একতার কণ্ঠঃ উনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি দোকানে হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ভিজিডি) চাল গোপনে বিক্রি করে পালিয়ে গেছেন ইউপি সচিব শেখ ফরিদ।
বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানায়, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ভিজিডি)চাল গত ১৩ এবং ১৪ তারিখে বিতরণ করা হয়। অনিয়ম করে বিতরণ করায় গোডাউনে থেকে যায় অনেক চালের বস্তা। যা বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার সময় তাদের নজরে আসে।
তারা আরও জানায়, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদ সুশীল নামের এক গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় কালোবাজারি আজাদের ভ্যানে ভর্তি করে চালের বস্তা বের করে নেন। পরে তা পরিষদ সংলগ্ন এক ওষুধের দোকানে নিয়ে সরকারি পাটের বস্তা থেকে
প্লাস্টিকের বস্তায় পরিবর্তন করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। তবে প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই সচিব ও কালোবাজারি আজাদ পালিয়ে যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের লোকজন বিক্রি করা চাল জব্দ করেন।
গ্রাম পুলিশ সুশীল জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম।সচিব ফোন করে পরিষদে আসতে বলেন এবং খালি বস্তা গুনতে বলেন। পরিষদে গিয়ে দেখি আজাদ ভ্যান গাড়িতে চাল তুলছেন। পরে আর কিছু জানিনা। আজাদ মাঝে মধ্যেই পরিষদ থেকে এভাবে চাল নেয়।
এ বিষয়ে অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদের বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, কয়েকদিন আগে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়। এসময় কয়েকজন কার্ড নিয়ে না আসায় চালগুলো গোডাউনে রাখা হয়। সকালে খবর পেয়ে পরিষদের গুদামের তালা ভেঙে দেখি চালের বস্তাগুলো নেই।
তিনি আরো জানান, এছাড়া সচিবকেও পরিষদে পাওয়া যায়নি। পরে ইউএনও’র উপস্থিতিতে আজাদ মিয়ার দোকান থেকে ১০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, চাল উদ্ধারের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ উঠা ওই সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুই’শ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মাইধারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল মাঠে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী স্থানীয় লোকজনদের হাতে দুই’শ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর দপ্তরের ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফুল কাদের, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
এছাড়াও সেনাবাহিনীর নিজস্ব তহবিল হতে ঘাটাইল এরিয়ার আওতাধীন জামালপুর জেলায় ২৫০, শেরপুর জেলায় ২০০, ময়মনসিংহ জেলায় ১০০ প্যাকেট, নেত্রকোনা জেলায় ২০০, কিশোরগঞ্জ জেলায় ২৫০ প্যাকেট এবং টাঙ্গাইল জেলায় ২০০ প্যাকেটসহ সর্বমোট ১৪০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শন করলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যানযট মুক্ত থাকবে মহাসড়ক। পুলিশ যেভাবে তৎপর রয়েছে আশা করছি কোন প্রকার সমস্যা হবে না। মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরবেন।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৫ টার দিকে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মাশরুকুর রহমান খালেদ, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( অপরাধ) শরফুদ্দীন প্রমূখ ।
ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম আরো বলেন,মহাসড়কে যাতে করে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারে সেজন্য পুলিশ সব সময় মহাসড়কে থাকবে।এই সময় যেন মহাসড়কে ডাকাতি, এক্সিডেন্ট ও যানযট না হয় সেজন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ।
পরে তিনি মহাসড়ক পরিদর্শনে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্য রওনা হন।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়কের এই অংশে যানবাহনের চাপ থাকলেও নেই যানজট। মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই যান চলাচল করছে। মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের ওসি’র স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাতিত্ব ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তার কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলার দক্ষিণ ধলাপাড়ায় সম্প্রতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, ধলাপাড়া গ্রামের মৃত মহসিন মিয়ার ছেলে রেমিটেন্স যোদ্ধা আরিফকে মামলা দিয়ে হয়রানি ও বিভিন্ন কৌশলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে বুঝতে পেরে তিনি কাউকে না জানিয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রবাসীর স্ত্রী ও স্থানীয়রা ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। মানবন্ধনের খবর বিভিন্ন বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হওয়ায় ইমেজ সংকটে পড়েন তিনি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি অভিযোগকারীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না করে তার অনুগত ও আরিফের চাচাতো ভাই আব্দুল বাছেদ সরকারকে দ্বিতীয় পক্ষ সাজিয়ে একটি আপোষ-মিমাংসার দালিলিক প্রমাণ তৈরি করেন।
আরিফের চাচাতো ভাই ও ধলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছেদ সরকার বলেন, ঘাটাইল থানার ওসি, পরিদর্শক (তদন্ত), ধলাপাড়া ফাড়ির ইনচার্জ, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিতে সালিশী বৈঠক করেছি। তবে, শালিসের বিষয়ে ভূক্তভোগী প্রবাসী আরিফের স্ত্রী শাহিদা আক্তার কিছু জানেন না।
গত ১৬ মার্চ সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের পক্ষে নির্বাচন করায় সাগরদিঘী শোলাকুড়া গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন জানান, তিনি তার বাবাকে টাকা পাঠানোর জন্য বাজারে গেলে গত ২০ মার্চ বিকেলে প্রতিপক্ষের ৪-৬ জন জোড়পূর্বক তাকে ধরে নিয়ে বেধরক মারপিট করে। পরে সেলুনে নিয়ে তাকে ন্যাড়া করে দেয় এবং ওই ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। এ ঘটনায় জাকির হোসেন বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় অভিযোগ করলে ওসি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন। তিনি ওসি’র এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিকার ও তার অপসারণ দাবী করেন।
