একতার কণ্ঠঃ হাসানুজ্জামিল শাহীন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও ফরহাদ ইকবাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার(১ নভেম্বর) জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।
রাত নয়টায় ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি পদে হাসানুজ্জামিল ১ হাজার ৩৮২ ভোট পেয়েছেন।
তাঁর অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আলী ইমাম তপন ৫৮৭ ভোট ও ছাইদুল হক ৭৭ ভোট পান।
সাধারণ সম্পাদক পদে ফরহাদ ইকবাল ১ হাজার ২৬০ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হক সানু ৭৯১ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে ২ হাজার ১১৫ জন কাউন্সিলর ভোট দেন। মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৩২৩ জন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুরপাড়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ফকরি মাহবুব আনাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন প্রমুখ।
এতে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রায় ১৩ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলো। সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালে। এরপর তিন দফা দলটির জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে সম্মেলন ছাড়া।
সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট আহমেদ আযম খানকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সব উপজেলা ও পৌরসভার সম্মেলন শেষ করে জেলা সম্মেলনের আয়োজন করে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না। যথেষ্ট খাদ্য মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশে বড় কোন ধরনের দুর্যোগ না হলে, আমরা খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়বো না। সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পূর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, বিএনপি ২০১৫ সালে ৯০ দিনের হরতাল দিয়েছিলো। তখন যেভাবে ঘরে ঢুকিয়েছিলাম, আগামী দিনেও সেভাবে যেতে হবে। রাজপথ তাদের কাছে থাকবে না। রাজপথ আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। এখনো আছে, আগামীতেও থাকবে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, দেশের আইনশৃঙ্খলা, মানুষের জীবন রক্ষার্থে পুলিশ থাকতে হবে। পুলিশ থাকবেনা এমনটা হয়? তারা রেল লাইন উপড়ে ফেলবে, আগুন দিবে, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারবে আর পুলিশ চুপ করে বসে থাকবে, তা হয়না।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির প্রমুখ।
এর আগে বৃষ্টি বিঘ্নিত আয়োজন স্থলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক।
একতার কণ্ঠঃ কোনও সাংবাদিক তার নিউজের তথ্যের সোর্স কারও কাছে প্রকাশ করতে বাধ্য নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (২৩ অক্টোবর) রাষ্ট্র বনাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় আমাদের মতামত হলো, সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা সাংবিধানিকভাবে এবং আইনত দুর্নীতি এবং দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে সংবাদ পরিবেশন করতে পারবেন।’
আদালত আরও বলেন, ‘এই মামলার শুনানি পর্যালোচনা করে এটাই প্রতীয়মান যে কোনও সাংবাদিক তার নিউজের তথ্যের সোর্স কারও কাছে প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে দেওয়া আছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, এটা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন আদালত। পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ‘আধুনিক বিশ্বে জানার অধিকার সবারই আছে। গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণকে সজাগ করা। বর্তমান সময়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তবে ‘হলুদ সাংবাদিকতা গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। আদালত তার রায়ে বলেন, ‘সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমের মনোযোগী হওয়া উচিত। জনস্বার্থে দুর্নীতি, অর্থপাচারসহ অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে আইন সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব হারুন-অর-রশীদ।
অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক পুলিশের ১২তম বিসিএস কর্মকর্তা। তাকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-২ পদে পদায়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
খন্দকার গোলাম ফারুক ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ঘাটানদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শহরের আশেকপুর সদর উপজেলা পরিষদ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের নগরজলফৈ এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি প্রমুখ।
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নিরাপদ সড়ক চাইসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসে আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম কর্নেল কমান্ড্যান্টের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসে সামরিক রীতি মেনে এ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষ রোপণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান আর্মি মেডিকেল কোরের ১৩তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, ডাইরেক্টর অব মেডিকেল সার্ভিসেস (আর্মি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বিএনপি অভ্যন্তরীন কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করছে। কোন্দলের কারণে জেলার অভ্যন্তরীন বিএনপির রাজনীতি এখন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
