একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলা সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ঢুলি সম্প্রদায়। এ সংস্কৃতির ঐতিহ্যে বিকাশেও রয়েছে এ সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সংস্কৃতির যাত্রা, নাটক, বাউলগান, পালাগান হয়েছে এ সম্প্রদায়ের হাত ধরে সমৃদ্ধ। এ সম্প্রদায়ের উর্বর ভূমি টাঙ্গাইল জেলা। যার নিদর্শন এখনও ধরে রেখেছে জেলার ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের হামিদপুরের বায়ানপাড়ায় বসবাসরত ঢুলি সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার।
তবে করোনা ও লকডাইনের কারনে এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এ সম্প্রদায়ের কার্যক্রম। এর ফলে চরম অভাব অনটনে কাটছে এ সম্প্রদায়ের দিন-কাল। করোনার প্রভাবে অস্তিত্বে সংকটে পড়েছে টাঙ্গাইলে ঢুলি সম্প্রদায় । পেটের দায়ে সম্প্রদায়ের কেউ কেউ বেঁছে নিচ্ছেন অন্য পেশা। ঝুঁপড়ির ঘর, উন্মুক্ত পায়খানায় এ সম্প্রদায়ের শিশুসহ পরিবার গুলো যেমন রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, তেমনি রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা প্রদ্ধতি সম্পর্কে অসচেতনতা। গ্রামটিতে রয়েছে চরম পয়ঃনিস্কাশন সমস্যাও। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেও দিনদিন বাড়ছে এ গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা।
জানা যায়, প্রায় ৩’শ বছর যাবৎ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের হামিদপুরের বায়ানপাড়ায় বসবাস করে আসছে ঢুলি সম্প্রদায়ের এ পরিবার গুলো। ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গ্রাম এই বায়ানপাড়া বা নার্গাচিপাড়া। ব্যক্তি মালিকাধীন ৫৯ শতাংশ জমির উপর অবস্থিত এ গ্রামটিতে বসবাসরত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক হলেও এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ২’শ জন। তাদের ভোটার সংখ্যা ১০৫জন। এছাড়াও ইসলাম ধর্মাবলম্বী এ সম্প্রদায়ের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন এই বাদ্যযন্ত্র। পরিবারের উপার্জনক্ষম শিশু থেকে বৃদ্ধ একজন হলেও রয়েছে এ পেশায় জড়িত। গ্রামটিতে বর্তমানে এ পেশার জড়িত রয়েছে বাসন্তী ব্যান্ড পার্টি, মনির ব্যান্ড পার্টি, বাংলাদেশ ভান্ডারী ব্যান্ড পার্টি, স্বপন ব্যান্ড পার্টি, শাহিন ব্যান্ড পার্টি, ফখর উদ্দিন ভাই ভাই ব্যান্ড পার্টি, সুমাইয়া ব্যান্ড পার্টি, বৃষ্টি ব্যান্ড পার্টি ও হৃদয়-রিপন ব্যান্ড পার্টির মত কয়েকটি দল।
এক একটি দলে কাজ করছে কমপক্ষে ১২জন সদস্য। বাংলা বছরের বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ, অগ্রহায়ন, মাঘ আর ফাল্গুন এ সম্প্রদায়ের উপার্জনের সময়। এ সকল ব্যান্ড পার্টির একটি দলে কাজ করেন ৬জন বাঁশি বাদক, ১জন বাংলা সানাই বাদক, ১ জন জয় ঢাঁক বাদক, ১জন ঢোল বাদক, ১জন জুড়ি বাদক, ১ জন কারা বা ছোট জয় ঢাঁক বাদক আর ১জন করতাল বাদক। নাটক, যাত্রা, বাউলগান, পালাগান, হিন্দু বিয়ে, অন্নপ্রাশন, পূঁজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওরশ, র্যালীসহ নানা ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় তাদের বাদ্যযন্ত্র। এ ধরণের প্রতিটি দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বাবদ জনপ্রতি পান এক হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যক্তি মালিকাধীন মাত্র ৫৯ শতাংশ জমিতে অবস্থিত এ গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে মাত্র একটি সেমিপাকা ঘর। বাকি সব ঘরগুলোই তোলা হয়েছে টিনের ঝুঁপড়ি দিয়ে। ৫৯ শতাংশ জমির গ্রামটিতে এতগুলো পরিবার বসবাসের ফলে তাদের এক একটি পরিবার এক বা আধা শতাংশ জমির মালিক। আবার অনেকেই আছেন ভূমিহীন। নেই তাদের কোন আবাদী জমি। এদের বেশিরভাগ ঘরেই নেই শোয়ার মত খাট বা চৌকি। সরকারিভাবে স্যানেটারী পায়খানা তৈরির রিং পাট আর স্লাব বসানো হলেও সেগুলোতে টিনের বেড়া দেয়ার সাধ্যও হয়নি হতদরিদ্র এই পরিবারগুলোর। এ কারণে পলিথিন বা সিমেন্টের কাগজ দিয়ে ঘিরেই কোন রকমে চলছে এর ব্যবহার। এর মধ্যেই চলছে গ্রামটিতে বসবাসরত শিশুদের খেলাধুলা, বৃদ্ধসহ পরিবারের সকল বয়সী নারী পুরুষের চলাচল। একই সাথে পরিবার পরিকল্পনা প্রদ্ধতি মেনে চলার চরম অসচেতনতায় গ্রামটির প্রতিটি পরিবারেই বৃদ্ধি পেয়েছে সদস্য সংখ্যা। এছাড়াও ওই গ্রামের মরহুম বরকত আলী নার্গাচীর স্ত্রী খুশিরন (৫৫) প্রধানমন্ত্রীর দেয়া একটি ঘর পেলেও তারও নেই স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানার ব্যবস্থা।
বায়ানপাড়া গ্রামের চার সন্তানের জনক ও বয়োজ্যেষ্ঠ করনেট বাঁশি বাদক দরাজ আলী নার্গাচী (৭৮) জানান, আমাগো জাতিগত ব্যবসা এই ঢোল ব্যবসা। পূর্বপুরুষ থেকে আমাগো এই ব্যবসা চৈইলা আসছে। করোনার কারনে লকডাইনে ব্যবসা বাণিজ্য নাই, তাই খুব অভাবে আছি। বছরের ছয় মাস চলে আমাগো এই ব্যবসা। যখন কাম থাকেনা তহন আমরা রিক্সা বাই, কেউ কেউ আবার হাটে বাজারে ইঁদুর, তেলাপোকা, পিঁপড়া মারার ওষুধ বিক্রি কৈইরা চলে। সেই কাজও এখন বন্ধ তাই এক পেট খেয়ে কোন রকমে বাইচা আছি। সরকার আমাগো দিকে তাকায় না।
চার সন্তানের জনক ও বাঁশি বাদক জোয়াদ আলী নার্গাচী (৪৮), দুই সন্তানের জনক ও বাঁশি বাদক শফিকুল ইসলাম নার্গাচী (৩৪) ও তিন সন্তানের জনক আহাম্মদ আলী ভান্ডারী নার্গাচী (৫০) বলেন, অন্য কোন কাম জানা নাই বৈইলা কোন রকমে এ পেশা দিয়াই বাইচা আছি। আমরা নাটক, যাত্রা, বাউলগান, হিন্দু বিয়ে, অন্নপ্রাশন, পূঁজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওরশ, র্যালীসহ বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে থাকেন তারা। তবে দেশে এখন করোনা আইসা আমাগো কাজ কৈইমা গেছে। এ কাম কৈইরা এখন কোন রকমে চলতাছে আমাগো পেট। বাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
চার সন্তানের জনক হযরত আলী নার্গাচী (৫৫) বলেন, আমাগো পূর্বপুরুষের ব্যবসা এই ব্যান্ডপার্টি। এ ব্যবসার উপরই আমাগো সংসার চলতাছে। এ ব্যবসা ছাড়া আমাগো কোন অর্থ সম্পদ নাই। বছরের ছয়মাস যখন কাম না থাকে পেটে ভাতে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরের কাম করাসহ রিক্সা চালান বলেও জানায় সে। সেই কাজ ও এখন বন্ধ।
আপন ঢুলি নার্গাচী (২৮) বলেন, আমরা খুবই দরিদ্র এ কারণে ছালা দিয়া ঘিরা পায়খানা ব্যবহার করতাছি। সরকারিভাবে দেয়া পায়খানা আমরা গরীব বৈইলা পাইনা। অন্যজনাগো দিয়া দেয়। চেয়ারম্যান-মেম্বাররে জানাইয়া কোন কাম হয়নাই বলেও জানান তিনি। এখন পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্যে মেলেনি তাদের ভাগ্য।
ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রায় তিন’শ বছর যাবৎ এ গ্রামে এই বায়ান সম্প্রদায়ের বসবাস। করোনার প্রভাবে এ ব্যবসায় প্রায় ধস নেমে গেছে। ব্যবসা খারাপ হওয়ায় এ পরিবারগুলোর অনেকেই এখন হাটে বাজারে মশা, মাছি ও ইঁদুরের ওষুধ বিক্রি কৈইরা পেট চালাইতাছে। এ গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোর অধিকাংশেরই কারো আদা শতাংশ জমি, কারো এক পোয়া শতাংশ জমি, কারো তিন পোয়া শতাংশ জমি, কারো এক শতাংশ জমি রয়েছে। আবার অনেকেই আছেন একদম ভূমিহীন।
দিগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (মামুন) বলেন, বায়ানপাড়ার অধিকাংশ পরিবারকে পায়খানা নির্মাণে রিং পাট ও স্লাব দিয়েছেন তারা। বেড়া তাদের দিয়ে নেয়ার কথা। এছাড়াও প্রতি বছরই বন্যায় ওই গ্রামটি তলিয়ে যেত বলে ইতিপূর্বে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াতের সুবিধা করে দিয়েছিল তারা। পরবর্তীতে মাটি ফেলে বায়ানপাড়ায় যাতায়াতের রাস্তাও করে দেয়া হয়েছিল। তবে বন্যায় ওই রাস্তাটির অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। এরপরও এলজিএসপির বরাদ্দ থেকে গ্রামটির রাস্তা রক্ষায় গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। করোনা সংকট মোকাবেলায় এই সম্প্রদায়ের লোকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ধানক্ষেতে সেচের পানি আগে দেয়াকে কেন্দ্র করে হযরত আলী নামের এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার(২১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মঠবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াজেদ আলী নামের আরেক বৃদ্ধকে আহত অবস্থায় আটক করেছে ধনবাড়ী থানা পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , স্থানীয় সেচ পাম্প থেকে নিজ নিজ জমিতে কে আগে পানি দেবে এই নিয়ে প্রতিবেশী ওয়াজেদ আলীর সঙ্গে হযরত আলীর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। পরে ওয়াজেদ আলীর উপুর্যুপরি কিল,ঘুষি ও লাথির আঘাতে হযরত আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ওয়াজেদ আলীকে আটক করে। ওয়াজেদ আলী আহত হওয়ায় পুলিশ পাহারায় তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মাজাহারুল ইসলাম জানান, সেচ পাম্প থেকে কে আগে জমিতে পানি দেবে এই নিয়ে ওয়াজেদ আলীর সঙ্গে হযরত আলীর কথা কাটাকাটি থেকে পর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। পরে ওয়াজেদ আলীর উপুর্যুপরি কিল,ঘুষি ও লাথির আঘাতে হযরত আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিহতের মরদেহ বৃহস্পতিবার( ২২ এপ্রিল) ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ( ২০ এপ্রিল) সখীপুর পৌরসভার জামতলা এলাকার একটি বাসায় আটক রেখে তিন বন্ধু মিলে রাতভর ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় বুধবার( ২১ এপ্রিল) বিকেলে গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ সিয়াম (২১) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই গৃহবধূর বাড়ি ঘাটাইল উপজেলায়।
পুলিশ ও গৃহবধূর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ওই গৃহবধূকে সিয়াম ফোন করে সখীপুরে নিয়ে আসেন। পরে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে সিয়ামের চাচাত ভাইয়ের বাসায় আটক রেখে সিয়াম ও তার দুই বন্ধু জয় (২০), সুমন (২১) মিলে জোরপূর্বক রাতভর ধর্ষণ করে। বুধবার ভোরে সিয়াম মোটরসাইকেলযোগে ওই গৃহবধূকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে যায়।
এ সময় গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিৎকারে লোকজন সিয়ামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত গৃহবধূকে প্রথমে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই গৃহবধূ দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে তার বাবা জানান।
সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) লুৎফুল কবির বলেন, এ ঘটনায় সিয়াম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টাঙ্গাইলে লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে শহর ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় মঙ্গলবার(২০ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ওই ইফতার সামগ্রী দুস্থ ও অসহায়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াসেদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক কায়ছার হাসান পাপ্পু সহ ছাত্রলীগ নেতারা স্থানীয় চার শতাধিক অসহায় রোজাদারের হাতে ইফতার সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন। পুরো রমজান মাস জুড়ে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে নেতারা জানান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অপরাধে ১১ জনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় বালু ঘাট থেকে ৪টি ভেকু, ৫ টি ট্রাক ও নগদ ৪৪ হাজার ৭৬২ টাকা জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. ইশরাত জাহান।
কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলো- উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের আরশেদের ছেলে এনামুল, তাহাছানের ছেলে ছানা, জগৎপুরা গ্রামের পাঠান আলীর ছেলে ওয়াসিম খান, রসুনা গ্রামের খোকনের ছেলে ইমতিয়াজ, নলিন গ্রামের জুরানের ছেলে নুরুল ইসলাম, কুঠিবয়ড়া গ্রামের আকাব্বরের ছেলে ছালাম সরকার, বাগবাড়ি গ্রামের জব্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, ছাব্বিশা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে হাফিজুর, একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে আপেল, জড়ৎপুরা গ্রামের পাঠান আলীর ছেলে আরমান খান ও ছাব্বিশা গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে বিপ্লব হোসেন।
র্যাব ১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এরশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী ও অজুর্না ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীতে জেগে উঠা চর স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে কেটে বিক্রি করে আসছে। এসব অবৈধ বালু ঘাটের বালুভর্তি ট্রাক সড়ক ও মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় দূর্ঘটনার পাশাপাশি স্থানীয় সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসন থেকে নামমাত্র অভিযান হলেও পরক্ষণেই আবার ঘাট চালু হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ দেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক আলমগীর কোভিড-১৯ পজিটিভ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর স্ত্রী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তা জানান। তিনি জানান, ঢাকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
