একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের জিআই নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসক। বুধবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২টায় নিজ কার্যালয়ে হলফনামা স্বাক্ষর করে শিল্পমন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বরাবর টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, শামীম আরা রিনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আবুল হাসেম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্চিতা বিশ্বাস, ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ইডিসি) সদস্য প্রতাপ পলাশ ও মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
জানা যায়, ২০০ বছরের ঐতিহ্য টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের। এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে টাঙ্গাইলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি। ধলেশ্বরী নদীর অববাহিকায় পোড়াবাড়ি গ্রামে দশরথ গৌড়ের হাতে চমচমের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। পোড়াবাড়ির সন্নিকটে যমুনা নদীর পানি, চারণভূমির বিচরণ করা গরুর খাঁটি দুধের কারণে স্বাদ ও মানের কারণে হয়েছে অনন্য। তৎকালীন পোড়াবাড়ি ঘাটের লঞ্চ, স্টিমারের যাত্রীদের মাধ্যমে চমচমের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। একই ধারা বয়ে চলছে যুগযুগ ধরে। পোড়াবাড়ি চমচমের রপ্তানি পথ সুগম করতে এবং দেশ বিদেশে আরও প্রচার বাড়াতে জিআই নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী পোড়াবাড়ির চমচম দেশে-বিদেশে টাঙ্গাইলের ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করেছে। এর সাথে জড়িত আছে জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। অদূর ভবিষ্যতে টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম যেন বিদেশেও রপ্তানি হয় এবং দেশ বিদেশে আরও বেশি প্রচার হয় তাই আমরা জিআই নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
তিনি আরো জানান, আশাকরি শীঘ্রই জিআই স্বীকৃতি মিলবে চমচমের। জেলা ব্র্যান্ডিংকে গুরুত্ব দিয়ে সামনের দিনে টাঙ্গাইলের শাড়ি, মধুপুরের আনারসসহ সম্ভাব্য সকল পণ্য জিআই তালিকাভুক্ত করতে আমরা কাজ করব। চমচমের জিআই ডকুমেন্টেশনে সহযোগিতা করায় আমি ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ইডিসি)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাকিব হোসেন (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১ টার দিকে রাকিবের বসত ঘরের আড়া থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
সে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জগৎপুরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন টোকার ছেলে ।রাকিব স্থানীয় নিকলা দড়িপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পরিবার ও রাকিবের ভগ্নিপতি আসলাম জানান, রবিবার বিকেলে রাকিবের বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শেষে বাড়ি এসে ইফতার করে। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বের হয়। রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে আসে। পরে রাত ১টার দিকে বন্ধুদের ফোন করে বলে, ‘তোরা আমাকে আর পাবি না।’
বন্ধুরা ‘আত্মহত্যার’ আশঙ্কা টের পেয়ে রাকিবের বাড়ি গিয়ে তার ভাবিকে জানায়। তখন দ্রুত তার বসত ঘরের দরজায় ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে বন্ধুরা দরজা ভেঙে ফেলে। ঘরে প্রবেশ করে দেখে রাকিব ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে আড়া থেকে রাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ নামায় তার পরিবার।
রাকিবের বন্ধু আতিক, জুয়েল, হিরা ও রানা জানায়, রবিবার বিকেলে আমরা নঈম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে একসঙ্গে ক্রিকেট খেলি। খেলা শেষে ইফতারের আগে সবাই বাড়ি ফিরে যাই। এরপর কেন এমন হলো আমরা বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গোপালপুর থানার পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত স্কুল ছাত্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১০ জন পথ শিশুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে কাম ফর রোড চাইল্ড (সিআরসি)।
সোমবার(১০ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের পাশে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন।
উদ্বোধনকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদ মানে আনন্দ, নিজেরা কষ্ট করে টাকা তুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া সিআরসির এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটির প্রয়োজন রয়েছে, পড়াশোনার পরবর্তী চাকুরী জীবনে এর গুরুত্ব রয়েছে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ ইকবাল মাহমুদ, লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল হক, শেখ রাসেল হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আজিজুল হক, প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মোঃ মোজাম্মেল হক, সিআরসি এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ মাসুদার রহমান, ড. মোঃ খাইরুল ইসলাম, শাকিল মাহমুদ শাওন ও মুনমুন বিনতে আজিজ, সভাপতি মোঃ নাঈম উল জান্নাত, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাকিলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিব মঞ্জুর হোসেন।
সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কের এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।
