একতার কণ্ঠঃ অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাজানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল।
কনে কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের সত্য পালের মেয়ে স্বর্না পাল। স্বর্না অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পালপাড়ার বাসিন্দা রতন লাল পালের ছেলে রনি প্রতাপ পাল আর্শিবাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিয়ের বাকী কাজ সম্পন্ন হবে।
রনি প্রতাপ পাল জানান, কোন চাপে নয় পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করতে যাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করায় কাউকে বলা হয়নি। বিয়ের অনুষ্ঠানে অবশ্যই প্রধান শিক্ষককে দাওয়াত দেওয়া হবে।
বিয়ের বিষয়ে অবগত না থাকায় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রকাশ,নিয়মবহির্ভূত বিয়ের নোটিশ দেওয়ায় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি তদন্ত চলমান রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বহিস্কার চেয়ে ছাত্র, ছাত্রী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষকরা ও স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন রনি প্রতাপ পাল। গত ২৬ জুলাই তাকে নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নোটিশে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকরা অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে পাক্কা নির্দেশ প্রদান করা হলো।
নোটিশটি পাওয়ার দুইদিন পর সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। জবাবে তিনি বলেন, আমার অভিভাবকরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি ভ্যান চার্জ দেওয়ার গ্যারেজ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কবির উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধুপা খাগরাটা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। সে পেশায় একজন ভ্যানচালক।
এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলের পৃথক পৃথক স্থান থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান জানান, একটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা।
এদিকে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলার ভুঞাপুরে প্রবাসীর স্ত্রী’র মরদেহ ঘরের বক্স খাটের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বামী মোস্তাক পালিয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রবাসীর স্ত্রী মুনিয়া ইসলাম (৩২) গোপালপুর উপজেলার নলীন এলাকার নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে এবং একই উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের আজমত আলীর ছেলে ব্রুনাই প্রবাসী মোস্তাকের স্ত্রী।
একই দিন ভূঞাপুরে ঘর থেকে সুলতানা সুরাইয়া(৬৫) নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুলতানা সুরাইয়া ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নিউজ এডিটর আবু সায়েম আকন্দের মা এবং পশ্চিম ভূঞাপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আকন্দের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে পৌরসভার পশ্চিশ ভূঞাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- একদিন আগে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে দৃষ্কৃতিকারীরা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৌরসভায় জমি বুঝে পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করে খাইরুল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে তিনিসহ পৌরসভার সার্ভেয়ারসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা জমি পরিমাপ করতে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোতালেব নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পৌরসভার লোকজনদের উপর হামলা করে এবং মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারিরা খায়রুলকে ছুরিকাঘাত করলে তার পেট পুরোটা কেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ায় টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা প্রায় ১৫ ঘণ্টা অন্ধকারে হয়ে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষের জীবন। এতে বিপাকে পড়ে খামারি ও হাসপাতালে থাকা রোগীরা।
রাতভর মেরামতের কাজ শেষে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ সঞ্চালন হলে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।এরআগে বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টার দিকে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কালিহাতীর এলেঙ্গা পুংলি নদীর ওপর তার ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতায় ভূঞাপুরসহ পাশ্ববর্তী ঘাটাইল, গোপালপুর ও কালিহাতী এলাকার ৫০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পুংলি নদীর ওপর ৩৩ কেভি লাইনের তার ছিঁড়ে পড়লে ভূঞাপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিন উপজেলার কিছু অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
