একতার কণ্ঠঃ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টাঙ্গাইল অফিসের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনার সময় বনবিভাগের ২ প্রহরী ও এক শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করেছে। কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে ঘুষ নেয়ার সময় ওই কর্মচারীরা আটক হন।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ সাদেক জানান, টাঙ্গাইল জেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চেকপোস্ট পার হওয়া বাবদ ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই ভিত্তিতে দুদকে টাঙ্গাইল অফিসের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি তিনি আরো জানান, অভিযান পরিচালনার সময় ছদ্মবেশে থাকা দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম টাঙ্গাইল বনবিভাগের ২ জন প্রহরী ও ১ শ্রমিককে কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জিম্মায় দিয়ে আইনি ব্যবস্থার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযোগকারী, কাঠ ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের উপস্থিত বক্তব্য নেয়। যার ভিত্তিতে দুদক টিম জানতে পারে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা কাঠ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকা অভিমুখে নিয়মিত চলাচলকালে বন বিভাগ থেকে টিপি বা ট্রানজিট পাস নিতে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেন হয়।
আবার সেই টিপি বা ট্রানজিট পাস নিয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়া চেকপোস্টে দেখালে কাঠের ট্রাক পরীক্ষান্তে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। যার জন্য কাঠের মান ভেদে ১৭০০ থেকে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ প্রদান না করলে ছাড়পত্র দেয়া হয় না।
এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও সূত্রে থেকে জানা যায়।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ২ বন প্রহরীকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও জড়িত অন্য কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি’র পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও ৬ টি ককটেল উদ্ধার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাতে গোপালপুর পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোহাম্মদ রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আব্দুল লতিফ ডান্ডু এবং মোহাম্মদ লতিফ। এরা সবাই ধোপাকান্দি ও ঝাওয়াইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, এরা সবাই নাশকতার উদ্দেশ্যে পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় সমবেত হলে পুলিশ ৬টি ককটেলসহ এদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরো জানান, বিএনপির ২০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে থানায় নাশকতা ও দাঙ্গা-মারামারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপি এক বিবৃতিতে জানান, এটা গায়েবী মামলা। আভঙ্গী এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বুধবার রাতে কোন ধরনের ঘটনা ঘটায়নি। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশেকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলায় আ’লীগ নেতাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডিত মিজানুর রহমান লিটন টাঙ্গাইল আ’লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ায়েজ আল করুনী সাক্ষী-প্রমাণ ও শুনানি শেষে এ রায় দেন।
মিজানুরের বিরুদ্ধে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মিলন মাহমুদ বাদি হয়ে গত ২৪ মার্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
আদালত পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নয় লাখ টাকা অর্থদন্ড করেছেন। রায় ঘোষনার সময় মিজানুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম তালুকদার জানান, মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মিলন মাহমুদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ১৪ লাখ টাকা ধার নেন। তিনি দুই দফায় নয় লাখ টাকা পরিশোধের জন্য পৃথক দুটি চেক মিলন মাহমুদকে দেন। পরে টাকা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকেন। মিলন মাহমুদ ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর দেখা যায় সেখানে টাকা জমা নেই। চেকটি ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখান হয়। পরে মিলন মাহমুদ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদি মিলন মাহমুদ বলেন, মিজানুর টাকা ধার নিয়ে ফেরত দেয়নি। উল্টো আমাকে বিভিন্ন হামলা-মামলার হুমকি দিয়ে টাকা পরিশোধ না করে নানান টালবাহানা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও শহর আ’লীগের সভাপতি এসএম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, মিজানুর রহমান লিটন শহর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এধরনের অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকলে তার জন্য আমরা ভবিষ্যতে পদপদবির জন্য সুপারিশ করবো না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরত (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের জয়েরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত হযরত মির্জাপুর পৌর এলাকার পাহাড়পুর গ্রামের খন্দকার আজিজের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া ও এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সোমবার রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের জয়েরপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