এ ছাড়াও সাসেক-২ প্রকল্পের অধীনে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের চার লেনে উন্নীত করন কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ সময় সেতু সচিব মঞ্জুর হোসেন বলেন, যানজট নিরসন, ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অংশগ্রহণে ১০টি মোবাইল টিম ঈদের আগে এবং পরে এই মহাসড়কে থাকবে।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হোসেন, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জেলা অটোরিক্সা-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়া হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সদর রোডের টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন উল্লাস, নিহত জুলহাস মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে জুলিয়া আক্তার, বোন রেজিয়া বেগম ও ভাগিনা সবুজ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা- ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়াকে বাসাইল পৌর এলাকার কুমারজানীতে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
বক্তারা আরো বলেন, অবিলম্বে অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি। এছাড়াও জনস্বার্থে রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড়মনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শহরের নিরালা মোড় থেকে টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিরালা মোড়ে এসে শেষ হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ফারুক হত্যা মামলার বিচারকার্য বিলম্ব করতে এবং বড় মনি ও তার পরিবারের লোকজন যাতে এই মামলার তদারকি করতে না পারে তার জন্য ধর্ষণ মামলা দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ হটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটা সুন্দর সুষ্ঠ পরিবেশ বিরাজ করছিলো। এই ধর্ষণ মামলার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। যেকোন মূল্যেই ওই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। এছাড়াও এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর কামরুল হাসান মামুন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর উলকা বেগম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শফিউল আলম তুষারসহ ট্রাক, সিএনজি, আটোরিকশার শ্রমিক সমিতি নেতৃবৃন্দ।
প্রকাশ,টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া বড়মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মারপিটের অভিযোগ এনে গত ৫ এপ্রিল এক কিশোরী বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বড়মনির স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামী করা হয়। মামলার পরদিন ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারা জবানবন্দি দেন। এছাড়াও ওই কিশোরী প্রায় ২৫ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বা বিষয়টি ডাক্তারি পরীক্ষায় উঠে আসে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শ্বাশুড়ির সামনেই স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী। রবিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম সুমিতা (৩৮)। তিনি জেলার মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহত সুমিতার স্বামী মিনজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে সুমিতা’র সঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামের মৃত আজগর মিয়ার ছেলে মিনজু মিয়ার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি মিনজু মিয়া শ্বশুড় বাড়ির ওয়ারিশ সম্পত্তি এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিণ্যের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন স্বামী মিনজু মিয়া।
পরে সুমিতা বোনের বাড়ি পাশের উপজেলা মির্জাপুরের মহেড়া গ্রামে আশ্রয় নেন। শনিবার(৮ এপ্রিল) কৌশলে ভগ্নীপতি আমির হোসেনের মাধ্যমে মোবাইলে স্ত্রীকে বাড়িতে আসতে বলে মিনজু। সরল বিশ্বাসে সুমিতা তার বোন ববিতা ও তার মা হালিমাকে সাথে নিয়ে শনিবার স্বামীর বাড়ি আসে।
রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামী মিনজু মিয়া গাছ কাটায় ব্যবহৃত রডের তৈরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কোপাতে থাকে স্ত্রী সুমিতাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় বাঁধা দিলে মা হালিমা ও বোন ববিতা আহত হন।
সুমিতার মা হালিমা বেগম জানান, মেয়েকে তার সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মেয়ের চিৎকারে স্থানীয় কেউ এগিয়ে আসেনি। ওয়ারিশের সামান্য কিছু টাকার জন্য তাদের তিন জনকেই হত্যা করতে চেয়েছিল মিনজু মিয়া।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীনভাবে ‘কাপ দই’সহ বিভিন্ন ধরণের বেকারি পণ্য সামগ্রী তৈরির অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
রবিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার হরিপুর এলাকায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ভেজাল বিরোধী তদারকিমূলক এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
এ বিষয়ে শিকদার শাহীনুর আলম জানান, অনুমোদনহীনভাবে বেকারী সামগ্রী তৈরি, মোড়কে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ ও মূল্য না দেওয়ার অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে মাইকিং করে প্রচারণা, লিফলেট ও প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১০দফা দাবিসহ বিদ্যুৎ, গ্যাস, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে সদর উপজেলা ও শহর বিএনপি’র উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৮ এপ্রিল) বিকালে দেশব্যাপী কর্মসুচির অংশ হিসেবে শহরের রেজিষ্টিপাড়া এলাকায় এ অবস্থান কর্মসূচিতে শতশত নেতাকর্মী অংশগ্রহন করে।
