একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা করটিয়া ঐতিহ্যবাহী সা’দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সায়মন তালুকদার রাজীব।
শনিবার(১৮ মার্চ) গভীর রাতে প্রকাশিত ফলাফলে সভাপতি পদে মো. ইউসুফ আলী(চেয়ার) ১৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রিপন(গরুরগাড়ী) পেয়েছেন ১২৫৩ ভোট।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে সায়মন তালুকদার রাজীব( দেয়ালঘড়ী) পেয়েছেন ১৮১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. আব্দুর রশীদ হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪৫ ভোট।
এছাড়া সমিতির নির্বাচিতরা হচ্ছেন,সহ-সভাপতি পদে আজাদ সিদ্দিকী (মোরগ), মো. জামিল আক্তার খান(মই),সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন রাজু(হাতি), নাজমুল ইসলাম মনির(আনারস),আইন বিচার ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহ্ শাহীন(মোমবাতি), কোষাধ্যক্ষ মো. শাজাহান সিরাজ শাহীন(দোয়াত কলম), দপ্তর সম্পাদক খন্দকার হাসান জোহেব(সিএনজি), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সজীব মিয়া (ফুটবল), ধর্ম সম্পাদক(ইসলাম) মো. জামাল মিয়া (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়),ধর্ম সম্পাদক(হিন্দু) মলয় চন্দ্র পাল( বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)।
কার্যকরি পরিষদের সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তাইফুর রহমান শান্ত(১৪৭২)। এছাড়া মো. মোজাম্মেল হক তালুকদার(১৩৮৩) ও মো. রাকিব সিদ্দিকী(১২৬৮) কার্যকরি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন করটিয়া এইচ এম স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সহিদুল ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মাজেদুল আলম নাঈম। এই নির্বাচনে ১৩ টি পদে ২৮ জন প্রার্থী অংশ গ্রহনের মাধ্যমে উৎসবমুখোর পরিবেশে শান্তিপুর্ণভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়। সমিতির ২ হাজার ৯’শ ৪০ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৭’শ ৫৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর প্রেসক্লাবের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সন্তোষ কুমার দত্ত।
সম্মেলনে দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনকে সভাপতি ও দৈনিক সংবাদের সন্তোষ কুমার দত্তকে সম্পাদক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরি কমিটি গঠিত হয়।
নির্বাচিত অন্য কর্মকর্তারা হলেন সহসভাপতি খন্দকার আব্দুস সাত্তার (দৈনিক জনতা), কে এম মিঠু (দৈনিক ভোরের কাগজ), মো. আব্দুস সালাম (দৈনিক দিনকাল), যুগ্ম সম্পাদক কায়ছার মিয়া (আমাদের বার্তা), সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (দৈনিক সকালের সময়), কোষাধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র রায় (দৈনিক ভোরের ডাক), তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম হোসেন (দৈনিক যুগান্তর), দপ্তর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নূর আলম (দৈনিক ভোরের সময়)। নির্বাহী সদস্য মাহদী হাসান শিবলী (টি টিভি), মো. রুবেল আহমেদ (গোপালপুর বার্তা)।
একতার কণ্ঠঃ একাত্তুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদর কর্তৃক বাঙালি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পাঠ্য বইয়ে গণহত্যার ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ টাঙ্গাইল জেলা কমিটি ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ।
শনিবার(১৮ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ টাঙ্গাইল জেলা কমিটি ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ আলী’র সভাপতিত্বে ও তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মুঈদ হাসান তড়িৎ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলীমউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, অধ্যাপক এ এম রাজ্জাক, নাঈম উদ্দিন প্রমুখ।
এসময় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ টাঙ্গাইল জেলা কমিটি ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ এর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছর পর হলেও বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতিসংঘকে দিতে হবে। টাঙ্গাইলে চিহ্নিত ১’শত ৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার অবিলম্বে শুরু করা ও পাঠ্য বইয়ে গণহত্যার ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানাই।
একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ মার্চ) বিকালে একাডেমিক ভবনের পরিসংখ্যান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সায়েন্স অনুষদের ডিন ও পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ধনেশ্বর চন্দ্র সরকার ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মহিবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ‘সত্যের সন্ধানে অবিরাম’ শ্লোগানে টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগধারা পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ১১তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসকাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দৈনিক যুগধারা’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।
দৈনিক যুগধারা প্রত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এইচ.এম হাবিবুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মোল্লা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, টাঙ্গাইল এডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. গোলাম মোস্তফা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসাদুল আক্তার শামীম, মওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুল ইসলাম মজনু, এনটিভি’র স্টাফ কররসপেনডেন্ট মহাব্বত হোসেন, এটিএন নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন, দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহিম, কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি কাজল আর্য্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন বকুল, দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মনির সিকদার, দৈনিক নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি মালেক আদনান, দৈনিক আমার সংবাদের জেলা প্রতিনিধি রাইসুল ইসলাম লিটন, দৈনিক ভোরের পাতা’র জেলা প্রতিনিধি আব্দুস সাত্তার, আনন্দ টিভি’র উত্তর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মেহেদী হাসান চৌধুরী, দৈনিক যুগধারা’র স্টাফ রিপোর্টার ও নিউজ জি এর জেলা প্রতিনিধি অন্তু দাস হৃদয়, দৈনিক কালের কাগজের জেলা প্রতিনিধি মুক্তার হাসান, দৈনিক যুগধারা’র স্টাফ রিপোর্টার সুলতান কবির, দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের কালিহাতী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমসহ যুগধারা প্রত্রিকার বিভিন্ন উপজেলা প্রতিনিধি, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দৈনিক যুগধারা’র ১০ম বর্ষ পূর্তি ও ১১তম বর্ষে পদার্পণকে একটি ইতিহাস আখ্যা দিয়ে বলেন, গত ১০ বছরে যুগধারা লেখনির মাধ্যমে সাহসী সাংবাদিকতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়ে পাঠকদের আস্থা সৃষ্টি করেছে।
তারা আরো বলেন, আগামী দিনে যুগধারা সাংবাদিকতায় আরো গতিশীল সংবাদ পরিবেশন করে তার বৈশিষ্ট ‘সত্যের সন্ধানে অবিরাম’ শ্লোগানকে স্বার্থক করে তুলবেন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দৈনিক যুগধারা পত্রিকাকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে সুনামের সাথে আরো এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভা ও কেক কাটার মাধ্যমে শেষ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
তিনি শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বঙ্গবন্ধুর ১০৩তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধুর মতো দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। দেশের কল্যাণে নিবেদিত থাকতে হবে। প্রতিটি মুহুর্ত সমাজের জন্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে।
ড. রাজ্জাক আরো বলেন, বাঙালী-অবাঙালী সকলে সম্মিলিতভাবে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে। মুসলমান-হিন্দু- বৌদ্ধ-খৃষ্টান সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সকলকে নিয়ে দেশকে উন্নত রাষ্ট্র করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার গ্রাম আমার শহর বাস্তবায়নে নিবেদিত রয়েছেন। সকলের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করতে হবে।
মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিশু দিবসের আলোচনা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, মধুপুর পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক ও শরীফ আহমেদ নাসিরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
এর আগে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জন্মদিনের কেক কাটা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাতে অংশ নেন।
একতার কণ্ঠঃ কম খরচে অধিক ফলন হয় সূর্যমুখীর। তেল জাতীয় এ বীজ চাষ ভালো হওয়ায় সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে টাঙ্গাইলের কৃষক এবং গ্রাম-বাংলার ফসলি জমি। ভোর হলেই মিষ্টি সোনা রোদে ঝলমল করে উঠে সূর্যমুখী ফুলগুলো। দেখে মনে হয় সবুজ পাতার আড়াল থেকে মুখ উঁচু করে হাসছে সূর্যমুখী। সূর্যমুখী দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এ ফুলের নাম সূর্যমুখী ফুল। সূর্যমুখীর বাগানে প্রায় প্রতিদিন চলে প্রজাপতি আর মৌ-মাছির মেলা। নয়ন জুড়ানো এ দৃশ্যে খুশি কৃষক, তেমনি মোহিত করছে ফুলপ্রেমী মানুষকে।