ফলে দলীয় কোন্দল এখন জেলা সদর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যন্ত।
দলের মধ্যে রেষারেষি আর বিভক্তি এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে যে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করছে দলটির নেতাকর্মীরা।কোন্দলের কারণে প্রায় কর্মসুচিতে সচরাচর অংশ নিতে দেখা যায়না অনেক নেতাকেই।
এই কোন্দলের আচঁর লেগেছে যুবদল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও। বিভক্তির শিকার এসব সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত থাকছেন।
যা তৃনমুল ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ নেতায় নেতায় দ্বন্দ্বের কারণে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিএনপি ক্রমেই দূর্বল হয়ে পড়ছে।
দলীয় কোন্দল ও বিভক্তি নিরসন করতে না পারলে আগামী দিনে আন্দোলন কর্মসূচি পালন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম খেসারত দিতে হবে বলে মনে করছেন তৃণমুল নেতাকর্মীরা।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোন্দল দীর্ঘদিনের পুরোনো। বিগত ১৯৯৭ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বুলবুল নির্বাচিত হন।
নির্বাচিত হওয়ার পরে এক পর্যায়ে এ দু’নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বহিস্কারের ঘটনাও ঘটে।
পরে ২০০৯ সালের ২১ জুন এডভোকেট আহমেদ আযমকে আহবায়ক ও কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।
তখন জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে। ২০১১ সালের ৯ জুন পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
মুলত দু’পক্ষেই নিজেদের পছন্দের লোক কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করতে গিয়ে কমিটি গঠন করতে দুবছর সময় লাগে। মূলত তখন থেকেই বিএনপির অন্তর্দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়।
আহমেদ আযম খানের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে তখন থেকেই বিএনপির একটি অংশ সরব হয়ে উঠে।
তখন বিএনপিতে বিভক্তির কারণে জেলা ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মূল দলে বিভক্তির কারণে এসব অঙ্গ সংগঠনেও বিভক্তি দেখা দেয়।
বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে আহবায়ক ও মাহমুদুল হক সানুকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সব উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়। কিন্ত কয়েক মাসের মধ্যে ওই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে পুনরায় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ওই কমিটিতে আহমেদ আযম খান আহবায়ক হলেও বাদ পড়েন সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, যুগ্ম-আহবায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদুসহ অনেক নেতা। এঘটনায় জেলা বিএনপির বিশাল একটি অংশ ক্ষুব্দ হন।
তাদের অভিযোগ আহমেদ আযম খান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার পক্ষের লোকজন দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। পদবঞ্চিত এই অংশটি আহমেদ আযমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করেন।
তারা সংবাদ সম্মেলন করে ছাইদুল হক ছাদু ও মাহমুদুল হক সানুর নেতৃত্বে বিএনপির সকল কার্ষক্রম চলবে বলে ঘোষনা দেন। তার অংশ হিসেবে তারা পৌরশহর ও সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করেন।
গত ২৩ আগষ্ট আশরাফ পাহেলীকে সভাপতি ও সাবেক ভিপি নুরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর শহর বিএনপি ও শফিকুর রহমান খান শফিককে সভাপতি ও আজহারুল ইসলাম লাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করে।
বিদ্রোহী কমিটির নেতা শফিকুর রহমান খান শফিক জানান, আমরা ইতিমধ্যে ১২টি ইউনিয়ন কমিটি করেছি। অধিকাংশ ওয়ার্ড কমিটি করা হয়েছে। দুই একটি কমিটি বাকি রয়েছে। এগুলো শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সদর উপজেলা ও পৌরশহর সম্মেলন করব।
যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি শেষ করে গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি সম্মেলন করা হয়েছে। ওই সম্মেলনে আজগর আলীকে সভাপতি ও আব্দুর রউফকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর উপজেলা ও পৌর কাউন্সিলর মেহেদী হাসান আলীমকে সভাপতি ও ইজাজুল হক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর শহর কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যুগ্ম-আহবায়ক হাসানুজ্জামিল শাহিন বলেন, বিদ্রোহীদের কমিটি গঠনের সাংগঠনিক কোন ভিত্তি নেই। তারা যা করছে তা নিয়ম বহির্ভূত ও অগঠনতান্ত্রিক কাজ । দলের ভেতর তারা বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে। কেন্দ্রে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে খুব শিঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ব্যর্থতার কারণে যদি কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয় তাহলে আহমেদ আযমও আহবায়ক থাকার কথা নয়। অর্থাৎ তিনি প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁতকারী সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে ব্যবসা বানিজ্য করছেন এমন লোক আহবায়ক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। যা জেলার অধিকাংশ সিনিয়র নেতারা মেনে নিতে পারছেন না।
জেলা বিএনপির আহবায়ক আহমেদ আযম খান বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। এখানে মত পার্থক্য থাকবে। আহবায়ক কমিটির সব যুগ্ম-আহবায়কসহ সকল নেতৃবৃন্দ আমাদের পক্ষে রয়েছে। পদ বঞ্চিত হয়ে দুই একজন বিদ্রোহ করতেই পারে।