তিনি আরও জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় মেরামত কাজে বিঘ্ন ঘটে। পরে রাতভর মেরামতের কাজ শেষে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে সংযোগ লাইন সঞ্চালন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে গোপালপুর উপজেলা পরিষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সূতী ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সমাবেশে মিলিত হয়৷
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শামছুল আলম, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তােতা, জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ।
সমাবেশে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলো জিয়াউর রহমান। গ্রেনেড হামলারও পরিকল্পনাকারী ছিলো জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান৷ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য এ হামলা করা হয়। আজকে টাঙ্গাইলসহ দেশবাসী জেগে উঠেছে সেই ৭৫ সালের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়ার রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবিতে৷ একই সাথে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি করছি৷ বিএনপি আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে৷ আমরা এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো৷
এ সময় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কমীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ শ্যামা রংয়ের গোলগাল সুন্দর চেহারার শিশুটি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বয়সের তুলনায় একটু বেশিই বেড়ে উঠেছে। স্কুলপর্যায়ে ক্রিকেট আর ফুটবল খেলে কুড়িয়েছে সবার ভালোবাসা। এবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্ট্রাইকার হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারও পায়। সেই শিশুটি ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়ে একবারে চুপসে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সেই ধর্ষণচেষ্টার একমাত্র আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়ে গলায় ফুলের মালা ও ব্যান্ডপার্টি নিয়ে গ্রামে নাচগান করার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর মা এবং মামলার বাদীর বাড়ির আঙ্গিনায় গিয়ে আসামি ও তার সঙ্গীরা নেচে গেয়ে হই-হুল্লোড় করে। এমন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আলেফ শেখ গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উড়িয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও মুদি দোকানদার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশু ছাত্রীকে গত ২৪ জুলাই দুপুরে কাঁঠাল খাওয়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালায় গ্রামের মুদি দোকানী আলেফ শেখ। কান্নাকাটির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আলেফ শেখ পালিয়ে যায়। ওই দিন বিকালে মামলা হলে পুলিশ আলেফ শেখকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
মামলার বাদী এবং ভুক্তভোগীর মা শনিবার (২৬ আগস্ট) গোপালপুর থানায় দায়ের করা এক অভিযোগে জানান, গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে রাত নয়টায় আলেফ শেখ গলায় মালা পরিহিত অবস্থায় ব্যান্ডপার্টি নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে। ব্যান্ডপার্টির সঙ্গে তার সাথে থাকা শিপন মিয়া, করিম মিয়া, আয়নাল হকসহ শতাধিক উৎসুক জনতা যোগ দেন। তারা নেচে গেয়ে পুরো গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। এক পর্যায়ে আলেফ শেখ দলবল নিয়ে বাদীর বাড়ির আঙ্গিনায় নাচ শুরু করে। পাশাপাশি গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেয়। এ অবস্থায় দিনমজুর বাবা-মা অসহায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাচ্ছেন।
হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং উড়িয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আলীম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত দশটায় ব্যান্ডপার্টি এবং কিছু মানুষের হইচইয়ে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরুলে আলেফ শেখের কয়েক জন অনুসারী জানান, মিথ্যা মামলায় একমাস জেল খাটার পর শেখ সাহেব জামিন পেয়েছেন। তাই মনের সুখে তারা সবাই ব্যান্ডপার্টির সুরে আনন্দ প্রকাশ করছেন।
ধর্ষণচেষ্টার পর শিশুটি এমনিতেই মুষড়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর ওই শিশুসহ পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
উড়িয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাহার আলী, ইব্রাহীম খলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিশু নির্যাতনের মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে গলায় মালা জড়িয়ে ব্যান্ড পার্টির তালে তালে নেচে গেয়ে এমনভাবে আনন্দ করাটা কোনো সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে না। শেখ সাহেব প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
একই গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, যখন তখন যাকে তাকে ধরে মারধর করে আলেফ। মুখের ওপর গালিগালাজ করে। মুখ খারাপের কারণে এলাকার লোকজন তাকে ভয় পায় ও এড়িয়ে চলে। আগে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে কোনো পার্টির সঙ্গে যুক্ত নেই।
