মোঃ আরমান কবীর সৈকত (সম্পাদক)

এতিমদের সাথে ইফতার করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার - Ekotar Kantho

এতিমদের সাথে ইফতার করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

একতার কণ্ঠঃ রমজানের প্রথম দিনে এতিম শিশুদের সাথে ইফতার করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

শুক্রবার (২৪ মার্চ)সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।ইফতার মাহফিলে সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা)৯১ জন বাসিন্দা অংশ নেন।

এ ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আইরিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) নাফিসা আক্তার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহআলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার প্রমুখ।

একই সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর এলাকার বাগান বাড়িতে সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাশেম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০৪:০২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নিখোঁজ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নিখোঁজ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর রিনা বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকালে করটিয়া জমিদার বাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার স্বামী মনির হোসেন পলাতক রয়েছে।

নিহত রিনা বেগম করটিয়া ঢুলিপাড়া গ্রামের মো. ফারুক হোসেনের মেয়ে।

জানা যায়, ৪ বছর পুর্বে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পুর্বপাড়ার মো. রাজনের ছেলে মনির হোসেনের(২৫) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রিনা বেগমের। তাদের ঘরে ১১ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোমবার (২০ মার্চ) গভীররাতে তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে স্বামী মনির এলাকায় প্রচার চালায়। শুক্রবার সকালে জমিদারবাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর পাড়ে হাটাহাটির সময় পুকুরে পাঁ ভেসে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠে স্থানীয় এক কিশোর। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করলে রিনার লাশ বলে সকলে শনাক্ত করে তার স্বজনরা। লাশ উদ্ধারের পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত রিনা বেগমের স্বামী মনির অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি আরো অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রী অন্যকোন ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। কথাটি আমরা কেই বিশ্বাস করিনি।

তারা আরো জানান, তখন থেকেই আমাদের সন্দেহ ছিলো। কারন আমরা রিনা বেগম সর্ম্পকে জানতাম। সে অত্যান্ত নম্র-ভদ্র ও সংসারী মেয়ে ছিলো। তাছাড়া ১১ মাসের শিশু বাচ্চা রেখে রিনা পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার মত মেয়ে না। লাশ উদ্ধারের পরপরই স্বামীসহ পরিবারের সকলেই পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০২:২৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কোটি টাকার নকল ব্যান্ডরোল সহ গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কোটি টাকার নকল ব্যান্ডরোল সহ গ্রেপ্তার ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া ব্রিজের পাশে বুধবার (২২ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি দক্ষিণ)।

গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিন বগুড়া সদর উপজেলার তেলিহারা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জিন্নাহ প্রামানিকের ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গোপনে খবর পেয়ে ডিবির একটি চৌকষ দল বুধবার (২২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগুটিয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৪৮০টি নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত নকল ব্যান্ডরোলের মূল্য ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৮ টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫অ/২৫অ(ন) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কৌশলে নকল ব্যান্ডরোল প্রস্তুত ও বিকিকিনির মূল হোতাদের সনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষে ১০(দশ) দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০২:৪৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পানে একে একে ৪ জনের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পানে একে একে ৪ জনের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিষাক্ত নেশা জাতীয় ‘স্পিরিট’ পান করে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে গত শনিবার( ১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করায় বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতংক ও শোক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুধু নারান্দিয়া নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মাদকে ছেয়ে গেছে। এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। এ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

জানা যায়, শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে অসুস্থ হওয়ায় পাঁচ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাত ও রবিবার (১৯ মার্চ) সকালের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রবিবার রাত ২টার দিকে পালিমা গ্রামের মৃত ছামান আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩৫) ও সোমবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে জুলহাস মিয়া (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত বক্কর আলীর ছেলে আমছের আলী (৫০) নিজ বাড়িতে মারা যান। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি একই দোকানের ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।

এ ঘটনায় অসুস্থরা হচ্ছেন- বিলপালিমা গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে মেহেদী ও কুচুটি গ্রামের জুয়েল। এরমধ্যে মেহেদীকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। এ ঘটনার পর থেকে পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসি বন্ধ করে দোকানের মালিক-কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান জানান, নিহত জুলহাস, আমছের আলী, ফারুকসহ পাঁচজন শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ কিনে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন ও বাড়িতে এসে একজন মারা গেছেন। মেহেদী নামে একজনকে ঢাকা একটি হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।

নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ বেচাকেনা হচ্ছে। ফার্মেসীতে অবৈধ ‘স্পিরিট’ বিক্রি বন্ধের জন্য জনসেবা ফার্মেসির মালিক সামাদকে আগেও নিষেধ করা হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নারান্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বিবেক মোদক দীর্ঘদিন যাবত মদ ও ‘স্পিরিট’ বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির দায়ে এরআগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

কালিহাতী থানার নারান্দিয়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ জানান, শুক্রবার (২৪ মার্চ) দুপুরে নারান্দিয়া বাজারের কালিমন্দিরের পাশের একটি মুদি দোকান থেকে অবৈধ মদ বিক্রির সময় বিবেক মোদক নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ‘স্পিরিট’ পান করে নিহত হওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। থানায় কেউ অভিযোগও করেন নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০১:৪৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বাসচাপায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাসচাপায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাস্তা পারাপারের সময় বাস চাপায় স্বামী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে তার স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ময়সের (৫০) সল্লা ইউনিয়নের মীহামজানি গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত তার স্ত্রীর নাম লিপি বেগম।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা বঙ্গবন্ধু সেতুগামী লোকাল বাসে করে সল্লা বাসস্ট্যান্ডে নামেন হতাহতরা। রাস্তা পার হওয়ার সময় উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ময়সের নিহত হয়। স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। আর আহত লিপি বেগমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মার্চ ২০২৩ ০৪:৫৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সে ‘বৈধতা’ পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিক্সা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সে ‘বৈধতা’ পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিক্সা

একতার কণ্ঠঃ সারা দেশে যখন সবাই ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাসহ এই ধরনের যান বন্ধে সোচ্চার তখন এ ধরণের অবৈধ যানকে লাইসেন্স দিচ্ছে টাঙ্গাইল পৌরসভা। এতে শহরে যেমন বেড়েছে যানজট তেমনি দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট।ফলে দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে শহরবাসীর জীবন।

টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম শিশির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার সামিল। টাঙ্গাইলে যে কোন সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে , মহামান্য হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করবেন।

২৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মোট সড়ক রয়েছে ৫৯০টি। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভা এই ৫৯০টি সড়কে চলাচলের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে কয়েক সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত রিক্সাকে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স বিভাগের তথ্য মতে, টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিক্সার সংখ্যা ৪৫০০ আর রিক্সা রয়েছে ৫০০০। অটোরিক্সা লাইসেন্স ফি-১০,৫০০ আর পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স ফি-১০০০ টাকা।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অফিসার ও নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলামের মতে যেকোন নগরীকে সচল রাখতে তার ধারন‌ ক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া উচিৎ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যাটারী চালিত ওই মেট্রোরিক্সা গুলোর পিছনে বা চালকের বসার সিটের নিচে সাটানো হয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স। টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বছর মেয়াদী ওই লাইসেন্স গুলো ২০২১ সালে প্রথম দফায় অনুমোদন হয়েছে। যার ফলে কিছু রিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ দেখা গেছে ২০২১ থেকে ৩০ জুন ২০২২। ওই রিক্সা গুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় স্বাক্ষরিত রিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ হয়েছে ২০২২ সাল থেকে ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত।

এছাড়াও নিয়ম বর্হিভুতভাবে এর আগেও তৎকালীন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র দেন ৪০০০ হাজার ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) লাইসেন্স। শহর জুড়ে এ সময় লাগামহীন যানজট লেগে থাকায় ওই ৪০০০ অটোরিক্সা চলাচলে দুই সিফট পদ্ধতি চালু করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি সিফটে ২০০০ করে অটোরিক্সা চলাচল শুরু করে। এর ফাঁকে সড়কে নামতে শুরু করে ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা। বর্তমানে শহর জুড়ে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) পাশাপাশি চলাচল করছে প্রায় ৭০০০ ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা।

এছাড়াও রয়েছে লাইসেন্স প্রাপ্ত ৫০০০ পায়ে চালিত রিক্সা। বর্তমানে অটোরিক্সা (ইজি বাইক) দুই সিফট পদ্ধতিতে চলাচল করলেও সাত সহস্রাধিকের উপর মেট্রোরিক্সা চলছে দিনব্যাপি।

এছাড়াও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় ১২৮টি পরিবহনসহ সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বীমা, আদালতের যানবাহন, চিকিৎসক ও ব্যক্তি মালিকাধীন গাড়ীসহ গড়ে প্রতিদিন তিন সহস্রাধিক মোটর সাইকেল চলাচল করছে এই শহরে। যার ফলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের বেবীস্ট্যান্ড, শান্তিমুঞ্জ মোড়, মেইন রোড, নিরালা মোড়, পার্কবাজার মোড়, ক্যাপ্সুল মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, সুপারী বাগান মোড়, কলেজ গেইট আর নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় রীতিমত বেধে থাকছে যানজট।

