একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর আলমিনা আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৩ আগস্ট) রাত আটটার দিকে উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের ছোটচওনা গ্রামের একটি পোল্ট্রি খামারের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
আলমিনা আক্তার ওই ইউনিয়নের ছোটওচনা গ্রামের হারুন মার্কেট এলাকার আলহাজ মিয়ার মেয়ে। ওই কিশোরী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে তাঁর পিতা জানিয়েছেন।
কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আলমিনা তার দাদার ঘরের একটি কক্ষে ঘুমাতে যায়। রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে তাকে আর সেখানে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আলমিনাকে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে খবর আসে স্থানীয় একটি পোল্ট্রি ফার্মের পাশে আলমিনার লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সখিপুর থানা পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
কিশোরীর বাবা আলহাজ মিয়া জানান, তার মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। মেয়ের মৃত্যুতে কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।
তবে কিশোরী আলমিনার দাদা আবদুল আজিজের দাবি তাকে কেউ হত্যা করেছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আলমিনা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তবে চিকিৎসা করানো হয়েছে, এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ। আমার নাতনির খুনিকে ধইরা দিতে হবো, খুনির উপযুক্ত বিচার করতে হবো। খুন কইরা যারা এখানে ফালাইয়া রাখছে আমি তাগো উপযুক্ত বিচার চাই।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী ফারজানা আলম এ দণ্ডাদেশ দেন।
জয়নাল আবেদীন উপজেলার সাড়াশিয়া গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে।
জানা যায়, জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নানা সময় উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে।
প্রতিকার চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক রেবেকা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনি ওই শিক্ষককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, সোমবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের গজারি বনে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দ রবিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ আদেশ দেন।
জানা যায়, আসামিদের সবার বাড়ি উপজেলার কচুয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায়। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হচ্ছে- বুলবুল আহমেদ (২৪), লাবু মিয়া (২৬), মোহাম্মদ বাবুল (৩০), আসিফ হোসেন (২৩) ও শফিক আহমেদ (২৫)। এছাড়া, গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামী মোজাম্মেল হক (৩০) গত শুক্রবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সখীপুর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় চাঁদেরহাট নামক বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে আসামিরা এক দম্পতিকে আটক করে গজারি বনে নিয়ে যান। এ সময় তারা স্বামীকে প্রহার ও বেঁধে রেখে দলবদ্ধভাবে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ওই দিন রাত ১টার দিকে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই গৃহবধূ সখীপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই রাতেই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, চাঁদের হাটের এলাকার বাইরে কচুয়ার বনে সংগঠিত এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামী স্থানীয় কিছু বখাটে যুবক। এরা বেড়াতে আসা লোকজনকে, বিশেষ করে অপরিচিত যুগলকে টার্গেট করে আটক করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে। টাকা-পয়সা, মুঠোফোন ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম ঘটায়। ইতিপূর্বে যারা ধরা পড়েছেন, তারা সবাই সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় ছিঁচকে সন্ত্রাসী। তাদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত, নেশাগ্রস্ত সন্ত্রাসী চক্র বলে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে সখীপুরের বাসিন্দা মোস্তফা স্থানীয় একটি সমিতি থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী শাহজালালের কাছ থেকে অর্থ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।
সে অনুযায়ী দোকান থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে শাহজালালের পথরোধ করে হামলা চালান মোস্তফা ও তার সহযোগী আলামিন। শাহজালালকে রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়।
এ সময় শাহজালালের চাচা মজনু মিয়া সঙ্গে থাকায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
১৯ জুলাই ক্লুলেস ও বহুল আলোচিত টাঙ্গাইলের সখীপুরে নৃশংসভাবে ব্যবসায়ী শাহজালাল ও তার চাচা মজনু খুনের ঘটনায় মোস্তফা মিয়া (২০) ও আলামিনকে (২৭) গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত শাহজালালের বাবা বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৪ এর অভিযানে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও টাঙ্গাইলের সখীপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, ভিকটিম শাহজালাল টাঙ্গাইলের সখীপুরের হামিদপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি হামিদপুর বাজারের একজন জনপ্রিয় ও অতিপরিচিত ব্যবসায়ী। শাহজালালের চাচা ভিকটিম মজনু মিয়া এলাকায় কৃষি কাজ করতেন। মজনু মিয়া কৃষি কাজের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে শাহজালালকে ব্যবসায়িক কাজে দোকানে সহযোগিতা করতেন।
শাহজালাল ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষে প্রায় রাতের খাবার খেতে বাড়িতে যেতেন। তিনি মাঝে মধ্যে রাতে বাড়িতে থাকতেন আবার দোকানেও থাকতেন। যেদিন তিনি বাড়িতে থাকতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন।
ঘটনার দিন শাহজালাল দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। চাচা মজনু মিয়াকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন। পথিমধ্যে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন তারা।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, মোস্তফার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মোস্তফা ও আলামিন দুজনেই স্থানীয় একটি সমিতির সদস্য ছিলেন। মোস্তফা সমিতি থেকে উচ্চ সুদে বেশ কিছু টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধ ও পারিবারিক খরচ বহনের জন্য তার বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন ছিল। ভিকটিম শাহজালাল যেদিন বাড়িতে রাত্রি যাপন করতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন। এ বিষয়টি মোস্তফা ও আলামিন জানতেন।
শাহজালালের বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণ করে টাকা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। বিষয়টি আলামিনকে জানালে তিনি সম্মতি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই রাত ১০ টার দিকে মোস্তফা ও আলামিন সখীপুরের বাঘের বাড়ি এলাকায় জামালের চালায় নির্জন জঙ্গলে ওৎ পেতে থাকেন। শাহজালাল মোটরসাইকেলে করে তার চাচা মজনু মিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মোস্তফা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। মোস্তফা ভিকটিম শাহজালালকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
ভিকটিম শাহজালাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। মজনু মিয়া চিৎকার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আলামিন লোহার রড দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন।
পরে মোস্তফা ও আলামিন তাদের এলোপাতাড়ি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আলামিন ভিকটিমদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশের একটি জমিতে ফেলে দেন এবং শাহজালালের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
পরে তারা টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকায় আত্মগোপন করেন। মোস্তফা টাঙ্গাইল ও আলামিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে থাকাকালীন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ( ৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার নয়াকচুয়া গ্রামের চাঁদেরহাট নামক এক বিনোদন কেন্দ্রের কাছে একটি গজারি বনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকার ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-চাঁদেরহাট এলাকার হযরত আলীর ছেলে বুলবুল আহমেদ (২৪), ফরহাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাবুল (৩০), হযরত মিয়ার ছেলে লাবু মিয়া (২৬), গনি মিয়ার ছেলে আসিফ (২৩), আশরাফ আলীর ছেলে শফিক আহমেদ (২৫), এবং সমেশ আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৩০)।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় বিবরণে জানা যায়,,বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে কচুয়া চাঁদের হাটে ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কচুয়া হাজী চৌরাস্তার এলাকা পৌছালে ৭/৮ জন লোক তাকে আটক করে মারধর করে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে স্থানীয় একটি গজারি বনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান,অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার (৪ আগষ্ঠ) সকালে টাঙ্গাইলের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে সাদিকুল ইসলাম (৭) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বানিয়ারছিট গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত সাদিকুল স্থানীয় একটি পোল্ট্রিফার্মের শ্রমিক জসিম উদ্দিনের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার মাঝির ঘাট গ্রামে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পোল্ট্রিফার্ম ঘেঁষা পুকুর পাড়ে একা একাই খেলা করছিল সাদিকুল। ওর বাবা মা ওই পোল্ট্রিফার্মের ভেতর কাজ করছিল। কাজের ফাঁকে ছেলেকে না দেখে ডাকাডাকি করে তার মা। পরে স্থানীয়রা ওই পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে সখীপুর থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৪৪ লিটার চোলাই মদসহ (স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ) দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ধোপারচালা গ্রাম থেকে পলিথিনে ভর্তি মদসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ওই গ্রামের মাধব চন্দ্র কোচের ছেলে নিমাই চন্দ্র কোচ (৩৩) ও মনিন্দ্র কোচের ছেলে মিন্টু কোচ (২৩)। বুধবার (২ আগস্ট) সকালে তাঁদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার ধোপারচালা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে স্থানীয় প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত চোলাই মদ তৈরি ও তা অবাধে বিক্রি চলছিল। মাদকাসক্তদের আনাগোনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হলে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের নিমাই চন্দ্র কোচের বাড়ি থেকে ৪৪ লিটার মদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে তাঁদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বুধবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামের বাংলাবাজার এলাকার নিভৃত পাহাড়ী এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুুন হন চাচা মজনু মিয়া (৫০) ও ভাতিজা শাহজালাল (৪০)। দুষ্কৃতিকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে চাচা-ভাতিজাকে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) রাতে নিহত শাহজালালের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার (২১ জুলাই) বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
শনিবার (২২ জুলাই) ওই এলাকায় সরেজমিন ঘুরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এ ধরণের নৃশংস হত্যাকান্ড তারা জীবনেও দেখেনি! পুলিশ যদি খুনীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে না পারে, পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা থাকবেনা।
বাঘেরবাড়ি গ্রামের নূরুল ইসলাম বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে এলাকায় চলাফেরা করলে গা ছম ছম করে। সন্ধ্যা হলেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ ঘরে ফিরে যাচ্ছে। গ্রামবাসী স্তব্ধ হয়ে গেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া পারত পক্ষে কেউ রাতে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গ্রামবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতদের স্বজনদের আহাজারি এখনো থামেনি। এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