উড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুন্নাহার ও আসিয়া বেগম জানান, শিশুটি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বেশ ভালো। এমন ঘটনায় শিশুটি এমনিতেই নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। কয়েকদিন সে স্কুলে আসেনি। ব্যান্ডপার্টির ঘটনায় ওই শিশু ও তার অসহায় পরিবার নিরপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসবের প্রতিকার হওয়া দরকার।
ব্যান্ডপার্টির প্রধান কালিহাতী উপজেলার পশ্চিম নারান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা অনিক লাগাচি জানান, উড়িয়াবাড়ী গ্রামের আলেফ শেখ বৃহস্পতিবার ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। শেখ সাবের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান রতন আমাদের ব্যান্ডপার্টিকে তিন হাজার চারশ টাকায় ভাড়া করেন। রাত নয়টায় আমরা ওই গ্রামে যাই। রাত ১২টা পর্যন্ত সারা গ্রাম ঘুরে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে সকলকে আনন্দ দেই।
হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান তালুকদার জানান, ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়ে কোনো আসামি এভাবে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে আনন্দ করেন বলে আমার জানা নেই। এতে ভুক্তভোগী শিশুটি আরও নিরাপত্তাহীনতা এবং সম্মানহানির অবস্থায় পড়ে যাবে।
মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুয়ারা ময়না জানান, তালিকাভূক্ত শিশু ফুটবলার এ শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় আমরা তাকে হয়তো হারাতে বসেছি। তিনি এ ঘটনার তদন্ত এবং শাস্তি দাবি করেন।
অভিযুক্ত আলেফ শেখের বক্তব্য নিতে ফোন করা হলে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলাসহ খারাপ আচরণ করে সে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার হেমনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাব-ইন্সপেক্টর বশির আহমেদ জানান, জামিন পাওয়ার পর বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গ্রামে আনন্দ উৎসব করার অভিযোগ সত্য। এমনটি কখনো প্রত্যাশিত নয়। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার সত্যতা মিলেছে। দুই একদিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সময় আসামি দলবল নিয়ে বাদী ও ভুক্তভোগীর বাড়িতে চড়াও হয়ে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকির অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ এর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের সেনের মাকুল্লা গ্রামের বৈরাণ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, স্থানীয় লোকজন নদীর ধারে কাজ করতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। লাল শার্ট ও প্যান্ট পড়া লাশের বিভিন্ন অংশ ফুলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মুখে রক্ত লেগে চেহারা বিবর্ণ রুপ ধারণ করেছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, স্থানীয়রা নদীর পাড়ে কাজ করতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত ওই যুবকের মরদেহটি দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, লাশের শরীরসহ মুখমণ্ডল পচে বিকৃত হয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরের একটি বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিয়ে করার নোটিশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। নোটিশ পাওয়া ওই শিক্ষকের নাম রনি প্রতাপ পাল। তিনি উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাজানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিয়ে করার জন্য গত ২৬ জুলাই লিখিত নোটিশ দেন।
ওই নোটিশের বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রনি প্রতাপ গোপালপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের পরেই তিনি এমপিওভুক্ত হন।
নোটিশে বলা হয়, আপনি গত ৬/১১/২০১৬ তারিখ এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম শিক্ষা) পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর অবগত হলাম, আপনি অবিবাহিত রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, যোগদানের কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকগণ অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহকার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
নোটিশ পাওয়ার দুই দিন পর শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। লিখিত জবাবে তিনি বলেন, আমার অভিভাবকেরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্রপাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এ ছাড়া হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন বলে জানিয়েছেন।