যানজট নিরসনে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, মহিলাসহ নানা বয়সী যাত্রী আর সাধারণ মানুষ।

চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে পৌরসভা নির্ধারিত ১০,৫০০ টাকা ফি এর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছর মেয়াদী পায়ে চালিত রিক্সার ১০০০ হাজার টাকার লাইসেন্স বিক্রি করেছেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। মেট্রোরিক্সার লাইসেন্সের কথা বলে অতিরিক্ত ওই টাকা গুলো নেয়া হয়েছে।

শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মেট্রোরিক্সা চালক মো. জসীম জানান, তিন বছর যাবৎ রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি। রিক্সা ও গদি আটকে রেখে তাদের লাইসেন্স নিতে বাধ্য করা হয়েছে । লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাচ্ছিল না বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ২০/২৫ হাজার টাকায় পৌরসভা থেকে লাইসেন্স বিক্রি করা হলেও দেড় মাস আগে মুসলিমপাড়ার একজন গ্যারেজ মিস্ত্রির মাধ্যমে ১২ হাজার টাকায় লাইসেন্সটি নিয়েছেন তিনি। সুদের টাকায় রিক্সা আর লাইসেন্সটি কিনেছেন বলেও জানান তিনি।

বাসা খানপুর এলাকার আরেক মেট্রোরিক্সা চালক মো. হযরত বলেন, ২০ হাজার টাকায় তিনি লাইসেন্সটি পেয়েছেন। তার লাইসেন্স নম্বর ৮২৫। টাকা গুলো নিয়েছেন পৌরসভার লোকজন।

পায়ে চালিত রিক্সা লাইসেন্স কেন এত টাকা দিয়ে নিলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, লাইসেন্স বইয়ের মধ্যে ইজি বাইক লেখা আছে বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন।

মেট্রোরিক্সা চালক রবিউল ইসলাম বলেন, পৌরসভা থেকে মেট্রোরিক্সার লাইসেন্স আর নম্বর প্লেট বিক্রি করার সুযোগে তারা এই ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালাচ্ছেন। পৌরসভার লোকজন লাইসেন্স ও প্লেট বিক্রি করেছেন। এ কারণে এই রিক্সা বন্ধ হচ্ছেনা। এরপরও যদি সরকারিভাবে এই রিক্সা চলাচল বন্ধ করে, তাহলে অন্য কাজ করে খাবেন বলে জানান তিনি।

পৌরসভার কাজিপুর এলাকার ৪৯৯৫ নং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাটারি রিক্সা চালক রফিক বলেন, ৪৩ হাজার টাকায় পুরাতন এই রিক্সাটি কিনেছি। মাসে ১২০০টাকা ভাড়ায় লাইসেন্সটি নিয়েছি। লাইসেন্সটি পৌরসভা থেকে কিনেছেন আদিটাঙ্গাইল এলাকার রিক্সার গ্যারেজ ব্যবসায়ি
আকবর।

রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সবুর বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে চলাচলের জন্য ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা (ইজি বাইক) গুলোকে পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে। লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব তাদের না। পৌরসভার মেয়র সাহেব পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছেন মেট্রোরিক্সায়। ব্যাটারী চালিত রিক্সা (ইজি বাইক) আমাদের সংগঠণের অন্তভুক্ত। এছাড়াও এই লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের সাথে কোন মিটিং করেননি পৌর কর্তৃপক্ষ। ইজিবাইক বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়টি মেয়র সাহেবের বলে জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন ও যুবদের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পায়ে চালিত রিক্সা লাইসেন্স দিয়ে অবৈধ মেট্রোরিক্সার বৈধতা দেয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। দ্রুত অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা গুলো বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অফিসার ও নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলাম জানান, আমার জানা মতে টাংগাইল পৌর এলাকায় কি পরিমান যানবাহন চলাচল করতে পারবে সেই বিষয়ে কোনো ধরনের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি। তাই এটা সঠিক ভাবে বলা যাবে না টাঙ্গাইল পৌরসভায় ঠিক কি পরিমান সিএনজি,অটোরিক্সা, ও ব্যাটারীতে চালিত রিক্সা চলাচল করার অনুমতি দেওয়া যাবে। যেকোন নগরীকে সচল রাখতে তার ধারন‌ ক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম শিশির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার সামিল। টাঙ্গাইলে যে কোন সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে , মহামান্য হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করবেন।

