একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও এনজিও সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) -এর মামলায় রুমা নামের এক অসহায় গৃহবধূকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার প্রতিমা বংকী দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে সখীপুর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার(১৫ মার্চ) তাঁকে টাঙ্গাইল পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূ রুমা ওই এলাকার আবু আহম্মেদের স্ত্রী। তবে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস এর এক কর্মকর্তার দাবি- ওই গৃহবধূ সব টাকা পরিশোধ করেননি।
গৃহবধূ রুমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুমা নামের ওই গৃহবধূ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) -এর নলুয়া শাখা থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর তিনি ওই ঋণের চারটি কিস্তিও পরিশোধ করেন। পরে করোনাকালীন মন্দা পরিস্থিতিতে একসময় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেন রুমা। ফলে ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ খেলাপি দাবি করে রুমার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করে।
পরে ওই মামলাটি তুলে নেওয়ার শর্তে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি অসহায় রুমা ও তাঁর পরিবার ২৫ হাজার টাকা টিএমএসএস নলুয়া শাখার কর্মকর্তা শাহীনের কাছে পরিশোধ করেন। এনজিও কর্মকর্তা শাহীন সাদা একটি কাগজের টুকরোতে সাক্ষর করে ২৫ হাজার টাকা বুঝিয়া পাইলাম মর্মে লিখিত দেন। কিন্তু তাঁদের এই সমঝোতা/লেনদেনের বিষয়টি টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ আদালতকে অবহিত না করায় আদালত গত ১২ ফেব্রুয়ারি গৃহবধূ রুমার বিরুদ্ধে একমাস কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন।
এদিকে সাজা ঘোষণার পরও বিষয়টি গোপন করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএমএসএস-এর ওই কর্মকর্তা খেলাপি ঋণের আরও সাত হাজার টাকা কিস্তি গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে সাজা হওয়ার ভিত্তিতে আদালত রুমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে সখীপুর থানা পুলিশ গৃহবধূ রুমাকে গ্রেপ্তার করে।
থানা কাস্টরিতে গৃহবধূ রুমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু করোনার সময় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। তবুও জেল-জরিমানার ভয়ে ধার-দেনা করে এনজিও’র টাকা পরিশোধ করতেছি। ৬০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে চারটা কিস্তি দিছি, মামলার পর দুই কিস্তিতে ৩২ হাজার টাকা নিছে আর ওই সমিতিতে আমার কিছু সঞ্চয়ের টাকা আছে, সব বাদ দিলে আমার কাছে আর তিন-চার হাজার টাকা পাবে।
এ বিষয়ে জানতে টিএমএসএস —এর কিস্তি গ্রহণকারী ওই কর্মকর্তা শাহীনের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে টিএমএসএস -এর নলুয়া শাখার আইন বিভাগের কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেদের দায় এড়িয়ে বলেন, এক্ষেত্রে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষের কোনো ভুল নেই। মূলত গৃহবধূ রুমা তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন নাই। সম্ভবত কোনো হাজিরার তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এই কারণে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এছাড়া তিনি ঋণের সব টাকা পরিশোধও করেননি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে রুমা নামের এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে বুধবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। থানা পুলিশ আদালতের আদেশ পালন করেছে মাত্র।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মালবাহী ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (২৬) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ মার্চ) রাতে সখীপুর- সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের বড়চওনা বাজারের উত্তর পাশের ব্রিজ সংলগ্ন রনির চা-স্টলের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের মোঃ সূর্যাত আলীর ছেলে।
সে স্থানীয় বড়চওনা বাজারে একজন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসায়ী ছিলেন।
জানা যায়, সোমবার রাত ৯ টার দিকে সখীপুর- সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের বড়চওনা বাজারের উত্তর পাশে ব্রিজ সংলগ্ন রনির চা-স্টলের সামনে মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলমকে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার(৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিক্ষার্থী আল আমিন (২০) উপজেলার বেতুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শামছুল আলম ছেলে।
এ ঘটনায় ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হাফেজিয়া মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত আল-আমিন সবার সাথে রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠলেও আল- আমিন ওঠেনি। ওই মাদ্রাসায় কর্মরত হাফেজ শিক্ষক খোঁজ নিয়ে দেখেন আল আমিন অসুস্থ। পরে অভিভাবকে মোবাইল ফোনে জানান। অভিভাবকেরা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
কালিয়ান হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো.আনোয়ার হোসেন জানান,আল আমিনের মৃগী রোগ ছিলো, ভোর রাতে আল আমিন অবস্থা গুরুতর জেনে ওর মাকে ডেকে এনে মাদরাসার তিনজন ছাত্রসহ সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেই। এমন গুরুতর অবস্থায় আল আমিনকে হাসাপাতালে পাঠানোর সময় শিক্ষক বা সচেতন কাউকে সাথে না পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিন জানান, আমার ভাই কোন অসুস্থ ছিলো না। হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মিথ্যা বলেছে। আমার ভাই সুস্থ ছিলো।মৃত্যুর পর আমার ভাইয়ের নাকের দুই ছিদ্রে রক্ত লেগে ছিলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বহেড়াতৈল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. উজ্জ্বল মিয়া জানান, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য সম্মতি দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে গেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে এই অবস্থা চলছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আছেন পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান।
সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বিরোধীদের অভিযোগ, এক বছর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। তারপর গত অক্টোবরে সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বসে একটি খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেন। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি যে কমিটি প্রকাশ করা হয়, সেখানে খসড়া কমিটির ২৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজনসহ অন্য দলের লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংসদ সদস্যের অনুসারীদের দাবি, অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আগে মূল্যায়ন করেননি। এবার সংসদ সদস্য তাঁদের মূল্যায়ন করছেন।
২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নবগঠিত হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নে কর্মিসভার আয়োজন করে। সেখানে অধিকাংশ বক্তাই সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সভায় হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াস উদ্দিন সংসদ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জোয়াহেরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সংসদ সদস্য হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বড়চওনায় এক সমাবেশ করেন। সেখানে অধিকাংশ বক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান এবং সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান শরীফ তাঁদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, অনুপম শাহজাহান ও শওকত শিকদারকে তিনি টাকাপয়সা ও সোনা দিয়েছেন। তখন তাঁর অনেক মূল্যায়ন ছিল। এখন তাঁর টাকাও নেই, মূল্যায়নও নেই।
বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, শওকত শিকদার যখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁকে প্রকল্প দেওয়ার কথা বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন। কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বলেন, ‘ওনাদের টাকা দিলেই মজা, না দিলেই তাঁরা বেজার।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান বলেন, এ অবস্থা জোয়াহেরুল ইসলামই শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে বসে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি খসড়া করেছিলেন। তিনি সেখান থেকে ২৩ জনের নাম কেটে ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে দিয়েছেন। দলতো পরিবার নিয়ে হয় না। তিনি আত্মীয়স্বজন দিয়ে দলের কমিটি ভরে ফেলেছেন।
বিরোধিতার জন্যই নেতারা বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর কোনো মানে হয় না। আমি সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করছি। কিছু লোক আমাকে হেয় করার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তৃতা করছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত রেষারেষি করছেন। এটা ঠিক নয়।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, এক পক্ষ আরেক পক্ষের নেতাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তুলছেন। এতে দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলের ও সরকারের ইমেজ এলাকায় নষ্ট হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে সবার একযোগে কাজ করা উচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফেরদৌস (২০) নামের এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দামিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরদৌস গাইবান্ধা জেলার সাধুল্লাপুর উপজেলার আলিনগর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে। তিনি সখীপুরে ফুপার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক সুকান্ত জানান, ফেরদৌস উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দামিয়া গ্রামের হেকমত আলীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে রডের কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় না করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সখীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটির সংশোধনের জন্য সময় বেঁধে দেন নেতাকর্মীরা। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়সহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্মেলন হওয়ার ১৪ মাস পর গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা রাতেই বিক্ষোভ মিছিল, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। সোমবার বিকেল তিনটায় ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীরা তালতলা চত্বরে প্রতিবাদ সভার ডাক দিলে উপজেলা আওয়ামী লীগও একই স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে তালতলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে দুইপক্ষের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এর ফলে দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত সিকদারকে সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়কে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর প্রায় ১৪ মাস পর রোববার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের সই করা ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার জানান, আমরা যে কমিটি জমা দিয়েছি সেই কমিটি থেকে ২৩জনকে বাদ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাঁর ইচ্ছেমত পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
সদ্য ঘোষিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহোদর এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, সভাপতি-সম্পাদক এক বছর সময় নিয়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছেন। কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের লোকজন সরকারি সা’দত কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলীম মাহমুদকে তারা লাঞ্ছিত করে। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল জানান, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাদক সেবন করে মাতলামি করার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (২৬) নামে এক যুবককে এক বছরের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম আদালত বসিয়ে এ সাজা দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা কামাল উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা কামাল এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। সে মাঝেমধ্যেই মাদক সেবন করে তার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও মাতাল অবস্থায় স্থানীয় লোকদের মারধর ও বকাবকি করে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মাদক সেবন করে মোস্তফা কামাল তার মাকে মারধর করে। স্থানীয়রা তাকে ধরে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোস্তফা কামালকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ফারজানা আলম জানান, মাদক সেবন করে মাতলামি করার দায়ে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন
জানান, বুধবার দুপুরের দিকে মোস্তফা কামালকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ভালোবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছেন না নুরজাহান আক্তার (২০) নামের এক তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে পাঁচ দিন ধরে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দেড় মাস আগে ওই গ্রামের রমজান খানের ছেলে নীরবের হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নুরজাহান ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলতলা গ্রামের দরিদ্র সুরুজ মিয়ার মেয়ে।
নুরজাহান জানান, গত ১ বছর আগে নীরবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে দেড় মাস আগে পরিবারের অজান্তে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। কিছুদিন আগে তাকে ফেলে নীরব বাসা ছেড়ে দেন এবং মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি গত মঙ্গলবার নীরবের বাড়িতে আসেন এবং স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ সময় নীরবের মা ও খালাতো বোন নুরজাহানকে ঘরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন। ফলে চাচার বাড়িতে নুরজাহান একাকী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দুই পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটা আমার জানা নেই। তবে মেয়েটি যদি আইনের সাহায্য চায়, তাহলে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৪৭ পিস ইয়াবাসহ লাবিব বিন বিল্লালকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেপ্তার হওয়া লাবিব বিন বিল্লাল ইয়াবা ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার জেলখানা মোড়ের কুঁড়েঘর কফি হাউজ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লাবিব উপজেলার অবিভক্ত কালিয়া ইউনিয়নের (আড়াইপাড়া গ্রাম) ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর নয় সদস্যসের একটি বিশেষ দল সখীপুর উপজেলা থেকে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চক্রের আরও একজন সুমন মিয়া (৩০) পালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লাবিব দীর্ঘদিন ধরে সখীপুর উপজেলাসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীর নামে থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আরছব আলী (৬৬) নামে এক বৃদ্ধা ফাঁসিতে ঝুলে রহস্যেজন মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শালগ্রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেন ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্র জানা যায়, নিহত আরসব আলী দীর্ঘদিন কোমর ও বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন। অসহ্য ব্যথার যন্ত্রণায় মাঝে মধ্যেই রশি নিয়ে আত্মহত্যা করতে ছোটাছুটি করতেন। পূর্বের ঘটনার মত সোমবার সকালে ব্যথা ওঠার কারণে রশি নিয়ে ফাঁসি দিতে যান। পরে প্রতিবেশীরা দুপুরে বাড়ির আঙিনায় গাছের সাথে বৃদ্ধের লাশ ঝুলতে দেখতে পান।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, কারো পক্ষ থেকে কোন প্রকার সন্দেহ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ ওই বৃদ্ধার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ইছাদিঘী গ্রামের পাথার বাইদে এ প্রতিযোগিতা হয়।
আগের দিনই স্থানীয়দের বাড়ি ভরে যায় আত্মীয়-স্বজনে। শীত আর ঘনকুয়াশার মধ্যেও প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় জমান।
ইছাদিঘী গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ১৬তম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা উদ্বোধন করেন সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত শিকদার।
প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য শিল্পপতি আলহাজ্ব এমএ ওয়াহেদ।
আলহাজ্ব এম এ হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান বুলবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক শেখ চান মাহমুদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম কাজী বাদল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা লুৎফা, বিআরডিবির চেয়ারম্যান কে বিএম রুহুল আমিন, গজারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এড. আনোয়ার হোসে প্রমুখ।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৪৮টি ঘোড়া ছয়টি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে হয়। প্রতিযোগিতা দেখতে টাঙ্গাইলের সখীপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী সমবেত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেয়ে সোনিয়া আক্তার দর্শনার্থীদের মণ জয় করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া একলাখ টাকা ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাদরাসার শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ।
ওই শিক্ষার্থী উপজেলার কালিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার ৫ম শ্রেণিতে পড়েন। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন ওই মাদ্রাসার ছাত্রী।
জানা যায়, (৪ জানুয়ারি) বুধবার সকালে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া মারিয়া ও সহপাঠী রাবিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে এক লাখ টাকা কুড়িয়ে পান।এদিক-ওদিক কাউকে না পেয়ে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য সবার কাছে বলাবলি করতে থাকে। ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া টাকা খোঁজার জন্য প্রকৃত মালিক প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম ছুটাছুটি করে জানতে পারেন মাদরাসা ছাত্রী টাকা পেয়েছেন । শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরত দেন ওই মাদ্রাসার ছাত্রী।
টাকার মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি সকাল বেলা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় কখন যে পড়ে যায় বুঝতে পারিনি। পাগলের মত খোঁজ করছিলাম পরে জানতে পারি মাদ্রাসায় পড়ুয়া টাকা পেয়েছেন। ওদের সততা দেখে অবাক হয়ে গেছি,তারা চাইলে কাউকে না বলে নিজেদের কাজে খরচ করতে পারত। আমি ওদের সামান্য কিছু টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেছি।
ওই মাদ্রাসার ছাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা প্রবাসে থাকেন সৎ পথে টাকা উপার্জন করা কতটা পরিশ্রমের এবং কষ্টের আমার পরিবার সেটা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে। পরিবারের আদর্শ, শিক্ষকদের উপদেশ অন্যের টাকায় লোভ করতে নেই। তাই কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়েছি।
এবিষয়ে কালিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের গুলজারী বলেন,ওই ছাত্রীর এমন কার্য অবশ্যই তার পরিবার ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট সকলেই উচ্ছ্বসিত। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।