ট্রাক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। ড্রামট্রাক ভর্তি বালু পরিবহন করার সময় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলেঙ্গা বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই সেতু। এছাড়াও বালু পরিবহনের জন্য ফসলি জমি কেটে রাস্তা তৈরি করার ফলে অনেক কৃষক তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না। বালু কাটা চক্রটি অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। এ ছাড়া বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। অত্যান্ত ব্যস্ত এলেঙ্গা বাজারের রাস্তাটি ব্যবহার করে বালু পরিবহনের ফলে প্রায়ই লেগে থাকছে যানজট। যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে এলেঙ্গা হাটবাজার ও পৌরসভায় আসা সাধারণ জনগন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, পৌরসভার বাঁশি গ্রামের মাজেদুর ও শরিফ মিলে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু কেটে বিক্রি করে আসছে। এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আর কেই প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখায় তাদের।
এছাড়া দিনরাত বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ট্রাক চলাচলের শব্দে রাতে বাসা বাড়িতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চলাচল করা ট্রাকে ওড়ানো বালি বাসায় উড়ে গিয়ে আসবাপত্রসহ খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করছে।
বালু ব্যবসায়ী মো. মাজেদুর রহমান জানান, তিনি নদী থেকে নয় তার ক্রয়কৃত জমি থেকেই বালু কেটে বিক্রি করছে। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করেই তিনি এ ব্যবসা করছেন।
কালিহাতী উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভুমি) মো. নাহিদ হোসেন জানান, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাহিরে একটি প্রোগ্রামে আছি। কালিহাতী এসে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো. নাজমুল হুসেইন জানান, খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন থামিয়ে চাঁদা উত্তোলনের সময় ট্রাক্টরের চাকায় পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় (৭০) এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কের সৈয়দপুর-তেঁতুলতলা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি জানায়, গোড়াই, হাটুভাঙ্গা ও সৈয়দপুর এলাকার শ্রমিক নামধারী একটি প্রভাবশালী মহল সরকারী দল ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে আঞ্চলিক সড়কের সৈয়দপুর-তেঁতুলতলা নামক স্থানে রাস্তায় বেড়িকেড দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে যানবাহন থামিয়ে অবৈধ ভাবে চাঁদা উত্তোলন করে আসছিল।
তারা আরো জানান,শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চাঁদাবাজ লাঠিয়াল বাহিনী চাঁদা আদায়ের জন্য ঐ ট্রাক্টরের গতিরোধ করে। চাঁদা দেওয়া থেকে বাঁচতে ট্রাক্টরটির চালক দ্রুত গতিতে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক বৃদ্ধ চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন । চালক ঘটনার পর ট্রাক্টর ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত বৃদ্ধের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই অবৈধ চাঁদা উত্তোলনকারী সেই লাঠিয়াল বাহিনী পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক্টরটি জব্দ এবং বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাসান মিয়া ওরফে হাসু মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসু মিয়া মির্জাপুর পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী গ্রামের মৃত মোকছেদ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দশ বছর আগে হাসু মিয়ার মেয়ে রুবিনা আক্তারের সঙ্গে সরিষাদাইড় গ্রামের মফেজ উদ্দিনের ছেলে সৌদি প্রবাসী জুয়েলের বিয়ে হয়। কয়েকদিন আগে বাড়ির সীমানা নিয়ে রুবিনার সঙ্গে দেবর সজল, ননদ নিলুফা বেগম, শাশুড়ি লাইলি বেগম ও দেবরের বউ ঝুমার ঝগড়া হয়।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে রুবিনা সোমবার বাবার বাড়ি চলে আসেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার সকালে হাসু মিয়া, মেয়ে রুবিনাকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি যান। সেখানে সীমানা বিরোধ নিয়ে ওই বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে রুবিনার দেবর সজল, ননদ নিলুফা, শাশুড়ি লাইলি ও সজলের স্ত্রী ঝুমা তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে শুরু করেন। এতে হাসান মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসান মিয়ার ছেলে রাকিব জানান, আমরা বোনের বাড়িতে গিয়ে কথা বলছিলাম। কিছু বুঝার আগে বোনের দেবর সজলসহ বাড়ির লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।