একতার কণ্ঠঃ সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
রবিবার(১৪নভেম্বর)প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডক্টর আতাউল গণি, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার পৌর এলাকার কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক ডক্টর আতাউল গণি বলেন,পরীক্ষা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে গ্রহন করতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম জানান, টাঙ্গাইল জেলায় সর্বমোট ৫৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছে।ছাত্রী-ছাত্রীরা নকল মুক্ত শান্তি পূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করছে। সকলের পরীক্ষা ভালো হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর আহমেদ সহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সন্তান প্রসবের ১৮ ঘণ্টা পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এক কিশোরী। রবিবার(১৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। তার নাম বীথি আক্তার।বীথির বাড়ি ঘাটাইলের সানবান্ধা গ্রামে।
বীথি আক্তার উপজেলার মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব তাকে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর উপজেলার মোন্তাজনগর গ্রামের রানা হাসান নামের একজনের সঙ্গে বীথির বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি থেকে সে ২০১৯ সালে মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে।
করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসএসসি পরীক্ষা হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত না হওয়ার একপর্যায়ে বীথি আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বীথির প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল চারটায় স্বাভাবিকভাবে বীথি ছেলেসন্তানের মা হয়। হাসপাতাল থেকে রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে বীথিকে তার মা এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যান।
ওই শিক্ষকেরা জানান, সে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।
উপজেলার মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসে বলেন, মেয়েটি ভালো ছাত্রী। বিয়ের পর সে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অন্যান্য মেয়ের মতো নিয়মিত ক্লাস করেছে। সে দমে যায়নি। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব—এসব বাধা তাকে থামাতে পারেনি। বীথি প্রধান শিক্ষককে বলেছে, সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।
মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, সদ্য সন্তান প্রসবের কারণে বীথির পরিবার থেকে তাকে পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য বলা হলেও সে শোনেনি।
সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সচিব এমদাদুল হক মিয়া বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে আমি মেয়েটির খোঁজ নিয়েছি। সে খুব সাহসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই উপজেলায় দুই শতাধিক মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তিনি বীথিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, সখীপুর উপজেলায় এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। এর মধ্যে ২৪ জন মেয়ে ও ২১ জন ছেলে। এসএসসিতে অনুপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১১ জন মেয়ে। দাখিলে অনুপস্থিত ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন মেয়ে।
বাল্যবিবাহ হওয়ায় মেয়েরা এবং জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়ায় ছেলেরা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সরকারি ফজিলাতুন নেসা মুজিব মহিলা কলেজে ছাত্রীদের টিকটক ও লাইকি ভিডিও তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহীদুজ্জামান এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) কলেজের অধ্যাপক শহীদুজ্জামানের সই করা একটি নোটিশ টাঙানো হয় প্রতিষ্ঠানে।
নোটিশে বলা হয়, কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থী সম্প্রতি কলেজ পোশাক (ইউনিফর্ম) পরিধান করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে টিকটক ও লাইকি ভিডিও তৈরি করছে। যা কলেজের সুনামের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ কারণে কলেজে স্মার্টফোন নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষেধ। জরুরি প্রয়োজনে বাটনফোন ব্যবহার করা যেতে পারে।
কোন ছাত্রীকে টিকটক বা লাইকিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেলে বা কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অধ্যাপক মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘করোনার পর কলেজ খুলে দেওয়ায় কিছু ছাত্রী স্মার্টফোন সঙ্গে এনে টিকটক বা লাইকি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এটা কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করে। ছাত্রীদের সচেতন করতে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় স্কুলছাত্রী সুমাইয়া হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।রবিবার(৭ নভেম্বর) দুপুরে এলেঙ্গা কলেজ মোড়ে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে স্থানীয় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করে।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর, লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, এলেঙ্গা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম তালুকদার, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা, নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এলেঙ্গায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত বহুগুনে বেড়েছে। ওরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। পুলিশ ও অভিভাবকসহ সবাইকে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা সুমাইয়ার হত্যাকারী সহ সকল অপরাধী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