তিনি আরো বলেন, তবে আমি তাদের গুরুত্ব দিচ্ছি না। তারা ভুল বুঝছে, সংশোধন হলে এমনিতেই তারা ফিরে আসবে। গত বৃহস্পতিবার শহর ও সদর উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশানার বাইরে গিয়ে দলে যে কেউ অসাংগঠনিক বা নিয়ম বহির্ভূত কাজ করলে দল তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ধনবাড়ী থেকে তোফাজ্জল হোসেন, গোপালপুরে এসএম রফিকুল ইসলাম, ভূঞাপুরে খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইলে রোকনুজ্জামান ঠান্ডু, কালিহাতীতে আয়নাল হক, টাঙ্গাইল সদরে মাসুরুল ইসলাম, দেলদুয়ারে মোশারফ হোসেন, নাগরপুরে শহিদুল ইসলাম, বাসাইলে নাসির খান, সখীপুরে আনোয়ার হোসেন তালুকদার ও মির্জাপুরে তাহেরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মাহমুদা বেগম (ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর), রাজিয়া সিদ্দিকী (ঘাটাইল, কালিহাতী, ভূঞাপুর), শিমু খান (সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার) ও খালেদা সিদ্দিকী (মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর)।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং মধুপুরের সদস্য পদে খন্দকার শফিউদ্দিন মনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব ও পশ্চিমের সয়দাবাদ রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী ২৭২ জন যাত্রীর জরিমানা করা হয়েছে। এসব যাত্রীর কাছ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
রোববার (৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এই দুই রেলস্টেশনে অভিযান চালানো হয়।
এসময় বনলতা এক্সপ্রেস, ধুমকেতু, সুন্দরবন, চিত্রা, দ্রুতযান, কুড়িগ্রাম পদ্মা ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের বিনা টিকেটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জরিমানা করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ, আবুহেনা শাহ্আলম, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশনের বুকিং ইনচার্জ রেজাউল করিম প্রমুখ।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, বিনা টিকিটে যাত্রীরা যাতে ট্রেন ভ্রমণ না করেন সেই বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো জানান, এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৫ মিনিট থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় গ্রিড হলো বাংলাদেশে একমাত্র বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চালন গ্রিড। এটি পরিচালনা করে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।
এই গ্রিডের কাজ হলো বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আগত বিদ্যৎ কে ম্যানেজ করে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া , যার ফলে যদি সোলার প্লান্ট থেকে কোনো ইলেকট্রিসিটি নাও আসে তাতেও আমাদের বাড়ির ইলেকট্রিসিটি যেন চলে না যায়।

জাতীয় গ্রিড হলো প্রতিটি গ্রিডের সংঙ্গে অন্য একটি গ্রিড কে যুক্ত করে রাখা।
উদাহনত হিসেবে ধরুন : বিভিন্ন Division অথবা State এর মধ্যে প্রতিটি গ্রিড একটিকে উপরটির সাথে যুক্ত করা হয়ে থাকে , এরফলে যদি কোনো কারণে একটি গ্রিড Fail হয়ে যায় তাহলে অন্য Division অথবা State এর গ্রিড থেকে ইলেকট্রিসিটি প্রদান করা সম্ভব।
ধরুন, একটি পাওয়ার প্লান্ট কোনোভাবে বন্ধ হয়ে গেলো , ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ শহরের ইলেক্ট্রিসিটি যাতে না চলে যায় এরজন্যই গ্রিড কে অন্য গ্রিডের সংঙ্গে যুক্ত করে রাখা হয় , যা জাতীয় গ্রিড (National Grid) বলা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসের ওপর উঠে গেলে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পরই ব্রেক ফেল করে। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী লেন থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে উল্টে গিয়ে একটি মাইক্রোবাসের ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।আহত অন্তত ৪০ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা বাডার সম্ভাবনা রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে ।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের মিছিল-মিটিং করার মৌলিক অধিকার রয়েছে। সংবিধানে লেখা আছে, মানুষের জীবনমানের উপর কোনো হুমকি সৃষ্টি করা যাবে না, জীবনমানকে ঝুঁকির মাঝে ফেলা যাবে না। আমরা দেখছি বিএনপি ঠিকই সমাবেশ করছে। সমাবেশ থেকে মিছিল বের করেই পুলিশের উপর হামলা করছে। যখন পুলিশের উপর হামলা করে তখন তারা বাধ্য হয় পদক্ষেপ নিতে।
শুক্রবার (৩০ সেপ্টম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি মিথ্যাচার করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা ২০১৩ সালে ফিরে যেতে চাচ্ছে। তারা নির্বাচনে যাবে না, গাড়িতে আগুন দেবে, ইলেক্ট্রনিক লাইন খোলে দেবে, ট্রেনে আগুন দেবে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারবে, এটা আমরা করতে দেব না। বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সু-শৃঙ্খল। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। বিএনপি লাঠি নিয়ে অস্ত্র নিয়ে তাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে? আর সরকার তা মেনে নেবে? এটা সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।
টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত সম্মেলনে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম সিরাজুল হক আলমগীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম এমপি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির প্রমুখ।
এসময় শহর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।