একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর মীম আক্তার (৯) ও ঝুমার আক্তার (৯) নামের দুই শিশুর লাশ পাওয়া গেল পুকুরে। শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হতেয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে একটি পুকুর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মীম ওই এলাকার কামরুল হাসানের মেয়ে ও ঝুমা বাবুল মিয়ার মেয়ে। তারা দুজনই হতেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার হওয়াতে উপজেলা জুড়ে চরম আতঙ্কে বিরাজ করছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ দুই শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের খাবার খেয়ে মীম ও ঝুমা খেলতে বের হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পরও তারা বাড়ি ফিরেনি। এরপর থেকে পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করে। রাত পৌনে ১০টা পর্যন্তও তাদের খোঁজ মেলেনি। পরে বাড়ির উত্তরপাশে পুকুরে জাল দিয়ে খোঁজাখুঁজির পর লাশ পাওয়া যায়।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যার পর শিশু মীম ও ঝুমার ছবিসহ নিখোঁজের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে নয় বছরের শিশু সামিয়াকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফলে পুনরায় একই বয়সের শিশু মীম ও ঝুমা নিখোঁজের খবরটি উপজেলাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন খান বলেন, ঘটনা জানতে পেরেই আমরা এলাকায় মাইকিং করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেছি। পরে পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, নিখোঁজের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। দ্রব্যের দাম মূলত চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে। তারপরও আমরা দ্রব্যমূল্য ভ্যানওয়ালা, রিকশাওয়ালা, দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি। এ জন্য আমরা একটি পদক্ষেপ নিয়েছি, সফল হব কি না নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে কিছুটা হলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছি।’
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সৃষ্টিসংঘ মাঠে শওকত মোমেন শাহজাহান ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে আসবে না অথচ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সারা পৃথিবীতে এভাবেই নির্বাচন হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম, পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান জয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোবাইলে গেম খেলতে না দেওয়ায় রুকন (১৩) নামে এক শিশুর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত রুকন লাঙ্গুলিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে স্থানীয় বোয়ালী পশ্চিমপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুকনকে তার মা মোবাইল রেখে পড়া-লেখা করতে বললে এবং মোবাইল হাত থেকে নিয়ে নিলে সে মায়ের সঙ্গে রাগ করে। এ সময় সে চিৎকার চেচামেচি করে ঘরের ভেতরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরে তার মা এসে ডাকাডাকি করলে রুকন কোনো সারা শব্দ করে না। পরে দরজা ভেঙে ঘরে গিয়ে দেখে কাপড় রাখার রশি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে রুকন আত্মহত্যা করেছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অপর মোটরসাইকেলের আরোহী মুনিয়া মুক্তি (২১) নামে এক কলেজ ছাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সখীপুর-বাসাইল আঞ্চলিক সড়কের বাসুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তি জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে।
বুধবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মুনিয়া মুক্তি টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজের রসায়ন বিভাগের (অনার্স) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত মুনিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জরুরি কাজে বাড়ি এসে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে কলেজের আবাসিক হলে ফিরছিলেন সে। বাসাইলের বাসুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল তাঁদের ধাক্কা দেয়। তাতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন মুনিয়া। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মুনিয়ার চাচাতো ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মুনিয়ার লাশ সখীপুরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, দুর্ঘটনাস্থল আমাদের উপজেলার বাইরে। তাই এ বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বনের ভেতর আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নাসিমা খাতুন (৬২) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দপুর এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত বৃদ্ধা ওই এলাকার আবুল হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে বাড়ির পাশে বনের ভেতর একটি আম গাছে নাসিমা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও পারিবারিক কলহের কারণে ওই বৃদ্ধা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমি কী করব। বঙ্গবন্ধুকে যারা খুন করেছে, এখন তারা আমার বোনের পেছনে, কী করার আছে আমার। এ জন্য কিছু করতে পারি না, কিন্তু তাই বলে আমার এলাকায় রাস্তাঘাটে শিশুকে মেরে ফেলবে, আর পুলিশ এভাবে ভুঁড়ি ভাসিয়ে হাঁটবে, তাহলে তাদের দরকার কী।’ এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ পুলিশকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, ‘আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
