একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আব্দুর রহিম হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১১জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর অপর আসামি ময়েজ উদ্দিন মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- ধনবাড়ী উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সেজনু মিয়া ও মিজানুর রহমান, একই গ্রামের ফয়জ উদ্দিনের ছেলে মুনসুর আলী এবং গঙ্গাবর গ্রামের মৃত আলী ফকিরের ছেলে জামাল ফকির।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সেজুন মিয়া পলাতাক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামে আসামিরা একটি জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করতে যান। জমির মালিক আব্দুর রহিম তাদের বাধা দেয়। এ সময় আসামিরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আব্দুর রহিমকে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৩১ ডিসেম্বর আব্দুর রহিম মারা যান।
তিনি আরো জানান, ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সুলতান মিয়া ২০০৫ সালের ৩ জানুয়ারি ধনবাড়ী থানায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ধনবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম ২০০৫ সালের ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করলেন।
একতার কণ্ঠঃ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে র্যালি এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালন করা হয়েছে।
‘মাদক সেবন রোধ করি, সুন্দর জীবন গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (২৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে একটি র্যালি বের হয়। সেটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয় পরে সেখানে আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে তিন মাস পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালীপদ দাস (৮৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। কালীপদ দাস জেলার ধনবাড়ী উপজেলার শিংগাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি করোনা ভ্যাকসিনের সব ডোজ সম্পন্ন করেছিলেন।
শনিবার (২৫ জুন) বিকালে সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সবশেষ চলতি বছরের ১০ মার্চ টাঙ্গাইলে ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল করোনায়। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৬৯ জন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বুধবার (২২ জুন) কালীপদ দাস করোনায় আক্রান্ত হয়ে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে শুক্রবার (২৪ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি।
এদিকে, টাঙ্গাইলে ৮টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার ২৫ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯০৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, প্রায় ৩ মাস পর জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। তিনি করোনার প্রতিরোধে টিকার সব ডোজ নিয়েছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ শনিবার (২৫ জুন) বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে উৎসবে মাতবে টাঙ্গাইল। সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও চলছে উৎসবের আমেজ। জেলা প্রশাসন ও দলীয়ভাবে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন জেলার সকল মসজিদে বাদ ফজর দোয়া ও সুবিধাজনক সময়ে মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থণা করা হবে।
সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে বড় পর্দায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ করা হবে। ইতিমধ্যে পৌরউদ্যানটি ব্যানার ফেসটুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নিবেন। শেষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জয় বাংলা আশ্রয়ণ সাংস্কৃতিক সংসদের পরিবেশনায় বাউশা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পদ্মা সেতু ফুটবল প্রতিযোগিতার’ আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন একাদশ বনাম টাঙ্গাইল পৌরসভা একাদশ। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়েও এই পদ্মা সেতু ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও টাঙ্গাইল কারাগারের দেড় হাজার বন্দি ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৭শ রোগীকে উন্নত মানের খাবার দেবে জেলা প্রশাসন। অপরদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শিশু ও বাসিন্দাদের মধ্যে খাবারের পাশাপাশি নতুন পোশাক বিতরণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাই টাঙ্গাইলের সরকারি-বেসরকারি দপ্তর গুলো উৎসবে মাতবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসি মানুষের। জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার শতাধিক গ্রামের বাসিন্দা এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ী পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপরে, ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপরে এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরেজমিন সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ছিটকিবাড়ী, চাকতা, ফৈলারঘোণা ও মগড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি রয়েছে। ফলে এসব গ্রামের মানুষজন নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন। যার নৌকা নেই তারা শরীরের পোশাক ভিজিয়ে পানি দিয়ে চলাচল করছেন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট।
ফৈলারঘোনা গ্রামের হারেজ মিয়া বলেন, ‘পনিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছি। শুনেছি নদীর পানি কমেছে। তবে আমাদের গ্রামের পানি না কমায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি নেই বললেই চলে।’
সুজন রহমান নামে এক যুবক বলেন, ‘নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায় না। বাড়িতে শিশুদের নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তা হয়। এই গ্রামে এখন পর্যন্ত কেউ সরকারি সহায়তা পায়নি।’
ছিটকিবাড়ী গ্রামে খোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকের ঘরে পানি উঠেছে। তারা উঁচু জায়গায় অথবা আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গ্রামের অনেকেই পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।’
বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মতিয়ার রহমান মন্টু বলেন, ‘ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের মধ্যে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি।’
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ‘বন্যায় জেলার ৪৯ হাজার ৪১৭টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৩৭ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব জায়গায় জরুরিভাবে কাজ করা প্রয়োজন সেখানেই করা হচ্ছে।’
একতার কণ্ঠঃ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মৌসুমি ফল রসালো আম। বাহারি জাতের আমের মৌ মৌ গন্ধ বাজার জুড়ে। আমের সঙ্গে একটু দুধ হলে যেন ভাত পায় পূর্ণতা। অনেকেরই আমের সঙ্গে দুধ-ভাত না হলে খাওয়াই জমে ওঠে না। আম ও দুধকে পুষ্টিকর খাবার হিসেবেই রাখেন খাদ্য তালিকায়।
এদিকে অনেকেই আবার মনে করেন, আম ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া ক্ষতিকর। আমের সঙ্গে দুধ মেশালে হজমের সমস্যা হতে পারে বলে অনেকেরই মত।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ জাহানারা আক্তার সুমি জানান, আম যেমনি পুষ্টিকর একটি ফল, তেমনি শক্তির অনেক বড় একটা উৎস। আম অল্প ক্যালরিসমৃদ্ধ হলেও এতে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেমন শর্করা, আমিষ, আশ, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, বি ভিটামিন। খনিজ উপাদানের মধ্যে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ফোলেট- যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, চোখের সুস্বাস্থ্য রক্ষায়, রক্তসল্পতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।
এই পুষ্টিবিদ আরও বলেন, আম নানাভাবেই খাওয়া যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত আর জনপ্রিয় হলো আম দিয়ে দুধ-ভাত। (আম+ভাত+ চিনি) এই তিনটি খাবারই শর্করা বা গ্লুকোজ জাতীয়। দুধ একটি আদর্শ খাবার, যাতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আম অল্প ক্যালরি সমৃদ্ধ হলেও দুধ, চিনি এবং ভাত কিন্তু উচ্চ ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার। তাই যখন আম দিয়ে দুধ-ভাত খাওয়া হয়, তখন তার পুষ্টিগুণ যেমনি বেড়ে যায় ঠিক তেমনি ক্যালরির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
আমের সঙ্গে দুধ খাওয়া ক্ষতিকর নয় উল্লেখ করে এই পুষ্টিবিদ জানান, আম-দুধ-ভাত ক্ষতিকর কোনো খাবার নয়। যাদের দুধ খেলে সমস্যা হতে পারে, তারা ছাড়া কারো এসব ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা হয় না। কিন্তু যেহেতু এটি একটি মিক্সড খাবার এবং উচ্চ শর্করা ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত, তাই যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ওজনাধিক্য তাদের আম-দুধ- ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। না হলে রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, সেই সঙ্গে রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
শিশু, যুবক, তরুণ-তরুণীদের খাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তারা আম-ভাত মূল খাবার হিসেবে খেতে পারবে আবার অন্য খাবারের সঙ্গেও গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু বয়স্করা যদি খেতে চায় তাহলে চর্বি ছাড়া দুধ ও চিনিটা বাদ দিয়ে খাওয়া উচিত। তাহলে রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি থাকবে না। সেই সঙ্গে আম বেশি খেলে অবশ্যই আমাদের প্রতিদিনের ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপির নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, শামসুল হক ও আনিছুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ।
এতে জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের দয়াল ক্লিনিক ও হসপিটাল থেকে এসআর লাভলু নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটকের পর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২২ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে র্যাবের একটি দল ওই ক্লিনিকে অভিযান চালায়। ওই হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ বাহিনীটি।
ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাসুম বলেন, ‘আটকের পর লাভলু আমাদের কাছে স্বীকার করেন তিনি চিকিৎসক না। তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুর যধুনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন । এছাড়া তার আর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ক্লিনিকে পাইলস ও নাক কান গলার চিকিৎসা করেতেন।
তিনি আরো জানান, লাভলুকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্বনামধন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শিহাব (১২) এর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুন) সকালে এই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে সৃষ্টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা সংলগ্ন বিশ্বাস বেতকা সড়কের মুখে এ মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিহাব ৫ম শ্রেণির ছাত্র, সে কি কারণে আত্মহত্যা করবে, তার আত্মহত্যা করার মতো মানসিকা তৈরি হয় নাই। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তারা বলেন, শিহারেব মৃত্যুর ঘটনাই প্রথম নয়, এর আগেও আরো ঘটনা ঘটেছে। টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, আমরা এখানে পড়তে এসেছি, মরতে নয়। আমাদের পরিবার আমাদের পড়তে পাঠিয়েছেন। শিক্ষকরা শাসন করবেন, কিন্তু সেই শাসনের কেন পৈশাচিক হবে। শাসনের কারণে কেন আমাদের মরতে হবে।
এসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমাদের শিক্ষকরা বইয়ের ভাষায় মানবতার কথা বলেন; কিন্তু তারা কি মানবিক?