রুনা লায়লা বলেন,
“অসাধারণ কয়েকজন দক্ষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের সেবিকা ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখছেন। বেশ যত্ন করছেন। আলমগীর সাহেবও এখন মানসিকভাবে শক্ত আছেন এবং ভালো অনুভব করছেন। সবাই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। আমাদের সবার শুভকামনা এবং দোয়া তাঁকে দ্রুত নিরাময় করবে।”
করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে কোভিড ভ্যাকসিনের ২য় ও চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের কিংবদন্তি দম্পতি আলমগীর ও রুনা লায়লা। গত শনিবার সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে তাঁরা করোনার দ্বিতীয় টিকা গ্রহণ করেন। তাঁদের সঙ্গে একই দিনে টিকা গ্রহণ করেন আলমগীরের তিন সন্তান মেহরুবা আহমেদ, আঁখি আলমগীর ও তাসবির আহমেদ।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের কদিম খশিল্লা গ্রামে মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত এক স্কুলশিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন।মঙ্গলবার(২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান শিক্ষক মিজানুর রহমান বাবুল।
এই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
নিহত মিজানুর রহমান নাগবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ মাতাব্বরের ছেলে । তিনি বেহালাবাড়ি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।
রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আট জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের চাচা জিয়াউর রহমান।
মামলায় বিবরণে জানা যায়, মিজানুর রহমানের দাদি উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নে কদিম খশিল্লা গ্রামে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। মসজিদ ঘর নির্মাণ হলে স্থানীয় কোরবান আলী ও তার পরিবারের লোকজন আপত্তি জানান।
তারা মসজিদের ভেতরে নিজেদের জমি আছে বলে দাবি করেন। যদিও নির্মাণের আগে জমি পরিমাপের সময় তারা সম্মতি দেন।
গেল রবিবার মিজানুরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় কোরবান আলীর। এক পর্যায়ে কোরবান ও তার গোষ্ঠীর লোকজন হামলা করেন। সাবল দিয়ে আঘাত করেন মিজানুরের মাথায়। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন লাবু ও জাহিদ নামের দুইজন।
আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে মিজানুরকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে মৃত্যু হয় তার।
কালিহাতী থানার (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন , ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করছেন নিহতের চাচা জিয়াউর রহমান। তারা সবাই পলাতক। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাদিয়া আক্তার (১৯) নামে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। দুই হাত বাঁধা ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার(১৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের জুড়ান মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।
নিহত সাদিয়ার বাবার অভিযোগ, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির দাবিকৃত যৌতুকের টাকা ও নোনাসের জামাইয়ের কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি, নোনাস ও নোনাসের জামাইকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার পর থেকে সাদিয়ার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে। সাদিয়া উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের সেলিম হোসেনের মেয়ে ও বাঁশতৈল মুনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ জানায়, আড়াই বছর আগে আজগানা ইউনিয়নের জুড়ান মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়ার দক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী ছেলে ওয়াজেদ আলীর সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের তিনমাস পর ওয়াজেদ আলী পুনরায় দক্ষিন আফ্রিকা চলে যায়।এরপর থেকে সাদিয়া এক সময় বাবার বাড়ি এক সময় শ্বশুড় বাড়িতেই থাকতেন।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম বলেন, সোমবার রাতে খবর পেয়ে দুই হাত বাধা ঘরের ধন্যার সঙ্গে ঝুলানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে সাদিয়ার বাবা সেলিম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জামাই আফ্রিকা যাওয়ার পর মেয়ের শ্বশুড় রফিকুল ইসলাম ও শুশুড়ি মিলে তাদের ছেলে আফ্রিকায় দোকান ভাড়া নেবে বলে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তারা সাদিয়াকে নানাভাবে অত্যাচার নির্য়াতন করতে থাকে।