মঙ্গলবার(১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহত শিশুর সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির বাবা পুলিশকে চারজনের নাম বলেছেন, অথচ ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। এই রকম গা ভাসানো পেটে চর্বিযুক্ত পুলিশ দিয়ে কী হবে।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সবাই যখন পালিয়ে গিয়েছিল, তখন আমার ২৫ বছর বয়সে মনে হয়েছিল, যদি মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে না পারি, মানুষকে নিরাপত্তা দিতে না পারি; তাহলে বেঁচে থাকার চাইতে মরে যাওয়া অনেক ভালো। আমি সে জন্য যুদ্ধ করেছি, কিন্তু যুদ্ধের পরে দেখেছি, ওই সময় যারা পালিয়ে গিয়েছিল, ভয়ে নদীতে হাবুডুবু খেয়েছে, এখন আমার চাইতে তাদেরই দাম বেশি।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ‘এভাবে দেশ চলতে পারে না, আমি এই দেশ চাই নাই। আমি সেই দেশ চেয়েছি, যে দেশে একজন সাধারণ মানুষের সন্তানও নিরাপদে থাকবে, রাজা-বাদশার মতো মানুষের মাথার ওপরে পা দিয়ে কেউ যেতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি আমার চাইতে পাঁচ মাসের ছোট, তারপরও আমি তাঁকে মায়ের মতো মনে করি। আর আমার মা কোনো রাস্তাঘাটের মানুষ নন। মায়ের প্রতি আমার সম্মানবোধ অনেক বেশি।’
সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, নিহত শিশু সামিয়ার বাবা রঞ্জু মিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা আশিক জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
প্রকাশ,গত বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়াকে (৯) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই তারা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শিশুর বাবার মুঠোফোনে অডিও বার্তা পাঠায়। দুই দিন পর শুক্রবার বাড়ির কাছে ঝোপঝাড়ের মধ্যে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়া ও রুপা আক্তারের দুই সন্তানকে ১৭ দিনের ব্যবধানে হারিয়ে পাগলপ্রায় এই দম্পতি। ১৭ দিন আগে তাদের ৫ মাস বয়সী ছেলে রিদওয়ান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অপহরণের শিকার হয় তাদের বড় মেয়ে সামিয়া (৯)। দুর্বৃত্তরা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অডিও বার্তা পাঠানোর দুই দিন পর সামিয়ার গলাকাটা লাশ বাড়ির পাশেই মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায়। শোকের ছায়া নেমে এসেছে সারা গ্রাম জুড়েই।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দাড়িয়াপুর গ্রামের এক বনের পাশের নালা থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা সামিয়া দাড়িয়াপুর (উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, রঞ্জু মিয়ার বাড়িতে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ তাদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এসেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার আগে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে সামিয়ার লাশ বাড়িতে আনার পর লোকজনের ভিড় আরও বেড়ে যায়।
রঞ্জু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সবাই আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। কিন্তু আমি তো সান্ত্বনা নিতে পারছি না। আমি তো শান্ত হতে পারছি না। আমার কোলে তো আর তারা ফিরে আসবে না। কারা সামিয়াকে অপহরণ করে হত্যা করতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকায় মাদকসেবী বেড়ে গেছে। আমার ধারণা, মাদকসেবীরাই আমার মেয়েকে বনের ভেতর ধরে নিয়ে খুন করেছে। যারা আমার মেয়েকে খুন করেছে, তাদের আমি শাস্তি চাই।
দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, এমন ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবার এক কথা, এলাকার মাদকসেবীরাই এমন ন্যক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়েছে। দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া এলাকায় পাকা রাস্তা নেই। কাঁচা রাস্তায় কাদা থাকায় এ গ্রামে পুলিশ আসতে পারে না। চারপাশে বনজঙ্গল। এ পাড়া যেন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য।
সামিয়ার মা-বাবাকে সান্ত্বনা জানাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের এমপি) শনিবার সন্ধ্যায় ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী নিয়ে দাড়িয়াপুরের খোলাঘাটায় আসেন। সেখান থেকে সামিয়াদের বাড়ি পর্যন্ত আধা কিলোমিটার রাস্তায় কাঁদা থাকায় সংসদ সদস্য আর যেতে পারেননি। পরে নিহত সামিয়ার বাবা-মাকে খোলাঘাটায় ডেকে এনে সেখানে তাদেরকে সমবেদনা জানান সংসদ সদস্য। তিনি সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করার সময় বেঁধে দেন।