সূর্যমুখী শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এর রয়েছে অনেক গুণাগুণ। বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। কৃষি প্রণোদনার আওতায় টাঙ্গাইলে চাষ হয়েছে তেলজাতীয় ফসল এই সূর্যমুখী। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় গতবারের ন্যায় এবারও সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে এ জেলায়। এতে খুশি চাষিরাও। তা ছাড়া বর্তমানে আকাঁশ ছোয়া তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ করবে এ হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখী। তাই কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৩০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও ১২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী। এনিয়ে জেলায় মোট ২৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। ১২টি উপজেলার মধ্যে- টাঙ্গাইল সদরে ৪৫, বাসাইলে ৩৫, কালিহাতী ২০, ঘাটাইলে ১৫, নাগরপুরে ১৫, মির্জাপুরে ১৫, মধুপুরে ২০, ভূঞাপুরে ২০, গোপালপুরে ১২, সখীপুরে ১২, দেলদুয়ারে ১৫ ও ধনবাড়ীতে ১৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়।

গোপালপুর পৌরসভার ভূয়ারপাড়া এলাকার বয়োবৃদ্ধ নূরুল ইসলাম, তুলা মিয়া, হাসমত আলী, রাশিদা, জমিলা, রত্নাসহ অনেকেই জানান, জবরদখল হওয়া ১০ একর জমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। আরও দখলে খাকা জমিগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবরদখলে থাকায় উদ্ধার করতে পারেনি।
ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ি এলাকার চাষি মুশফিকুর রহমান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ১০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। প্রতিদিন বিকেল বেলায় আমার জমিতে ফোটা সূর্যমুখী ফুল দেখার জন্য দূর-দূরান্ত হতে অনেক দর্শনার্থীরা দেখতে আসত। সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে সময় কাটান বিনোদনপ্রেমীরা। তা দেখে আমার আনন্দ লাগে। তা ছাড়া আমাকে দেখে এলাকার অনেক কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বছর সূর্যমুখী চাষে ভালো সফলতা আসবে এবং অনেক লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।
সূর্যমুখীর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বিনোদনপ্রেমীরা ভিড় করেছেন সূর্যমুখীর মাঠে। সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছে। স্থানীয় কৃষকরা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে সূর্যমুখী চাষের জন্য নানা ধরনের পরামর্শ নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আহ্সানুল হক বাশার বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ২৩০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও ১২ হেক্টর জমি বেশি হওয়ায় জেলায় মোট ২৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হেক্টর বেশি। প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছিল। গত বছর ৪৩৫ মেট্রিকটন সূর্যমুখীর বীজের ফলন পেলেও এ বছর ২৪২ হেক্টর জমি থেকে ৪৪২ মেট্রিকটন সূর্যমুখীর বীজের ফলন পাব বলে আশা করছি।
তিনি আরও জানান, এ বছর জেলায় সূর্যমুখী বেশিরভাগই চাষ করা হাইব্রিড জাতের এবং বাংলাদেশ গবেষণাগার থেকে বারি-১৪ সূর্যমুখীর উৎপাদন বেশি হয়। আর তেলের পরিমাণও বেশি থাকে। সব দিক বিবেচনা করে তেলের চাহিদা পূরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ডাক দিয়েছেন যে, আমাদের দেশীয় তেল স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। সে লক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় আমরা টাঙ্গাইলে কাজ করে যাচ্ছি এবং সরিষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত তেল জাতীয় সূর্যমুখীর চাষ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে অজ্ঞাত বাস চাপায় ইরফান মিয়া (৫০) নামে এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছে।
শুক্রবার(১৭ মার্চ) বিকেলে মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পৌলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরফান মিয়া পৌলি এলাকার মৃত বাবর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত ইরফান মহাসড়কের পূর্ব পাশ থেকে হেঁটে পশ্চিম পাশে ছোট ভাইকে টাকা দিতে যাচ্ছিল ছিলো। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী অজ্ঞাত একটি বাস ইফরানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইরফানের মৃত্যু হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট শিবু নাথ সরকার জানান, সংবাদ পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। আইনী পক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত ইরফান পেশায় ট্রাক চালক ছিল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও এনজিও সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) -এর মামলায় রুমা নামের এক অসহায় গৃহবধূকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার প্রতিমা বংকী দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে সখীপুর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার(১৫ মার্চ) তাঁকে টাঙ্গাইল পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূ রুমা ওই এলাকার আবু আহম্মেদের স্ত্রী। তবে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস এর এক কর্মকর্তার দাবি- ওই গৃহবধূ সব টাকা পরিশোধ করেননি।