অন্যদিকে স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে সাদিয়ার ননাস জামাই জুয়েল সাদিয়াকে নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়ে সাদিয়া তার শ্বশুড়-শ্বাশুরিকে জানালে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয় বলে সেলিম হোসেন জানান। এরপর তার উপর শুরু হয় শ্বশুড়-শ্বাশুরি এবং ননাস রোজীনা ও তার স্বামী জুয়েল মিয়ার নির্যাতন শুরু হয়। প্রায়ই সাদিয়াকে খাবার দেয়া হতো না।
গত ২ এপ্রিল সাদিয়া তার মামা মিনহাজ উদ্দিনকে ফোনে জানান, তাকে খেতে দেয়া হচ্ছে না এবং শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে। যা তার মামা মিনহাজ উদ্দিন মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। রবিবার সাদিয়া বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুড় বাড়িতে আসলে সোমবার দিনের কোন এক সময়ে তারা পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে খুঁনের অভিযোগ থেকে বাঁচতে তারা তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা হয় বলে সাদিয়ার বাবা অভিযোগ করেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সাদিয়ার সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই হাত ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূ সাদিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যা না আত্মহত্যা জানতে চাইলে ঘটনাটি রহস্যজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের ‘লাল’ তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের একটি ধরন ১০৩ জনের দেহে শনাক্ত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন।
সোমবার ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন। খবর বিবিসি।
আগামী শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৪টা থেকে গত ১০ দিনে ভারতে ভ্রমণকারী বেশিরভাগ ব্যক্তিকেই প্রবেশ করতে দেবে না যুক্তরাজ্য।
এই সময় থেকে ব্রিটিশ বা আইরিশ পাসপোর্টধারী অথবা যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি আছে তারা দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এক্ষেত্রে তাদেরকে সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
পার্লামেন্টে হ্যানকক বলেন, আমরা ভারতকে ভ্রমণের ‘লাল তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থাৎ যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা অথবা যুক্তরাজ্যের নাগরিক নন এমন ব্যক্তি, যিনি গত ১০ দিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন, তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।
‘আর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা বা যুক্তরাজ্যের নাগরিক, যারা গত ১০ দিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের যুক্তরাজ্য প্রবেশের পর ১০ দিন হোটেলে বাধ্যতামূলক কোয়োরেন্টাইনের নিয়ম পালন করতে হবে।’
শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানান হ্যানকক।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ গোটা মানবজাতি বিশেষ করে মুসলিম জাতির ক্ষেত্রেও এটি বড় কঠিন ও পরীক্ষাসম একটি বিষয় যে, তারা মানবসুলভ আচরণের কারণে অভ্যাস ও ইবাদত উভয়টিকে একসঙ্গে সংমিশ্রণ করে ফেলে।
দুটির মাঝে পার্থক্য সাধন করতে পারে না। অনেক সময় এমন হয় ইবাদত অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। এ কথা মস্তিষ্কে থাকে না যে, আমরা কেন ইবাদত করছি? কার জন্য করছি?
এমনকি নামাজগুলোও কখনও কখনও একেবারে অভ্যাসেরই রূপ ধারণ করে বসে। নামাজ পড়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই সময় হলেই পড়তে গেলাম। কিন্তু এটা আমাদের মস্তিষ্কে থাকে না যে, মসজিদপানে গমনে প্রত্যেক কদমে কদমে কী পরিমাণ সাওয়াব পাওয়া হচ্ছে!