রনি প্রতাপ বলেন, জবাব দেওয়ার পরও প্রধান শিক্ষক তাঁকে নানাভাবে মানসিক যন্ত্রণা দিতে শুরু করেন। পরে তিনি বিষয়টি তাঁর অন্য সহকর্মী এবং অন্যদের জানান। রনি প্রতাপ গত ৩০ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষকের নোটিশের বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আমি অবিবাহিত থাকলেও কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থী কখনো কারও কাছে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। কিন্তু বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে চেকের মাধ্যমে স্কুলের বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চলমান সরকারি তদন্তে যাতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দিই, সে জন্য আমাকে বিয়ের নামে চাপাচাপি ও হয়রানি করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, রনি প্রতাপ ভালো শিক্ষক। তাঁকে নিয়ে কেউ কখনো কোনো প্রশ্ন তোলেননি। অথচ দুটি সরকারি তদন্তে মিথ্যা সাক্ষী দিতে না চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাঁকে এমন একটি নোটিশ দিয়ে হয়রানি করছেন।
নোটিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, রনি প্রতাপের স্বভাব-চরিত্র নিয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে সহশিক্ষা চলমান রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানে কোনো অবিবাহিত শিক্ষক থাকলে নানা অসুবিধা হতেই পারে। নানা অনৈতিক কিছু ঘটতেও পারে। এ জন্য তাঁকে দ্রুত বিয়ে করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। এভাবে নোটিশ করার এখতিয়ার কোনো প্রধান শিক্ষকের নেই। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) তিনি বিদ্যালয়টিতে গিয়েছিলেন। এই নোটিশ দেওয়ার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কয়েক বছরের। এটি তদন্তের জন্য সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক এবং অন্য দুটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্যসচিব করে একটি তদন্ত কমিটির প্রস্তাব করা হবে।
টাঙ্গাইল শহরের সরকারি এম এম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বিয়ে করা না-করা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। রনি প্রতাপকে বিয়ে করার জন্য প্রধান শিক্ষক যে নোটিশ দিয়েছেন, তা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এমন নোটিশ দেওয়া অনৈতিক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে গোপালপুর পৌরসভার সূতী পলাশ গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর পৌরসভার মেয়র মো. রকিবুল হক ছানা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম তরফদার বাদল, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আলিফ নূর মিনি, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মনির, ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল বাছেদ মন্ডল, ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলু, গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বিমান, গোপালপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ওয়াহিদুজ্জামান রিপন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান তালুকদার, অর্জুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী মোল্লা, অলোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদল, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বাছেদ আকন্দ বাদশাহ, ভূঞাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইউসুফ চকদারসহ গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসাইন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জায়ামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জানাযার ছবিতে বিরূপ মন্তব্য করে ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন। পরে তার দেয়া পোষ্টটি মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
তবে আলোচনা ও সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার (১৭ আগষ্ট) সকালে নিজের ফেসবুকে দেয়া পোষ্টটি ডিলিট করেন ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল। তার পোষ্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জানাযায় মানুষের সংখ্যা কম এবং জামায়াত নেতা সাঈদীর জানাযায় বিপুল সংখ্যাক মানুষের উপস্থিতির ছবি ছিল।
বুধবার (১৬ আগষ্ট) রাতে ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসাইন তার ব্যবহৃত ফেসবুকে ওই পোষ্ট করেন। এরআগে বুধবার বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে ”মো. সৈকত মৃধা বরিশাল” নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে বঙ্গবন্ধু ও সাঈদীর জানাযার ছবি পোষ্ট করেন। তার ওই ফেসবুক পোষ্টটি শেয়ার করেন গোপালপুরের ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসাইন।
ছাত্রলীগ নেতা ইকবালের পোষ্টে দুই ছবি দিয়ে লেখা ছিল, “ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, একজনের জানাযায় মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় নাই। আরেকজনের জানাজা পড়ার জন্য লাখো মানুষ জীবনবাজি রেখে লড়াই করছে। আল্লাহু আকবার। এটাই জীবনের সফলতা।”