গৃহবধূ রুমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুমা নামের ওই গৃহবধূ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) -এর নলুয়া শাখা থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর তিনি ওই ঋণের চারটি কিস্তিও পরিশোধ করেন। পরে করোনাকালীন মন্দা পরিস্থিতিতে একসময় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেন রুমা। ফলে ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ খেলাপি দাবি করে রুমার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করে।
পরে ওই মামলাটি তুলে নেওয়ার শর্তে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি অসহায় রুমা ও তাঁর পরিবার ২৫ হাজার টাকা টিএমএসএস নলুয়া শাখার কর্মকর্তা শাহীনের কাছে পরিশোধ করেন। এনজিও কর্মকর্তা শাহীন সাদা একটি কাগজের টুকরোতে সাক্ষর করে ২৫ হাজার টাকা বুঝিয়া পাইলাম মর্মে লিখিত দেন। কিন্তু তাঁদের এই সমঝোতা/লেনদেনের বিষয়টি টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ আদালতকে অবহিত না করায় আদালত গত ১২ ফেব্রুয়ারি গৃহবধূ রুমার বিরুদ্ধে একমাস কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন।
এদিকে সাজা ঘোষণার পরও বিষয়টি গোপন করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএমএসএস-এর ওই কর্মকর্তা খেলাপি ঋণের আরও সাত হাজার টাকা কিস্তি গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে সাজা হওয়ার ভিত্তিতে আদালত রুমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে সখীপুর থানা পুলিশ গৃহবধূ রুমাকে গ্রেপ্তার করে।
থানা কাস্টরিতে গৃহবধূ রুমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু করোনার সময় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। তবুও জেল-জরিমানার ভয়ে ধার-দেনা করে এনজিও’র টাকা পরিশোধ করতেছি। ৬০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে চারটা কিস্তি দিছি, মামলার পর দুই কিস্তিতে ৩২ হাজার টাকা নিছে আর ওই সমিতিতে আমার কিছু সঞ্চয়ের টাকা আছে, সব বাদ দিলে আমার কাছে আর তিন-চার হাজার টাকা পাবে।
এ বিষয়ে জানতে টিএমএসএস —এর কিস্তি গ্রহণকারী ওই কর্মকর্তা শাহীনের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে টিএমএসএস -এর নলুয়া শাখার আইন বিভাগের কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেদের দায় এড়িয়ে বলেন, এক্ষেত্রে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষের কোনো ভুল নেই। মূলত গৃহবধূ রুমা তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন নাই। সম্ভবত কোনো হাজিরার তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এই কারণে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এছাড়া তিনি ঋণের সব টাকা পরিশোধও করেননি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে রুমা নামের এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে বুধবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। থানা পুলিশ আদালতের আদেশ পালন করেছে মাত্র।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে হাত পা-বাঁধা অবস্থায় জুলহাস মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে বাসাইল পৌর এলাকার কুমারজানীর গাজীভাঙ্গা এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জুলহাস মিয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,বাসাইল-নলুয়া আঞ্চলিক সড়কের বাসাইল পৌরসভার গাজীভাঙ্গা এলাকার লোকজন রাস্তার পাশে মরদেহটি পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে বাসাইল থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহতের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো জানান,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা চালককে হত্যার পর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। পরে তারা লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে যায়।
একতার কণ্ঠঃ : টাঙ্গাইলে আসন্ন রমজানে নিত্যপন্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ)দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তারের নেতৃত্বে শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পার্কবাজার পরিদর্শন করা হয়।