কতটুকু দূর অতিক্রম করছি! মসজিদে পৌঁছে দোয়া পড়ার সময় ধারণা এমন রাখা উচিত যে, আমি আল্লাহতায়ালার রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে গেছি। রহমত ও বরকতের স্থানে এসে উপস্থিত হয়েছি। আমার জন্য রহমত ও বরকতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এমনটি আমাদের জীবনে হয় না। মনে হয় এটি একটি রীতি মাত্র। যার ফলে ধর্মীয় জীবনযাপনকেও রীতি মনে হয়। সব কিছুই আপন আপন স্থানে ঠিক আছে। নির্ধিষ্ট সময় অনুযায়ী হচ্ছে । কিন্তু অনুভূতি হয় না।
সওয়াব প্রাপ্তির নিয়ত মনে থাকে না। ঠিক রোজার ক্ষেত্রেও প্রথমত কথা হলো— আমাদের মস্তিষ্কে এ কথা বদ্ধমূল করে নেওয়া যে, রোজা একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে পালন করছি। লোক দেখানোর জন্য নয়, প্রথাগত কোনো অনুসরণে নয়।
লোকলজ্জার ভয়েও নয় যে, লোকে কী বলবে! রোজা রাখে না ! রোজার দিনে পানাহার করছে এই ভয়েও নয়! বরং এই নিয়ত রাখা যে, আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য রোজা রাখছি।
মস্তিষ্কে এ কথার উপস্থিতি থাকা যে, হাদিসে আছে— হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল হয়ে, তার প্রতিশ্রুতিসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে, তার পক্ষ হতে প্রতিদান ও সাওয়াব প্রাপ্তির লোভে রোজা রাখবে তার পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০১৪)
সর্বদা মনে প্রাণে এই বিশ্বাস রাখা এবং মস্তিষ্ককে এ কথায় তরুতাজা রাখা যে, আমি একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে রোজা পালন করছি। এ জন্য পালন করছি যে, রোজা পালন আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার ওপর ফরজ বিধান।
একতার কন্ঠ ডেস্কঃ করোনা রোগীদের জন্য নির্মিত দেশের বৃহত্তম করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতাল’-এ রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর সোমবার সকাল থেকে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। এখানে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা পাবেন আক্রান্তরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ফেইসবুক পেজে সোমবার সকালে জানানো হয়, ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের প্রতিশ্রুতির মাত্র আট মাসের মাথায় শুরু হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতাল’-এর রোগী সেবা কার্যক্রম।
হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ৫০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), ৫০ শয্যার ইমারজেন্সি, যা অনেকটা আইসিইউর মতোই। এছাড়া আছে হাইফ্লো নাজাল ক্যানোলা, সেন্ট্রাল অক্সিজেনসহ সব ব্যবস্থা। ১৫০টি (সিঙ্গেল) রুমের আইসোলেশন ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফ এবং ওষুধ, সরঞ্জামের ব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হাসপাতালটিতে সর্বমোট ১০০০ শয্যায় কোভিড রোগীর জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। তাছাড়া ৫০০ কেভিএ জেনারেটর ও ১০০০ কেভিএ হাই ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য ৯০ হাজার লিটার ওয়াটার রিজার্ভার থাকছে।
রোগীরা কীভাবে ভর্তি হবেন সে বিষয়ে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বা উপসর্গ আছে- এমন রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তারা প্রথমে আমাদের ট্রায়াজে প্রবেশ করবেন। সেখানে দুটি জোন আছে। যাদের মৃদু উপসর্গ আছে বা হেঁটেই আসতে পারছে, চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তাদের যদি ভর্তি প্রয়োজন না হয় তবে ভর্তি করা হবে না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে। পরে এসে তিনি আবার রিপোর্ট করতে পারবেন।
সূত্রঃ যুগান্তর অনলাইন নিউজ পোর্টাল
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ কার্যালয় শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদে ২টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রার্থীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আগ্রহীরা আগামী ১১ মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
পদের নাম: ড্রাইভার
পদসংখ্যা: ১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি
দক্ষতা: বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
পদের নাম: অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ০১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/সমমান
বেতন: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা
বয়স
২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-পোষ্যদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনের ঠিকানা
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, টাঙ্গাইল
আবেদন ফি
আবেদনপত্রের সঙ্গে ১ নম্বর পদের জন্য ৪০০ টাকা ও ২ নম্বর পদের জন্য ৩০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডারের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
![]()