ভূক্তভোগী আরিফের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বলেন, শালিসের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমাকে বা আমার স্বামীকে কেউ কিছু জানায়নি।
শালিসী বৈঠকে উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ধলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছেদ সরকারের সাথে দু’একদিনের মধ্যে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। তিনি মিথ্যা কথা বলে আমাকে হেয় করেছেন।
গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনাজির ইসলাম চৌধুরী বলেন, ইতিপূর্বে প্রবাসীর স্ত্রীর মানববন্ধনের বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় শালিসী বৈঠকের ব্যাপারে আমি অবগত নই। ভূক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত কোন অভিযোগও পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঈদে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঘর মুখো মানুষ । এতে উত্তরবঙ্গগামী মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হচ্ছে মোটরসাইকেল যোগে। বুধবার (১৯ এপ্রিল) ভোর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব এলাকায় আলাদা টোল বুথে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
সরেজমিনে বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মোটরসাইকেল বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব টোলপ্লাজার পাশেই স্থাপিত আলাদা বুথে অপেক্ষা করছে সেতু পার হওয়ার সময়। এসময় সেতু কর্তৃপক্ষের লোকজন অপেক্ষারত মোটরসাইকেল আরোহীদের নির্ধারিত মোটরসাইকেলের টোলের টাকা হাতে রাখার জন্য মাইকিং করছে।
এদিকে মহাসড়কে যাত্রীবাহি বাসের চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি বেশি দেখা গেছে। এরমধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি।
নারায়নগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে রওনা হওয়া মোবারক হোসেন জানান, ভোররাতে নারায়নগঞ্জ থেকে রওনা হয়েছি মোটরসাইকেলযোগে ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য। মহাসড়ক ফাঁকা ছিল বিধায় তারাতাড়ি আসতে পেরেছি।
স্ত্রী নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাচ্ছেন গ্রামীন ব্যাংকে কর্মরত আবুল কালাম। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি। সেতু পার হলেই বাড়ি। তাই স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাচ্ছি। আমার মত শত শত মোটরসাইকেলের আরোহীরা অপেক্ষা করছে সেতু পার হতে।
মোটরসাইকেল আরোহীরা জানান, ছুটির প্রথম দিনে মহাসড়ক ফাঁকা ছিল। ঝামেলা ছাড়াই মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়া সহজ।
বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, ভোররাত থেকেই সেতুতে মোটরসাইকেল পারাপারে দীর্ঘ সারি ছিল।মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য আলাদা বুথ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই ঈদকে সামনে রেখে ঈদের ছুটির আগেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন বৃদ্ধির ফলে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে পারাপার ও টোল আদায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬ টাকা থেকে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর উপর দিয়ে ছোট-বড় ২২ হাজার ৪৮৫টি যান পারাপার এবং ২ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু-পূর্ব টাঙ্গাইল অংশে ১১ হাজার ৫৫৮টি যানবাহন পারাপার করেছে ও টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং সেতু পশ্চিম সিরাজগঞ্জ অংশে ১০ হাজার ৯২৭টি যানবাহন পারাপার করেছে ও টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ৯০০ হাজার টাকা।
এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকে মহাসড়কের টাঙ্গাইল রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন এলাকায় ঘুরে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। তবে বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সেতু অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুল কবীর পাভেল জানান, যানবাহনের চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুতে ২২ হাজার ৪৮৫টি যানবাহন পারাপার এবং ২ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষদের যাতে ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সে লক্ষ্যে অতিরিক্ত টোল বুথ বসানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী) ওখোদা-ই-খেদমতগারের উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৮ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারের সামনে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ও শাহ নাসির উদ্দিন বোগদাদি এতিমখানায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের চেয়ারম্যান হাসরত খান ভাসানী।
এ সময় খোদা-ই-খেদমতগারের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন বি.এস.সি, মোঃ আলাউদ্দিন, হাফেজ মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, মেয়াদউত্তীর্ণ তারিখ না থাকা, ক্ষতিকারক রঙ ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরির অপরাধে দুই কারখানা মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া ও সল্লা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত দুই কারখানা হলো- সাদেক বেকারী ও মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টস।
অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরি করায় সাদেক বেকারীকে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনি এবং তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাব হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ইকবাল কবির ও এ কে এম রবিউল হোসেনের আদালত তাঁদের চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ভাই ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