এর আগে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলমও সামিয়ার বাড়িতে গিয়ে রঞ্জু-রুপা দম্পতিকে সমবেদনা জানান বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রঞ্জু মিয়া এক যুগেরও বেশি সময় কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটিয়ে করোনার সময় দেশে ফেরেন। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে তার ছিল সুখের সংসার। গত বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সামিয়া বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে প্রাইভেট পড়তে যায়। পড়া শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে সে বাড়ি ফিরছিল। পথে একটি দোকানে সহপাঠীরা কেনাকাটা করতে দাঁড়ালে সামিয়া একাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। এদিকে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় মা রুপা আক্তার শিক্ষককে ফোন দিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে অনেক আগেই বাড়ি চলে গেছে।
পরে মেয়েকে খুঁজতে বের হলে বাড়ির কাছাকাছি একটি স্থানে মেয়ের ব্যবহৃত জুতা পড়ে থাকতে দেখেন রুপা আক্তার। এর কিছুক্ষণ পর রঞ্জু মিয়ার মুঠোফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ইমোতে একটি অডিও বার্তা দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই অডিও বার্তা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর পুলিশ বাড়ির ৪০০ গজ দূর থেকে একটি গহীন বনের পাশে মাটি খুঁড়ে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে।
দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল রানা বলেন, এই ওয়ার্ডে চিহ্নিত ৫০ জন মাদকসেবী রয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন মাদক ব্যবসায়ী। তাদের একটি তালিকা পুলিশকে আগেই দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পরও পুলিশকে ১০ থেকে ১২ জন মাদকসেবীর নাম দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেলে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অব ব্যুরো (পিবিআই) তদন্তে এসে তিনজন মাদকসেবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে টাঙ্গাইল নিয়ে গেছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা মেয়েটিকে হত্যা করার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি অডিও বার্তা দেয়। এত অল্প সময়ে লাশ এমনভাবে পচে যাওয়ার কথা নয়। উদ্ধার হওয়া গলাকাটা, এক চোখ উপড়ে ফেলা লাশের ধরন দেখে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছে। মাদকসেবীদের নজরে রেখে তদন্ত চলছে। অপরাধীরা শিগগিরই ধরা পড়বে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অপহরণের দুই দিন পর সামিয়া আক্তারের (৯) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়ায় শিশুটির বাড়ির কাছের একটি ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির চাচা আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সামিয়াকে অপহরণের পর অডিও বার্তায় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
শিশু সামিয়া উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জু মিয়া ও রুপা বেগম দম্পতির মেয়ে। সে স্থানীয় মাঝিরচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপহৃত সামিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে সামিয়া বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। পড়া শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে একটি দোকানে সহপাঠীরা কিছু কিনতে দাঁড়ালে সামিয়া একাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।
এদিকে সামিয়ার বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে তার মা রুপা বেগম ওই শিক্ষককে ফোন দিয়ে জানতে পারেন পড়া শেষে অনেক আগেই সে বেরিয়ে গেছে। পরে রুপা বেগম মেয়েকে খুঁজতে বের হলে বাড়ির কাছাকাছি এক স্থানে তার ব্যবহৃত জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর মোবাইল ফোনের ইমোতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি অডিও বার্তা আসে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে মেয়েকে মেরে ফেলা হবে বলে অডিও বার্তায় হুমকি দেওয়া হয়। সামিয়ার বাবা রঞ্জু মিয়া বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশের একাধিক ইউনিট সামিয়াকে উদ্ধারকাজে নামে।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় সামিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তার বাবা রঞ্জু মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, থানায় মামলা করেছি। পুলিশ নানাভাবে আমার মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে অপহরণকারীরা তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলবে সংশয় প্রকাশ করে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ না করার অনুরোধ করেন।
কিন্তু বেলা ১টার দিকে সামিয়ার চাচা আমিনুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, সামিয়ার লাশ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মেয়েটিকে জীবিত উদ্ধারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস-জিসি-বহুরিয়া ইউপি সড়কের করটিয়াপাড়া বাজারের উত্তর পাশে কাকড়ার জোড়া নামক স্থানে নির্মাণাধীন পিএসসি গার্ডার বিজ্রের কাজ এক বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরেও শেষ হয়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কাকড়ার জোড়া নামক স্থানে একটি টেকসই ব্রিজের। সে দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের শক্তিশালীকরণ প্রকল্প উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৩১ টাকা ব্যয়ে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজের কাজটি ঢাকার মাইন উদ্দিনবাসী নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পায়।