বক্তব্য নিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম.সিরাজুল হক আলমগীর এর মুঠোফোনে ফোন দিলে সেটি রিসিভ করে পিএস সাজ্জাদ বলেন, এ ব্যাপারে সাক্ষাতে কথা বলা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের (২০ জুন) সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় সড়ক দুর্ঘটনারোধে সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর সারা দেশে চলা অবৈধ ব্যাটারিচালিত ৪০ লাখ ইজিবাইক বন্ধের নির্দেশসহ আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আর অবৈধ ইজিবাইক আমদানি থেকে বিরত থাকতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেন বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মার্চ ২০২৩ ০৪:১৫:এএম ৩ বছর আগে
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে টাঙ্গাইলে প্রশাসনের লিফলেট বিতরণ - Ekotar Kantho

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে টাঙ্গাইলে প্রশাসনের লিফলেট বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর এলাকার বাজারগুলোতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পার্ক বাজার পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ প্রতিটি দোকানে পণ্যের মুল্য তালিকা টাঙানো ও অতিরিক্ত দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে বিক্রি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া একই সাথে প্রশাসনের ৬টি টিম শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন ও লিফলেট বিতরণ করে।

এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে ক্রেতা পর্যায়ে সহনীয় রাখতে বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সচেতন করার লক্ষে সকলের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে মজুদ করে অতিরিক্ত দামে পণ্যে বিক্রি না করে সেই জন্য তাদের অবহিত করা হয়েছে। কেউ বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।বাজার স্থিতিশীল রাখতে সকলকেই প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি

এ সময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) ওলিউজ্জামান, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু , কুনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) এর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলসহ পার্ক বাজার সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মার্চ ২০২৩ ০২:৫৫:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিরুল (৩০) নামের এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় অপর ট্রাক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলা চরভাবলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাক চালক জাহিরুল রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার হেলালপুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস আলী মুরুর ছেলে। আহত ট্রাক চালকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের ৪ নাম্বার ব্রিজ সংলগ্ন কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা এলাকায় দু‍‍`ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাক চালক জহিরুল নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাক থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। অপর ট্রাকের চালককে আহতবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পূর্বপার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাক চালক জহিরুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০৭:০০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের ৮ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ৮ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে একসময় নানাজনের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করেন রুবেল সিকদার। বিভিন্নজন থেকে সংগ্রহ করা কোটি টাকার সেই বিশাল অংকের মূলধন দিয়ে রুবেল খুলে বসেন হরেক রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জমি বেচা-কেনা, বিভিন্ন পন্যের শো-রুম, গাড়ি কিনে শুরু করেন রেন্ট এ কারের ব্যবসা। পরিবর্তন আসে চলা ফেরায়। রুবেলের এমন ‘হঠাৎ’ কোটিপতি বনে যাওয়া নিয়ে এলাকায় চলতো নানা কানাঘোষা। এরপর ‘হঠাৎ’ কোটিপতি রুবেল উধাও হয়ে যান হঠাৎ করেই। ভুক্তভোগীরা মামলা করেন কোর্টে। ভুক্তভোগীদের করা ৮টি মামলায় ৬৬ মাসের সাজা হয় তার। ওয়ারেন্ট বের হয় অন্য আরো দুটি মামলার। কিন্তু রুবেল থেকে যায় অধরা।

অবশেষে বুধবার (২২ মার্চ) বাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী মির্জাপুর থানার পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন পিপিএম। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলকে আশুগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবেল সেখানে তার এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে তিনি জানান।

কোর্টে মামলা করা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ভাল মুনাফার কথা বলে রুবেল তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। কয়েক মাস ঠিকঠাক মতো ব্যবসায়ের হিসাব ও লভাংশ দিলেও হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যায় রুবেল। এরপর টাঙ্গাইল আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন তারা।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল দীর্ঘদিন যাবৎ জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করছিলো। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলার ওয়ারেন্ট ছিলো যেগুলোর ৮টিতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০৩:৩৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ধর্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ধর্ষক গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় বুধবার (২২ মার্চ) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বৈলারপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, হাবিবুর রহমান ওই স্কুল ছাত্রীর সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা। এর সুবাদে মেয়েটির বাড়িতে তার যাওয়া আসা ছিল। কয়েকমাস আগে ফুসলিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ করে হাবিবুর রহমান। এরপর নানা ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হলে তার গর্ভে ৫ মাসের সন্তানের বিষয়টি ধরা পড়ে।

