টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ


০৮:৫৮ পিএম, ৮ জুলাই ২০২৪
টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ - Ekotar Kantho
সোমবার সকালে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে টাঙ্গাইল-চারাবাড়ি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা

একতার কণ্ঠঃ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু মূর‌্যাল চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মূল গেইটের সামনে টাঙ্গাইল-চারাবাড়ি সড়কে গিয়ে অবরোধ করে এই আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।

বিক্ষোভ সমাবেশে- ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। ১৮-এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনও বাধাকে উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমাদের দাবি একটাই, ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করতে হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিএমবি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে চাই না, আমরা পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কারণ যে পরিমাণ কোটা, তাতে দেশের মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দিনদিন দেশে সরকারি চাকরি করার আগ্রহও হারাচ্ছে। এজন্য কোটা প্রথা বাতিল করা জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বৈষম্যমূলক কোটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বেও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এ বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাকিব বলেন, এই আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন না, এই আন্দোলন আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আন্দোলন। যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।


নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।