পোষ্ট শেয়ার দেয়ার বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসাইন বলেন, বঙ্গবন্ধু ও সাঈদীর জানাযার ছবি পোষ্টটি ভুলবশত করে ফেলেছি। পরে ফেসবুক থেকে মুছে (ডিলিট) করে দিয়েছি। একজন দুইজনের জানাযার ছবি দিয়ে পোষ্ট দিয়েছিল সেটার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে পোষ্ট করেছিলাম।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, বুধবার রাতে বিতর্কিত পোষ্টটি সে শেয়ার করেছিল। পরে তাকে সেটি ফেসবুক থেকে ডিলিট করার জন্য বলা হলে সেটি ডিলিট করে ফেলেছ। ছাত্রলীগের নেতা হয়ে সে ওই ধরণের বিতর্কিত পোষ্ট করতে পারে না। বিষয়টি জেলা নেতাবৃন্দকে জানানো হয়েছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, কয়েকদিন নিয়মিত প্রোগ্রাম থাকাতে কোন কিছু জানতে পারিনি। এই বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ অবহিতও করেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জাতীয় শোক দিবসে চরাঞ্চলের অসহায় ও দুস্থ্য পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের ৭শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল এবং ১ কেজি লবণসহ একটি প্যাকেট প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয়। ।
খাদ্য সামগ্রী পেয়ে দিনমজুর আহসান আলী বলেন, শোক দিবসে এরআগে কখনো আমরা চরাঞ্চলের মানুষ এভাবে খাদ্য সামগ্রী উপহার পাইনি। উপহার পেয়ে খুশি হয়েছি।
গৃহবধূ খাদিজা বেগম বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম চারদিকে নদীর থৈথৈ পানি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এই সময়ে এসব পেয়ে অনেক উপকার হল।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আগে জাতীয় শোক দিবস নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
গাবসারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার খন্দকার বাছেদের সভাপতিত্বে ও গাবাসারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল।
প্রধান আলোচক ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুর রাজ্জাক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সাবেক জি.এস সুরুজ্জামান সরুজ, হেমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদ উন-নবী, আওয়ামী লীগ নেতা লিটন মিয়া, ওয়াহেদুজ্জামান পলাশ, ছাত্রলীগ নেতা ফরিদুজ্জামান রাসেল, মুক্তার হোসেন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ মৃত মাকে শেষ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি মিললেও সরকার বড় ভাই আব্দুস সালাম পিন্টুকে আসতে দেয়নি এর বিচার আল্লাহ করবেন একদিন। এই নির্যাতন নিপীড়ন কখনই ভাল পথ দেখায় না বলে মন্তব্য করেছেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রবিবার (১৩ আগষ্ট) বাদ আসর জেলার গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মায়ের জানাযা নামাজের আগে যুবদল সভাপতি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে শনিবার (১২ আগস্ট) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মা মোছা. সালমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
সালমা বেগমের মৃতদেহ তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালপুরের গুলিপেচা এলাকায় আনা হলে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজর নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা একনজর দেখতে ভীড় করেন।
জানাযার আগে যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সালাম পিন্টুকে আসতে না দেয়ার বিষয়ে সরকারকে দায়ী করে বলেন, যারা করছেন যা করছেন তারা থেমে যান অনেক করেছেন। এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন আমার ভাই পিন্টু। সকলেই তাকে চিনেন ভাল মানুষ হিসেবে। আমার ভাই তার মায়ের মরা মুখটা দেখতে পারবে না এটা কি হতে পারে।
জানাযায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির, কৃষক দলের সহসভাপতি মাইনুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মিঞা মো: রাসেল, যুবদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল করিম সরকার, জেলা উপজেলাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাযা শেষে গুলিপেচা পারিবারিক কবরস্থানে সালমা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়।
একতার কণ্ঠঃ নারীদের জন্য দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক পেলেন টাঙ্গাইলের গর্ব, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রাণী সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট হতে এই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঢাকা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সকল খেলোয়াড়কে এ পুরস্কার তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পদক পাওয়ার পর কৃষ্ণা রাণী সরকার বলেন, নারীদের জন্য সর্বোচ্চ পদক বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক পেয়ে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদকের পাশাপাশি জাতীয় দলের সকল খেলোয়াড়কে ১ লাখ টাকা করে প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কৃষ্ণা রাণী সরকারের মা নমিতা রানী জানান, আমার মেয়ে নারীদের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক পাওয়ায় আমি গর্বিত।
পদক পাওয়ার সংবাদে উচ্ছ্বসিত কৃষ্ণা রাণী সরকারের বাবা বাসুদেব সরকার জানান, আমার মেয়ে আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট হতে পুরস্কার পেয়েছে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক মেয়ের সেরা প্রাপ্তি। কৃষ্ণা বারবার দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসবে, এটাই সবসময় আশির্বাদ করি।