এসময় শিক্ষকদের একটি অংশকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে ছবি তুলতেও দেখা যায়। কেন ছবি তুলছেন শিক্ষকরা, জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি?
উল্লেখ্য গত ২০ জুন টাঙ্গাইলের সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে শিহাবের ফুপাতো ভাই আল আমিন সিকদার জানান, গত জানুয়াারিতে শিহাবকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে ভর্তি করা হয়; তখন থেকেই নিয়মিত ভালোভাবেই পড়াশোনা করতেছিল শিহাব। আজকে হঠাৎ সৃষ্টি স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয় শিহাব অসুস্থ আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন।
পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে শিহাবের অসুস্থতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে; তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি স্কুল ভবনের কাছে গেলে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে তারা বলে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। পরে হাসপাতালে আসার পর শুনতে পাই শিহাব মারা গেছে, স্কুলের শিক্ষকরা জানান, স্কুলের আবাসিকের বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় শিহাবকে দেখার পর সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে সোমবার (২০ জুন) বিকালে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র শিহাবের (১২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, তার পরিবারের দাবী এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত শিহাব টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বেরবাড়ি এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।
শিহাবের ফুপাতো ভাই আল আমিন সিকদার জানান, গত জানুয়ারিতে শিহাবকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে ভর্তি করা হয়। নিয়মিত ভালোভাবেই পড়াশোনা করতেছিল শিহাব। সোমবার বিকালে হঠাৎ সৃষ্টি স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয় শিহাব অসুস্থ আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন, পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে শিহাবের অসুস্থতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে, তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি স্কুল ভবনের কাছে গেলে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে তারা বলে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য।
আল আমিন আরো জানান, হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি শিহাব মারা গেছে, সৃষ্টি স্কুলের শিক্ষকরা তাকে জানান, স্কুলের আবাসিকের বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় শিহাবকে দেখার পর সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল এর ভাইস-প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি পুরোপুরি জানেন না।। তিনি শুনেছেন, নিহত শিহাব আবাসিকের বাথরুমের ঝর্ণার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরোয়ার হোসেন জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা এসেছি, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে, ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারন সনাক্ত করা যাবে, এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ জেলার ছয় উপজেলার অন্তত ১১৪ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক দিকে ঘর-বাড়িতে পানি উঠছে অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট, কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিনাই নদীর পানি বাসাইল অংশে ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ও হেমনগর ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম, ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা, গাবসারা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী, দুর্গাপুর, সল্লা ও দশকিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রাম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া, কাকুয়া, কাতুলি ও মাহমুদনগর ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম, নাগরপুরের ভাড়রা, সলিমাবাদ ও দপ্তিয়র ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম, বাসাইল উপজেলার সদর, কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। ওইসব এলাকার অন্তত ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
রোববার (১৯ জুন) সকালে কালিহাতী উপজেলার সল্লা ও হাতিয়া বাঁধের কিছু অংশ আর আনালিয়াবাড়ী সড়কের পাকা সলিং ভেঙে ফসলি জমি-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়াও শনিবার (১৮ জুন) দিনগত রাতে বাসাইল পৌর এলাকার দক্ষিণ পাড়া-বালিনা সড়কের একটি অংশ পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে পৌর এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