স্থানীয় কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারের স্বজনদের আমি বারবার খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পুলিশের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। গ্রামবাসীও এ খুনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরির্শন করেছেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি )রেজাউল করিম জানান, জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনে ও আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। পুলিশের অপরাধ বিভাগ, পিবিআই, ডিবিসহ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নিহত শাহজালাল সখীপুর উপজেলার হামিদ চৌরাস্তা বাজারে বিকাশ-ফেক্সিলোড ও কসমেটিক্সের ব্যবসা করতেন। ঘটনার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চাচা-ভাতিজা মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা কান্ডের শিকার হন। নিহতদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মরদেহের পাশে পড়েছিল। গত বুধবার রাতে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত মজনু মিয়া বাঘেরবাড়ি গ্রামের নবু মিয়ার ছেলে এবং শাহজালাল একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি এলাকায় দুই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা।
বৃহস্পতিবার(২০ জুলাই )ভোরে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয়দের ধারণা, মধ্য রাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহতরা হলেন, সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শাহজালাল (৩৫) ও নবু মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় , শাহজালাল বাঘেরবাড়ি বাংলা বাজারে মুদি দোকান ও বিকাশের ব্যবসা করতো। রাতে দোকান বন্ধ করে ওই দুই ব্যবসায়ী বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়। পরে তারা আর বাড়িতে ফিরেনি। মধ্যরাতে তারা একটি নির্জন স্থানে পৌছালে, দূর্বত্তরা তাদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। সকালে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। লাশ দুটির পাশে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাঁচটিতেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। এসব ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মাত্র একটি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।
সোমবার (১৭ জুলাই) টাঙ্গাইলের সখিপুরে চারটি ইউপিতে এবং কালিহাতীতে দু’টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সখিপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।
কালিয়া ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো: জামাল হোসেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন সাথী।
বড়চওনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো: আজহারুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। সেখানে তার কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম সরকার।
হাতীবন্ধা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী রনি আহমেদকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী রবিন খান।
হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো: হুমায়ন খান। সেখানে দ্বিতীয় হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।
একই দিন কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা ও পারখী ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে বীর বাসিন্দা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুল খালেককে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সোরহাব আলী এবং পারখী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান তোতা।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনার আমাকে কথা দিয়েছেন, নিরপেক্ষ ভোট হবে, সরকারি প্রভাবমুক্ত ভোট হবে, তিনি যদি সেই কথা রক্ষা করতে না পারেন, তবে তাঁকে গদি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
রবিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা টেকিপাড়ায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, আমি ভোট চুরি পছন্দ করি না, আমি তাঁর কথা বিশ্বাস করেছি। কিন্তু এখানকার ফাঁউ নেতারা যদি ভোট চুরি করে শেখ হাসিনার মুখ কালো করতে চায়, তাহলে আমাদের কি করার আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাল ভোট চান না।’
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে টাকা–পয়সা দিয়ে ব্যালটে সিল মারবেন? তা হবে না, হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ জল ভোট দিতে চাইলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে ধরে ফেলবেন, তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেবেন, পুলিশ তাকে গ্রহণ না করলে সে বিষয়টি আমি দেখব।’
দলীয় নেতা কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে বাসাইল পৌরসভায় সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। সেখানে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।’
হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী পথসভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী বিধূ ভূষণ সরকারসহ দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীরপ্রতীক, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীবসহ দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৭ জুলাই সখীপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ দলীয় প্রার্থী দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নাঈম আহমেদ (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। সোমবার(২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার বোয়ালী পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নাঈম বোয়ালী কলেজ পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১ টার দিকে বন্ধুর সাথে বোয়ালী পেট্রোল পাম্পে তেল আনতে যায়। টাঙ্গাইলগামী একটি সিএনজি পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা নাঈম রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেফার্ড করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেল চারটায় তার মৃত্যু হয়।
নাঈমের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।