এ সময় বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ প্রতিটি দোকানে মুল্য তালিকা টানানো এবং অতিরিক্ত দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাজার মনিটরিং করার সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সচেতনতা করাসহ সকলের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে মজুদ করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করে সেজন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান,কেউ বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল করিম, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, পার্ক বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জোয়াহের আলী প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন সম্বলিত ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পেলেন এসএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে এর প্রতিবাদ করায় পরীক্ষা স্থগিত ও পূনরায় ওই পরীক্ষা নেয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪০০ জন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০০জন। ৫০০ টাকা বেতনে বিদ্যালয়ের এসএসসি কোচিং শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫০ জন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার (১৩ মার্চ) ছিল আমাদের ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা। কেন্দ্রে প্রশ্ন পাওয়ার পর আমরা দেখি ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করায় পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ। এরপর জানায় পরীক্ষাটি পরে নেয়া হবে। তবে প্রশ্নপত্র আমাদের হাতে দেয়ার আগে কর্তৃপক্ষ কেন সেটি আগে যাচাই করলেন না এমন প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
কাতুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমি হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন দিয়ে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে বিষয়টি জানতে পারি। আমি এলাকায় ছিলাম না, পরবর্তীতে কি হয়েছে এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না। তবে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
কাদের, ইউসুফসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, সামনেই এসএসসি পরীক্ষা দেবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। তাদের ফলাফল ভালো হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ে কোচিং করানো হচ্ছে। প্রতিমাসে কোচিং ফি বাবদ টাকাও নিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের মান যাচাই করতে বিদ্যালয় থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ মার্চ) ছিল ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা। ওই পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দেখে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন। প্রশ্ন পরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করার পর প্রশ্নপত্রটি দেখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দায়িত্বরত শিক্ষকরা।
এ অভিযোগ পেয়ে আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে সাথে দেখা করলে তিনি জানান প্রশ্নগুলো ঢাকা থেকে কিনে এনে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এ কারণে সমস্যাটি হয়েছে।
তারা বলেন, মডেল টেস্টের প্রশ্ন কেন কর্তৃপক্ষ নিজেরা না করে কিনে এনে পরীক্ষা নিচ্ছেন। তাহলে কেন বিদ্যালয়ের বেতন, পরীক্ষার ফিসহ কোচিং এর জন্য টাকা দিচ্ছি আমরা ? আমাদের শিক্ষার্থীদের কি শিক্ষা দিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তারা আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন এটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। চরম দায়িত্ব অবহেলায় লিপ্ত এই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুলের বিষয়টি কি দেখেননি আমাদের জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষরা এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছানোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, ঢাকার প্রশ্নঘর থেকে ২৫ টাকা দরে প্রতিসেট প্রশ্নপত্র কেনা হয়েছে। অন্যান্য পরীক্ষার প্রশ্ন ঠিক থাকলেও ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুল হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ পুনরায় নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষাটি নেয়া হবে। বিষয়টি প্রশ্নঘর মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে।
বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি নায়েব আলী সরকার বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্খিত ভুল। পরবর্তিতে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া খাতুন জানান, বিষয়টি আমি জানিনা। আগামীকাল সকালে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে এর বিরুদ্ধে পরবর্তি ব্যবস্থা নিব।