প্রকাশ, গত ২৭ অক্টোবর এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তারের(১৫) গলাকাটা লাশ শামসুল হক কলেজের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। স্কুলছাত্রী সুমাইয়া কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা গ্রামের ফেরদৌস রহমানের মেয়ে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার(২ নভেম্বর) থেকে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরআগে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য গত ২৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল সমূহ খুলে দেওয়া হয়।
করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ায় মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা সশরীরে ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান ফটকের সামনে পৌছলে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ফুল ও মাস্ক দিয়ে বরণ করা হয়। পরে তাদেরকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।
শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাইস-চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এআরএম সোলাইমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুল হক, প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন- শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. এএসএম সাইফুল্লাহ।
এসময় ডিন, অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ৪৭তম (জরুরি) সভার সুপারিশের ভিত্তিতে একই দিন অনুষ্ঠিত ২২৩তম (জরুরি) রিজেণ্ট বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ আজ ১২ অক্টোবর(মঙ্গলবার) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা আর গবেষণার বদৌলতে মানুষ আজ অনেক অজানাকে জেনেছে, অসাধ্যকে সাধন করেছে এবং পৌছেছে উন্নতির স্বর্ণশিখরে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব আজ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত ও অনস্বীকার্য।
বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তােলার লক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে গবেষণায় বাংলাদেশে ২য় অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কসহ বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলােতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এটি বর্তমানে দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পছন্দের অন্যতম তালিকায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী সন্তোষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘােষণা দেন।
১৯৭০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর সন্তোষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী “আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শিরোনামে একটি লিখিত বক্তব্য (নিবন্ধন) এর মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী তার প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) এর চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করেন।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫টি মূলনীতি ছিল ? ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্যে যে কোন একটি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকবে। খ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার দৈহিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। গ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে তার ধর্মের মূলশিক্ষা বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে দান করা হবে এবং তা অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। ঘ. কেরােসিন তৈল ও লবণ ছাড়া বাকী সবকিছু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎপাদন করে নিতে হবে । ঙ. প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবর্ষগুলির মধ্যে চার-পাঁচ সপ্তাহ কাল প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবা শিল্প এলাকায় হাতে কলমে কাজ করতে হবে।
নানা প্রতিবন্ধকতার পর ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০০১ সালের ১২ জুলাই এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর। যা টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
৫৭.৯৫ একর (২৩.৩২ অধিগ্রহণকৃত) আয়তনের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ১৮ টি বিভাগ চালু রয়েছে। সম্প্রতি ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ খোলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৩৩ জন (ছাত্র: ৩১০৩ জন ও ছাত্রী: ২২৩০ জন) শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে ৪৩২৬ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৯৬৮ জন, পিএইচডিতে ১৫ জন ও পিজিডি-ইন-আইসিটি ২৪ জন অধ্যয়নরত। সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ২৪৩ জন (পুরুষ: ১৮১ জন ও নারী: ৬২ জন)। যার মধ্যে অধ্যাপক ৩০ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৭৭, সহকারী অধ্যাপক ৯৬ জন, প্রভাষক ৪০ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রীধারী ৬০ জন। এছাড়া ২৪৯ জন কর্মকর্তা ও ৩৬৬ জন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা আব্দুল মান্নান হল, আলেমা খাতুন ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল, শেখ রাসেল হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নামে ৭ টি হল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ ১৪২৯ জন, বিএসসি (অনার্স) এ ২৬৩৪ জন, বিবিএ তে ২৭৯ জন, বিএসএস (অনার্স) এ ১৮৩ জন, বি ফার্ম এ ২৭ জন, এমএস/এমএসসি তে ১২৯৬ জন, এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)/এম ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০৫ জন, এমএসএস এ ২৮ জন, এমবিএ তে ১০৮ জন, পিজিডি-ইন-আইসিটিতে ২৮৭ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ২০০০০ টি বই, ৯৪১ টি জার্নাল এবং সাময়িকী ও প্রায় ৩০০০০ টি ই-বুক রয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাথে চীনের স্বনামধন্য ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্নারক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোঃ China Three Georges University, Hubei University PR China, Chengdu Textile College (CTC) China, University of Electronics Science & Technology China ও Shenyang University of Chemical Technology (SUCT) China
বর্তমান বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও বাংলাদেশের ‘রূপকল্প’ এবং ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১’ বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩শ ৪৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রায় সমাপ্তির পথে।বিশ্ববিদ্যালয়টি ২২ বছরে পদার্পণ করলেও ২০০৮ সাল পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকারের সময়ে এসে এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে এর উন্নয়ন চিত্র চোখে পড়ার মতো হয়েছে।
বর্ণিত প্রকল্পে ভৌত অবকাঠামোগত সকল কম্পোনেন্টের ই-জিপি তে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ও কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুমোদিত প্রকল্পটির আওতায় বাস্তবায়নাধীন ১২.৭৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, ১২-তলা বিশিষ্ট একাডেমিক-কাম-রিসার্চ ভবন নির্মাণ, ১০-তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক অ্যানেক্স উত্তর ভবন নির্মাণ, ২৫০ ছাত্রের জন্য নির্মাণাধীন জননেতা আব্দুল মান্নান হলের অবশিষ্ঠ ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ, ৭০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ”শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল” নির্মাণ, ৫৫০ ছাত্রের জন্য ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত ”শেখ রাসেল হল” নির্মাণ, ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণ।
এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন, মাটি ভরাটসহ অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ড্রেইন এবং ঢাকনাযুক্ত ডাষ্টবিন নির্মাণ, নতুন স্থাপনাসমূহে গ্যাস লাইন সংযোগ, প্রস্তাবিত ভবনসমূহের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি/ল্যাব যন্ত্রপাতি, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়, অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বই ও সাময়িকি ক্রয়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ০২ টি বাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ০১টি মিনিবাস ও ০১টি মাইক্রোবাস ক্রয় কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন কাজ বর্তমানে সমাপ্তির পথে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হলে শিক্ষা, প্রশাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে যা দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে সহায়ক হবে।
ইতোপূর্বে ”মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন”-শীর্ষক প্রকল্প (জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৭ মেয়াদে) ৫১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা (সংশোধিত ৫৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা) ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি গত ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ছিল: ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন নির্মাণ, জননেতা আব্দুল মান্নান হল নির্মাণ, আলেমা খাতুন ভাসানী হল নির্মাণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরী নির্মাণ (২০ ইউনিট), নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গ্যাস লাইন, জেনারেটর যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ক্রয়, ১টি মাইক্রোবাস ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় ইত্যাদি।
এছাড়াও “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন”-শীর্ষক গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই ২০০৮ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত মেয়াদে মোট ৩৭ কোটি ০৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৫-তলা লাইব্রেরী কাম ক্যাফেটেরিয়া ভবন নির্মাণ, ৪০০ আসনের ছাত্র হল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হল নির্মাণ, ৫-তলা ৩০ ইউনিটের শিক্ষক কর্মকর্তা ডরমিটরী নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ৪-তলা ভিতে ২-তলা একাডেমিক ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিস্তম্ভ ও এর চত্ত্বর নির্মাণ, মুক্তমঞ্চের উন্নয়ন, বিজয় অঙ্গন চত্ত্বর নির্মাণ, ঢাকাস্ত গেস্ট হাউজ ক্রয় (শ্যামলীতে দু’টি ফ্লাট), লাইব্রেরীতে ”মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার” স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় ৪০০ পুস্তক ক্রয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ”প্রত্যয় ৭১” এর সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আইপি ক্যামেরা-এর আওতায় আনয়ন।
একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে লাইব্রেরী অটোমেশন, ই-বুক, ই-জার্নাল, আইসিটি সেল স্থাপন, ইনিস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) স্থাপন, রিসার্স সেল-এর মাধ্যমে শিক্ষকগণের গবেষণা পরিচালনা, বিডিরেন কতৃক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেনসমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) বাস্তবায়ন।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে বলে বর্ণিত আছে। মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে এ ক্যাম্পাসে ৪৯.১৫ একর জমির মধ্যে ১২.৯০ একর জমিতে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে একাধিক সরকারী (দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি), স্বায়ত্ব শাসিত বা সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত (শিশু হােস্টেল, মাদ্রাসা, ভাসানী হুজুর এর দরবার হল, মুসাফির খানা, মাজার, মসজিদ ইত্যাদি), বেসরকারীভাবে পরিচালিত (ভােকেশনাল হাইস্কুল, সাধারণ হাই স্কুল, টেকনিক্যাল কলেজ, এদের আবাসিক ছাত্র/ছাত্রী হল), মন্দির, পুরাতন ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে এবং অত্র ক্যাম্পাসে ১৫.৪০ একর জমিতে ১টি দিঘীসহ বড় বড় ৪টি পুকুর রয়েছে। অবশিষ্ট মাত্র ২০.৮৫ একর জমিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে পার্শ্বস্ত এলাকার জনসাধারণ অবাধে চলাচল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুলক প্রকল্প নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে যার মধ্যে-কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, ছাত্র হল, ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম, জিম্নেসিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন, শিক্ষক ক্লাব, কর্মকর্তা ক্লাব নির্মাণ ইত্যাদি থাকবে। তাছাড়া ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
করোনাকালীন পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা সেশনজট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী সম্পন্ন করতে লাগছে ৫ থেকে ৬ বছর এবং স্নাতকোত্তরে লাগছে ১.৫ থেকে ২ বছর। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ৭ থেকে ৮ বছর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক শীল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বেশিই ভালবাসে এ কারণে ছাড়তে চায় না, আমাদেরও যেতে ইচ্ছা করে না। অভিমান-ক্ষোভ যতই থাক, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ছাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তালিকায় উঠে আসুক সেই প্রত্যাশা রাখি, এগিয়ে যাক সামনের দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরে আলম মাসুম বলেন, প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা মনে পরলেই নস্টালজিয়ায় ভুগি। সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলাম বলে ক্যাম্পাসে ঘটনাবহুল সময় পার করেছি আমি। যৌবন এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কাটিয়েছি সন্তোষের প্রতিটি অলি গলিতে। মাভাবিপ্রবি আমার পরিচয়, আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমগ্র বিশ্বে গবেষণা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নাম হয়ে উঠুক মাভাবিপ্রবি। ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আমার প্রত্যাশা।
২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সকল কর্মসূচি পালন করা হবে।
দিনটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, ১০ টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরালে ও মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১০ টা ২০ মিনিটে পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা, কেককাটা এবং বাদ যোহর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার প্রধান সড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলেজর শিক্ষার্থীরা। শনিবার( ৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের সরকারি মুজিব কলেজের মূল গেইটে ঘন্টাব্যাপি ওই কর্মসূচি পালন করে ওই কলেজের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে দুই পাশের শত-শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে সড়কটির দ্রুত সংষ্কারের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে রুমান সিকদার, বৃষ্টি আক্তার, মারুফ হাসান, তানজিম ইসলাম, রিফাত আহমেদ, বায়েজিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
পরে সখীপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) একে সাইদুল হক ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে শিক্ষার্থীদের আগামি তিন দিনের মধ্যে সড়ক চলাচলে উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
এ প্রসঙ্গে একে সাইদুল হক ভূইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ, চলতি বর্ষায় সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার দুই কিলোমিটার প্রধান সড়কটির পলেস্তারা উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর সৃষ্ট খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। প্রধান এবং একমাত্র সড়কটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কর্তৃক সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব স্থানে বহাল রাখার দাবীর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ভাসানী প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন টাঙ্গাইল-৫( সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ছানোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকালে সন্তোষের ঐতিহাসিক দরবার হলে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন এমপি।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সহ অবস্থান বজায় রেখেই মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব স্ব স্থানে রাখার পক্ষে জোড়ালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।এসময় তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল পীর শাহজামান দিঘির পশ্চিম পাশে সরিয়ে নেয়া, সন্তোষ রাণী দিনমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশে হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরিয়ে নেয়াসহ সকল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে হাসরত খান ভাসানী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্ব স্ব স্থানে বহাল রাখার জোর দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি শিশু স্কুল, সন্তোষ রাণী দিনমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তালিমাতে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য ও মাতৃসদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এসময় শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ রউফ, ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ভাসানী অনুসারীবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হচ্ছে না।
মঙ্গলবার(২৮ তারিখ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে জেএসসি ও জেডিসি এবং পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
করোনা মহামারির কারণে গত বছরও এ পরীক্ষা হয়নি। তখন পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
গতকাল সোমবার(২৭ তারিখ) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করে সরকার। এসএসসি পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৩ নভেম্বর শেষ হবে। আর এইচএসসি পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হবে।
একতার কন্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছোট ছেলে আবুবকর খান ভাসানীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আবুবকর ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে।
শনিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী ও আবুবকর খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, ওরশ মোবারক, স্মরণসভা ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
টাঙ্গাইলের সন্তোষস্থ ঐতিহাসিক দরবার হলে দিনব্যাপী ওরশ মোবারক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় ন্যাপ-ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী সভাপতিত্ব করেন।
প্রকাশ, আবুবকর খান ভাসানী ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল আসামের ধুবড়ী জেলার দক্ষিণ শালমারা থানার আমতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ও হামিদা খানম ভাসানীর কণিষ্ঠ পুত্র।
১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর পিতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সুফী জীবনযাপনের দিকে ঝুঁঁকে পরেন। তিনি টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে ‘চোরমারা আন্দোলন’ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্তোষে পিতার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রথম অধ্যয়নরত পিএইচডি গবেষকদের প্রথম তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের তিনজন পিএইচডি গবেষকের তত্ত্বীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পরীক্ষা পরিদর্শন করেন- পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. রোকেয়া বেগম, বিভাগীয় সভাপতি ফারহানা আক্তার, ওই তিন পিএইচডি গবেষকদের তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ড. একে ওবায়দুল হক, রেজিস্ট্রার ড. ইঞ্জি. মোহা. তৌহিদুল ইসলাম ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে লাইফ সায়েন্স অনুষদের অধীনে ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী নিয়ে পিএইচডি কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এ বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রামে পরবর্তীতে আরও তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। এছাড়া অন্যান্য অনুষদের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে আরও ৯জন সহ মোট ১৫ জন পিএইচডি শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন।
একতার কণ্ঠঃ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মাত্র ১০ বছরের শিক্ষা জীবনে ১১টি জাতীয় পুরষ্কার অর্জন করেছেন নৈঋতা হালদার নামে এক স্কুল ছাত্রী। নৈঋতা হালদার টাঙ্গাইলের পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবেন।বৃহস্পতিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই কৃতি ছাত্রীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সঞ্চিত কুমার রায়।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মীর মনির হোসেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাছির উদ্দিন, কৃতিছাত্রী নৈঋতার মাতা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক চিনু রানী বিশ্বাস।
বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল শহরের একটি স্কুল থেকে ধারাবাহিকভাবে ১১টি জাতীয় পুরষ্কার অর্জন একটি বিরল ঘটনা। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এতোগুলো পুরষ্কার অর্জনকারী ছাত্রী দেশে আরও আছে কি না আমাদের জানা নেই।
সম্মাননা পেয়ে নৈঋতা হালদার আবেগময় অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যত জীবনের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চান। পরে নৈঋতা হালদারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।