গোলাম কিবরিয়ার আইনজীবী মো. এহসান হাবিব জানান, গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাবকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
শুনানিতে গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির, সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে গোলাম কিবরিয়া ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় অভিযোগ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে গোলাম কিবরিয়া আবার ধর্ষণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সহস্রাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি খন্দকার মমতা হেনা লাভলী। মঙ্গলবার(১৮ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ওই ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন প্রমুখ।
ঈদ উপহার হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি মশুর ডাল, লবণ, চিনি, এক লিটার তেল, ১০০ গ্রাম মরিচ ও ধনিয়া গুড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুড়া দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী নিজস্ব অর্থায়নে ঈদ উপহার প্রদান করেছেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাঝে পর্যায়ক্রমে ঈদ উপহার হিসেবে পাঞ্জাবী ও শাড়ী প্রদান করছেন তিনি।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ঘারিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে পাঞ্জাবি ও শাড়ী প্রদান করেন তিনি।
ইতিপূর্বে তার পক্ষ থেকে উপজেলার করটিয়া, গালা , হুগড়া, কাতুলী,দাইন্যা ইউনিয়নে প্রায় ৬ শতাধিক পাঞ্জাবি ও শাড়ী ঈদ উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে পাঞ্জাবি ও শাড়ী প্রদান করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় এ বছর ১ হাজার পাঁচ শত পাঞ্জাবি ও শাড়ী প্রদানের ইচ্ছে আছে। ইতোমধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ৬ শতাধিক পাঞ্জাবি ও শাড়ী প্রদান করা হয়েছে।
তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সকল সন্মানিত ভোটারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেছেন, জেলা আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের চিহ্নিত হত্যাকারী ও তাদের মদদদাতারা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। তারা টাঙ্গাইলের শান্ত পরিবেশকে আবার অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। প্রপাগান্ডা চালিয়ে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে। তাদের ষড়যন্ত্র সততার কাছে পরাজিত হবেই।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটিরিয়ামে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত দিনে টাঙ্গাইল শহর সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। তথাকথিত একটি পরিবারের কাছে টাঙ্গাইল শহর জিম্মি হয়ে পড়েছিল। সে সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদসহ আওয়ামী লীগের ৩০জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।
সেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যার প্রতিবাদ করায় আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছিল। সেদিনের টাঙ্গাইল আর আজকের টাঙ্গাইল শহরের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। কোন রাজনৈতিক হানাহানি, খুন, রাহাজানী নেই।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে একটি সাজানো মামলা দিয়ে মানহানীর অপচেষ্টা করছে তথাকথিত সেই পরিবার। তারা টাঙ্গাইলের রাজনীতিকে আবার অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমার নির্বাচনী এলাকা গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কয়েক নেতা। তাদের সাথে আরও সুর মিলাচ্ছে দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা দু-চারজন রাজনৈতিক নেতা।
১৯৭৫ সালে খন্দকার মোস্তাক যেমন আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। তেমনই ওই ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের প্রিয় টাঙ্গাইলকে অশান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা ইতোপূর্বেও একাধিকবার আমাদের নিয়ে ষড়য়ন্ত্রের ঘৃণ্য খেলায় লিপ্ত হয়েছে। কিন্ত বার বারই সততার কাছে- শেখ হাসিনার উন্নয়নের কাছে পরাজিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক বিষয়ে মাননীয় প্রধামন্ত্রী সব খবর রাখেন। তিনি সবই অবগত। আজকে যারা আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নানা সুবিধা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন তারা একবার ভাবুন কাদের ত্যাগের জন্য এ সুবিধা পাচ্ছেন।
এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যে মেয়েকে দিয়ে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিয়েছেন। সেই মামলার পর শহরে আমার ভাইয়ের শাস্তির দাবিতে মিছিল করিয়েছে কে আপনারা সবই জানেন। সত্যকে কখনও ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায়না। সত্য একদিন আপন গতিতে পরিস্ফুটিত হবে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্র লীগের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সত্য প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তারেক মাহমুদ পলু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও গণসঙ্গীত শিল্পী এলেন মল্লিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রউফ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বালা মিঞা, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীলীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল এক কিশোরী টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ডাক্তারী পরীক্ষায় যৌন নিগ্রহের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। মামলার পক্ষে-বিপক্ষে শহরে প্রায়ই মিছিল পাল্টা মিছিল করা হচ্ছে। এ নিয়ে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।