এসময় খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরতকে গ্রেপ্তার করা হয় । পরে তার কাছে থাকা লাল-কালো রংয়ের একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার অন্যান্য সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম খান জানান, খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরতকে মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি জেনেছেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির কথা জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে হযরতকে গ্রেপ্তার এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পাহাড়পুর গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে তিন আইনজীবীসহ বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতা-কর্মীকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা তাদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকায় আগামি ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে একটি প্রস্তুতি সভা শেষে ফেরার পথে সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ওই ১২ নেতা-কর্মীসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোহানুল ইসলাম বাদি হয়ে সোমবার রাতে এক মামলা দায়ের করেন।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনকে টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে।
আদালতের বিচারত অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আইনজীবীরা হচ্ছেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আইনজীবী খন্দকার মাহবুবুর রহমান ওরফে রিপন, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য লাল মাহমুদ, নাগরপুর উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ ভূঁইয়া।
এই তিন আইনজীবী ছাড়াও অন্য নয়জন হলেন- সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বাবু গাজী, ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, বাসাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য আমিনুর রহমান, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মাসুদ রানা, যুবদল কর্মী ফুয়াদ হাসান, হেলাল উদ্দিন সিকদার ও সৌরভ এবং দোকান কর্মচারী জাকির হোসেন।
মামলায় ২৯ আসামির মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল হক ছাদু, ঘারিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ শাহীন, হুগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোর্শেদ আলম, সিলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আশরাফ পাহেলী, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারুফ সরোয়ার, কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান রয়েছেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট, যানবাহন স্থাপনার ক্ষতি সাধন, জনমনে ভীতি সৃষ্টি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম সংগঠনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ড প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, আগামি ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ বিঘ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিনে টাঙ্গাইলে তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাড়ির পাশের টিলা থেকে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। সোমবার(২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের মাকড়াই এলাকার বনবেষ্টিত পাহাড়ি টিলা থেকে লাশটি উদ্ধার করে ঘাটাইল থানার পুলিশ।
নিহত ওই নারীর নাম সেলিনা বেগম (৪৫)। তিনি মাকড়াই এলাকার মৃত কুবেদ আলীর মেয়ে।
তাঁর স্বামী আবদুল গফুর একই ইউনিয়নের মালেঙ্গা বড়চালা এলাকার বাসিন্দা। নিহতের বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ির দূরত্ব ২০০ মিটারের মতো হবে। বাবার বাড়ির পূর্ব পাশের টিলায় লাশটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন জানান, স্থানীয় কয়েকজন নারী সোমবার দুপুরে টিলা এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় তাঁরা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা বিকেলে থানায় খবর দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে।
সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, নিহত নারীর গলায় ওড়না দিয়ে কয়েকটা প্যাঁচ দেওয়া। ওড়নার অপর প্রান্ত বোরকার সঙ্গে বাঁধা। তবে শরীরের আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
সেলিনার বড় ভাই আবদুল মান্নান জানান পারিবারিক কলহের জেরে সেলিনা মাস তিনেক আগে তাঁদের বাড়িতে আসেন। তখন থেকে এখানেই থাকতেন। গত রাতে বাড়িতে না পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন, সেলিনা তাঁর স্বামীর বাড়িতে গেছে। কিন্তু সকালে খোঁজ করে সেখানেও পাওয়া যায়নি। পরে টাঙ্গাইলে আরেক ভাইয়ের বাসায়ও খোঁজ করা হয়। দুপুরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ বাড়ির পাশের টিলায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় নারীরা। সেলিনাকে কেউ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন আবদুল মান্নান।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শাকিল মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উপজেলা সদরের সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের পেছন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাকিল মিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের বুদ্দু মিয়ার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দীন মৃধা জানান, শাকিল মিয়া স্থানীয় বাথুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তিনি মাঝে মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। রোববার (২০ নভেম্বর) রাতে লিটন নামে একজনের অটোরিকশা নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন।