মগড়া ইউনিয়নের শাহালম, আবুল কালাম, আজমত আলী, দুর্গাপুরের হযরত আলী, জামাল হোসেন, আবু বকর, গোবিন্দাসীর শরাফত আলী, বেনজির হোসেন, কাশেম, চরপৌলির আরফান আলী, নজরুল ইসলাম, আবুল খায়ের জানান, হু হু করে পানি বেড়ে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়ছে। বাড়িঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই ঘরে পানি ঢুকছে।
কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আকন্দ, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার জানান, বাড়িঘরে পানি উঠে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা নিজের সাধ্য অনুযায়ী যতটা পারছেন সাহায্য করছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে পৌঁছেনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে হারে পানি বাড়ছে তাতে বন্যার ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরাবরের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মমরেজ গলগন্ডা গ্রামের কৃষক এস এম আব্দুল কদ্দুছের ছেলে এস এম মার্জুল হক মুন্না। দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
পরিবারের অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কষ্টে ইংরেজিতে ২০১৭ সালে অনার্স ও ২০১৮ সালে মাস্টার্স শেষ করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির আবেদন ও পরীক্ষাও দিয়েছেন। এছাড়া গত ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন। কোথাও কোন চাকরি না হওয়ায় টিউশনি করে নিজের খরচ ও পরিবারকে সহযোগিতা করেন। সেই মুন্না মাত্র ৫৬ টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
মার্জুল হক মুন্না বলেন, খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। বিনামূল্যে সরকারি চাকরি পাবো তা কখনও কল্পনাও করিনি। তবে ইচ্ছে শক্তি ছিলো সরকারি চাকরি পাবো। সেই ইচ্ছে শক্তি থেকেই সরকারি চাকরি পাওয়ায় আমি খুব আনন্দিত। মাত্র ৫৬ টাকায় চাকরি হবে এটা ধারণার বাইরে।
শুধু মুন্না নয়, মাত্র ৫৬ টাকায় (৫০ টাকা ড্রাফট ও ৬ টাকা টেলিটক সিমের) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৪ জন। শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৯টি পদে ৪৫ জন নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন ৬ হাজার ৭০১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে অফিস সহায়ক পদে (ডিসি ও ইউএনও অফিস) পাঁচ জনের বিপরীতে চার হাজার ৫১৭ প্রার্থী, নিরাপত্তাকর্মী (ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিস) ২০ জনের বিপরীতে এক হাজার ৫৮১ প্রার্থী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী (ডিসি ও ইউএনও অফিস) ৯ জনের বিপরীতে ২৫২ প্রার্থী, বেয়ারার ৪ জনের বিপরীতে ১৭৯ প্রার্থী, নিরাপত্তাকর্মী (সার্কিট হাউজ) ৩ জনের বিপরীতে ১১৫ প্রার্থী, ভাবুর্চি পদে এক জনের বিপরীতে ৬ জন প্রার্থী, সহকারী ভাবুর্চি পদে এক জনের ৯ জন প্রার্থী, মালি পদে এক জনের বিপরীতে ২০ জন প্রার্থী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সার্কিট হাউজ) পদে এক জনের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
গত ৩ জুন ৮টি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুন মৌখিক পরীক্ষা শেষে রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়। ১২ জুন তারা সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪ জনের ৪০ জনই অনার্স/মাস্টার্স পাস। এছাড়াও বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নকর্মী এইচএসসি পাস।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি পাওয়া মির্জাপুরের পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক ঠান্ডু মিয়ার ছেলে অনার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে শুনেছি ডিসি অফিসে চাকরি পেতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাগে। এই ভয়ে প্রথমে আবেদন করতে চাইনি। পরে পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে আবেদন করেছি। চাকরি পেতে মাত্র ৫৬ টাকা লেগেছে। বিনামূল্যে চাকরি হওয়ায় আমি খুব খুশি।
নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি পাওয়া সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামের আ. রহিম মিয়া বলেন, এতদিন জানতাম ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না। আজ প্রমাণ হলো ঘুষ ছাড়া নিজের মেধা ও যোগ্যতায় সরকারি চাকরি পাওয়া যায়। বিনামূল্যে চাকরি পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, সরকারি বিধি অনুসরণ করে সততার সাথে তিনি ও তার সহকর্মীরা নিয়োগ দিতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন।