একতার কণ্ঠঃ আমাদের দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুম আমাদেরকে সক্রিয় ও সতেজ করে তোলে। সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর ঘুম বলতে প্রতি রাতে একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমকে বুঝানো হয়। একে অনেকে ঘুমের পরিমাণ হিসাবে ধরে নেয়। যদিও ঘুমের পরিমাণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ভালো ঘুমের জন্য এর পরিমাণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো গুণগত মান। নিয়মিত আরামদায়ক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘুম আমাদের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন রাজধানীর ইনজিনিয়াস পালমো ফিটের স্লিপ কনস্যালট্যান্ট ডা. ফাতেমা ইয়াসমিন
ঘুমের পরিমাণ কী?
ঘুমের পরিমাণ বলতে বোঝায় আপনি প্রতি রাতে কত ঘণ্টা ঘুমান। বয়সভেদে মানুষের ঘুমের সময় তারতম্য হয়।
* বয়স : ঘুমের চাহিদা (২৪ ঘণ্টায়)
* নবজাতক (০-৩ মাস) : ১৪-১৭ ঘণ্টা
* শিশু (৪-১২ মাস) : ১২-১৬ ঘণ্টা
* বাচ্চা (১-২ বছর) : ১১-১৪ ঘণ্টা
* প্রি-স্কুল (৩-৫ বছর) : ১০-১৩ ঘণ্টা
* স্কুল বয়সের শিশু (৬-১২ বছর) : ৯-১২ ঘণ্টা
* কিশোর (১৩-১৮ বছর) : ৮-১০ ঘণ্টা
* প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৬৪ বছর) : প্রতি রাতে ৭-৯ ঘণ্টা
* প্রাপ্তবয়স্ক (৬৫+ বছর) : প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা
এটি একটি সাধারণ নির্দেশিকা করা হয়েছে। এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের তাদের বয়সের জন্য প্রস্তাবিত পরিমাণের চেয়ে বেশি বা কম ঘুমের প্রয়োজন। এমনকি কিছু নিয়মের ব্যতিক্রমগুলো বিবেচনা করেও এমন অনেক লোক রয়েছে যারা নিয়মিত তাদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঘুমায় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়ন আমেরিকানরা কোনো না কোনো ধরনের ঘুমের রোগে ভুগছেন এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি রাতে প্রয়োজনীয় সাত ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুমায়। অপর্যাপ্ত ঘুমে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং জটিল রোগের ঝুঁকিগুলোও দেখা যায়। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাব আমাদের মস্তিষ্কের উপর সরাসরি পড়ে। হার্ভার্ড মেডিকেলের গবেষণায় দেখা গেছে যারা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে আমাদের শরীরে কর্টিসল নামক একটি হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে আমাদের উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের উচ্চ মাত্রার গ্লুকোজের উপর। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং দ্রুত মুড পরিবর্তন হয়।
ঘুমের গুণগত মান কী
ঘুমের গুণমান বলতে বোঝায় আপনি কতটা ভালো ঘুমান।
সঠিক মানের ঘুমের জন্য রয়েছে ৫টি উপকরণ :
* ঘুমিয়ে পড়ার সময় : আপনি কত দ্রুত এবং কত সহজেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ বিছানায় যাওয়ার ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হয়।
* ঘুমের ধারাবাহিকতা বজায় : একবার ঘুমিয়ে পড়লে একটানা আপনার ঘুমিয়ে থাকার ক্ষমতা। ভালো মানের ঘুম হয় ক্রমাগত, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় না।
* ঘুমের কার্যকারিতা : ঘুমের কার্যকারিতা মানে আপনি কতটা সময় ঘুমিয়েছেন বনাম আপনি কতটা সময় ঘুমানোর জন্য বিছানায় কাটিয়েছেন। সঠিক মানের ঘুমের জন্য ঘুমের কার্যকারিতা মোট সময়ের অন্তত ৮৫ শতাংশ মানদণ্ড হিসাবে ধরা হয়।
* ঘুমের সময় : ঘুমের সময় বলতে বোঝায় যখন প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি নির্দেশ করে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং জেগে ওঠা।
* ঘুমের তৃপ্তি : ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ লাগা ও সারা দিন উদ্যমী থাকা। এভাবে ঘুমের পরিতৃপ্তি পরিমাপ করা হয়।
খারাপ মানের ঘুমের ক্ষতি কী?
খারাপ মানের ঘুমের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর স্বাস্থ্য ঘাটতি দেখা যায়। যেমন-কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া প্রবণতা, মনোযোগ কমে যাওয়া, মানসিক চাপ বৃদ্ধি, বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ দেখা দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হচ্ছে অথবা খিটখিটে মেজাজ নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা, সারা দিন ক্লান্তি ভাব থাকা, দিনের বেলা ঘুমানো, দিনে অনেক বেশি ঘুমানো। এ ছাড়া ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কলস্টেরল, হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হয়।
রাতের আরামদায়ক ঘুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ঘুমের কিছু চিহ্ন আছে। যেমন-
* সকালে ঘুম থেকে উঠেই সতেজ অনুভূতি
* সারা দিন সতেজ থাকা
* ভালো মেজাজে থাকা
* পরিষ্কার-মাথা অনুভব করা
কীভাবে ঘুমের পরিমাণ এবং গুণগত মান উন্নত করা যায়
ভালো ও স্বাস্থ্যকর ঘুম পেতে আপনি যে পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন তার মধ্যে রয়েছে-
* ঘুমের সমস্যা নির্ণয় করা : আপনি যদি মনে করেন যে আপনার ঘুমের সমস্যা আছে যা আপনার ঘুমকে প্রভাবিত করছে, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
* জীবনযাত্রায় পরিবর্তন করুন : যদিও আপনার জীবনের কিছু অংশ অন্যদের তুলনায় পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে, আপনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন যা সম্ভবত আপনার ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে এবং আপনার ঘুমকে ব্যাপকভাবে উন্নত করতে পারে। যেমন-নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন বাদ দিন।
* ঘুমের পরিবেশ নিশ্চিত করুন : বেশিরভাগ লোক তাদের ঘুমের পরিবেশের গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করেন। যদিও প্রত্যেকেরই নিজস্ব পছন্দ রয়েছে, মানুষ সাধারণত অন্ধকার, শান্ত, আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমাতে পছন্দ করে।
* ফোন ও ট্যাব বন্ধ : গবেষণায় দেখা গেছে শোওয়ার সময় ফোনের ব্যবহার ঘুমের ব্যাঘাত হয়। বিছানায় ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করায়, ঘুমের সময়ের গতি হারাতে পারেন এবং আপনার প্রকৃত শোওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে দেরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস কীভাবে প্রয়োগ করবেন তা আপনি নিশ্চিত না হলে, আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
একতার কণ্ঠঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৪১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করছেন।
তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ২৮ জন হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৮জন মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আহত ১৫ জনকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (৪ জুন) রাতের এই ঘটনায় চার শতাধিক দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শ্রমিক, পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অনেককে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই ডিপোতে ৫০ হাজারের বেশি কনটেইনার রয়েছে। কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর কনটেইনারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে তিন-চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়ি-ঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।
অগ্নিদগ্ধদের জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের সব চিকিৎসকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। বেসরকারি হাসপাতালসহ সব হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, ছুটিতে থাকা সব চিকিৎসক-নার্সকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এতসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ওষুধেরও সংকট রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, স্যালাইন, পেইন কিলার প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম, পিএসসিকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. আনিসুর রহমানকে।
অন্যান্যরা হলেন – শামস আরমান (প্রশিক্ষক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, টিসি, মিরপুর), জহিরুল ইসলাম (সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, ইপিজেড, সাভার), মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম)
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে দুই লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৭ মে) রাতে মির্জাপুরের বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ীর নাম শাহিন শিকদার। বংশাই রোডে ‘মোবাইল বাজার’ নামে তার একটি দোকান রয়েছে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীর পরিবার জানায়, দোকান বন্ধ করে দুই লাখ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ব্যাগে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আন্ডারপাস পার হচ্ছিলেন শাহিন শিকদার। এসময় একটি প্রাইভেটকার তার সামনে আসে।এরপর প্রাইভেটকার থেকে নেমে দুর্বৃত্তরা শাহিন শিকদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে টাকা ও মোবাইলের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে আশপাশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে শাহিন শিকদারকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহিন শিকদারের ছোট ভাই সেলিম সিকদার বলেন, তার ভাই দোকান বন্ধ করে নগদ দুই লাখ টাকা ও রকেট, বিকাশ এবং নগদের টাকা ভরা মোবাইল নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে সব নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা হবে বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকের চাপায় আহত শহীদুল ইসলাম (২৫) মারা গেছেন। সোমবার (২৩ মে) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
শহীদুলও টাঙ্গাইলের হাজী আবুল হোসেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। এর আগে একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হন শহীদুলের বন্ধু ইয়াসিন হোসেন কাকন।
সোমবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইয়াসিন হোসেন কানন বন্ধু শহীদুলকে নিয়ে মির্জাপুর থেকে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে তিনশ গজ দূরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস আন্ডারপাসের ওপরে উঠলে পেছন থেকে একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াসিনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন শহীদুল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদুলকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই ট্রাকটি পুলিশ আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক বলেন, ঢাকায় নেওয়ার পথে শহীদুলের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকায় রিনা আক্তার মায়া নামে এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার(২২ মে) সন্ধ্যায় ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি সরকারি কুমুদিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও কালিহাতী উপজেলা মহেলা গ্রামের হাবিল উদ্দিনের মেয়ে। এ ঘটনায় পুলিশ কলেজছাত্রীর স্বামী প্রান্তকে আটক করেছে।
জানাগেছে, গত দেড় বছর আগে শহরের বিশ্বাস বেতকা মুন্সিপাড়া এলাকার সামাল খাঁনের ছেলে ওয়াহেদুল ইসলাম প্রান্তর সাথে রিনা আক্তার মায়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাকে শাররিক ও মানুষিকভাবে নির্যাতন করতো। এ কারনে ছাত্রীর বাবা হাবিল উদ্দিন মেয়ের জামাতা প্রান্তর বাবার কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রান্ত দেওলার ভাড়াটিয়া বাসায় যায়।
হাবিল উদ্দিন জানান, বাসায় অন্যদের অনুুপস্থিতির সুযোগে কলেজছাত্রী রিনা আক্তার মায়ার উপর চড়াও হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মায়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মায়ার মরদেহ গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে ডাকচিৎকার করে। প্রতিবেশিরা পুলিশকে খবরদিলে মরদেহ উদ্ধার করে এবং কলেজছাত্রীর স্বামী প্রান্তকে পুলিশ আটক করে।
প্রান্তর বাবা সামাল খাঁন জানান, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার একপর্যায়ে রীনা আক্তার মায়া গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার ছেলে প্রান্তকে অহেতুক দোষারোপ করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে প্রান্তকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত প্রান্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাাইকেল আরোহী ইয়াছিন হোসেন কানন নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের বন্ধু শহীদুল ইসলাম (২৫)।
আজ সোমবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস আন্ডারপাসের উপরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ইয়াছিন হোসেন কানন টাঙ্গাইলের হাজী আবুল হোসেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। মির্জাপুর পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের আমীর হোসেনের ছেলে কানন। এদিকে গুরুতর আহত শহীদুল ইসলামকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইয়াসিন হোসেন কানন বন্ধু শহীদুলকে নিয়ে মির্জাপুর থেকে টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে তিনশ গজ দূরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস আন্ডারপাসের ওপরে আসলে পেছন থেকে একটি ট্রাক সজোরে মোটরসাাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াসিনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন শহীদুল। পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করেছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। আইনী পক্রিয়া শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৬ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।