পরে সোমবার সকালে স্থানীয়রা কলেজের পেছনে শাকিলের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা শাকিলকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলর মগড়া ইউনিয়নের বাহির শিমুল গ্রামের ধানক্ষেত থেকে এক নারীর মস্তকবিহীন লাশের খন্ডিত কয়েক টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার(১৮ নভেম্বর) বিকেল চারটা থেকে শনিবার(১৯ নভেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি হাত, দুইটি পা, বুকের কিছু অংশ এবং পরনের কাপড় উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথা ও একটি হাত উদ্ধারের জন্য পুলিশ এখনো ওই এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে খবর পেয়ে ওই এলাকায় ধানক্ষেত থেকে প্রথমে দুটি পা ও একটি হাত উদ্ধার করা হয়। এরপর শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেহের খন্ডিত বিভিন্ন টুকরা উদ্ধার করা হয়। দেহের বাকি অংশ উদ্ধারে এলাকার ধানক্ষেতগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা অজ্ঞাত ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করার জন্য টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বামী সোনা মিয়ার দায়ের কোপে স্ত্রী সাহিদা আক্তার(৪২) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে। শনিবার(১৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কৈয়ামধু কারিগর পাড়া জঙ্গল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে সোনা মিয়া পলাতক রয়েছে।
জানা যায়, সোনা মিয়া ও তার স্ত্রী সাহিদা আক্তার জঙ্গলে লাকড়ি কেটে তাদের সংসার চালাতো। প্রতিদিনে মতো শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী মিলে কারিগর পাড়া জঙ্গলে লাকড়ি কাটতে যায়। তাদের সাথে পাশের একজন প্রতিবেশীও ছিলো।
হঠাৎ করে তুচ্ছ ঘটনায় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে সোনা মিয়ার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাহিদার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদত মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় স্বামী পলাতক রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো
হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি বিস্ফোরিত ককটেলসহ ছোট-বড় মোট ১২টি ককটেল সহ ৫ জনকে আটক করেছে টহল পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার এলেঙ্গা লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রিকলেজের পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার কদিমহামজানি গ্রামের মৃত খন্দকার লাল মিয়ার ছেলে খন্দকার ইকবাল হোসেন (৩৬), বল্লভবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শহিদ সিকদার (২৭), একই গ্রামের মহির উদ্দিন তালুকদারের ছেলে হাফিজুর রহমান তালুকদার (৪৪), রতনগঞ্জ জোড়বাড়ী গ্রামের মৃত খেদমত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম লাভলু মিয়া (৫৮) ও চাঁনপাড়া গ্রামের আ. হক আকন্দের ছেলে এসএম আহসান হাবিব লাভলু (৫০)।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, রাত্রিকালীন থানার মোবাইল টিম ডিউটি করাকালে বাগুটিয়া বাজারে অবস্থানকালে এলেঙ্গা লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে নাশকতার উদ্দেশ্যে কতিপয় লোকজন মিটিং করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইলে পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ।
তিনি জানান,এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত একটি সহ ছোট বড় মোট ১২টি ককটেলসহ পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং অন্যান্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরণ দ্রব্য আইনের ৩/৪/৬ ধারা মোতাবেক তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের কাগমারীপাড়া শিয়ালকোল এলাকার গৃহবধু জহুরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মেয়ে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভূঞাপুর থানা) আমলী আদালতে তার মেয়ে মো. সেলিনা বেগম (৪১) বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
মামলায় নিহত গৃহবধুর স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন তালুকদার, তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া বেগম ও ছেলের শ্বশুড় মো. আনছার আলী মন্ডলকে (৬৫) আসামী করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বেল্লাহ হোসেন তালুকদারের জমি-জমা লিখে দেয়ার জন্য তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া খাতুন চাপ দিতেন। এক পর্যায়ে বেল্লাল হোসেন তালুকদার জমি লিখে দিতে চাইলে তার স্ত্রী বাঁধা দেয়।
পরে তার ছেলের স্ত্রী ও শ্বশুড় হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে জহুরা বেগমকে মারধর করে আসামীরা। এক পর্যায়ে জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।
মেয়ে খবর
মার মৃত্যুর খবর পেয়ে মামলার বাদী তার মেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে ৯৯৯ ফোন করে। পুলিশ গিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে আসামীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামেরই ফজলুর রহমান খানের ছেলে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জাহাঙ্গীর কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফেরার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তিনি নিজের ঘরেই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন জানান, ‘মরদেহটির সুরতহাল তদন্তে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তারপরও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’