সারা দেশের জেলা ও মহানগরে অবস্থান কর্মসূচির অংশ হিসাবে টাঙ্গাইল সদর ও শহর বিএনপি যৌথভাবে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে।
অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
কর্মসুচিতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শহর বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল আলীম, সাধারণ সম্পাদক ইজাজুল ইসলাম সবুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকন্দ, সদর উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন খান, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি শাহ আলম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
অবস্থান কর্মসুচি পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ।এ সময় সদর উপজেলা ও শহর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, দ্রব্যমূল্যেরে ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের সর্বস্তরের দুর্নীতির প্রতিবাদসহ ১০দফা দাবি মানতে হবে। দাবি একটাই, সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, সরকারি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সব ধ্বংস করে দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধৃ সেতু মহাসড়কে বেড়ে যায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীরা। এই ভোগান্তিরোধে প্রতি ঈদে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়। যারফলে কয়েক বছর ধরে স্বস্তি পাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষগুলো।
এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে এবারও ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
এ সময় জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব বিবিএ, ফোরলেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, বাস-মিনিবাস ও ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতি প্রতিনিধিদের নিয়ে যানজট নিরসনকল্পে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনকালে পথ-আলোচনা সভা করে জেলা পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হবে এবং মহাসড়ক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কোন ধরণের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ছিনতাইয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় পরিদর্শনকালে বঙ্গবন্ধু সেতু (বিবিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুল কবীর পাভেল, জেলা সহকারী পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন আহমেদ, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান প্রমুখসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে উদ্বোধন হয়ে গেলো দেশের বৃহত্তম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ২৮তম আউটলেট। অত্যাধুনিক নির্মাণশৈলীর ১৪ হাজার ৯৮ বর্গফুটের তিনতলা বিশিষ্ট শহরের বড় কালীবাড়ি রোডের সিটি সেন্টারে এই আউটলেটে নারী-পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, বাড়ির সাজসজ্জা, গহনাসহ আড়ংয়ের সাব-ব্র্যান্ড তাগা, তাগা ম্যান, এবং আড়ং আর্থ এর পণ্যগুলো পাওয়া যাবে।
শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আউটলেটটির উদ্বোধন করেন আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। এছাড়াও এসময় ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আশরাফুল আলম বলেন, ক্রেতাদের ঈদ উদযাপনকে মাথায় রেখে ঈদ শপিংয়ের একদম উপযুক্ত এই সময়ে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নানা কারুশিল্পে সমৃদ্ধ টাঙ্গাইলে আড়ংয়ের এই আউটলেটটি খুলতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা আশা করি, নতুন আউটলেটটি এই প্রাণবন্ত শহরের বাসিন্দাদের কেনাকাটার জন্য অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে এবং একইসঙ্গে টাঙ্গাইলবাসীর ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ভিত্তিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
এছাড়াও গ্রাহকরা সীমিত সময়ের জন্য ৫০০০ টাকা বা তার বেশি কেনাকাটা করে আড়ংয়ের কাস্টমার লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘মাই আড়ং রিওয়ার্ডস কার্ড’-এর সদস্য হতে পারবেন এবং বছরব্যাপী বিশেষ সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া ‘মাই আড়ং রিওয়ার্ডস কার্ড’-এর অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা আড়ং টাঙ্গাইল আউটলেটে প্রতিটি কেনাকাটায় দ্বিগুণ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। এই অফারটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
আড়ং বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এর একটি সামাজিক উদ্যোগ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ভূঞাপুর সচেতন নারী সমাজ। মিছিলে প্রায় ৪ শতাধিক নারী অংশ নেয়।
শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে সচেতন নারী সমাজের উদ্যোগে ভূঞাপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনির নামে নানা ধরণের স্লোগানসহ ফাঁসি দাবি জানান তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন রেখা খাতুন ও সূচি বেগম।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে অন্ত:সত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্ত করে তার ফাঁসি দাবি করছি। যদি তাদের ফাঁসি না দেওয়া হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত বুধবার ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী। বৃহস্পতিবার ৬ এপ্রিল বিকালে ওই কিশোরী আদালতে দন্ডবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী এমপি’র বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ায় জেলার রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।