মামলার বাদি এবং ওই ছাত্রীর বাবা জানান, আমরা গরীব মানুষ। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার অনেকেই আমাদের ভয় ভীতি দেখাইছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মিয়া (ওসি তদন্ত) জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ওই স্কুল ছাত্রীকে মেডিকেল করার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০৩:১১:এএম ৩ বছর আগে
মধুপুরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি’র কর্মশালা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

মধুপুরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি’র কর্মশালা অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) এর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার আয়োজন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

সুশীলন নামক বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান সিদ্দিক। কর্মশালায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সুশীলনের ই এম ই মো. এ মোসা বিশ্বাস।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের এসএসকে’র সুপার ভাইজার মো. রিফাত হোসাইন, গ্রীণ ডেলন্টা ইন্সুইরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দীন, মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, ইউপি সদস্য জাবেদ আলী, লিলি বেগম, রাশিদা বেগম,রফিকুল ইসলাম,কামরুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, জোয়াহের আলী প্রমুখ।

কর্মশালায় এসএসকের স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় ইউপি সদস্য, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০২:৫৬:এএম ৩ বছর আগে
কালিহাতীতে জমি বিরোধের অভিযোগ দেওয়ায় প্রাণ নাশের হুমকি - Ekotar Kantho

কালিহাতীতে জমি বিরোধের অভিযোগ দেওয়ায় প্রাণ নাশের হুমকি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারপিটের ঘটনায় মো. রফিকুল ইসলাম(৩২) নামে এক যুবক টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় প্রাণ নাশের হুমকির দিয়েছে আব্দুস ছালাম (৪২) নামের এক আদম ব্যবসায়ী। বর্তমানে প্রাণ ভয়ে বসত ভিটে ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই যুবক।

বুধবার(২২ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের অফিসে এ অভিযোগ দেন।

ওই আদম ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম উপজেলার বড়বাজু দেউপুর গ্রামের মৃত মর্তুজ আলীর ছেলে।

রফিকুল ইসলাম উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।

জানাগেছে, উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের বড়বাজু দেউপুর মৌজার ১১২ ও ১১৪ দাগের সাড়ে ১২ শতাংশ ভুমি রফিক পৈত্রিকসুত্রে পান। কিছুদিন পুর্বে সে তার মা রোকেয়া বেগমকে জমি দুটি লিখে দেন। সম্প্রতি ওই সম্পত্তির খাজনা-খারিজ তার মায়ের নামে করে দিতে গেলে উক্ত দুই দাগে সম্পত্তি ভোগকারী তার চাচা আব্দুস ছালাম তাতে বাঁধা প্রদান করে। চাচার কথা না শুনায় প্রতিহিংসার বসবর্তী হয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বড়বাজু দেউপুর বাজারে রহিমের চায়ের দোকানে তার ফুফাতো ভাই বায়োজিত পন্নী তালুকদারসহ তাকে বেদম মারপিট করে চাচা ছালাম।

মারপিটের সময় জীবন বাঁচানোর তাগিদে রফিক “৯৯৯” ফোন দেন। ফোন পেয়ে কালিহাতী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাদের আহত অবস্থায় কালিহাতী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

রফিকুল ইসলাম জানান, মারপিটের সময় আমার চাচা জমির তিনটি দলিল ও নগদ ১লাখ টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেন।

তিনি বলেন, আমার চাচা প্রভাবশালী আদম ব্যবসায়ী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। যে কারণে ঘটনার পর কালিহাতী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি। বর্তমানে একটু সুস্থ্য হওয়ায় টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মহাদয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

তিনি আরো বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি কোনভাবে জানতে পেরে বিভিন্নভাবে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে আমার চাচা। তিনি ইতিপুর্বে একটি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও ভুমিদস্যূতা ও জঙ্গি সংগঠনের সমপৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মারপিটের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মফিজ উদ্দিন জানান,ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে আব্দুস ছালাম ও তার বাহামভুক্ত লোকজন নানাভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

সল্লা ইউনিয়নের স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনিছুর রহমান আনু জানান, মারপিটের ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। ইতিপুর্বে আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের বিষয়টি সত্য, এটা এলাকার সবাই জানে। পরে রহস্যজনকভাবে মামলাটি মীমাংসা করে ফেলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস ছালাম জানান, তিনি বুধবার সারাদিন সল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমের সাথে ছিলেন। তিনি তার ভাতিজা রফিকুলকে কোন ধরনে হুমকি-ধামকি দেই নাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০১:৪৫:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।