২০২১ সালের ১৬ ফেব্রয়ারি কাজটি শুরু হয়ে ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২-৩ মাস কাজটি শুরু করে অজ্ঞাত কারণে ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাগজপত্রে ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন দেখালেও উপজেলার করটিয়াপাড়া বাজারের উত্তর পাশে কাকড়ার জোড়া নামক স্থানে নির্মাণাধীন পিএসসি গার্ডার ব্রিজটির বাস্তবে মাত্র কয়েকটি পিলার, পাইলিং হয়েছে।
কাজ ফেলে ঠিকাদার এখন উধাও। বারবার তাগাদা দিলেও ঠিকাদার এলাকায় আসছেন না। এতে প্রায় দুই বছরের অধিক সময় ধরে ব্রিজের দুই পাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১৫-১৬টি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের ,সবুর মিঞা, আব্দুল জলিল, আমিনুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, কাকড়া জোড়ার ব্রিজটির নির্মাণ না হওয়ায় হতেয়া-রাজাবাড়ি, কালিদাস, ঠকাইনাপাড়া, ফুলঝুড়িপাড়া, ভাতকুড়াচালা, করটিয়াপাড়া, কালমেঘা, ছলংগা, বহুরিয়া চতলবাইদ, হারিঙ্গাচালাসহ অন্তত পক্ষে ১৫-১৬টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। ব্রিজটি না হওয়ায় এই এলাকার মানুষ সখীপুর শহরে বা অন্য এলাকায় যেতে চাইলে ২০-২৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে অর্থ ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
কালিদাস ও করটিয়াপাড়ার বাজার ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলে ওই ব্রিজের কারণে যানবাহন চলতে না পারায় কোনো মালামাল পরিবহন করা যাচ্ছে না। হাটবাজারগুলোতে আসতে মানুষের ভোগান্তির শেষ নইে।
কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ব্রিজটি সম্পন্ন না হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সময় মতো বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তা জানান, ব্রিজের কাজ দুই বছর ধরে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের লোকজন। ওই সড়ক ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগী, বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীদের আসা-যাওয়া করতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিকল্প সড়ক ঘুরে অনেক সময় লেগে যায়। বৃদ্ধ মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ জানান, বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। কাজটি সময় মতো শেষ না করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা অফিস থেকে চিঠি দিয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুম গেলে প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে অসমাপ্ত কাজটি শেষ করা হবে। এদিকে, একই প্রকল্পের আওতায় ওই ব্রিজের দুই পাশে ১৮ ফুট প্রশস্ত করে সাড়ে ৩ কিলামিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ অন্য ঠিকাদার শেষ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জমি থেকে আরফান আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হতেয়া উলিয়ারচালা গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
সে ওই এলাকার মৃত কুরবান আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরফান আলী রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হলে রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখোজির পর সোমবার দুপুরে পরিত্যক্ত জমিতে তার লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে স্থানীয় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। উপজেলার কালিদাস থেকে বহুরিয়া সড়কের পানাউল্লাপাড়ায় এ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।
গত দুই মাস ধরে ব্যাপক দুর্ভোগে ছিলো ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভেঙে যাওয়া গ্রমীণ সড়কের উপর দিয়ে পানির স্রোত থাকায় প্রায় এক মাস ধরে চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছিল। স্কুল কলেজে যেতে আমাদের খুব কষ্ট হতো। তাই বন্ধের দিনে সম্মিলিতভাবে এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছি।
ওই এলাকার কামরুল হাসান জানান, বহুরয়িা-কালিদাস সড়কের মাঝখানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এই কাঁচা সড়ক ভেঙে বৃষ্টির পানির ঢল যাচ্ছিলো।
তিনি আরও জানান, এমন দূরবস্থা দেখে এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া রিফাত, মেজবা, রায়হান, রাতুল, মামুন, জীবন, আশিক, শামিম, খালিদ, হাসান সহ ১০-১২ জন শিক্ষার্থী মিলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে এই সাঁকো নির্মাণ করায় এলাকাবাসী খুবই খুশি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: তারেক মিয়া (২৮) নামে এক টিউবয়েল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার দেবরাজ এলাকায় মোটরের কাজ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তারেক ওই এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, নষ্ট হওয়া মোটরের পাইপ তুলতে গিয়ে বিদ্যুতের ঝুলন্ত তারের সাথে ওই পাইপের সংস্পর্শ ঘটে। স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রেজাউল করিম জানান, কোনো পক্ষের অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।