এসময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘাটাইল উপজেলার গারো বাজার এলাকার বশির উদ্দিনের ছেলে।তিনি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আলী আহমদ জানান, ১০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য রিয়াজ উদ্দিন ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট তার স্ত্রী লিজা আক্তারকে (২০) মারধর করেন।এতে গুরুতর আহত হন। এ অবস্থায় লিজাকে প্রথমে ফুলবাড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ আগস্ট লিজা মারা যান। লিজা ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে।
ঘটনার পর লিজার ভাই আজাহার আলী বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ১৯ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুলতান ওই বছর ২০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৬ মে) সকালে দাইন্যা ইউনিয়নের চারাবাড়ি নদীর ঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন চারাবাড়ি ঘাট এলাকায় নদীতে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ঝিনাই নদীতে ডুবে মর্জিনা বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১৫ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
মর্জিনা বেগম ওই পাড়ার মকবুল খানের মেয়ে ও শুকুর আলীর স্ত্রী।
জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি থাকতেন মর্জিনা।
বাড়ির সব কাজ শেষে পাশেই ঝিনাই নদীতে গোসল করতে যান তিনি। এদিকে দীর্ঘক্ষণ তাকে না দেখে সম্ভাব্য সব জায়গা ও নদীর পাড়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে বাড়ির লোকজন।
একপর্যায়ে নদীর পানিতে মর্জিনার কাপড়ের অংশ ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে নেমে মৃত অবস্থায় মর্জিনাকে উদ্ধার করে।
তবে পরিবারের দাবি মর্জিনার মৃগী রোগ ছিল। যে কারণে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোন্নাফ হোসেন মন্টু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১৫ মে) ভোরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার বানিয়াপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বাদল মিয়া বানিয়াবাড়ি গ্রামের নওজেশ মিয়ার ছেলে।
ঘাটাইল থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন জানান, ভোরে ফজর নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশ ধরে হাঁটছিলেন বাদল।এ সময় একটি দ্রুতগামী পিকআপভ্যান তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে অটোরিকশাতে থাকা খালেক (৫০) নামের এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ গুরুত্বর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার হেমনগর রেল স্টেশনের কাছে ভোলারপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের বাড়ি উপজেলা লুটুরচর গ্রামে। তিনি কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
আহত দুজনকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি রেলক্রসিং পাড় হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা সরিষাবাড়িগ্রামী লোকাল ট্রেনের সাথে ধাক্কা লাগে। এ সময় গুরুত্ব আহত অবস্থায় আব্দুল খালেককে হেমনগর হক ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে গোপালপুর থানার (ওসি) মোশারফ হোসেনে জানান, উপজেলার হেমনগরের ভোলারপাড়া রেলক্রসিং এ অটোরিকশা পাড় হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে ছেড়ে আসা সরিষাবাড়িগ্রমী ট্রেনের সাথে ধাক্কা লাগলে অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শামীম (৪৫) নামে এক বাসচালক নিহত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মে) সকাল ৮ টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্ততপক্ষে ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ -ফায়ারসার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার উপ পরিদর্শক মামুনুর রশিদ।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা প্রান্তিক পরিবহন ও টাঙ্গাইলের দিক থেকে ছেড়ে আসা মাহি পরিবহন গাংগাইর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুটি বাসই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় দুই বাসের চালকসহ অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ২৫ জনকে উদ্ধার করে মধুপুর, টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে থেকে প্রান্তিক পরিবহনের চালক শামীম টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
নিহত শামীমের বাড়ি টাঙ্গাইল সদরে বলে জানান তিনি।